প্রেম আমার (সিজন-২ পর্ব-৭)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম আমার
কানিজ ফাতেমা
সিজন-২
পর্ব-৭

সন্ধ্যার দিকে সবাই বসার ঘরে বসে আছে। শুধু মাইশা মাইশা নেই।অনেকক্ষন হয়েছে ও ফ্রেশ হতে গেছে কিন্তু এখনো আসছে না। আরিয়ান মাইশার আসার পানে তাকিয়ে আছে।ওর মন টা আনচান আনচান করছে কখন কথা টা মাইশা সহ সবাই কে বলবে।বেশ অনেকক্ষন যাবৎ সবাই মাইশার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু মাইশার আসার যেনো কোনো নামই নেই।

রেহানা বেগম কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলল,
------- কি ব্যাপার আরিয়ান আর কতক্ষন আমাদের কে বসিয়ে রাখবি তোর যা বলার তাড়াতাড়ি বল।আমারও সবার সাথে একটা কথা আছে।

মায়ের এই রুপ কথা আলিয়ার খুব একটা পছন্দ হলো না।কারন আলিয়া সেই সকাল থেকে অধীর আগ্রহে এর সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিল কখন তার ভাই তার আর মাইশার বিয়ের কথাটা উপস্থাপন করবে।কিন্তু তার মা সেই কথার মাঝখানে অন্য কথা দিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

আলিয়া তার মাকে কিছু টা বিরক্তি নিয়ে বলল,
------- আহ্ মা মাইশা কে আসতে দাও না। তারপর ভাইয়া কি বলতে চায় আগে ভাইয়ার কথাটা শোনো না।তারপরে তোমার যা বলার বল।

-------- আমরা সবাই এখানে এতো সময় ধরে বসে আছি ওর বুঝি এখনো আসার সময় হলো না।কি এমন রাজ কার্য করছে ও।

আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকালো তার মায়ের দিকে।আরিয়ান দেখলো তার মায়ের মুখে বিরক্তি ভাব টা স্পস্ট ভেসে উঠেছে।সেই দিনের পর থেকে তার মা এখনো পর্যন্ত মাইশার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে রেখেছে। মাইশা কে যেনো সহ্য করতেই পারছে না।

আজমত সাহেব খুব বিরক্ত হলেন স্ত্রীর এমন কথায়।রেহেনা বেগম আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলেন সেই মুহূর্তে তিনি তার স্ত্রী কে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
------- অনেক হয়েছে এবার তুমি একটু থামো তো মেয়ে টা সারাদিন অফিস করে এসেছে ওকে একটু ফ্রেশ হতে দেবে না।

আজমত সাহেব আলিয়া কে বলল মাইশা কে ডেকে আনতে।আলিয়া মাইশা কে আনার জন্য পা বাড়াতে যাবে তখনই আরিয়ান আলিয়া থামিয়ে দিয়ে কে বলল,
------- এই দাঁড়া তোর যেতে হবে না আমি মাইশা কে নিয়ে আসছি।

মাইশার প্রতি ছেলের এমন বাড়াবাড়ি মোটেও ভালো লাগছে না রেহানা বেগমের।মাইশা কে যেন এখন এই সংসার আর আরিয়ানের জীবন থেকে সরাতে পারলে উনি বাঁচে।আরিয়ান মাইশার রুমে গিয়ে দেখল মাইশা একটা কাগজ হাতে নিয়ে কি জেন পড়ছে।আরিয়ান কে দেখেই মাইশা সঙ্গে সঙ্গে কাগজ টা লুকিয়ে ফেলল। আরিয়ান মাইশার দিকে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে।

আরিয়ান মাইশাকে কর্কশ কন্ঠে বলল,
------- কিরে তুই আমাকে দেখে ওটা কি লুকালি।

মাইশা কিছুটা আমতা আমতা করে বলল,
-------- ক--- কই কিছু না তো।তু--- তুমি ভুল দেখেছো।

-------- আমাকে একদম তুই ঠিক ভুল বোঝাতে আসবি না। কাগজটা কি তুই বের করে দিবি নাকি আমি বের করব।

মাইশা কিছুতেই কাগজটা দিতে চাচ্ছিল না। কারণ মাইশা জানে কাগজটা আরিয়ানের হাতে পড়লে আরিয়ান কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে ছাড়বে।আরিয়ান জোর করে মাইশার কাছ থেকে কাগজ বের করল।কাগজটা খুলে দেখলো তাতে একটা লাভ লেটার লেখা।

''''মাই ডিয়ার মাইশা। তোমাকে যেদিন প্রথম দেখি সেদিনই আমার খুব ভালো লেগেছে।সেই ভালো লাগা থেকে কবে যে ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে তা আমি নিজেও জানি না। আমি তোমাকে সারা জীবনের জন্য আমার নিজের করে পেতে চাই। তুমি যদি বল আমি তোমার মামা আজমত সাহেবের সাথে কথা বলে তোমার আর আমার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারি। তোমার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

ইতি
তোমার অপেক্ষায় অপেক্ষারত রিয়াদ।

কাগজের লেখাটা পড়ে তো আরিয়ানের মাথায় রক্ত উঠে গেল। আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাইশা কে ঠাস করে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিল।

আরিয়ান মাইশার গাল দুটো চেপে বলল,
-------- তোর খুব ভালো লাগে না ঐ রিয়াদ কে।অনেক সাহস বেড়ে গেছে না তোর।আমার বাড়িতে থেকে তুই আমার কথা অমান্য করিস। এখন থেকে তোর অফিসে যাওয়া বন্ধ।বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত তোর এই বাড়ির বাহিরে যাওয়া ও বন্ধ।

বিয়ের কথা শুনে কিছুটা অবাক হয়ে মাইশা আরিয়ান কে জিজ্ঞেস করল,
-------- বিয়ে কার বিয়ে।

-------- কার বিয়ে তা এখনই জানতে পারবি।

কথাটা বলে আরিয়ান মাইশার হাত শক্ত করে ধরে টানতে টানতে বসার ঘরে নিয়ে গেলো।সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-------- সবাই শোনো, আমি মাইশা কে পছন্দ করি আর‌ ভালোবাসি। আর ওকে আমি এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে করবো।

কথা শুনে মাইশা যেন একদম থম মেরে গেলো। আরিয়ান এটা কি বলল সে যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করাতে পারছে না।

রেহানা বেগম প্রচন্ড রেগে আগুন হয়ে সঙ্গে সঙ্গে বসা থেকে দাঁড়িয়ে উঠে আরিয়ানকে শাসিয়ে বলল,
------- খবরদার আরিয়ান যে কথাটা বলেছিস দ্বিতীয়বার এ কথাটা উচ্চারণ করবি না। আমি তোর এই সিদ্ধান্ত কে মানি না আর কোনদিন মানব ও না।

-------- সরি মা আমার সিদ্ধান্ত জানানোর দরকার ছিল আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি। এখন তোমরা মানবে কি না মানবে সেটা তোমাদের ব্যাপার। আমি মাইশা কে পছন্দ করি ওকে ভালোবাসি আর বিয়ে করলে আমি ওকেই বিয়ে করবে এটাই আমার ফাইনাল সিদ্ধান্ত।

আজমত সাহেব আর আলিয়া প্রচন্ড পরিমানে খুশি হল কথাটা শুনে। আজমত সাহেব আরিয়ান এর কাছে উঠে এসে তার তার স্ত্রী রেহানা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলল,
-------- আরিয়ান আমি তোর বাবা এই বাড়ির কর্তা। আমি তোর এই সিদ্ধান্তে রাজি আছি। কে রাজি আছেন না রাজি আছে এটা তোর দেখার দরকার নেই।তুই যা সিদ্ধান্ত নিয়েছিস সেটাই কর।

নিজের স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে রাগে ফুঁসছে রেহানা বেগম। উনি সবাইকে শাসিয়ে বলল,
------- যদি আমার অমতে এই বিয়ে হয় তাহলে এই বাড়ি ছেড়ে আমি চলে যাব।

মায়ের মুখে এমন কথা শুনে আলিয়া বলে উঠলো,
------- আহ্ মা তুমি দেখি বাংলা সিনেমার খলনায়িকা রিনা খানের মতো করছো।

আলিয়ার মুখে এমন কথা শুনে রেহানা বেগম চোখ পাকিয়ে তাকালেন আলিয়ার দিকে। আলিয়ার দিকে তেড়ে এসে বললেন,
------- কি বললি তুই আমাকে।

আলিয়া সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানের পিছনে গিয়ে লুকিয়ে বলল,
------- দেখ না ভাইয়া মা কেমন করছে। ভাইয়া কেউ তোর পাশে থাকুক আর না থাকুক আমি আছি।সমস্যা নেই তোর বিয়ের সাক্ষী আমি হবো আর কাউকে হতে হবে না।

------- ঘরের শত্রু বিভীষণ।

কথাটা বলে রাগে গজ গজ করতে করতে ওখান থেকে হন হন করে চলে গেলেন রেহেনা বেগম।

আলিয়া মাইশাকে পিছন থেকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে বলল,
------- আমার এতদিনে স্বপ্ন আজ সত্যি হতে চলেছে। আমার সব থেকে কাছের বন্ধু আমার প্রিয় মানুষ টা আমার ভাবি হবে। ভাবতেই আমার খুশি যেন আর মনে ধরছে না রে মাইশা।

মাইশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে একটা মূর্তির মত। মাইশা বুঝে উঠতে পারছে না এর প্রতি উত্তরে সে কি বলবে।কোন কিছু বলার মতই ভাষায় যেন হারিয়ে ফেলেছে মাইশা।

আরিয়ান মাইশা কে শাসিয়ে সাবধান করে বলল,
------- তুই এখন থেকে আমার অনুমতি ছাড়া বাহিরে এক পাও যাবি না। এমনকি বাহিরের কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলবি না। আর এখন থেকে তোর আর অফিসে যেতে হবে না।

মাইশা এবার আর চুপ থাকতে পারলো না।কিছুটা চিল্লিয়ে আরিয়ান কে বলল,
-------- তুমি যা বলবে তাই হবে নাকি। আমি কেন অফিসে যাবো না। তুমি আমার স্বাধীনতায় এই ভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারো না।

-------- চুপ কোন কথা বলবি না। তুই এখন আরিয়ান চৌধুরীর হবু বউ। এই বাড়ির হবু পুত্রবধূ। আর আমি চাই না এই বাড়ির হবু বউ অফিসে যাক। এখন থেকে আমি যা বলব সেটাই হবে তোর জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

মাইশা আর কোন কথা না বলে এক ঝটকা নিজের হাতটা আরিয়ানের হাত থেকে নিজের হাত টা ছাড়িয়ে দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা আটকে দিল।

আলিয়া ও মাইশার পিছন পিছন গেল।
-------- এই মাইশা দরজা খোল। এভাবে দরজা লাগিয়ে দিলি কেন।

আলিয়া সমানে মাইশার দরজা ধাক্কিয়ে যাচ্ছে।কিন্তু মাইশা দরজা খুলছে না।মাইশার বুকের ভেতর ঝড় চলছে। সেই ঝড় থামানোর ক্ষমতা আজ কারও নেই।মাইশা ওর ওয়ারড্রব এর ড্রয়ার থেকে একটা ছবি বের করে ছবিটা কে বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে। ছবিটাতে অসংখ্য চুমু দিল।

ছবিটাতে হাত বোলাতে বোলাতে বলল,
-------- আমি কি করবো এখন বলে দে আমাকে। আমার পক্ষ থেকে কিছুতেই এই বিয়েটা করা সম্ভব নয়। কেন তুই আমাকে এত বড় একটা বিপদের মাঝখানে ফেলে এইভাবে আমাকে একা করে চলে গেলি বল। আমি এখন সবাইকে কিভাবে বোঝাবো তারা যা ভাবছে সেটা কোনদিনও সম্ভব নয়। আমিতো দুই দিনের অতিথি মাত্র আমি কি করে আরেকজনের ভালোবাসা দখল করে নেব।

মাইশার চোখের পানি যেন বাঁধ মানছে না। কাঁদতে কাঁদতে মাইশা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। ওর গালে থাপ্পড়ের দাগ টা স্পষ্ট ভাবে দেখা যাচ্ছে। পাঁচ আঙ্গুলের দাগ একদম এঁটে বসে গেছে ওর গালে। এটা দেখে ওর আরো বেশি কান্না পেল। মাইশা কে শুধু শুধু বিনা দোষে আজকে আরিয়ান আবারও মারল। পুরো কথাটা না শুনেই আরিয়ান নিজের বিচার করে দিল।মাইশার ব্যাগে কি করেছি চিঠি টা আসলো তা মাইশা নিজেও জানে না। কোন কিছু না শুনে না বুঝেই আরিয়ান তার সাথে এতটা খারাপ ব্যবহার করল। অরিয়ান এর প্রতি তার আজকে প্রচন্ড পরিমাণে রাগ হচ্ছে। একে সে কোন কিছু বিচার না করেই মাইশার গায়ে হাত তুলেছে, তার উপরে তার সিদ্ধান্ত ছাড়াই একটা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে মাইশার ওপর। আর তাছাড়া আরিয়ানের তো গার্লফ্রেন্ড আছে। তাও কেন সে মাইশা কে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিল।এমনকি আরিয়ান আজকে এই বাড়িতে থাকার খোটা‌ ও পর্যন্ত দিল। তাছাড়া আরিয়ানের এই সিদ্ধান্তে তার মামী রাজি নয়। সবকিছু মিলিয়ে মাইশা সিদ্ধান্ত নিল আর এক মুহূর্ত এই বাড়ি তে থাকবে না সে।

কথাগুলো ভাবছে আর অঝোরে কাঁদছে মাইশা। এদিকে আলিয়া এখনো মাইশার দরজা ধাক্কিয়ে যাচ্ছে।
------- মাইশা প্লিজ দরজাটা খোল। ভাইয়া কিন্তু এবার অনেক রাগ করবে। প্লিজ মাইশা দরজাটা খোল।

মাইশা দরজা খুলে দিল।আলিয়া ভিতরে ঢুকেই মাইশার চোখ মুখ দেখে বুঝতে পারলো এতক্ষন কাঁদছিল। আলিয়া তাকিয়ে দেখলো মাইশার গালের একপাশে পাঁচ আঙ্গুলের দাগ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। আলিয়া বুঝতে পারল তার ভাই আবার মাইশাকে কোনো না কোনো কারণে মেরেছে।

আলিয়া শান্ত কন্ঠে মাইশা কে বলল,
------- মাইশা কি হয়েছে বল তো আমাকে। ভাইয়া কি তোকে আবার কিছু বলেছে।

মাইশা কথা এড়িয়ে গিয়ে বলল,
------- তুই কি কিছু বলবি আলিয়া।

------- কথা এড়িয়ে যাচ্ছিস।

-------- নারে এমন কিছু না।

-------- তাহলে বল কি হয়েছে।

-------- আমার পক্ষে এই বিয়েটা করা সম্ভব নয়, আলিয়া।

------- এটা তুই কে বলছিস মাইশা। তুই জানিস ভাইয়া তোকে কতটা ভালোবাসে।

মাইশা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
-------- ভালোবাসা, সে তো আরিয়ান ভাইয়া অন্য একটা মেয়েকে ও ভালোবাসে।

-------- মানে তুই কি বলছিস এইসব।

-------- আমি ঠিকই বলছি। তুই দেখলি না সেদিন আরিয়ান ভাইয়ের ঠোঁট ফোলা ছিল ঘাড়ে গলায় নখের আঁচড়ের দাগ ছিল।

আলিয়া কিছু কোন চুপ থেকে বলল,
-------- তুই হয়তো ভাইয়াকে ভুল বুঝছিস।

-------- নারে, এখানে কোন ভুল নেই। প্লিজ আলিয়া এই বিষয় নিয়ে আর কোন কথা বলিস না আমার ভাল লাগছে না।

আলিয়া আর কোন কথা না বলে মাইশার রুম থেকে চলে গেল।

____________________________

সীমা অফিস শেষ করে অনেকক্ষণ যাবৎ অফিসের সামনে রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াদ সীমাকে দেখতে পেয়ে সীমার সামনে বাইক থামিয়ে বলল,
------- সীমা, তুমি বাসায় তো যাবে এসো আমি তোমাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিচ্ছি।

সীমা জোর করে একটু হাসার চেষ্টা করে বলল,
------- লাগবেনা স্যার,ধন্যবাদ আপনাকে।আমি একাই চলে যেতে পারবো।

সীমা রিয়াদকে আর কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে একটা রিক্সা ডেকে সেখান থেকে চলে গেল।রিয়াদ আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছে সীমার এই রূপ ব্যবহারের। রিয়াদ বুঝে উঠতে পারছে না সীমার হঠাৎ কি হলো কেন রিয়াদের সাথে এই রুপ ব্যবহার করছে। রিয়াদ বাইক ঘুরিয়ে নিজের বাসার দিকে রওনা দিল। পথের মাঝখানে হঠাৎ একটা গাড়ি এসে রিয়াদের বাইকের সামনে দাঁড়ালো। রিয়াদ কিছু বুঝে ওঠার আগে কেউ একজন পিছন থেকে রিয়াদের নাকে মুখে রুমাল চেপে ধরল। রিয়াদ ওখানে অজ্ঞান হয়ে গেল। কয়েকজন মিলে ধরে রিয়াদকে গাড়িতে উঠিয়ে ওখান থেকে রিয়াদকে নিয়ে চলে গেল।

_________________________________

সাব্বির ওই স্কেচ আঁকানো চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এই চোখ দুটি যেন তার বহু চেনা। এই চোখগুলো যেন বহুবার সে দেখেছে। সাব্বির অনেকগুলো পুরাতন ফাইল বের করে স্কেচ আঁকানো চোখের সাথে মেলাতে লাগলো।

_________________________________

অনেকক্ষণ ধরে রাফাত আলিয়াকে ফোন দিচ্ছে কিন্তু আলিয়া রাগ করে ফোন ধরছে না। কারণ আলিয়া এতবার করে বলা সত্ত্বেও আজকে সন্ধ্যায় রাফাত ওদের বাসায় আসলো না। আলিয়ার মোবাইলের মেসেজ অপশনটা টুং করে বেজে উঠলো। আলিয়া মেসেজটা ওপেন করে দেখল সেখানে রাফাত তাকে অসংখ্য বার সরি লিখেছে। তার কিছুক্ষণ পরে রাফাত আবার আলিয়াকে কল দিল। এবার আলিয়া কল রিসিভ করল।

আলিয়া কল রিসিভ করার সাথে সাথে রাফাত বলে উঠলো,
-------- আমি সত্যি সরি জানু। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিংয়ে আটকে গিয়েছিলাম তাই আসতে পারি নি। এই যে কান ধরছি আর কখনো এমন হবে না।

আলিয়া কথা বলছে না চুপ করে আছে। রাফাত ফোনটা স্পিকার এ দিয়ে কান ধরে উঠবস করতে করতে গণনা করতে লাগলো। এই যে কান ধরে উঠবস করছি এক, দুই ,তিন। আলিয়া এবার খিল খিল শব্দ হেসে দিল। রাফাত যেন নিজের প্রাণ টাকে ফিরে পেল। খুব গভীর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রাফাত আলিয়াকে বলল,
------- বিশ্বাস করো আলিয়া এতক্ষণ মনে হচ্ছিল আমার দম টা আটকে আছে। সত্যি খুব ভালোবাসি তোমাকে আমি কেন বোঝ না বল তো।

------- তুমি আসো নি তাই আমার অনেক রাগ হয়েছিল।

------- আরে পাগলি আমি আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু খুব ইম্পরট্যান্ট একটা মিটিংয়ে আটকে গিয়েছিলাম বিধায় আর আসতে পারি নি। ক্ষমা করে দাও জানু প্লিজ।

-------- ঠিক আছে এক শর্তে ক্ষমা করতে পারি।

------- তুমি যা বলবে তাই হবে আমার মহারানী।

------- আমাকে অনেকগুলো কিস করো তাহলে ক্ষমা করব।

রাফাত মোবাইলের স্ক্রিনে আলিয়া কে কিস করতে লাগলো। কালিয়া চোখ বন্ধ করে রাফাতের দেওয়া প্রত্যেকটা কিস অনুভব করছে। আলিয়া ও আরাফাত কে খুব বেশি ভালোবাসে। তার ভাই যদি কখনো আলিয়া আরাফাতের সম্পর্ক মেনে না নেয় তাহলে আলিয়া রাফাতের হাত ধরে এক কাপড়ে এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেত ও রাজি আছে।

আরিয়ানের খুব কষ্ট হচ্ছে মাইশার জন্য। আরিয়ান নিজে নিজেকে বলছে,
------- কেন যে আমি রাগ টাকে কন্ট্রোল করতে পারি না। কি করবো এখন আমি। মাইশা অবশ্যই আমার ওপর অনেক রেগে আছে। কি করে ওর রাগ ভাঙ্গাবো আমি। খুব ভালোবাসি যে ওকে আমি। তাই তো কারো সাথে সহ্য করতে পারি না। কেন এটা ও বুঝেনা ।

আরিয়ানের হঠাৎ চোখ পরলো তার রুমে রাখা আংটির বক্সের দিকে। রাগারাগির মধ্যে আরিয়ানের মনেই ছিল না এই আংটি টা মাইশা কে দেবার কথা।

আরিয়ান আন্টি টা হাতে নিয়ে মনে মনে বলল,
------- এই আংটি টা দিয়ে দিয়ে আমি এখনই প্রপোজ ওকে করবো। আর নিজের ভুলের জন্য ওর কাছে ক্ষমা চাইবো।

কথাগুলো ভেবেই আরিয়ান মাইশার রুমের দিকে চলে গেল।মাইশা সবকিছু গুছিয়ে নিয়েছে। সকালে ভোর হবার সঙ্গে সঙ্গে কেউ ঘুম থেকে ওঠার আগে এই বাড়ি ছেড়ে সে চলে যাবে। কিন্তু কোথায় যাবে তা জানা নেই মাইশার। তবে সে যেখানেই যাক না কেন আরিয়ানের নাগাল থেকে তাকে অনেক দূরে চলে যেতে হবে যেন আরিয়ান তাকে কোনদিন খুঁজে না পায়। কারণ আরিয়ানের ভালোবাসা আরিয়ান তার নয়। সে একজন অতিথি মাত্র। কিন্তু আরিয়ানকে ছেড়ে যাবার কথা মনে হতেই মাইশার বুকের ভেতরটা ছেদ করে উঠলো। তবে কি মাইশা আরিয়ানের প্রতি দুর্বল হয়ে গেছে।

মাইশা নিজেই নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বলল,
------- না না এটা আমি কি ভাবছি। এসব কিছু, এইসব তো আমার নয়। আমাকে ভুলে গেলে চলবে না আমি শুধু একজন অতিথি মাত্র। যে সময়ের সাথে আসে আবার সময় সাথেই চলে যায়। আমার জীবনটাও ঠিক তেমনি।

হঠাৎ কেউ একজন মাইশার কাঁধে হাত রাখল। মাইশা ঘুরে দেখল,,,,

চলবে......
543 Views
15 Likes
7 Comments
4.5 Rating
Rate this: