প্রেম আমার

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম আমার
থ্রিলার রোমান্টিক গল্প
!!সূচনা পর্ব !!

প্লিজ আরিয়ান ভাইয়া আমার হাতটা ছাড়ো আমার ব্যথা লাগছে তো। আরিয়ান আরো শক্ত করে মাইশার হাত ধরল। মাইশা ব্যথা পেয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো।

কাঁদো কাঁদো স্বরে আরিয়ানকে বলল,
----- প্লিজ ভাইয়া আমার হাতটা ছেড়ে দাও না আমার খুব ব্যাথা লাগছে।

আরিয়ান মাইশাকে ওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল,
-----তোর অনেক সাহস বেড়ে গেছে তাই না।খুব পাখনা গজিয়েছে তোর।

অশ্রু মিশ্রিত চোখে ভ্যাবলা কান্তের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে মাইশা।মাইশা বুঝতে পারছে না আরিয়ান ওর সাথে এমন ব্যবহার করছে কেন।

মাইশা নিজেকে ছাড়ানোর অনেক চেষ্টা করল কিন্তু পারল না।

শেষে কিছুটা চিল্লিয়ে মাইশা আরিয়ানকে বলল,
----তুমি আমার সাথে এরকম ব্যবহার করছ কেন বলতো। কি করেছি আমি।

আরিয়ান অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে মাইশার গাল দুটো চেপে ধরে বলল,
----- চুপ একদম চুপ আমার সাথে একদম আওয়াজ তুলে কথা বলবি না ।কি করেছিস তুই না। তুই আমার পি.এ। তোর যত কাজ আর কথা শুধুমাত্র আমার সাথে। ম্যানেজারের সাথে তোর এত কথা কিসের রে।

----তোমার পি.এ হয়েছি বলে কি তুমি আমার মাথা কিনে নিয়েছো। আমার কি কারো কথা থাকতে পারে না।

আরিয়ান অগ্নি মূর্তি ধারণ করে মাইশা কে বলল,
-----এই তোকে আমি নিষেধ করেছি না এই অফিসের কোন স্টাফের সাথে কথা না বলতে। তুই আমার কথা অমান্য করলি কেন বল। তুই কি ভুলে গেছিস তুই কোন পরিবারের মেয়ে।

মাইশার প্রচন্ড পরিমাণে বিরক্ত লাগছে আরিয়ানের এই ব্যবহারে আর কথা গুলোতে। আরিয়ান সবসময় অপরাজিতার প্রতি একটা অধিকার ফলাতে চায়। আরিয়ান এমনিতেই অনেক গম্ভীর টাইপের। সবার কাছে ভালো আর ভদ্র হলেও মাইশার কাছে যেন একটা আতঙ্ক। সব সময় মাইশা কে শাসনের উপর রাখে আরিয়ান। সেই ছোটবেলা থেকেই আরিয়ান মাইশার সাথে এমন করে।

মাইশা আরিয়ানের ফুফাতো বোন। মাইশার বাবা আর মা দুজনই ছোটবেলায় মারা গেছে।হঠাৎ করে মাইশার বাবা। তাই আরিয়ানের বাবা আজমত সাহেব মাইশা কে কোথাও যেতে দেননি নিজের বাড়িতেই রেখে দিয়েছিলেন। তাই ওর বাবা আর মা মারা যাবার পর থেকেই মাইশা তার মামা আজমত সাহেবের বাড়িতেই থাকে। আর তাদের অফিসেই চাকরি করে। কারণ মাইশার এইভাবে মামা আর মামীর উপর বসে খেতে তার বিবেকে খুব বাঁধে। তাই তার মামা প্রাইভেট অ্যাসিস্ট্যান্ট এর পোস্ট টা মাইশা কে দিয়েছিল।তার মামার বয়স হয়ে যাওয়াতে অফিসের সমস্ত দায়িত্ব ও তার ছেলে আরিয়ান কে বুঝিয়ে দিয়েছে।

আরিয়ান এখন মাইশা কে যেন তার প্রাইভেট অ্যাসিস্ট্যান্ট নয় তার প্রাইভেট সম্পত্তি মনে করে। আরিয়ান সব সময় মাইশার সব ব্যাপার নিয়ে একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে। যা একদমই পছন্দ নয় মাইশার। কই মাইশা তো কখনো ওর কোন ব্যাপারে নাক গলায় না। তাহলে আরিয়ান কেন মাইশার সব ব্যাপারে নাক গলাতে আসে।মাইশা খুব স্বাধীনচেতা মনের একটা মেয়ে। স্বাধীনভাবে নিজের জীবনটাকে উপভোগ করতে চায় । কিন্তু সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে মাইশা।

আজকে আরিয়ানের এই বাড়াবাড়িটা একদমই সহ্য হচ্ছে না মাইশার কাছে। আজকে আরিয়ানের বাড়াবাড়িটা একদম মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেছে মাইশার কাছে। মাইশা একবার ভেবেছিল এখান থেকে চলে যাবে। কিন্তু কোথায় যাবে তার যে আর যাবার কোন জায়গা নেই। আর তাছাড়াও তার মামা আর মামি তাকে অনেক ভালোবাসে। তাদেরকে ছেড়ে যেতে ও ইচ্ছে করে না।কিন্তু আর কতদিন সহ্য করবে মাইশা।কি মনে করে কি সে নিজেকে, তাদের বাড়িতে থাকে বলে সে যা ইচ্ছা তাই করবে।

মাইশা কিছুটা সাহস নিয়ে রাগ দেখিয়ে আরিয়ানকে কে বলল,
----আরিয়ান ভাইয়া তোমার সমস্যা টা কি। তুমি কেন এমন করো আমার সাথে।

নীল দাঁতে দাঁত চেপে মাইশা কে বলল,
------তুই আমার কাছে কৈফিয়ৎ চাচ্ছিস।তোর সাহস হলো কি করে হয় এই আরিয়ান চৌধুরীকে প্রশ্ন করার। তোকে ভুলে গেছিস আমি তোর বস।আর একটা কথাও না বলে এখন বাসায় চল। তারপর বই ম্যানেজার কে আমি দেখে নিচ্ছি।এই বলে আরিয়ান মাইশার হাত টা আবার শক্ত করে ধরলো হাত ধরল।

মাইশা আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না।এক ঝটকায় আরিয়ানের হাত থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিয়ে বলল,
---দেখো আরিয়ান ভাইয়া এই বাড়াবাড়ি গুলো কিন্তু আমার একদম ভালো লাগছে না। আমি যাব না তোমার সাথে, তুমি চলে যাও। আমি একাই বাসায় চলে যেতে পারবো। আর আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না তুমি কেন শুধু শুধু রিয়াদ ভাইয়ের উপর ক্ষেপে আছো। উনি এমন কি করেছে।

আরিয়ান মাইশা কে জোরে একটা ধমক দিয়ে বলল,
------চুপ আর একটা কথাও বলবি না।খুব সাহস বেড়ে গেছে তোর না আজকে বাসায় চল।

এই বলে আরিয়ান অফিস থেকে হাত ধরে টেনে নিয়ে মাইশা কে গাড়িতে বসালো।

আরিয়ানের রাগে যেন গাঁ ফেটে যাচ্ছে। মাইশা কে অনেক বার নিষেধ করেছিল কোন ছেলের সাথে কথা না বলতে। কোন ছেলের সাথে মাইশা কে একদম সহ্য করতে পারেনা আরিয়ান।

সিসি ক্যামেরায় মাইশা কে ম্যানেজারের সাথে হেসে হেসে কথা বলতে দেখে আরিয়ানের মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল। আরিয়ানের সাথেও তো এত সুন্দর করে হেসে কখনো কথা বলে না মাইশা।

আরিয়ান দেখতে তো কোন দিক থেকে খারাপ নয়। দেখতে যেমন সুন্দর, তেমন স্মার্ট। লম্বা ৬ ফুটের উপরে, ছোট করে চাপ দাড়ি রাখা, সুঠাম দেহ, সুন্দর করে কাটিং আর জেল দেওয়া চুল, কথা বলা, ভাব ভঙ্গি, হাঁটা চলার স্টাইল যেকোনো মেয়েরই নজর কাড়বে। এক কথায় বলতে গেলে যে কোনো মেয়ে প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খাবে। কিন্তু সেই দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই আরিয়ানের। আরিয়ানের ভালো লাগা,আকর্ষণ সবকিছু মাইশা কে ঘিরে। কেমন একটা অজানা টান আর অনুভূতি কাজ করে মাইশার জন্য আরিয়ানের মনে।

আরিয়ান মাইশাকে কে বারবার করে নিষেধ করেছিল কোন ছেলের সাথে কথা না বলতে। কিন্তু মাইশা আরিয়ানের নিষেধ অমান্য করে ম্যানেজারের সাথে মাইশা কে এত হাসাহাসি করে কথা বলতে দেখে যেন সরাসরি আরিয়ানের কলিজায় গিয়ে লাগলো। এই দৃশ্য সহ্য করতে না পেরেই মাইশার সাথে এমন ব্যবহার করেছে আরিয়ান

মাইশাকে কে গাড়িতে উঠিয়ে জোরে জোরে গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলো আরিয়ান। আরিয়ানের এত জোরে গাড়ি ড্রাইভ করতে দেখে মাইশা ভয় পেয়ে গেল।

মাইশা আরিয়ানকে বলল,
মাইশা----প্লিজ আরিয়ান ভাইয়া আস্তে গাড়ি চালাও আমার খুব ভয় লাগছে।

মাইশার কোন কথাই কানে নিল না আরিয়ান।মাইশা ভয় পেয়ে আরিয়ানের এক হাত চেপে ধরল।

হঠাৎ........

চলবে
2.09K Views
45 Likes
7 Comments
4.0 Rating
Rate this: