প্রেম_আমার
পর্ব_৩
আরিয়ান হঠাৎ মাইশার সামনে দুই কানে ধরে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। মাইশা অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। আরিয়ান তার দুই কানে ধরে আবেগ মাখা কন্ঠে বলল,
------- I am very sorry maisha. Really I am so sorry. Please forgive me please.
মাইশা শুধু অবাক হয়ে আরিয়ানকে দেখে যাচ্ছে। মাইশা কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।তখন আরিয়ান তার সাথে ঐ রকম ব্যবহার করল, একটু আগে তার সখের ফুলদানি টা আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল। এখন আবার তার কাছে সরি বলছে। মাইশা কিছু বলছে না চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।
আরিয়ান আবার মাইশাকে বলল,
-----কিরে কথা বল সরি বললাম তো। সত্যিই আমার তোর সাথে এমনটা করা একদম ঠিক হয়নি।আমি আমার ভুলটা বুঝতে পেরেছি।এখন কি কান ধরে উঠবস করলে খুশি হবি।
এই বলে আরিয়ান কান ধরে উঠবস করতে যাচ্ছিল তখনই মাইশা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
------ ব্যস হয়েছে হয়েছে আর এত ঢং করতে হবে না।
----হুম তোর জন্য আমি সবকিছু করতে পারি রে কিন্তু তুই বুঝিস না।
----কি বুঝব।
আরিয়ান মাইশার দিকে তাকিয়ে মনে মনে,
"" তুই এমন কেন মাইশা তুই কি কখনো আমার মনের কথাটা বুঝবি না"'।
আরিয়ান তার পকেট থেকে মাইশা কে একটা চকলেট বের করে দিল। আরিয়ান জানে মাইশা চকলেট অনেক পছন্দ করে।মাইশা চকলেট টার দিকে তাকিয়ে ভাবছে,
"" নিজে কষ্ট দেয় আবার নিজে এসেই সরি বলে। আমার পছন্দ অপছন্দ সব দিকটা খুব সুন্দর ভাবে খেয়াল রাখে। তারপরও কেন আমার সাথে এমন করে সে।
মাইশা আরিয়ানের হাত থেকে চকলেট নিয়ে খেতে শুরু করলো। আরিয়ান এক দৃষ্টিতে মাইশার চকলেট খাওয়া দেখছে। চকলেট খেতে খেতে কিছুটা চকলেট মাইশার ঠোঁটে লেগে গেল। আরিয়ান মাইশার ঠোঁটে লেগে যাওয়া চকলেট টা হাত দিয়ে মুছে দিল। হঠাৎ করে মাইশা আহ্ করে উঠলো। আরিয়ান মাইশার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে দেখলো মাইশার ঠোঁট টা ফুলে আছে। ঠোঁটের কোণের হালকা কাটা দাগ টা দেখা যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানের গাড়ির মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাটার কথা মনে পড়ল। আরিয়ানের নিজের প্রতি নিজের ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করছে কি করে পারলো সে নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে এই ভাবে কষ্ট দিতে।আরিয়ান কি বলবে বুঝতে পারছে না।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে আরিয়ানের চোখ গেল মাইশার দিকে। মাইশার চুল গুলো খোলা। বাতাসে চুলগুলো উড়ছে আর কিছু কিছু চুল ওর কপালে এসে পড়ছে। মাইশা কিছুক্ষণ পরপর কপাল থেকে ওর চুলগুলো সরিয়ে কানের পাশে গুঁজে দিচ্ছে।খোলা চুলে চকলেট খাওয়া অবস্থায় মাইশাকে খুব অপরুপ লাগছিল।আরিয়ান মুগ্ধ হয়ে মাইশার দিকেই তাকিয়ে আছে।
মাইশা আরিয়ানকে এইভাবে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মাইশা আরিয়ানের সামনে একটা তুরি মারলো।তুরের শব্দে আরিয়ানের ধ্যান ভাঙল।
মাইশা চকলেটের শেষ অংশ টা ও মুখে দিতে দিতে আরিয়ান কে বলল,
------- এইভাবে তাকিয়ে আছো কেন আমার নজর লাগবে না। পরে তো আমার পেট খারাপ করবে।
আরিয়ান মনে মনে বলল,
""তোমার উপর আমার নজর তো সেই কবেই লেগে গেছে। সেই নজর আর কোনদিনও সরবে না''"।
বেশ কিছুক্ষণ পর আরিয়ান আর মাইশা ছাদ থেকে নিচে নেমে গেল। ছাদ থেকে নেমে মাইশা তার মামীকে রান্নাঘরে হেল্প করতে গেল। আলিয়া লেখাপড়া করে তাই তার মা কেমন হেল্প করতে পারে না। আর মাইশা তো অফিস নিয়েই ব্যস্ত থাকে তার মামীকে তেমন একটা হেল্প করা হয় না। তার মামীই সারাদিন ঘরের সমস্ত কাজ করে। তাই মাইশা যতটুকু সময় পায় মামীকে কাজে হেল্প করে। আজও তার অন্যথা হলো না।
এইদিকে আরিয়ান তার ঘরে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ভাবছে,"" যত দ্রুত সম্ভব রিয়াদকে অফিস থেকে বের করে দিতে হবে। রিয়াদ কি কিছুতেই মাইশার কাছাকাছি ঘেষতে দেওয়া যাবে না। বাবার সাথে এই বিষয়ে আজকে কথা বলতে হবে""।
~~~~~~~~~
রাত্রের বেলা খেতে বসে আরিয়ান তার বাবাকে কথায় কথায় বলল,
------ বাবা তোমার সাথে অফিসের বিষয়ে আমার একটা কথা ছিল।
আরিয়ানের বাবা আমজাদ সাহেব এক লোকমা মুখে নিতে নিতে আরিয়ান কে বলল,
----- কি কথা কোন সমস্যা হয়ে গেছে নাকি অফিসে।
------না আসলে আমি ভাবছিলাম অফিস থেকে কিছু পুরাতন লোক কে ছাঁটাই করে নতুন কিছু লোক নেবো।
------ কেন? ওরা কি দোষ করেছে।
------ নতুন লোক নিলে অফিসের কাজকর্ম আরো আপডেট হবে তাই।
------ না আরিয়ান ওরা সবাই আমার অনেক বিশ্বস্ত লোক। আর বিশ্বস্ত লোক যে কাজটা খুব আন্তরিকভাবে করবে, নতুন লোক গুলো সেই ভাবে করবে না।
আরিয়ান বাবার কথা শুনে আরিয়ানের প্লানিং টা একদম ভেস্তে গেল। আরিয়ান তো ভেবেছিল এই সুযোগে তাদের ম্যানেজার রিয়াদ কে অফিস থেকে ছাঁটাই করে দিয়ে নতুন ম্যানেজার রাখবে।কিন্তু সেটা আর হলো না। আমজাদ সাহেব আরিয়ান কে সব দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলে ও অফিসের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেবার আগে আমজাদ সাহেবকে জানাতে বলেছে।তাই ব্যাপারটা জানাতে হয়েছিল আরিয়ানকে।তা নাহলে নিজেই রিয়াদকে অফিস থেকে বের করে দিত।
মাইশা আরিয়ানের কথা শুনে ঠিকই বুঝতে পারল আরিয়ান ঠিক কাকে মিন করছিল অফিস থেকে ছাঁটাই করার ব্যাপারে। কিন্তু মাইশা ভেবে পায় না আরিয়ান কেন রিয়াদের ওপর এত রেগে আছে। রিয়াদ তো যথেষ্ট ভালো আর মার্জিত একটা ছেলে। খুব চুপচাপ আর কাজে ও অনেক দক্ষ। আরিয়ানের তো রিয়াদের উপর অনেক খুশি হবার কথা কিন্তু তা না করে উল্টো রিয়াদ এর উপর আরিয়ান কেন এত ক্ষেপে আছে সেটাই মাইশা বুঝতে পারছে না মাইশা।
খাওয়া শেষ করে মাইশা নিজের রুমের দিকে যেতে নেবে তখনই আরিয়ান তাকে পেছন থেকে ডাক দিয়ে ওর কাছে এসে একটা প্যাকেট ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
------ এই নে এই প্যাকেটে কিছু ঔষুধ আছে। ঔষুধ গুলো খেয়ে নিস ঠোঁটের ব্যথা টা কমে যাবে।
মাইশা প্যাকেট টা আরিয়ানের হাতেই আবার ফিরিয়ে দিয়ে বলল,
------ না আরিয়ান ভাইয়া তোমার ঔষুধ আমার লাগবে না। আমার ব্যথা এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে।
আরিয়ান মাইশা কে একটা ধমক দিয়ে বলল,
------ চুপ কোন কথা বলবি না। যা বলছি সেটা কর।
কথাটা বলে আরিয়ান মাইশার হাতে ঔষুধের প্যাকেট টা দিয়ে চলে গেল। মাইশা প্যাকেট টার দিকে তাকিয়ে একটা ভেংঞ্চি কেটে মনে মনে আওড়ালো,
""ব্যথা দিয়ে এখন আবার ভালোবাসা দেখাতে এসেছে""।
রিয়াদের কিছুই ভালো লাগছে না ও যেন ভিতরে ভিতরে ছটফট করে মরছে। মাইশার সাথে কথা বলতে পারলে হয়তোবা রিয়াদের মনটা কিছু টা শান্ত হতো। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার রিয়াদ মাইশার ফোনে কল দিয়েছিল কিন্তু মাইশার ফোনে কল ঢুকছেই না। রিয়াদের ছটফটানি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। রিয়াদ এখন শুধু সকাল হবার অপেক্ষা করছে। কখন সকাল হবে কখন মাইশাকে এক নজর দেখবে আর ওর সাথে মন ভরে কথা বলবে। আজকে রাতটা যেন রিয়াদের কাছে খুব বড় মনে হচ্ছে।তার অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতেই চায় না।
পরদিন সকালে রিয়াদ অফিসে গিয়ে মাইশার জন্য অপেক্ষা করছিল। মাইশা এখনো অফিসে আসে নিনি।রিয়াদ কিছুক্ষণ পরপর পর্যবেক্ষণ করছে মাইশা এসেছে কিনা।কিছুক্ষণ পর রিয়াদ তার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি টাকে দেখতে পেয়ে তার ঠোঁটের কোণে একটা স্বস্তির হাসি ফুটে উঠলো।
মাইশা তার কেবিনে ঢুকতেই রিয়াদ এসে তাকে বলল,
------ তোমার ফোন বন্ধ ছিল কেন মাইশা গতকালকে তোমাকে কতবার ফোন দিয়েছি জানো তুমি।
রিয়াদের কিছুটা রাগ নিয়ে মনে মনে বললো,
""ফোনে পাবেন কি করে ঐ ডেবিল টা তো আমার সিমটা ভেঙে ফেলেছে আর ফোনটা ফেলে দিয়েছে।
মাইশা কথা বলছে না দেখে রিয়াদ আবার মাইশাকে বলল,
------কি হলো মাইশা কথা বলছো না কেন।
------ আসলে আমার ফোন টা হাত থেকে পানিতে পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
------উফ্ তুমি বিশ্বাস করবে না মাইশা তোমাকে ফোনে না পেয়ে আমার খুব টেনশন হচ্ছিল তোমার জন্য।
পিছন থেকে আরিয়ান বলে উঠলো,
------ মিস্টার রিয়াদ ওর জন্য ভাবার অনেক মানুষ আছে টেনশন করার অনেক মানুষ আছে। আপনার না ভাবলেও করলেও চলবে। আপনি বরং আপনার কাজটা নিয়ে ভাবুন। তা না হলে আপনাকে আমি এই অফিসে রাখবো কিনা সেটা নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে। Now leave from here.
এইভাবে আরিয়ান চলে আসাতে রিয়াদ অনেকটা ঘাবড়ে গেল। রিয়াদ দ্রুত করে মাইসার কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
রিয়াদ চলে যেতেই আরিয়ান দাঁতের দাঁত চেপে মাইশা কে তীক্ষ্ণ গলায় শাসিয়ে বলল,
------ তোকে আমি আবারও সাবধান করে দিলাম মাইশা দ্বিতীয়বার যেন ওই রিয়াদের সাথে তোকে আমি কথা বলতে না দেখি।Mind it.
মাইশা একরাশ বিরক্তি বিড়বিড় করে বলল,
"'আর ভালো লাগে না আমার প্রতি ডেবিল টার এই খবরদারি গুলো।আমি একদম বিরক্ত হয়ে গেছি"'।
মাইশা বিড়বিড় করতে করতে কথাগুলো বলছিলো। তখনই একটা পিয়ন এসে রেপিং করা একটা বক্স মাইশার টেবিলে রেখে বলল,
------ ম্যাডাম এটা আপনার জন্য একজন পাঠিয়েছে।
মাইশা কিছুটা অবাক হয়ে পিয়ন কে জিজ্ঞেস করল,
------ এটা কে পাঠিয়েছে।
------ আমি জানিনা ম্যাডাম একটা লোক এসে এটা আমার হাতে দিয়ে আপনাকে দেবার কথা বলল।
মাইশা বুঝতে পারছে না এটা কি আর কেই বা পাঠালো।মাইশা রেপিং টা খুলে দেখলো একটা দামী অ্যান্ড্রয়েড ফোন আর একটা সিম।তার মধ্যে ছোট একটা চির কুটে লেখা আছে,
''"মাইশা আমার তরফ থেকে তোমার জন্য সামান্য একটু উপহার। ইতি তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী।
মাইশা কিছুই বুঝতে পারছে না। কে তাকে ফোন পাঠালো। হঠাৎ পিয়ন আবার এসে তাকে বলল,
------ ম্যাডাম স্যার আপনাকে ডাকছে।
মাইশা ফোন টা টেবিলের উপর রেখেই আরিয়ানের কেবিনের দিকে গেল। আরিয়ানের কেবিনে গিয়ে দেখল আরিয়ান কেবিনে নেই। মাইশা বেশ কিছুক্ষন আরিয়ানের জন্য অপেক্ষা করে নিজের কেবিনের দিকে চলে গেল।
মাইশা কেবিনে ঢুকতেই যা দেখল তা দেখার জন্য মাইশা একদমই প্রস্তুত ছিল না। মাইশা দেখল.......
চলবে......
প্রেম আমার (পর্ব ৩)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
978
Views
17
Likes
0
Comments
4.3
Rating