পর্ব-৪২
অনুষ্ঠানের শেষে সকল কোলাহলের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে চৌধুরী বাড়ি এখন নিঝুম রুপে রূপান্তরিত হয়েছে। মাইশা কেবলমাত্র শাওয়ার নিয়ে বের হল।মাইশা ভেজা চুল গুলোকে একপাশে নিয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল মুচছে। পিছন থেকে দুটো হাত মাইশাকে তার বাহুডোরে আবদ্ধ করে জড়িয়ে ধরল। মাইশা কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠলো। তবে তার প্রশস্ত বুকের উষ্ণ ছোয়াতে মাইশা ভালোবাসার পরশ খুঁজে পেল।
আরিয়ান মাইশার কাঁধে মুখ গুঁজে দিয়ে বলল,
" আজকে একা একা শাওয়ার নিয়েছো কালকের থেকে দুজন একসাথে শাওয়ার নেব কি বলো।
আরিয়ানের কথায় মাইশা চরমভাবে লজ্জা পেয়ে গেল। লজ্জিত মুখশ্রী নিয়ে বলল,
" ধ্যাত তোমার মুখে কোন কথা আটকায় না।
কথাটা বলে মাইশা নিজেকে ছাড়িয়ে আরিয়ানের কাছ থেকে চলে যেতে নেবে তখনই আরিয়ান তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
" আর তো মাত্র একটা রাত তারপর দেখব এত লজ্জা কোথায় থাকে।
মাইশা কিছুটা ভাব ভঙ্গিমা দেখিয়ে বলল,
" ইশ্ বললেই হল আমাকে কাছে পাওয়ারটা এত সহজ না।
" আচ্ছা, তাই বুঝি।
" হুম।
" ঠিক আছে সেটা কালকে রাত্রে বোঝা যাবে।
" হয়েছে হয়েছে এত বুঝে কাজ নেই এবার তুমি যাও।
আরিয়ান মাইশা কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ওর গাল দুটো ধরে বলল,
" মন না চাইলেও যেতে হবে। তবে আগামীকালকে থেকে তুমি শুধুমাত্র আমার জীবনে মরনে সারা জীবন আমরা একসাথে থাকব। কোনদিনও কখনো কেউ আলাদা হবো না। তোমাকে নিজের করে পাবার জন্য আমার মনটা ব্যাকুল হয়ে আছে। সে ব্যকুলতা আমার প্রিয়সির সংস্পর্শ ছাড়া কমবে না।
ক্রমে ক্রমে মাইশার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে আসছে। মাইশা চোখ বন্ধ করে জোরে জোরে নিশ্বাস নিচ্ছে ওর ঠোঁট জোড়া কাঁপছে। আরিয়ানো নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না ওর হৃদয় স্পন্দন যেন ক্রমে ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে। মাইশার ঠোঁটের কাছে আরিয়ান নিজের ঠোঁটটা নিতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে কেউ দরজার কাছ থেকে বলে উঠলো,
" সবকিছু দেখে ফেলেছি।
সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ান আর মাইশা দুজন দূরে সরে গেল। আরিয়ান আর মাইশা দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো সেখানে সীমা আর আলিয়া দাঁত বের করে হি হি করে হাসছে। ওরা কিছুটা এগিয়ে এসে মাইশা কে বলল,
" আজকে রাত্রের জন্য তুই আর এই রুম সবটাই আমাদের।
তারপর আলিয়া আরিয়ানকে উদ্দেশ্য করে বলল,
" ভাইয়া তুই এখন এখান থেকে যা আমরা ঘুমাবো এই রুমে তোর আজকে আর কোন জায়গা নেই।
আরিয়ান এখন ওখানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে ছিল আরিয়ানের মোটেও ইচ্ছে করছিল না মাইশা কে ছেড়ে যেতে। আলিয়ার টেনে আরিয়ানকে মাইশার রুম থেকে বের করে দিল।
আরিয়ান ক্ষেপে একরাশ বিরক্তি নিয়ে মনে মনে বলল,
" আমাকে বের করে দেয়া না কালকে রাতটা আসুক তোমার খবর আছে দেখো। সব সুদে আসলে উসুল করব।
আস্তে আস্তে রাত অনেক গড়ালো।সবাই ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শরীরটাকে এলিয়ে দিয়েছে শয্যায়। সবার চোখে একরাশ ঘুমের আবরণ। সেই আবরণ উন্মুক্ত হবে সকালের সূর্যোদয়ের মাধ্যমে।
শুধু দু জোড়া চোখ নির্ঘুম রাত্রি যাপন করছে। তার চোখ জোড়ায় প্রতিশোধের আগুন, আর বুকে একরাশ পরিমাণ ক্ষোভ আর প্রতিহিংসা। সেই প্রতিশোধের আগুন আজকেই নিবারণ করার সংকল্প করেছিল। কিন্তু অনেক বড় এক বাঁধা
তার সামনে ওত পেতে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু যত বড় বাধাই আসুক না কেন তাকে দমানো যাবে না। শুধু সময় আর সুযোগের অপেক্ষা।
কথাগুলা ভাবতে ভাবতে সেই চোখ জোড়ায় নেমে এলো ঘুমের পরিধি।ঘুমের সাথে জোরালো সখ্যতা তৈরি হয়ে চোখ জোড়া আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে আসলো।
মধ্যরাত নিস্তব্ধ রজনী। কোথাও কোন কোলাহল নেই, শুধু কয়েকটা কুকুরের ডাক আর মাঝে মধ্যে হঠাৎ ঝিঁঝিঁ পোকার গুনগুন আওয়াজ। ঘুমের সাথে নিবিড় সম্পর্ক করে উঠেছে সবার। সে সম্পর্কে ছেদ ঘটিয়ে প্রকাণ্ড এক চিৎকারের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেল মাইশার। কেউ একজন প্রচন্ডভাবে চিৎকার দিয়ে যাচ্ছে। মাইশা ধরফরিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসলো। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখল ওর পাশে শুধু সীমা আছে কিন্তু আলিয়া নেই। সঙ্গে সঙ্গে ওর চোখ গেল ঘরের দরজার দিকে ঘরের দরজা টাও খোলা। এখনো চিৎকারের শব্দ ভেসে আসছে মাইশার কানে। মাইশা দ্রুত করে সীমাকে জাগিয়ে দিল। হঠাৎ এইভাবে ডাকাতের সীমা কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। তৎক্ষণাৎ শোয়া থেকে উঠে মাইশা কে শুধালো,
" কি…..কি কি হয়েছে এই ভাবে ডাকছিস কেন।
মাইশা উদ্বিগ্ন আর বিচলিত কন্ঠে বলে উঠলো,
" আলিয়া কোথায়।
সীমার এতক্ষণে হুঁশ ফিরলো। ও রুমের এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল সীমা কোথাও নেই। মাইশা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সীমাকে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
রুম থেকে বেরিয়েই দেখল ওদের বাড়ির সদর দরজা খোলা। এবার চিৎকারের আওয়াজটা আরো প্রখর ভাবে এসে বাড়ি খেলো ওদের দুজনের কানে। মাইশার মনে হচ্ছে আওয়াজ টা ছাদের দিক থেকে আসছে। কণ্ঠস্বরটা মাইশার অতি পরিচিত।মাইশার বুকের ভেতরটা ছ্যাত করে উঠলো।
মাইশা আর এক মুহূর্ত দেরি না করে সীমাকে নিয়ে ছাদের দিকে চলে গেল। ছাদে গিয়েই দেখল আলিয়া কাটা মুরগির মত ফ্লোরে পড়ে ছটফট করছে। আলিয়ার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত জায়গায় জায়গায় আঁচড়ের চিহ্ন। প্রচন্ড পরিমাণে রক্তপাত হচ্ছিল ওর। মাইশা দ্রুত গিয়ে আলিয়াকে জড়িয়ে ধরল। আলিয়া যেন মাইশাকে কিছু বলার চেষ্টা করছিল কিন্তু পারছিল না। আলিয়ার এই অবস্থা দেখে মাইশার যেন মাথা কাজ করছিল না। মাইশা সীমাকে আলিয়ার কাছে রেখে সবাইকে ডাকতে নিচে চলে গেল।
কিছুক্ষণ পর মাইশা সবাইকে নিয়ে ছাদে এসে যা দেখল তা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
#চলবে......
প্রেম আমার সিজন ২
69
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating

কোন মন্তব্য নেই