প্রেম_আমার
পর্ব_৪
মাইশা নিজের কেবিনে এসে দেখলো ফোনটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে নিচে পড়ে আছে। মাইশার চোখ যেন চরক গাছ হয়ে গেল।মাইশা ভেবে পাচ্ছে না হঠাৎ কে করলো এই কাজ টা।ভাবতে ভাবতে মাইশা কিছুটা আন্দাজ করতে পারলো এই কাজটা কে করতে পারে।কারণ যে এই কাজ টা করেছে সে সব সময় মাইশার সকল ব্যাপারে তার ময়লা নাক টা গলাতে আসে।তাই সে ছাড়া এই কাজটা দ্বিতীয় আর কেউ করে নি।
মাইশা একরাশ রাগ মনের ভিতর নিয়ে ফোনের ভাঙ্গা টুকরো গুলো উঠিয়ে হনহন করে আরিয়ানের কেবিনের দিকে চলে গেল।আরিয়ানের কেবিনে ঢুকে মাইশা দেখলো আরিয়ান কার সাথে যেন খুব ফিসফিসিয়ে ফোনে কথা বলছে। মাইশা কে দেখা মাত্রই সে ফোনটা রেখে দিল।
মাইশা আরিয়ানের টেবিলের ওপর ফোনের টুকরো গুলো কিছুটা ছুঁড়ে মেরে আরিয়ানকে তীক্ষ্ণ গলায় বলল,
------- এটা নিশ্চয়ই তোমার কাজ তাই না। এই ফোনটা কি দোষ করল।কেন এই রকম করলে।
আরিয়ান মাইশার প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে পিয়ন কে তার কেবিনে ডেকে এনে বলল,
------ এই আবর্জনা গুলো এখনি আমার রুম থেকে পরিষ্কার করো। এইগুলো যেন আমি অফিসের কোথাও না দেখি।
মাইশা রাগে ফুঁসছে। মাইশা এমনিতেও ফোনটা তার কাছে রাখতো না। এই ফোনটা যে দিয়েছে তা যে কোন ভাবে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই তাকে ফোনটা তাকে ফিরিয়ে দিত। কিন্তু তার আগেই আরিয়ান ফোনটা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিল। মাইশা একদম শিওর এই কাজটা আরিয়ান ছাড়া আর কারো হতেই পারে না। কারণ মাইশার কেবিনে একমাত্র আরিয়ান ই যাতায়াত করে।
মাইশা আবার ও আরিয়ানকে একই প্রশ্ন ছুঁড়ে বলল,
------কি হল বলছো না কেন এটা কেন করলে।আমি জানি এই কাজটা তোমার।
আরিয়ান মাইশাকে কিছুটা ঝাঁঝালো গলায় বলল,
-------তোর সাহস হয় কি করে আমার কাছে কৈফিয়ত চাওয়ার। আমি তোর কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই। আর এই অফিসটা আমার তাই কারো কাছে কৈফিয়ৎ চাওয়ার অধিকার টা ও শুধুমাত্র আমার তোর না।তোকে ঠিক যেই কাজের জন্য রাখা হয়েছে তুই সেই কাজটাই কর।
মাইশার আজ খুব রাগ হচ্ছে তার মামার উপর। মামা কেন যে এই রকম একটা ডেভিল কে তার অফিসের দায়িত্ব দিল কে জানে। মাইশা আর কোন কথা না বলে আরিয়ানের রুম থেকে চলে যাচ্ছিল তখনই আরিয়ান মাইশা কে পিছন দিকে ডাক দিয়ে বলল,
------ এই দাঁড়া কোথায় যাচ্ছিস তোকে আমি যেতে বলেছি।
------ তো কি করব।
------যা আমার জন্য এক কাপ ব্লাক কফি নিয়ে আয়।
------ তোমার কি আমাকে পিয়ন মনে হয়।আর এই কাজগুলো করার জন্য অফিসে পিয়ন আছে।
------- আমার পি.এ কে।
------ আমি।
------ সো আর কোন কথা না বলে আমার জন্য এই মুহূর্তে ব্লাক কপি নিয়ে আয় যা।
মাইশা আরিয়ানকে একটা মুখ ভেংঞ্চি মেরে কফি আনতে চলে গেল। মাইশা চলে যেতেই আরিয়ান চেয়ারে হেলান দিয়ে হাতে একটা কলম নিয়ে ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
------ মাছরাঙ্গা পাখি, ঘুঘু দেখেছো কিন্তু ঘুঘুর ফাঁদ দেখ নি। জাস্ট ওয়েট বেবি।
কথাটা বলে একটা ডেভিল মার্কা হাসি দিলো।
মাইশার কেবিনের কিছুটা আড়ালে দাঁড়িয়ে কেউ একজন ফোনে কথা বলছিল ফোনে কথা বলছিল। এপাশ থেকে সে উত্তর দিল,
------আমি সব সময় ওকে নজরে নজরে রাখছি। আর আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি আমার কাজটা সাকসেসফুল করার জন্য। যত দ্রুত সম্ভব আমি আপনাকে ভালো একটা রেজাল্ট জানাবো।
ওপাশ থেকে কিছু বলার পর আবার উত্তর দিল,
-------আমার পথে তো ঐ একজনই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তা না হলে কবেই আমি এই কাজটা শেষ করে ফেলতাম। ওকে আয়াত্ত্ব করা আমার জন্য কোনো ব্যাপারই ছিল না।
ও প্রান্ত থেকে কিছু বলার পর সে আবার উত্তর দিল,
------না না ওকে কিছু করা যাবে না করলে অনেক বড় ঝামেলা হতে পারে।আপনি আমাকে আরও একটু সময় দিন প্লিজ।
ওপাশ থেকে ফোন কেটে দিতেই সে তার হাত যুগল মুষ্টিবদ্ধ রাগণ্বিত হয়ে বলল,
------- কতদিন তুই ওকে আমার কাছ থেকে সেভ করবি আমিও দেখবো।আমার তো এই মিশন টা সাকসেসফুল করতেই হবে।তার জন্য আমার যা যা করতে হয় আমি সবই করব। শুধু সঠিক সময়টার অপেক্ষা।
কথাগুলো বলেই সে আপন মনে হাসতে লাগলো
কিছুক্ষণ পর মাইশা এক কাপ কফি বানিয়ে এনে আরিয়ানের হাতে দিল। আরিয়ান কফিতে এক চুমুক দিয়েই নাক মুখ খিচে মাইশা কে বলল,
------ এটা কোন কফি বানিয়েছিস, নাকি নিম পাতার রস নিয়ে এসেছিস কোনটা।
তোকে তো ব্ল্যাক কফি না দিয়ে তোকে তো করল্লার রস খাওয়ানো উচিত আইলার বাচ্চা (মনে মনে)
আরিয়ান কফিটা বাস্কেট এ ফেলে দিয়ে মাইশা কে বলল,
-----যা আবার আমার জন্য কি সুন্দর করে ব্ল্যাক কফি বানিয়ে নিয়ে আয়। এবার যদি ভালো না হয় ডাইরেক্ট তোর মাথায় ঢালবো।
মাইশার তো রাগে গায়ের ভিতর হির হির করছে।মাইশা বুঝতে পারছে আরিয়ান ইচ্ছে করে তার সাথে এমন করছে। আরিয়ানকে শালা কুত্তা, বিলাই আইলা কোথাকার বলে মনে মনে আরো অনেক গালাগালি দিতে দিতে আরিয়ানের হাত থেকে কফির মগ টা এক ঝটকায় টান দিয়ে চলে গেল।
মাইশা চলে যেতেই আরিয়ান একটু মুচকি হেসে বলল,
-------উফ মাছরাঙ্গা পাখি তোমাকে রাগলে যে কি কিউট লাগে তা তুমি নিজেও জানো না। একদম আমার কলিজা এসে ধাক্কা লাগে।
হঠাৎ আরিয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো। আরিয়ান ফোন রিসিভ করেই বলে উঠলো,
------কাজটা কতদূর আগালো।
------ আপনি কোন চিন্তা করবেন না স্যার কাজ প্রায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
-------গুড। খুব সতর্কভাবে কাজটা করতে হবে। এতটুকু যেন ফাঁক ফাঁক ফোকর না থাকে। এমন ভাবে কাজটা করবে কেউ যেন কিছুই বুঝতে না পারে ঠিক আছে।
আরিয়ান ফোনটা রেখে পকেটে হাত দিয়ে শিস বাজাতে বাজাতে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো,
------ তুই এমন জায়গায় হাত বাড়িয়েছিস, তোর যে এর পরিণতি কি হবে তা তুই নিজেও জানিস না। তোর মত বেঈমানের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি অপেক্ষা করছে।
মাইশা আবার কফি বানিয়ে এনে আরিয়ানের হাতে দিল। আরিয়ান কফিতে চুমুক দিয়ে বলল,
------ গুড গার্ল।এবার কফিটা একদম ঠিক হয়েছে।
তারপর,আরিয়ান তার কেবিনের একটা আলমারির দেখিয়ে বলল,
------যা ঐ আলমারিতে কিছু ফাইল রাখা আছে বের কর।
মাইশা আলমারি থেকে ফাইলগুলো বের করে আরিয়ানের টেবিলের উপর রাখল।
------- এই কয়েক টা ফাইল ত্রিশ মিনিটের মধ্যে চেক করে আমাকে সাবমিট কর।
কথাটা শুনে মাইশার চোখ যেন ছানাবড়া হয়ে গেল।ফাইল গুলোর দিকে তাকিয়ে মাইশা ভাবছে,"" এতগুলো ফাইল কে ও কয়েকটা ফাইল বলছে। এতগুলো ফাইল চেক দিতে তো আমি ৩০ মিনিটে নয় আমি ৩ ঘণ্টা তে ও পারবো না। আইলার বাচ্চা তুই এগুলো ইচ্ছে করে আমার সাথে করছিস তাই না। এতগুলো ফাইল আমি কি করে ৩০ মিনিটে শেষ করব।
মাইশা আরিয়ান কে বলল,
------এতগুলো ফাইল আমি ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে পারবো না আমাকে আরো সময় দিতে হবে।
------যদি আর একটা ও কথা বলিস তাহলে ফাইলের সংখ্যা বাড়বে আর টাইমের সংখ্যা কমবে এবার ভেবে দেখ তুই কি করবি।
মাইশা ফাইল নিয়ে নিজে কেবিনে যেতে নেবে তখনই আরিয়ান তাকে বলল,
------ এই দাঁড়া কোথায় যাচ্ছিস আমার সামনে বসে ই কাজ টা কমপ্লিট করবি তুই।
------এ্যাঁ
------- এ্যাঁ নয় হ্যাঁ
------ কিন্তু
আরিয়ান চোখ গরম করে মাইশার দিকে তাকালো। মাইশা ভয় পেয়ে গেলো আর আরিয়ানকে মনে মনে ১০১ টা গালাগাল দিতে লাগলো। শালা, হিন্দুর বান্দর খচ্চর, আইলা, এই পিচ্চি একটা মেয়ের উপর এত জুলুম করা। তোর কপালে এমন বউ জুটবে না সারাদিন তোর উপর খবরদারি করবে দেখে নিস।
মাইশা আপন মনে কাজ করছিল। আর আরিয়ান তাকে এক দৃষ্টিতে মুগ্ধ হয়ে দেখে যাচ্ছিল। আর মনে মনে আওড়ালো,
""" আহারে কি সুন্দর লাগছে আমার পিচ্চি মাছরাঙ্গা পাখি টাকে। কিন্তু এই পিচ্চি মাছরাঙ্গা পাখিটা হয়তোবা জানে না তার জন্য ঠিক কি অপেক্ষা করছে। কথাগুলো ভেবেই মনে মনে একটা বাঁকা হাসি দিল আরিয়ান।
৩০ মিনিট পর আরিয়ান মাইশা কে বলল,
------ Time is over.
----- এই তো এই তো হয়ে গেছে আর কয়েক সেকেন্ড প্লিজ।
------এই তুই কি এক্সাম হলে বসে এক্সাম দিচ্ছিস আর আমি কি তোর এক্সাম নিচ্ছি যে তুই এক্সাম শেষ করার জন্য আমার কাছে থেকে টাইম চায়ছিস।
সঙ্গে সঙ্গে মাইশা জোরে বলে উঠলো,
------Done.
মাইশা আরিয়ানের সামনে সবগুলো ফাইল এগিয়ে দিয়ে বলল,
------আমার কাজ হয়ে গেছে।
আরিয়ান ফাইলগুলো না দেখেই মাইশাকে আলমারিতে লিখে দিতে বলল। মাইশা তো চোখ মুখ খিচে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে। মাইশার ইচ্ছে করছে ফাইলগুলো ওর মাথায় মারতে। শুধু শুধু মাইশা কে এতক্ষন খাটাল। মাইশা ফাইলগুলো আলমারিতে রেখে রাগে গজগজ করতে করতে আরিয়ানের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল।
"
"
"
"
সন্ধ্যার দিকে আরিয়ান নিজের রুমে বসে একটা কাগজ সামনে নিয়ে ঠোঁটের কোণে বাঁকা একটা হাসি দিয়ে বলল,
------ খুব তাড়াতাড়ি এমন কিছু হতে চলেছে যা তুমি কল্পনাও করতে পারো নি।
মাইশা অনেকক্ষণ যাবৎ ধরে ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। স্নিগ্ধ শীতল বাতাসটা খুব ভালো লাগছে মাইশার কাছে। বাতাসটা হালকা দুলে দুলে মাইশার শরীরে এসে হালকা পরশ দিয়ে যাচ্ছে।অনেক ভাবনা মাইশার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই ভাবনাটা শুধুমাত্র আরিয়ানকে নিয়ে। মাইশা মাঝে মধ্যে আরিয়ানকে একদমই বুঝে উঠতে পারে না। আরিয়ানের যেন অনেক গুলো রূপ।মাইশা বুঝে উঠতে পারেনা কোনটা আরিয়ানের আসল রূপ। আরিয়ান যেন ক্ষণে ক্ষণে নিজের রূপ পাল্টায়।না আর ভাবতে পারছে না মাইশা।
মাইশা মাথার দুপাশে আঙ্গুল দিয়ে ডলতে ডলতে বিড়বিড় করতে করতে বলল,
------ না আর ভেবে এত কাজ নেই।বেশি ভাবলে পরে আবার মাথা ব্যথা করবে। অনেকদিন আলিয়ার সাথে গল্প করা হয় না যাই নিচে গিয়ে দেখি ও কি করছে।
মাইশা ছাদ থেকে নামতে যাবে তখনই......
চলবে
প্রেম আমার (পর্ব ৪)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
928
Views
19
Likes
2
Comments
3.7
Rating