আরিয়ানের প্রত্যাশায় মাইশার মন পাখি টা বেজায় ছটফট করছে। আরিয়ানকে এক নজর দেখার তৃষ্ণায় তার চোখ জোড়া ব্যাকুল হয়ে আছে। আরিয়ান যে তাকে কি জাদু করেছে সে নিজেও জানে না।ওকে ছাড়া যেন এখন মাইশার এক সেকেন্ড ও চলে না। আরিয়ান আজকে কেমন যেন একটা অমাবস্যা চাঁদ হয়ে গেছে তাকে যেন খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না। ওর ভেতরটা আরিয়ানের অনুপস্থিত টা তিলে তিলে কষ্টের সাগরে নিমজ্জিত করে বুঝিয়ে দিচ্ছে।
এদিকে পার্লার থেকে আসা কয়েকজন মেয়ে প্রায় অনেকক্ষণ যাবৎ মাইশাকে মেহেদী পড়ানোর জন্য অনেক জোরাজোরি করছে কিন্তু মাইশা কিছুতেই রাজি হচ্ছে না। মাইশার মন জুড়ে এক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। এত আয়োজন কেন ,হঠাৎ পার্লার থেকে লোকই বা এলো কেন আর মাইশা কে মেহেদী বা পড়াতে চাইছে কেন। হঠাৎ করে মাইশার ফোনের মেসেজ অপশন টা টুং করে বেজে উঠলো।
মাইশা মোবাইলটা হাতে নিয়ে মেসেজটা অন করে দেখলো আরিয়ান তাকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছে,
" আমার মাছরাঙ্গা পাখিটাকে আজকে আমি একটা হলুদ পরীর সাজে দেখতে চাই। যার দুই হাত থাকবে টকটকে লাল মেহেদী তে রাঙা। এইবার শপিং ব্যাগটা খোলার সময় হয়েছে সেখানে তোমার জন্য আমার তরফ থেকে দেয়া কিছু ভালোবাসা অপেক্ষা করছে। সেগুলো দিয়ে আজকে তুমি নিজেকে নতুন রূপে সাজিয়ে তুলবে।
মাইশা মোবাইলটা রেখে শপিং ব্যাগটা হাতে নিয়ে খুলে দেখলো। তার মধ্যে খুব সুন্দর একটা হলুদ রঙের শাড়ি আর শাড়ির সাথে ম্যাচিং করা অনেক সুন্দর কিছু অর্নামেন্টস।মাইশা আর কোন বাঁধা না দিয়ে তার হাত দুটো ওদের কাছে এগিয়ে দিল।ওরা খুব সুন্দর করে মাইশার হাতে মেহেদি দিয়ে দিচ্ছে।
এই দিকে আলিয়া নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। দরজার বাহিরে থেকে পার্লার থেকে আসা দুটো মেয়ে দরজা ধাক্কিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আলিয়ার কোন হেল দোল নেই। মেয়ে দুটো দরজা ধাক্কিয়ে বারবার বলছে,
" ম্যাডাম দেখুন আমাদের অনেক কাজ আছে আপনার পেছনে পড়ে থাকার মত সময় আমাদের নেই আপনি দরজা খুলুন প্লিজ।
আলিয়া নিশ্চুপ কোন কথা বলছে না। কার জন্য সাজবে আলিয়া, কার জন্য তার দুহাত রঙিন করে রাঙাবে। তার জীবনের সব রং যে বেরঙে পরিণত হয়েছে। ওরা দরজা ধাক্কানো টা আরো অনেক গুন বাড়িয়ে দিল।দরজা ধাক্কানোর শব্দ প্রচন্ডভাবে বাড়ি খাচ্ছে আলিয়ার কানে। আলিয়া তার দুহাত দিয়ে কান দুটোকে চেপে ধরে আছে। কিন্তু কতক্ষণ এভাবে থাকবে। আর সহ্য হচ্ছে না ওর। বিরক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত দরজা খুলে দিতে বাধ্য হল আলিয়া।
দরজা খুলে প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে ওদের উপর কিছুটা চেঁচিয়ে আলিয়া বলল,
" এই মুহূর্তে এই বাড়ি থেকে চলে যান। আমার মেহেদি দেবার বা সাজার কোন ইচ্ছে নেই।
ওখানে থাকা লিজা নামের একটা মেয়ে আলিয়ার হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বলল,
" ম্যাডাম এটা আপনার জন্য একজন পাঠিয়েছে। এটা পড়ুন তারপরও যদি মনে হয় আপনি সাজাবেন না আমরা চলে যাব।
আলিয়া চিরকুট টা খুলে দেখলো ওখানে লেখা আছে,
" নিজের ভালোবাসার উপর যদি বিশ্বাস থাকে তাহলে সেই ভালোবাসার জন্য নিজেকে রঙিন করে রাঙিয়ে নাও। সাজিয়ে নাও নতুন করে।ঐ রেপিং এর ভিতর তোমার জন্য অনেক কিছু অপেক্ষা করছে।
আলিয়া রেপিং টা খুলতেই দেখল ভেতরে হলুদ রঙের শাড়ি আর ম্যাচিং করা অর্নামেন্টস। আলিয়ার মনটা যেন আর ওকে ভিতর থেকে বাঁধা দিয়ে রাখতে পারল না।ও তৈরি হতে রাজি হয়ে গেল।
সীমা দের গাড়িটা টা আপন বেগে ছুটে চলেছে। কিন্তু সীমা বুঝতে পারছে না গাড়ি কোথায় আর কোন দিকে যাচ্ছে কারন ওর চোখ দুটো একটা কাপড়ে আবৃত্ত করা। সীমা রিয়াদকে বার বার জিজ্ঞেস করছে ওকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রিয়াদ ওর কথার উত্তর দিচ্ছে না।ওর কথা টা এড়িয়ে গিয়ে বলল,
" বিশ্বাস করো তো আমাকে।
সীমা মাথা নাড়িয়ে সাঁয় দিলো। রিয়াদ সীমার কপালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে ওকে একপাশ থেকে জড়িয়ে ধরে মনে মনে বলল,
" তোমার জন্য অনেক বড়ো একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে যেটা হয়তো তোমার ভাবনাতিত।তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা টা ঠিক কতো টা তা তুমি আজকে বুঝতে পারবে আমার রাজকুমারী।
সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা পেরিয়ে বিকেল গড়িয়ে দিনটা সন্ধ্যার রূপ ধারণ করতে চলেছে। আকাশ আর পরিবেশ দুটোই জানান দিচ্ছে প্রকৃতির বুকে সন্ধ্যার আবির্ভাব ঘটতে চলেছে।মাইশার কাজল কালো চোখ দুটো আরিয়ানের আসার অপেক্ষা করছে। মেহেদির গাঢ়ো রঙে রঙিন হাত দুটো একবার আরিয়ান কে ছুঁতে চায়ছে। কিন্তু কোথায় তার প্রিয় মানুষটা।যার জন্য এতো কিছু সে কোথায়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একমনে কথাগুলো ভাবছে মাইশা। হলুদ শাড়ি ম্যাচিং করা অর্নামেন্ট,হাতে গাঢ়ো মেহেদী, চোখে টানা কাজল, আইলেনার, মাশকারা, ঠোঁটে হালকা রঙের লিপস্টিক সব মিলিয়ে সত্যিই মাইশা কে একটা হলুদ পরীর মত লাগছে। কিন্তু যার জন্য এতো কিছু সে যে নেই।মাইশার মন পাখিটা বেজায় ছটফট করছে আরিয়ানের জন্য।
হঠাৎ পুরো বাড়ির সমস্ত আলো নিভে গেল। অন্ধকার ঘরের চারিদিকে। অন্ধকারে মাইশা কোন কিছু দেখতে না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল সেই মুহূর্তে কেউ একজন হাত টাকে টেনে ধরল। মাইশা ক্ষীন স্বরে বলে উঠলো,
" কে?
কিন্তু অপর পক্ষ থেকে কোন উত্তর এলো না। মাইশা আবার ও একই প্রশ্ন করল তাঁকে কিন্তু সে নিশ্চুপ।মাইশা দাঁড়িয়ে গেল কিছু টা রুক্ষ গলায় বলল,
" কে আপনি আমাকে ছাড়ুন বলছি।
সে মাইশার কোনো কথা কানে নিলো না।মাইশার হাতে টা আরো শক্ত করে ধরে জোরে একটা টান মারলো।মাইশা সোজা তার বুকের উপর গিয়ে আছড়ে পড়লো।মাইশার মনে হচ্ছে তার ছোঁয়া,তার প্রশস্ত বুক টা ওর অনেক চেনা।বহু বার যেন এই স্পর্শ সে পেয়েছে।ঐ বুকে যেন বহু বার মাথা রেখেছে।সে মাইশা কে আর কোনো কথা বলতে না দিয়ে কোলে তুলে নিলো।
মাইশা যেন আশ্চর্যের চরম শিখরে পৌঁছে গেল। কিছুই তার বোধগম্য হচ্ছে না কি হচ্ছে এইসব তার সাথে। সে মাইশাকে এনে একটা জায়গায় বসিয়ে দিল। মাইশা তাকে পেছন থেকে বার কয়েক ডাক দিল কিন্তু সে তার কোন ডাকে তারা না দিয়ে আপন মনে ওখান থেকে হেঁটে চলে গেল। পুরো জায়গাটা একদম অন্ধকার, ঘরের ভেতর লাগানো মরিচ লাইট গুলো জ্বলছে আর নিভছে। ওখানে হালকা আলো বিরাজ করছে। মরিচ লাইটের হালকা আলোতে মাইশা সব টা স্পষ্ট বুঝতে না পারলেও যতটুকু বুঝতে পারছে তার পাশে আলিয়া বসে আছে।ও একদম নিশ্চুপ,যেন প্রাণহীন একটা দেহ।যার নিঃশ্বাস চললে ও প্রান টা যেন নিথরের মতো। হয়তো আলিয়ার বুকের ভিতরে যে ঝড় চলছে সেই ঝড় ওর ভিতর টা লন্ডভন্ড করে দিচ্ছে।এই ঝড় রাফাত ছাড়া থামানোর ক্ষমতা কারো নেই। প্রেম কারো জন্য কান্না আবার কারো জন্য চুনি পান্না এটাই প্রেমের বৈশিষ্ট্য।কথা গুলো আলিয়ার দিকে তাকিয়ে এক মনে ভাবছিল মাইশা।
হঠাৎ মাইকে এক পরিচিত কন্ঠ স্বরে মাইশার ভাবনার ছেদ ঘটে। মাইকে সে বলে উঠল,
" আজকের এই সন্ধ্যা স্পেশাল ভাবে স্পেশাল মানুষদের জন্য এরেঞ্জ করা হয়েছে। আজকের এই সন্ধ্যা আমার ছোট হলুদ পরী টার সাথে হলুদ সন্ধ্যা হয়ে উঠুক।
মাইকে বলা প্রত্যেকটা কথা মাইশা খুব ভালোভাবে শ্রবন করছিল। শ্রবণ ইন্দ্রিয় ওকে বলে দিচ্ছিল এটা তার কাঙ্ক্ষিত প্রিয় মানুষটা।তার ভালোবাসার আরিয়ান।
সেই মুহূর্তে আরো একটা কণ্ঠ মাইকে বলে উঠলো,
" মন খোঁজে আমার প্রিয়জনকে
সে আছে এই মনের গভীরে
প্রেমে জীবন
প্রেমই মরণ
আই লাভ ইউ লাভ ইউ লাভ
আই লাভ ইউ লাভ ইউ লাভ
কন্ঠ টা আলিয়ার কানে পৌঁছেনোর সাথে সাথে ওর দৃষ্টি গেল সেই দিকে।ও মনের অজান্তেই মিনমিন করে বলে উঠলো,
" রাফাত।
কিন্তু ওর বিশ্বাস হচ্ছে না রাফাত এখানে আসবে বলে।ওর চোখের কোনে পানি এসে ভিড় করলো। মনের ভিতরে কষ্টের পাহাড় টা আরো প্রখর ভাবে যেন জাগ্রত হলো। আলিয়া উঠে ওখান থেকে চলে যেতে পা বাড়ালো সেই মুহূর্তে কেউ একজন ওর হাত ধরলো।আলিয়া আর আগাতে পারলো না।ওর পা জোড়া থমকে গেল।ওর সামনে থাকা মানুষটা ওকে জরিয়ে ধরে বলল,
" কোথায় যাচ্ছ তোমার এই পাগল টাকে ছেড়ে।
আলিয়া চোখ তুলে তাকালো তার মুখের পানে। হালকা আলোতে আলিয়া বুঝতে পারল এটা তার অতি পরিচিত ভালোবাসার মানুষের মুখ। আলিয়া যেন কোন কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল। অশ্রু মিশ্রিত চোখে জাপটে জরিয়ে ধরলো রাফাত কে। আলিয়া অঝোরে কাঁদছে। রাফাতের চোখ বেয়ে ও জল গড়িয়ে পড়ছে। আলিয়া আর নিজেকে সামলাতে পারলো না নিজের ঠোঁট দুটো রাফাতের ঠোঁটে ডুবিয়ে দিলো। সেই মুহূর্তে লাইট জ্বলে উঠলো।ওরা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেল। আলিয়া লজ্জায় ওর হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল।
মাইশা আলিয়ার কাছে এগিয়ে এসে একটু ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
" আমরা কিন্তু কেউ কিছু দেখি এতো লজ্জা পেতে হবে না।
আরিয়ান রাফাতের হাতে আলিয়ার হাত তুলে দিয়ে বলল,
" এই হাত দুটো খুব শক্ত করে ধরে রাখিস কখনও কোনো অবস্থাতেই ছেড়ে দিস না।
রাফাত আলিয়ার হাত টা কে শক্ত করে ধরে বলল,
" মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই হাত আমি ছাড়বো না।
মাইশা আলিয়া কে আস্তে করে বলল,
" কিরে এই বার তো একটু হাস। কাল থেকে তো অনেক কেঁদেছিস।এই বার চোখের পানি টা কে ছুটি দে।
আলিয়া আর মাইশা দুজনেই হেসে উঠলো। আরিয়ান অনেকক্ষণ ধরে মাইশার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আরিয়ানের চোখে চোখ পড়ে গেল মাইশার।মাইশা একটা ভেংচি কেটে ওখান থেকে চলে গেল। আরিয়ান ও ওর পিছনে পিছনে গেল। আরিয়ান মাইশা কে অনেক বার ডাকলো পিছন থেকে কিন্তু মাইশা পাত্তাই দিলো। আরিয়ান গিয়ে মাইশার সামনে দাঁড়ালো। মাইশা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো ও হলুদ রঙের একটা পাঞ্জাবি পড়েছে। সাথে জেল আর স্পাইক করা চুল, পাঞ্জাবির খাতা গুলো কিছুটা উপরের দিকে উঠানো, আরিয়ানকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে এই হলুদ পাঞ্জাবিতে মাইশা যেন চোখ ফেরাতেই পারছিল না কিন্তু মাইশা আরিয়ান কে তা বুঝতে না দিয়ে।ওর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। আরিয়ান মাইশার মুখ টা নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল,
" কি গো আমার হলুদ পরি আমার সাথে কথা বলবে না।
মাইশা মুখ ফুলিয়ে বলল,
" না।
" কেন?
মাইশা আরিয়ানের পাঞ্জাবির কলার ধরে বলল,
" কোথায় চলে গিয়েছিলে আমাকে ছেড়ে।জানো না তোমাকে ছাড়া আমার একটু ও ভালো লাগে না।
আরিয়ানের চোখ গেল মাইশার লাল টকটকে মেহেদী রাঙানো হাতের দিকে। আরিয়ান মাইশার হাতে একটা চুমু দিয়ে বলল,
" একদম রাঙা পরির মত লাগছে আমার হলুদ পরির মেহেদী রাঙ্গা হাত দুটো।
" হয়েছে আর ঢং করতে হবে না। কষ্ট দিয়ে এখন আবার আদর দেখাতে এসেছে।
কথা বলেই মাইশা চলে যাচ্ছিল তখনই আরিয়ান মাইশা কে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল,
" তখন কষ্ট দিয়েছি এখন আদর করে দিচ্ছি।
আরিয়ান মাইশার ঠোঁটের কাছে ওর ঠোঁট এগিয়ে নিচ্ছে আর মাইশা চোখ বন্ধ করে আছে। মাইশার ক্রমাগত বড় বড় নিশ্বাস পড়ছে। হঠাৎ আরিয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো। আরিয়ান একরাশ বিরক্তি নিয়ে পাঞ্জাবির পকেট থেকে ফোনটা বের করে একটা হাসি দিয়ে একটু দূরে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করে বলল,
" তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করছি দ্রুত চলে এসো। এখনো যে অনেক বড় সারপ্রাইজ টা বাকি আছে।
আরিয়ান ফোনটা রেখে মাইশার কাছে গিয়ে ওর হাত ধরে বলল,
" চলো তোমার জন্য কিছু অপেক্ষা করছে।
মাইশা কৌতুহলী দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে। মাইশা কিছু বলতে যাবে কিছু আরিয়ান ওকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ওখান থেকে নিয়ে গেল।
সাব্বির ঝুমুরের কাছ থেকে কিছু ইনফরমেশন নিয়ে আর কিছু পুরাতন ফাইল ঘাটাঘাটি করে জানতে পারলো পাঁচ বছর আগের ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার সাথে খুন হাওয়া সাব ইন্সপেক্টর ইমরুল হোসেনের জোরালো একটা মিল আছে। সাব্বিরের কাছে এখন এই কেসটা অনেকটা পরিষ্কার। এই খুন গুলো ভয়ংকর এক প্রতিশোধের জন্য নেয়া হচ্ছে। সাব্বির এটাও বুঝে গেছে তার নেক্সট এবং শেষ টার্গেট কে। তার শেষ টার্গেট পূরণ করার আগেই সাব্বির তার নিজের টার্গেট পূরণ করবে সেই খুনিকে ধরে। সাব্বির এএসআই জয়নাল কে তার রুমে ডেকে বলল,
" দ্রুত স্পেশাল ফোর্স রেডি করো। এই মুহূর্তে আমাদেরকে একজনের প্রটেকশনে যেতে হবে। আর এই প্রটেকশনই আমাকে আমার টার্গেটের কাছে পৌঁছে দেবে।
এএসআই জয়নাল সাব্বিরের কথা মত ফোর্স রেডি করতে চলে গেল। তার দাঁড়িয়ে হাত দুটো রেখে কিছুটা ঝুঁকে বিড়বিড় করে বলল,
" আমার টার্গেটের কাছে পৌঁছানোর আগে মুরাদের সাথে আমার খুব দরকারি একটা হিসাব আছে।আর সেই হিসাবটা যে আমাকে খুব ভালোভাবে বুঝে নিতে হবে। তার না হলে হিসাবটা যে অপরিপূর্ণ থেকে যাবে। আর অপরিপূর্ণ হিসাব আমার কাছে মোটেও ভালো লাগে না।
কথাগুলো বলে সাব্বির ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি দিল।
বেশ কিছুক্ষণ পর,সীমা দের গাড়িটা তাদের গন্তব্য স্থলে এসে থামলো। রিয়াদ সীমা কে তার হাত ধরে গাড়ি থেকে নামালো। সীমার চোখ জোড়া এখনো কাপড় দিয়ে আবৃত্ত করা। রিয়াদ সীমাকে হাত ধরে ভিতরে নিয়ে গেল। মাইশার চোখ জোড়া কাউকে একজনকে দেখে একদম থমকে গেল। ওর চোখে আনন্দের অশ্রু আর ঠোঁটে একফালি সুখের হাসি।
চলবে....
প্রেম আমার সিজন ২
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
250
Views
2
Likes
0
Comments
5.0
Rating