প্রেম আমার (সিজন ২ পর্ব ৬)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সিজন-২
পর্ব-৬

আরিয়ানের আজ কোন কাজেই মন বসছে না। আরিয়ার শুধু অপেক্ষা করছে সন্ধ্যা হবার।আজকে সন্ধ্যায় আরিয়ান মাইশা কে নিজের করে পাবার প্রথম ধাপ সম্পন্ন করবে। তার মনের মধ্যে পুষিয়ে রাখা এতদিনের স্বপ্ন আজ সত্যি হতে চলেছে, মাইশা কে সে আজকের মাধ্যমে সারা জীবনের জন্য নিজের করে পেতে চলেছে। এর থেকে বেশি তার জীবনে আর কিছুই চাওয়ার ছিল না।

ওর আজ চিৎকার দিয়ে গলা ফাটিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে,
------- তোকে আমি খুব ভালোবাসি মাইশা। নিজের জীবনের থেকেও অনেক অনেক বেশি। যদি কখনো তোর জন্য আমার জীবনও দিতে হয় তাও দিতে আমি প্রস্তুত। কারণ তুই যে প্রেম আমার।

আরিয়ান তার রুমে থাকা সিসি টিভির মনিটরের দিকে তাকালো। যেটা মাইশার রুমের সাথে কানেক্ট করা। এক দৃষ্টিতে অপলক হীন ভাবে মাইশার দিকে তাকিয়ে আছে আরিয়ান। মাইশা কে শাড়ি পরা অবস্থায় যেন পুরো একটা বারবি ডলের মত লাগছে।আরিয়ান মনিটরের দিকে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে মাইশার ঠোঁট বরাবর একটা কিস করল।

একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,
------- উফ্ তোর ঠোঁটে যে কি জাদু আছে মাইশা তা তুই নিজেও জানিস না। ইচ্ছে করে তোর ঐ ঠোঁট গুলো কে চকলেট এর মত খেয়ে ফেলি। সমস্যা নেই বিয়ের পরে তোর ঠোঁট গুলোই হবে আমার চকলেট।

কথা গুলো বলেই আরিয়ান আবারও মনিটরের দিকে তাকালো। মুহূর্তের মধ্যেই আরিয়ানের চোখ মুখের আদল চেঞ্জ হয়ে গেল। ওর চোখে আর মুখে রাগ এসে ভর করল।সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ান চলে গেল মাইশার কেবিনের দিকে।

মাইশার কেবিনে গিয়ে দেখল মাইশা কেবিনে নেই। আরিয়ানের গাঁ টা যেন রাগে ফেটে যাচ্ছে। আরিয়ান তার ফোনটা বের করে একজনকে ফোন করে বললো,
--------- খবর নাও ও কোথায় আছে।

আরিয়ান ফোনটা রেখে হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ করে চোখ বন্ধ করে বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলল,
--------- অনেক সাবধান করেছি তোকে। তুই ভালো কথার মানুষ না। মাইশা আমার কলিজা আমার
হৃদ পিণ্ড আমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস। ওকে কিছু করলে বা বললে আমারই সব থেকে বেশি কষ্ট হয়। তাই এখন থেকে ওকে আর কিছু বলবো না।তোকে কিছু করলে তো আমার কিছু আসবেও না আর যাবেও না। এখন থেকে তুই মাইশার সাথে যা যা করবি তোর কাছে সেটা ঠিক এমন ভাবে ফিরে আসবে যে টা তুই কল্পনাও করতে পারবি না।

_____________________

এদিকে সীমা ক্যান্টিনের এক পাশে আড়ালে দাঁড়িয়ে অঝোরে চোখের পানি ফেলছে। তার মনে হচ্ছে কেউ যেন তার কলিজা টা ছুরি দিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। কারণ তার সামনেই মাইশা আর রিয়াদ হাসাহাসি করে গল্প করছে আর কফি খাচ্ছে।

সীমা কত চেষ্টা করে রিয়াদের কাছাকাছি যেতে ওকে একটু হাসানোর। কিন্তু সীমার কাছে আসলে রিয়াদ যেন একটা মূর্তি হয়ে যায় ওর মুখ দিয়ে হাসি তো দূরের কথা একটা কথাও যেন বের হতে চায় না। সীমার হাতে থাকা একটা গোলাপ ফুল আর একটা চিরকুট ওখানেই ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে দিল। মনে এক আকাশ পরিমাণ অভিমান ,অভিযোগ আর কষ্ট নিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।

______________________

দুপুরের দিকে, মাইশার প্রচণ্ড পরিমাণ ক্ষুধা পেয়েছে। মাইশা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল প্রায় তিনটা বাজতে চলল। মাইশা কিছুটা অবাক হলো কারণ প্রতিদিন আরিয়ান ই তাকে দুপুরের লাঞ্চ করার জন্য টেনে নিয়ে যায় আজ আরিয়ানের এখনো পর্যন্ত কোনো খবর নেই।তাই মাইশা সবকিছু গুছিয়ে রেখে আরিয়ানের কেবিনের দিকে চলে গেল। আরিয়ানের কেবিনে ঢুকতেই সিগারেটের গন্ধ তার নাকে এসে তীব্রভাবে বাড়ি খেলো। মাইশা দেখল তার টেবিলের উপর শেষ হয়ে যাওয়া অসংখ্য সিগারেটের টুকরা পড়ে আছে। আরিয়ান অতিরিক্ত রাগ হলে বা কোন টেনশনে পড়লেই এত পরিমাণ সিগারেট খায়।মাইশা তাকিয়ে দেখলো আরিয়ান জানালার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। ওঠো ওঠে এখনো একটা সিগারেট ধরানো সিগারেটের ধোঁয়া উড়ছে।

মাইশা আরিয়ানের কাছে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বলল,
------- কি হয়েছে কি তোমার রুমটাকে কি বানিয়ে রেখেছ কোন খেয়াল আছে তোমার। আর এত সিগারেট কেন খাচ্ছ।

আরিয়ান কোন কথা বলছে না এক মনে সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। মাইশা আরিয়ানের হাত থেকে এক টান দিয়ে সিগারেট টা ফেলে দিয়ে আরিয়ানের হাতটা আলতো করে ধরে বলল,
-------- কি হয়েছে তোমার বলো তো কেন এমন করছো।

সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ান তার চোয়াল শক্ত করে মাইশা কে ওয়ালের সাথে চেপে ধরল। মাইশা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরিয়ান তার ঠোঁট দুটো মাইশার ঠোঁটে চেপে ধরল। মাইশাকে ইচ্ছামত কিস করতে লাগলো।

--------- উম উম উম।

আরিয়ান মাইশাকে এত শক্ত করে ধরেছে যে মাইশা এতোটুকু নিজেকে ছাড়াতে পারছে না আরিয়ানের কাছ থেকে। মাইশা আরিয়ানের সাথে আর না পেরে চোখের পানি ছেড়ে দিলো।মাইশার চোখের গরম পানি আরিয়ানের ঠোঁটে এসে বলল। সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ান মাইশা কে ছেড়ে দিল। আরিয়ান মাইশার দিকে তাকিয়ে দেখলো মাইশা অঝোরে কাঁদছে। আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাইশা কে জড়িয়ে ধরল। আরিয়ান নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারল না। আরিয়ানের বুকের পাঁজর টা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে।তার জন্য তার কলিজার টুকরা টা কষ্ট পেয়েছে।

আরিয়ান করুন কন্ঠে মাইশাকে বলল,
--------- সরি জান ভুল হয়ে গেছে কাঁদিস না প্লিজ। তুই কাঁদলে যে আমার খুব কষ্ট হয় কেন বুঝিস না। আমি যে তোকে কারো সাথে একদম সহ্য করতে পারি না তোকে কারো সাথে দেখলে আমার ভিতরটা যেন দুমড়ে মুছে শেষ হয়ে যায় কেন বুঝিস না তুই।

আরিয়ানের কন্ঠ টা খুব ধরা ধরা লাগছিল।মাইশা বুঝতে পারল আরিয়ান হয়তোবা কাঁদছে। কিন্তু মাইশা এটা বুঝতে পারছে না হঠাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন কি হয়ে গেল যে আরিয়ার তার সাথে এরকম ব্যবহার করল।আরিয়ান মাইশা কে ছেড়ে দিয়ে হঠাৎ হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। নিজের হাত দিয়ে ফ্লোর এর উপর কয়েকবার ঘুষি মারলো। মাইশা সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানকে আটকালো। মাইশা আরিয়ানের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখল হাতটা কয়েক জায়গায় কেটে গেছে।

আরিয়ানের এই পাগলামি গুলো মাইশা আর নিতে পারছে না।মাইশা কিছুটা জোরে আরিয়ানকে বলে উঠলো,
-------- কি হয়েছে কি তোমার কেন এমন পাগলামি করছো।

আরিয়ান মাইশার দু গালে হাত দিয়ে বলল,
-------- আমার পাগলামি তো শুধু একমাত্র তোকে ঘিরে কেন বুঝতে চাস না তুই।

--------- এইরকম কেউ করে পাগলের মতো বলো তো।

আরিয়ান তার বুকের বা পাশে হাত দিয়ে মাইশা কে বলল,
--------আমি সত্যি একটা পাগল রে শুধু তোর জন্য পাগল। জানিস তোকে যখন অন্য কারো সাথে দেখি আমার বুকের এই পাশ টা না খুব চিনচিন করে ব্যথা হয়। মনে হয় যেন কেউ আমার হৃদ পিণ্ড টা ধরে সজোরে টান মারছে। কেন এমন করিস তুই কেন বুঝতে চাস না আমাকে তুই।

মাইশা কি বলবে বুঝতে পারছে না। শুধু চুপচাপ আরিয়ানের কথাগুলো শুনে যাচ্ছে। এতদিন মাইশা ভাবতো এইগুলো আরিয়ানের বাড়াবাড়ি। কিন্তু আজ মাইশা অন্য কিছুর আভাস পাচ্ছে। কিন্তু এটা কোনদিনও সম্ভব নয়। আরিয়ানের জীবন আর মাইশার জীবনের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। সেখানে আরিয়ানকে নিয়ে মাইশার সুখে শান্তিতে সংসার করাটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। হঠাৎ মাইশার চোখ পরল আরিয়ানের হাতের দিকে। আরিয়ানের হাতের কাটা জায়গা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। মাইশার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। কেন যেন আরিয়ানের এতোটুকু কষ্ট মাইশা সহ্য করতে পারে না খুব কষ্ট হয় মাইশার। মাইশা তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আসলো। আরিয়ানের হাতের কাটা জায়গাটা স্যাভলন দিয়ে মুছে মলম লাগিয়ে দিল। আরিয়ানকে উঠিয়ে চেয়ারে বসালো। মাইশা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার চোখের কোনে এখনো পানি লেগে আছে।ছেলেরা খুব বেশি কষ্ট না পেলে ওদের চোখ থেকে পানি বের হয় না তা মাইশা জানে। আর আরিয়ান অনেক গম্ভীর টাইপের একটা ছেলে ওর চোখ দিয়ে পানি বের হওয়া এত সহজ নয়।

মাইশা হাত দিয়ে আলতো করে আরিয়ানের চোখের পানিটা মুছে দিয়ে আরিয়ানকে খুব ইস্মিত কন্ঠে বললো,
-------- ব্যাস অনেক হয়েছে আর কোন পাগলামি নয়।

আরিয়ান কিছু বলতে যাবে মাইশা আরিয়ানকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
-------- না আর কোন কথা নয়। অনেক বেলা হয়ে গেছে আমি তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসছি চুপচাপ এখানে বসে থাকবে।

মাইশা ওদের দুজনের জন্য খাবার আনতে চলে গেল। মাইশা চলে যেতেই আরিয়ান তার ফোনটা বের করে একজনকে ফোন দিয়ে বলল,
--------- আমি একজনের ছবি পাঠাচ্ছি। ওকে খুব ভালো করে কফি আপ্যায়ন কর এত পরিমাণে কফি দিয়ে আপ্যায়ন করবে যেন ওর কফি খাবার স্বাদ ছাড়া জীবনের জন্য মিটে যায়।

আরিয়ান ফোনটা রেখে দিয়ে বিড়বিড় করে বলল,
-------- আজ দেখবো কত কফি খেতে পারিস। তোকে আজ এতটা পরিমাণ কপি দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে যে সারা জীবনের জন্য তোর কফি খাওয়ার স্বাদ মিটে যাবে।

____________________________

এ দিকে হসপিটালে সিয়ামের কাছে একজন স্কেচ আর্টিস্ট কে নিয়ে আসা হল। স্কেচ আর্টিস্ট সিয়ামের কথা মোতাবেক চোখ আঁকতে লাগলো। এইদিকে সাব্বিরের মন পড়ে আছে মাইশার কাছে। ভেবেছিল মাইশার খোঁজ নেবার অজুহাতে একবার মাইশাকে দেখতে পারবে। কিন্তু তা আর হলো না। তবে যেভাবেই হোক সময় করে একদিন মাইশা কে দেখতে হবে। তাছাড়াও আয়েশার খোঁজ-খবর নেওয়া টা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সাব্বিরের। যেহেতু মাইশা একটা হাইপ্রোফাইল কেসের রাজ সাক্ষী। এই মাইশার আবার প্রয়োজন মত কোন না কোন সময় সাক্ষী দেবার জন্য ডাক পড়তে পারে।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ পিছন থেকে কনস্টেবল মিলন তাকে ডাক দিয়ে বলল,
-------- স্যার স্কেচ আঁকা হয়ে গেছে।

সিয়াম কে স্কেচ দেখানো হলে সিয়াম ভালো করে দেখে বলল,
--------- হ্যাঁ স্যার অনেকটা এরকমই ছিল চোখ গুলো দেখতে।

সাব্বির স্কেচ টা হাতে নিয়ে দেখতে লাগলো।স্কেচ টা দেখার সঙ্গে সঙ্গে সাব্বির যেন একদম চমকে গেল। এই স্কেচে আঁকা চোখ দুটো যেন তার খুব চেনা দুটো চোখের সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। কিন্তু সে তেমন একটা মনে করতে পারছে না এই চোখ দুটো এর আগেও সে কোথায় দেখেছে। হয়তো এটা সাব্বিরের ভুল হতে পারে। আবার সঠিক ও হতে পারে। আবার এমনও হতে পারে অন্য কারো চোখের সাথে সে এই চোখ দুটো ঘুলিয়ে ফেলছে। তবে যাই হোক এই কেসের খুব গভীরে ঢুকতে হবে তাহলে কিছু না কিছু পাওয়া যাবে। তবে যে কয় জন মারা গেছে এই কয় জনের মধ্যে কোন যোগসূত্র আছে কিনা সেটা আগে দেখতে হবে যদি থেকে থাকে তাহলে এর গোরায় হাত দিতে হবে তাহলে অবশ্যই এর অতল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।

_________________________

কিছুক্ষণ পর মাইশা খাবার নিয়ে আসলো। একটা প্লেটে ভাত মাখিয়ে ভাতের লোকমা আরিয়ানের মুখের সামনে ধরলো।নিমিষেই যেন আরিয়ানের মনের সমস্ত কষ্ট দূর হয়ে গেল।আরিয়ান খুব মজা করে মাইশার হাতে খেতে লাগলো। আরিয়ানকে খাওয়ানো শেষে মাইশা খুব সুন্দর করে মুখ ধুইয়ে তার স্যারের আঁচল দিয়ে আরিয়ানের মুখ মুছে দিল।

আরিয়ান মাইশার হাত টেনে ধরে বলল,
-------- কিরে তুই খাবি না।

-------- হুম খাবো তো।

মাইশা প্লেটে খাবার নিয়ে খেতে শুরু করলো।আরিয়ান এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মাইশার খাওয়া দেখছে। তার মনে হচ্ছে তার সামনে ছোট খাটো একটা পুতুল বসে আছে। পুতুল যেমন তার নিজের মতো জড় পদার্থ কোন কিছুই বুঝে না মাইশা ও যেন তেমন আরিয়ানের মনটা বুঝতেই চায় না।

___________________________

সীমা এখনো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। দুপুরে সে লাঞ্চ ও করে নি। করবে কি করে তার গলা দিয়ে যে খাবার কিছুতেই নামবে না। একদিকে যেমন তার অভিমান হচ্ছে অন্যদিকে তেমন তার নিজের উপর রাগ হচ্ছে। অভিমান হচ্ছে রিয়াদের ওপর রিয়াদ যেন সীমার অনুভূতি বুঝেও না বোঝার ভান করে। আর নিজের প্রতি রাগ হচ্ছে এই ভেবে যে এমন একজনকে সে মন দিয়েছে বসেছে যার কাছে তার কোন মূল্য নেই। হঠাৎ সীমার কেবিনের ইন্টার কাম টা বেজে উঠলো। ইন্টার কাম রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রিয়াদের গলা ভেসে আসলো। রিয়াদের গলা সোনা মাত্রই সীমার আরো অনেক জোরে কান্না পেল।

নিজের কান্না টাকে অনেক কষ্টে বুকের ভেতর ধামাচাপা দিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে বলল,
------- জি স্যার বলুন।

------- তোমাকে গতকালকে যে ফাইলটা দিয়েছিলাম সেটা নিয়ে আমার রুমে আসো।

সীমা রিয়াদের সাথে আর কোন কথা না বলে ইন্টার কাম টা রেখে দিলো। ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে ফাইলটা হাতে নিয়ে রিয়াদের রুমে চলে গেল।

_________________________

আলিয়া অনেকক্ষণ যাবৎ রাফাতের জন্য এয়ার পোর্টে দাঁড়িয়ে আছে। আজ অনেকদিন পর রাফাত বিদেশ থেকে দেশে ফিরছে।সেই কবে ব্যবসার কাজে বিদেশ গিয়েছে এতদিনে তার আসার সময় হলো। আলিয়ার চোখ দুটো অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রাফাত কে এক নজর দেখার জন্য। কিন্তু আলিয়ার চোখ দুটো যতদূর যাচ্ছে রাফাত কে দেখতে পাচ্ছে না তবে কি রাফাত তার আসার আগেই চলে গেল।

হঠাৎ এ কেউ আলিয়ার কানে আস্তে করে বলল,
-------- হ্যালো মিস আপনি কি কাউকে খুঁজছেন।

কন্ঠ টা আলিয়ার খুব পরিচিত লাগলো।পিছনে ঘুরে দেখলেও রাফাত দাঁড়িয়ে আছে। আলিয়া কোন কিছু না ভেবেই আবেগের রাফাত কে জড়িয়ে ধরল। রাফাত ও অনেকদিন পর আলিয়া কে কাছে পেয়ে নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারল না। রাফাত আলিয়াকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল।

আলিয়া রাফাতের ব্লেজার টা খামছে ধরে কিছুটা রেগে আরাফাত কে বলল,
-------- ইন্দুর,বান্দর খচ্চর বিলাই এত দিন পরে সময় হল বাংলাদেশে আসার। নাকি কোন রূপসী ফরেইনার কে দেখে তার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলে তাই বাংলাদেশে আসতে ইচ্ছে করছিল না তাই না।

রাফাত ও কিছুটা দুষ্টামীর ছলে বললো,
--------- উফ্ তুমি বিশ্বাস করবে না ফরেইনারে এত সুন্দর সুন্দর মেয়েরা আছে আমি চোখ ফেরাতে ই পারছিলাম না।

কথাটা শোনা মাত্রই আলিয়া রাফাতের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে চোখ গরম করে মাজায় হাত দিয়ে বলল,
--------- কি!কি বললে তুমি আরেকবার বলতো।

রাফাত হো হো করে হেসে দিয়ে আলিয়ার গাল দুটো টেনে বলল,
-------- যার জন্য আমি এতটা দেওয়ানা যাকে ছাড়া আমার কিছুই ভালো লাগেনা তাকে ছেড়ে আমি অন্য কারো কথা ভাববো সেটা তুমি ভাবলে কি করে জান পাখি। আমার এই মন প্রাণ শুধু আমি একজনকে দিয়েছি সে আমার আলিয়া সোনা।

আলিয়া মুচকি হেসে বলল,
-------- সত্যি বলছো।

------- হ্যাঁ পাগলী সত্যি সত্যি তিন সত্যি।

-------- আচ্ছা শোনো তুমি বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যার পরে আমাদের বাসায় এসো।

-------- কেন তোমার আমার বিয়ের কথা বলবে নাকি।

-------- আরে না আজকে বাসায় কিছু ধামাকা হতে চলেছে।

-------- ধামাকা মানে!

--------- বাসায় আসলে বুঝতে পারবে এবার তাড়াতাড়ি চলো যাওয়া যাক।

-------- ওকে মহারানী চলুন।

রিয়াদ ফাইল চেক করছিল আর সীমার সাথে কথা বলছিল। সীমা সবগুলো কথার উত্তর অন্যদিকে ফিরে দিচ্ছিল। রিয়াদ বিষয়টা খেয়াল করে সীমা কে সীমাকে জিজ্ঞেস করল,
-------- কি হয়েছে সীমা এনিথিং রং।

-------- নো স্যার আই এম ফাইন।

-------- তাহলে এইভাবে অন্যদিকে ফিরে কথা বলছো যে।

-------- কিছু না স্যার যদি আপনার হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে কি আমি এখন আসতে পারি।

-------- হ্যাঁ।

সীমা আর এক মুহূর্ত ওখানে না দাঁড়িয়ে ফাইলটা টান মেরে নিয়ে রিয়াদের রুম থেকে চলে গেল। রিয়াদ সীমার এরকম ব্যবহারের মানে কিছুই বুঝতে পারল না। সকালবেলা ও যখন রিয়াদ সীমার সাথে কথা বলেছিল তখন তো সীমা একদম নরমাল ছিল এর মধ্যে কি এমন হয়ে গেল যে সীমা এই রূপ ব্যবহার করলো রিয়াদের সাথে যা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না রিয়াদ।

অফিস শেষ করে আরিয়ান মাইশা কে নিয়ে একটা জুয়েলার্সের দোকানে গেল। মাইশা কে একটা আংটি পছন্দ করতে বলল।

মাইশা আরিয়ানের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলল,
-------- কেন আংন্টি দিয়ে কি হবে।

--------- আংটি দিয়ে তোকে প্রপোজ করব তাই।

--------- এ্যাঁ

-------- এই তুই ছাগলের মত সারাক্ষণ এ্যাঁ এ্যাঁ করিস কেন।

--------- এটা কিন্তু ভুল বললে।

-------- কি ভুল বললাম।

-------- ছাগল কিন্তু এ্যাঁ এ্যাঁ করে না ম্যাঁ ম্যাঁ করে।

-------- তোকে ছাগলের সাথে তুলনা করলেও ছাগল কে অপমান করা হবে তুই একটা গাধী নাম্বার ওয়ান কিছুই বুঝিস না।

--------- তুমি জানো আমার মাথায় কত বুদ্ধি।

--------- তা তো প্রতিনিয়তই আমি দেখছি। ওই বুদ্ধি গুলো সব পচে না পচা গোবরে পরিণত হয়েছে।

-------- কি তুমি আমার বুদ্ধি গুলোকে পচা গোবরের সাথে তুলনা করলে।

-------- কেন রে অন্য কিছুর সাথে তুলনা করলে বুঝি বেশি খুশি হতি।

মাইশা আরিয়ানকে কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল,
--------- তোমার আংন্টি তুমি পছন্দ করো আমি পারবো না আমি গেলাম।

এই বলে মাইশা চলে যাচ্ছিল তখনই আরিয়ান মাইশার হার্ট টান দিয়ে ধরে বলল,
--------- যদি এক কদম এখান থেকে যাস তার ল্যাং মেরে ফেলে দেব। আর পড়ে গিয়ে না তোর সবগুলো দাঁত ভেঙে যাবে। তখন সবাই তোকে ফোকলা বলে ডাকবে। ভেবে দেখতো তোকে দাঁত ছাড়া দেখতে তখন ঠিক কেমন লাগবে।

কথাটা শুনে মাইশা চোখ বড় বড় করে তাকালো আরিয়ানের দিকে। এই ছেলেটা প্রতিনিয়ত আমাকে কোন না কিছু দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে। তোকে আমি একবার বাগে পাই ব্ল্যাকমেল কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি সব তোকে হাড়ে হাড়ে বোঝাবো আইলার বাচ্চা। কতগুলো মাইশা বিড়বিড় করে বলল।

মাইশার কথাগুলো আরিয়ান ঠিক বুঝতে না পেরে মাইশা কে জিজ্ঞেস করল,
-------- কিরে তুই কি কিছু বললি।

মাইশা তার মাথাটা দু'পাশে নাড়িয়ে না বোধক সম্বোধন করল।

-------- আচ্ছা ঠিক আছে দ্রুত একটা আংটি পছন্দ কর বাসায় ফিরতে হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ আছে।

ছাতার মাথা আছে (মাইশা মনে মনে)

মাইশা কয়েকটা আংটি দেখে এর মধ্যে থেকে একটা আংটি পছন্দ করলো। আন্টি টা ডায়মন্ডের। যে কারো দেখলেই মাথা ঘুরে যাবে। ডায়মন্ডের রিংটা প্রচুর পরিমাণে গ্রেস মারছিল। আরিয়ান বিল পেইড করে জুয়েলার্সের দোকান থেকে বেরিয়ে গেল।

জুয়েলার্স এর দোকান থেকে বের হতেই মাইশার চোখ যেন কোন একদিকে আটকে গেল। দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে সেই দিকে। এক চুলও যেন তোর চোখে নজর সরছে না সামনের দিক থেকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না চোখের সামনে থেকে সে জিনিসটা অনেক দূর পর্যন্ত মিলিয়ে গেল সে দিকে থেকে মাইশা এক চুল পরিমাণ তার নজর সরলো না।

মাইশা নিজ মনে আওড়ালো,
'''' আমার হৃদয়ের মাঝখানে জ্বলন্ত এক অগ্নি শিখা যা প্রতিনিয়ত দাউ দাউ করে জ্বলছে।সেই আগুন নিভানোর সময় হয়ে এসেছে।

চলবে ........
493 Views
13 Likes
4 Comments
4.0 Rating
Rate this: