#প্রেম_আমার
#সিজন_২
মাইশা পলকহীন ভাবে সামনে থাকা মানুষটার দিকে তাকিয়ে আছে। ওর চোখে জল থৈ থৈ করছে। বাঁধ না মানা এক আনন্দ ওর মনের ভেতর উপচে পড়ছে। মনে মনে সে তার এই কাঙ্খিত মানুষটাকে কতো খুঁজেছে কিন্তু কোথাও খুঁজে পায় নি।
তাকে মাইশার কাছে এক পা দু পা করে হাঁটিয়ে এগিয়ে নিয়ে আসলো। মাইশা সঙ্গে সঙ্গে তাকে জড়িয়ে ধরল। এইভাবে তাকে জড়িয়ে ধরাতে সে কিছুটা বিচলিত কন্ঠে বলে উঠলো,
" কে?
মাইশা কিছু বলতে যাবে তখনই আরিয়ান ওকে বাঁধা দিয়ে ফিসফিস করে মাইশার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
" এইভাবে নয়,তুমি তোমার নিজের মত করে ওকে বুঝিয়ে দাও তুমি কে। যদি তোমার প্রতি তার টান আর ভালোবাসা থেকে থাকে তাহলে সে অবশ্যই তোমাকে চিনতে পারবে।
আরিয়ানের কথা শুনে মাইশা বুঝতে পারল এটা আরিয়ানের পরিকল্পনা। মাইশাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য আরিয়ান এটা করেছে। আরিয়ান তার সামনে থাকা প্রিয় মানুষটার দুই গালে ধরে বলল,
" কইরে আমার সীমা মনি
মিষ্টি হাসির মুখ খানি
এইটুকু বলে মাইশা থেমে গেল বাকিটুকু সীমার মুখ থেকে শোনার জন্য।এই ছড়াটা আর কণ্ঠস্বর টা শুনে সীমা বুঝতে পারল তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা তার সবথেকে প্রিয় বান্ধবী মাইশা। সীমা উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে উঠল,
" ঝাঁপ দিয়ে আয় আমার বুকে
পাশে থাকবো দুজন সুখে দুখে।
রিয়াদ সীমার চোখের বাঁধন খুলে দিল। সীমা আর মাইশা অতিরিক্ত খুশি আর আনন্দে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল। মাইশা কান্নারত কন্ঠে সীমাকে বলল,
" কোথায় চলে গিয়েছিলি বল তো। জানিস তোকে আমি কত জায়গায় খুঁজেছি। এইভাবে আমাকে ছেড়ে থাকতে তোর একটুও কষ্ট হয়নি না রে।
সীমা মাইশার হাত দুটো ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
" খুব কষ্ট হয়েছে রে তোকে ছাড়া থাকতে কিন্তু মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি এমন হয় যে নিজেকে অনেক সময় প্রিয় মানুষদের কাছ থেকে গুটিয়ে নিতে হয়।
মাইশা সীমাকে দেখে যতটা খুশি হয়েছে তার থেকে বেশি অবাক হয়েছে সীমা কে আর রিয়াদকে একসাথে দেখে। কৌতুহল ভরা দৃষ্টি নিয়ে মাইশা রিয়াদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলল,
" রিয়াদ ভাই আপনি সীমাকে কোথায় খুঁজে পেলেন আর আপনি আর সীমা একসাথে।
রিয়াদ একে একে সব কিছু বলল মাইশাকে।মাইশা সব শুনে চোখে মুখে এক আকাশ পরিমাণ আনন্দ নিয়ে কৃতজ্ঞতার স্বরে রিয়াদকে বলল,
" আপনার প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ রিয়াদ ভাই আমার বান্ধবীটাকে নতুন একটা জীবন দেবার জন্য। আপনার কাছে আমার একটাই অনুরোধ আমার বান্ধবী টা অনেক অভাগী ওকে সারা জীবন আপনার ভালোবাসার চাদর দিয়ে জড়িয়ে রাখবেন।
রিয়াদ সীমার দিকে তাকিয়ে তার একটা হাত রিয়াদের হাতের মুষ্টি যুগলে নিয়ে মাইশা কে বলল,
" জীবন থাকা পর্যন্ত এই হাত আমার হাত থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না।
মাইশার এতটা পরিমান হাস্যজ্জ্বল চেহারা দেখে আর এতটা পরিমাণ খুশি দেখে আরিয়ান আজ অনেক খুশি। আরিয়ান মাইশার মনের ভেতর চলা প্রত্যেকটা অনুভূতিকে মন থেকে অনুভব করতে পারে। তাইতো মাইশা যে সীমাকে খুব মিস করছিল সেটা আরিয়ান ঠিক বুঝতে পেরেছিল। তাই রিয়াদ এর সাথে যোগাযোগ করে এই সারপ্রাইজ টা দিলো মাইশা কে। আরিয়ান মাইশার পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো। কিছুটা ঝুঁকে মাইশার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
" সারপ্রাইজ টা কেমন লাগলো আমার মাছরাঙ্গা পাখি।
মাইশা আরিয়ানের দিকে ঘুরে তার দুই হাত দিয়ে আরিয়ানের গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
" তোমার এই সারপ্রাইজ টা যে আমাকে কতটা খুশি করেছে কতটা আনন্দ দিয়েছে তা আমি তোমাকে বোঝাতে পারব না।
আরিয়ান এদিক ওদিক একটু চোখ বুলিয়ে নিয়ে তার আঙ্গুল দিয়ে নিজের ঠোঁটে স্পর্শ করে মাইশা কে বলল,
" এত সুন্দর একটা সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য আমার তো কিছু পাওনা আছে তাই না। আমার পাওনা টা আমাকে বুঝিয়ে দাও।
মাইশা কোমরে দুই হাত দিয়ে চোখ পাকিয়ে আরিয়ান কে বলল,
" ঘরভর্তি এতো লোকজন তার মধ্যে তুমি এইসব বলছো।সব সময় খালি মাথার মধ্যে দুষ্টু বুদ্ধি করে তাই না।
কথা টা বলে মাইশা চলে যাচ্ছিল তখনই আরিয়ান মাইশার হাতটাকে টেনে ধরল। মাইশা কে এক টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলল,
" তোমাকে কষ্ট করে দিতে হবে না আমার অধিকার আমার পাওনা আমি নিজেই বুঝে নিচ্ছি।
কথাটা বলেই মাইশাকে আর কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আরিয়া নিজের ঠোঁটটা মাইশার ঠোঁটে ডুবিয়ে দিল। মাইশা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ফেলল। আপনা আপনি মাইশার হাত দুটো আরিয়ানের পেছনে তার পাঞ্জাবি টা খামচে ধরল।
কিছুক্ষণ পর আরিয়ান মাইশা কে ছেড়ে দিল। কিন্তু মাইশা আরিয়ানকে শক্ত করে ধরে রেখেছে তার কাছে যেতেই দিচ্ছে না। মাইশা কিছুটা উত্তেজনার বসে বলে ফেললো,
" সব সময় খালি নিজের ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেলেই চলে যাও আমার কথা একবারও ভাবনা।
আরিয়ান তার ঠোঁটটাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দিয়ে এপাশ থেকে ওপাশে মুছে নিয়ে মাইশার কোমর জড়িয়ে ধরে বলল,
" তা এখন কি করতে হবে আমার পিচ্চি বউ।
" তুমি বোঝনা কি করতে হবে আমি কি তোমাকে বলেছি আমাকে ছাড়তে।
" তাই বুঝি।
মাইশা কিছু না বলে আরিয়ানের পায়ের উপর নিজের পা দুটো উঠিয়ে দিয়ে আরিয়ানের ঠোঁট জোড়া শক্ত করে চেপে ধরল। আজ মাইশা যেন কেমন একটা বেসামাল হয়ে গেছে সে যেন নিজেকে নিজেই কন্ট্রোল করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। আরিয়ান যেন আজকে মাইশা কে কিছুতেই শান্ত করতে পারছে না।
মাইশা আরিয়ানের ঠোঁট জোরা ছেড়ে দিয়ে আরিয়ানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
" বিশ্বাস করো তোমাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্ত থাকতে পারবো না। তুমি যদি এক সেকেন্ডের জন্য আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাও আমি পাগল হয়ে যাব।
আরিয়ান মাইশাকে নিজের বুকের মধ্যে আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে বলল,
" ধুর পাগলী আমি তোমাকে ছেড়ে কোথায় যাবো বলো। আমি না থাকলে আমার এই মাছরাঙ্গা পাখিটা কে ,কে এতো ভালবাসবে শুনি। আর মাইশা ছাড়া এই আরিয়ার যে নিঃস্ব সেটা তুমি জানো না । এবার চলো ওই দিকে সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
ওরা দুজন দুজনের হাত ধরে সেখান থেকে চলে গেল।
সীমাকে খুব সুন্দর করে হলুদের সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। রিয়াদ অপলক হীন ভাবে তাকিয়ে আছে সীমার দিকে। চোখের পাতা যেন পড়তেই চাইছে না ওর সীমা কিছু টা লজ্জা লজ্জা মুখে নিয়ে বলল,
" কি দেখছ এইভাবে।
" তোমাকে।
" আমাকে এর আগে দেখ নি বুঝি।
রিয়াদ সীমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ওর হাত ধরে বলল,
" এই চোখে শুধু তুমি
তাই তোমাতেই মুগ্ধ আমি।
সীমা কিছুটা ঝুঁকে রিয়াদের কপালে ওর ঠোঁট টা আলতো করে ছুঁইয়ে দিয়ে বলল,
" এইভাবেই ভালোবেসো জনম ভরে
তোমার হৃদয় গহীনে রেখ আমায় যতন করে।
সীমার উষ্ণ ঠোঁটের পরশ, ওর রাঙানোর ঠোঁট দুটো রিয়াদের যেন নেশা ধরিয়ে দিচ্ছিল। ওর মনে আর শরীরে যেন এক তরঙ্গ লীলা খেলে যাচ্ছে। রিয়াদ যেন ওর নিয়ন্ত্রণ শক্তি হারিয়ে ফেলছে। রিয়াদ সীমার কাছে আগাতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তে কয়েকজন মেয়ে এসে সীমাকে বলল,
" হয়েছে হয়েছে অনেক গল্প করা হয়েছে আর গল্প করতে হবে না বাকি যা গল্প আছে জমিয়ে রাখো বাসর ঘরে করো।
কথাগুলো বলে ওরা খিলখিল শব্দ হেসে ওঠে। সীমা লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। ওদের মধ্যে থাকা রিয়া নামের একটা মেয়ে সীমার হাত ধরে বলল,
" হয়েছে আর এত লজ্জা পেতে হবে না। এবার চলো আমাদের সাথে।
সীমাকে ওরা ওখান থেকে নিয়ে গেল। সীমা যেতে যেতে পেছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখল রিয়াদের পুরো মুখটা বিষাদে ভরে গেছে তার কাঙ্খিত জিনিসটা না পাওয়ার কষ্টে। সীমা রিয়াদকে একটা ফ্লাইং কিস করল। কিছুটা মুচকি হাসি দিয়ে সীমা আস্তে আস্তে ওখান থেকে রিয়াদের চোখের আড়াল হয়ে গেল।
রিয়াদ চোখ মুখ খিছে তার নিচে ঠোঁট টা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে বিরক্তির স্বরে বলল,
" এরা আশার আর সময় পেল না আমার রোমান্সের একদম বারোটা বাজিয়ে দিল।
রিয়াদ বিড়বিড় করতে করতে আর একরাশ বিরক্তি নিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করল।
মাইশার চোখ জোড়া প্রচন্ড কৌতুহল নিয়ে বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ কে আর বাড়ির আনাচে-কানাচে ঘুরে ফিরে দেখছে।আরিয়ান দের বাড়িতে উপস্থিত সকল ছেলে আর পুরুষেরা হলুদ কালার পাঞ্জাবি পড়েছে, আর মেয়েরা সবাই হলুদ কালার শাড়ি পড়েছে। মাইশা অবাক নয়নে পুরোটা দেখে যাচ্ছে। হঠাৎ মাইশার চোখ পড়লো লাইটিং এ জ্বলজ্বল করা একটা লেখার দিকে। যেখানে লেখা ছিল,
" হলুদ সন্ধ্যা।
মাইশা এতক্ষণে সবটা বুঝতে পারল আরিয়ান মাইশা কে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এত কিছু আয়োজন করেছে। মাইশা এক ভালোলাগার ভাবনার সাগরে ডুব দিল।
সেই ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে আরিয়ান সবার উদ্দেশ্যে এ্যনাউন্স করল,
" আজকের এই সন্ধ্যা, সকল আয়োজন করা হয়েছে আমার প্রিয় মানুষটার এক ফালি খুশির জন্য। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই এখানে একসাথে তিন টা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হবে।
আরিয়ান বেশ কিছুক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছে সবাই তার দিকে তাকিয়ে কেমন জানি ঠোঁট টিপে টিপে মিটিমিটি হাসছে। তাদের হাসির কারনটা আরিয়ান ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। আরিয়ানকে দেখা মাত্র রিয়াদ আর রাফাত কেমন ভাবে জানি ওর দিকে তাকিয়ে ওরাও মিটিমিটি হাসছে। আরিয়ানের এবার বেজায় বিরক্ত লাগছে সবার এই কান্ড কারখানায়।
আরিয়ান কিছুটা বিরক্ত নিয়ে রাফাত কে বলল,
" এই তোর আমাকে দেখে এভাবে হাসছিস কেন বলতো। আচ্ছা আমাকে দেখে কোন দিক থেকে কি তোদের জোকার মনে হচ্ছে।
রিয়াদ আরা রাফাত ওদের হাসি আর থামাতে না পেরে হো হো শব্দে হেসে উঠলো। আরিয়ার প্রচন্ড রকমের বিরক্তি আর রাগ নিয়ে ওর পাঞ্জাবির হাতা টা কিছুটা ফোল্ড করে ওর একহাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাফাত কে আর রিয়াদ বলল
" জানিস আমার হাতটা না খুব চুলকাচ্ছে ইচ্ছে করছে তোদের কে ঘুষি মেরে তোদের দাঁতগুলো সব ফেলে দেই তারপর ফোকলা দাঁতে হাসলে ঠিক কেমন লাগে তোদের কে দেখতে ,সেটা দেখে না আমিও হাসবো।
রিয়াদ আর রাফাত অনেক কষ্টে নিজেদের হাসি থামিয়ে রাফাত আরিয়ান কে বলল,
" আসলে দোস্ত আমি ভাবছিলাম মাইশার লিপস্টিক টেস্ট টা আসলে কেমন লাগলো।
রাফাতের কথা শুনে আরিয়ানের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। আরিয়ান তার চোখ জোড়া গোল গোল করে তাকিয়ে আছে রাফাতের দিকে। এতক্ষণে আরিয়ান ওদের মিটি মিটি হাসির কারণটা বুঝতে পারল। নিজেই নিজেকে মনে মনে গালাগাল দিতে দিতে বলল,
" আমি আসলেই একটা গবেট। আমার একটু সতর্ক থাকা উচিত ছিল। ইশ আমার আমার ইজ্জতের ফালুদা বানিয়ে দিল।
আরিয়ান কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না। আরিয়ান আর কোন কথা না বাড়িয়ে কোনরকমে ওখান থেকে কেটে পড়লো। ওরা দুজন যেন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওদের হাসি যেন থামছেই না। হঠাৎ রাফাতের ফোনটা বেজে উঠলো। রাফাত ফোনটা বের করে ফোনের দিকে তাকাতেই ওর হাস্যজ্জল মুখটা মুহুর্তের মধ্যে বিরক্তিতে ভরে গেল। ওর হাসি মাখা মুখটা মলিন হয়ে গেল। মোবাইলটা বেজেই চলেছে, আরাফাতের ক্রমাগত রাগে পুরো শরীর যেন জ্বলছে। দাঁতে দাঁত চেপে দাঁত কটমট করছে। ইচ্ছে করছে হাতে থাকা ফোনটাকে সজরে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলতে। ফোনটা বাজতে বাজতে কেটে গেল। রাফাত ফোনটাকে তার পাঞ্জাবির পকেটে রাখতে যাবে এসে মুহূর্তে ফোনটা আবারো বেজে উঠলো। ফোনের দিকে তাকিয়ে রাফাতের মেজাজ আরো ১০০° গরম হয়ে গেল।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রচন্ড রাগ আর বিরক্ত নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ফোনটা রিসিভ করল রাফাত। ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে প্রচন্ড রকমের রাগান্বিত সরে জোরে একটা হুংকার ছেড়ে রাফাতের বাবা এনায়েত চৌধুরী বলে উঠলো,
" তোমার এত বড় সাহস তুমি আমার কথা অমান্য করে আবার ওই বাড়িতে গিয়েছো। আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম না ওই বাড়ির সাথে বা ওই মেয়ের সাথে কোন রকম সম্পর্ক বা যোগাযোগ না রাখতে। তুমি কি ভুলে গেছো তুমি কার ছেলে আর আমার ক্ষমতা ঠিক কতটা। আমি চাইলে এই মুহূর্তে ঠিক কি করতে পারি। যদি নিজের আর ওদের ভাল চাও এই মুহূর্তে বাড়িতে ফিরে এসো।
রাফাত এতক্ষণ দাঁতের দাঁত চেপে তার বাবার কথাগুলো হজম করছিল। ও চাইছিল না এখানে কোন ভাবে কোনরকম সিনক্রিয়েট করতে। কিন্তু আর সহ্য করতে না পেরে রুক্ষ গলায় তার বাবাকে ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলো,
" তুমি ভাবলে কি করে ড্যাডি তুমি বলবে আর আমি এখান থেকে ফিরে আসব। তুমি আমার সাথে যা যা করেছ সেটা একদম ঠিক করো নি। একটা কথা ভালোভাবে শুনে রাখ ড্যাডি আমি আলিয়াকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি বিয়ে যদি করতে হয় আমি ওকেই করব। তোমার যদি ইচ্ছে হয় আমাদেরকে মেনে নিও ইচ্ছে না হলে দরকার নেই। প্রয়োজন হলে এখন থেকে মনে করবে রাফাত নামে তোমার কোন ছেলে নেই। আর ভুলেও যদি ওদের কোন ক্ষতি করতে চাও তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না। দরকার হলে তোমার বিরুদ্ধে গিয়ে আমি লড়াই করব কথাটা মনে রেখো।
কথাগুলো বলে রাফাত সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা কেটে দিয়ে ফোনটা বন্ধ করে রাখল। বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিয়ে হাত যুগল মুষ্টি বদ্ধ করে মনে মনে আওরালো,
" যে বাবা নিজের জেদ বজায় রাখার জন্য তার ছেলেকে ঘর বন্দি করে রাখে ভালোবাসার কাছ থেকে আলাদা করে দিতে চাই সে বাবার আমার জীবনে কোন প্রয়োজন নেই। আমি আলিয়াকে নিয়ে সারা জীবন নতুন একটা পরিচয়ে বেঁচে থাকতে চাই শুধুমাত্র ওর জন্য, আমার ভালোবাসার জন্য, আমার প্রেমের জন্য।
রাফাত নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে এখান থেকে অন্যদিকে চলে গেল।
এনায়েত চৌধুরী কিছুতেই রাফাতের এরকম ব্যবহার আর কথাগুলো সহ্য করতে পারছে না। আরাফাত কে সে বারবার কল দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রাফাতের ফোন সুইচ অফ বলছে। আপনি ফোনটা কি কিছুটা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কটমট করতে করতে বললেন,
" সাপের বংশ আর শত্রু কোনটাই রাখতে নেই। আমার একমাত্র ছেলেকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ফল মোটেও ভালো হবে না। পৃথিবীতে একই রকম দেখতে হলে সে ওই মানুষটা হয়ে যায় না। তোমার আসল পরিচয় সবার সামনে আসার সময় হয়ে গেছে অপেক্ষায় থেকো।
চলবে ....
প্রেম আমার সিজন ২
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
245
Views
2
Likes
0
Comments
5.0
Rating