প্রেম_আমার
পর্ব_১০
কানিজ ফাতেমা
মাইশার মনে হলো ওর পিছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। মাইশা পিছন ঘুরে দেখল আরিয়ান।আরিয়ানকে দেখেই মাইশা ওখানে আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে মুখ ঘুরিয়ে চলে যাচ্ছিল তখনই আরিয়ান মাইশার হাত ধরে, ওর হাতে জোরে একটা টান দিয়ে আরিয়ানের কাছে নিয়ে আসলো। মাইশা আরিয়ান এর বুকের উপর এসে পরল।
আরিয়ান দেখলো মাইশার কপালে কিছু চুল এলোমেলো হয়ে সামনে এসে পড়েছে।আরিয়ান মাইশার কপালে আশা এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বলল,
------- কিরে এই ভাবে মুখ ঘুরিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছিস।
মাইশার মোটেও ইচ্ছে করছিল না আরিয়ানের সাথে কথা বলতে। মাইশা আরিয়ানের কাছ থেকে নিজেকে ছড়ানোর চেষ্টা করল কিন্তু পারলো না। আরিয়ান আরো শক্ত করে মাইশাকে চেপে ধরল।
----- ছাড়ো আমাকে, ছাড়ো বলছি।
----- না, ছাড়বো না। গতকালকে রাত্রে তো ছাড়তেই চাচ্ছিলি না আর এখন এমন করছিস কেন।
----- মানে কি যা তা বলছো তুমি।
----- কালকে রাতের কথা সব ভুলে গেলি।
------ শোনো কত কাল রাতে এমন কিছুই হয়নি যেটা আমাকে মনে রাখতে হবে।
----- Oh really. তাহলে তো তোকে একটু মনে করিয়ে দিতেই হয় গতকাল রাতের কথা।
------ মানে!
আরিয়ান আর কোন কথা না বলে সোজা মাইশার ঠোঁ*টে নিজের ঠোঁ*ট ডুবিয়ে দিল। মাইশা ওর হাত দিয়ে আরিয়ানের পিঠে কিল ঘুষি মারতে লাগলো।বেশ কিছুক্ষণ পর আরিয়ান মাইশাকে ছেড়ে দিল।
মাইশা আরিয়ানকে ধাক্কা মেরে কিছুটা দূরে সরে গেল। খুব ঘৃণা হচ্ছে মাইশার আরিয়ানের প্রতি। কত মেয়ে লাগে আরিয়ানের জীবনে। এক মেয়েতে কি অতৃপ্তি ওর হয় না। কালকে তো খুব মজা নিয়ে একজনের সাথে রোমান্স করেছে আর আজকে মাইশা।ছেলেরা মনে হয় এমনই হয়।
আরিয়ান একটা ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে বলল,
------ কিরে এই বার কিছু মনে পড়েছে।
মাইশা নিজের রাগটাকে কিছুতে কন্ট্রোল করতে। তাই মাইশা কিছুটা চেচিয়ে আরিয়ান কে বলল,
----- নেক্স টাইম কখনো আমাকে টাচ করার চিন্তা ও করবে না। কারণ আমি চাইনা আমাকে এমন একজন টাচ করুক যার জীবনে আরো অনেক মেয়ে আছে। আর শোনো আমার না কোন কিছু মনে করার দরকার নেই।
মাইশার কথা শুনে আরিয়ানের খুব রাগ হচ্ছে।কি বলছে এইসব মাইশা।আরিয়ান আজ পর্যন্ত মাইশা ছাড়া কোন মেয়ের দিকে তাকায় নি পর্যন্ত, টাচ করা তো দূরের কথা।
আরিয়ান মাইশাকে একটা ধমক দিয়ে বলল,
------ what is this Mayesha. এইসব আলতু ফালতু কথা বন্ধ কর ওকে।
----- ও আচ্ছা তুমি করতে পারবে আর আমি বললেই সেটা আলতু ফালতু হয়ে গেল।
আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে মাইশার কাছে গিয়ে মাইশা কে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল
------ নিষেধ করেছি না কোনরকম আলতু ফালতু কথা না বলতে। এই আরিয়ান চৌধুরী এমন কোন কাজ করে নি যার জন্য তুই আমার দিকে আঙ্গুল তুলবি।
------ আমাকে ছাড় বলছি না তোমার সাথে কথা বলার কোন ইচ্ছেই নেই আমার ।
------ তাহলে কার সাথে কথা বলার ইচ্ছে আছে ঐ রিয়াদের সাথে।
------ যার সাথে থাকুক না কেন অন্ততপক্ষে তোমার সাথে নেই।
------ চুপ একদম চুপ। তোর সমস্ত কথা শুধুমাত্র আমার সাথে। এই আরিয়ান চৌধুরী সাথে। আমার সাথে ছাড়া দ্বিতীয় কোন ছেলের সাথে তোর কোন কথা থাকতে পারে না।কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে নে।
কথা গুলো বলে আরিয়ান কিছুটা রাগ দেখিয়ে ওখান থেকে হনহন করে চলে গেল।
মাইশা কিছুটা তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,
------ যার জীবন এক নারীতে পরিপূর্ণ হয় না।আমি চাইনা তার ছায়াও আমার জীবনে পরুক।
মাইশা কথাগুলো বলছিল ঠিকই কিন্তু কেন যেন ওর ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কেন যেন আরিয়ানের ঠোঁটের ফোলা আর গলার আঁচড়ের দাগ চোখের সামনে থেকে কিছুতেই সরাতে পারছেনা মাইশা।কিছুটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়লো মাইশার।
মাইশা চোখের পানিটা মুছে নিয়ে ছাদের রেলিং ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছে,
------ আকাশের রং আর মানুষের মন দুটোই এক। পরিবর্তন হতে বিশ্বময় লাগে না।
তখনই মাইশার অনুভব হল আবার কেউ ওর পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। মাইশা একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো,
------ প্লিজ তুমি এখান থেকে চলে যাও তোমার সাথে কথা বলার কোন রকম ইচ্ছে আমার নেই।
হঠাৎ কেউ পিছন থেকে কিছু একটা দিয়ে মাইশার গলা পেঁচিয়ে ধরল। মাইশা নিজের গলায় হাত দিয়ে সেটা কে ছোটানোর অনেক চেষ্টা করল কিন্তু পারল না।মাইশার একদম কাশি উঠে গেল।মাইশার শরীরটা যেন নিস্তেজ হয়ে আসছে। মাইশা বুঝতে পারছে আরেকটু সময় এভাবে থাকলে তার প্রাণ পাখিটা উড়ে যাবে। তাই তাকে বাঁচার জন্য লড়াই করতে হবে। মাইশা তার নখ দিয়ে সজোরে লোকটার দুই হাতে খামচি বসিয়ে দিল। মাইশার লোকের আঁচড় লাগাতে সঙ্গে সঙ্গে লোকটা মাইশা কে ছেড়ে দিল। মাইশা সুযোগ বুঝে লোকটাকে একটা ধাক্কা দিয়ে ওরা হাতের কাছে থাকা একটা ইটের টুকরা লোকটার দিকে ছুঁড়ে মারলো। কোন রকমের দৌঁড়ে ছাদ থেকে বেরিয়ে ছাদের দরজা আটকাতে যাবে তখনই লোকটা মাইশার হাত চেপে ধরল। মাইশা ছাদের দরজা দিয়ে লোকটার হাত চেপে ধরলো।উপায় না পেয়ে লোকটা মাইশার হাত ছেড়ে দিল।মাইশা ছাদের দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দ্রুত নিচে নেমে গেল।
নিচে যেতেই ভয়ে মাইশা জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠলো।তখনই কেউ মাইশাকে ধরে ফেলল। মাইশা তার বুকের উপর হেলে পরল।ভয় পেয়ে মাইশা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।সে বারবার মাইশার গালে আলতো করে হাত দিয়ে মাইশাকে ডাকছে কিন্তু মাইশা কোন রেসপন্স করছে না।
আর তখনই আরিয়ান চিৎকার দিয়ে ওর কাছে এসে ওর কলার ধরে বলে উঠলো,
------ How dear you bloody idiot.তুই মাইশাকে ধরার সাহস পাস কি করে।
সে ছিল রিয়াদ। রিয়াদ মাইশাকে এইভাবে ধরে রেখেছে দেখে তো আরিয়ানের মাথায় পড়ে আগুন চড়ে গেল। রিয়াদ ওকে কিছু বলতে চাইলো কিন্তু আরিয়ান কোন কিছু না শুনেই নিজেকে সংযত করে রাখতে না পেরে ওকে ঠাস করে একটা থাপ্পর মারলো।
মাইশাকে ওর কাছ থেকে নিজের কাছে এনে বলল,
------ রাস্কেল তোর এত বড় সাহস কি করে হয় মাইশার গায়ে হাত দিস।আর তুই এখানে কি করছিস। তোর কাজ অফিসে আমার বাড়িতে নয়।
------ প্লিজ স্যার আমার কথাটা ঠিক একবার শুনুন।
------ shut up rascal. Get out from here.
রিয়াদ অনেকবার রিকোয়েস্ট করল তার কথা শোনার জন্য কিন্তু আরিয়ান রিয়াদের কোন কথা না শুনে রিয়াদের সাথে চরমভাবে খারাপ ব্যবহার করে যাচ্ছে।
শেষে রিয়াদ বাধ্য হয়ে কিছুটা চেঁচিয়ে আরিয়ান কে বলল,
------ দেখুন স্যার কারো কাছ থেকে কোন বিষয় না জেনে না বুঝে এইভাবে তার গায়ে হাত তোলা বা তার সাথে এরকম ব্যবহার করাটা উচিত নয়।
------ এই তোর মত সামান্য একটা ম্যানেজারের কাছ থেকে আমাকে ব্যবহার শিখতে হবে। তুই একে তো আমার পারমিশন ছাড়া এই বাড়িতে ঢুকেছিস দ্বিতীয়ত তুই মাইশার গায়ে হাত দিয়েছিস। তোকে তো আমি মাত্র একটা থাপ্পড় মেরেছি এখানে যদি আর এক সেকেন্ড ও দাঁড়াস তাহলে তোর সাথে যে আমি কি করবো তা আমি নিজেও জানিনা।
------ দেখুন স্যার মাইশা ম্যাডামের গায়ে আমি ইচ্ছে করে হাত দেই নি। আমি বাড়িতে ঢোকার পরেই হঠাৎ মাইশা ম্যাডামের চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পাই আমি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই উনি আমার কোলে ঢলে পড়েন।
রিয়াদের কথায় এতক্ষণে আরিয়ানের হুঁশ ফিরলো। বাসায় তো কেউ ছিল না আরিয়ান ও অফিসে যাওয়ার জন্যই বেরিয়েছিল ভুলবশত গাড়ির চাবিটা বাসায় রেখে গিয়েছিল বিধায় আবার বাসায় ফিরে এসেছিল চাবি নিতে। রিয়াদের কথা মোতাবেক মাইশা যদি উপরে থাকে আর ও তো সেন্সলেস ও হয়ে গেছে তাহলে দরজা খুললো কে।
আরিয়ান মাইশার দিকে তাকিয়ে দেখলো মাইশার এখনো কোনো রেসপন্স নেই।আরিয়ান মাইশাকে কোলে তুলে নিয়ে ওর রুমে গিয়ে শুইয়ে দিল।
আরিয়ান নিজেকে কিছুটা সংযত করে রিয়াদকে বলল,
------তুমি এই বাড়িতে কেন এসেছ। আর মাইশা দরজা না খুললে তুমি কি করে ভেতরে ঢুকলে।
------স্যার আমি তখন থেকে সেটাই আপনাকে বলার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু আপনি আমার কোন কথাই শুনছিলেন না।
------ এত কথা রেখে আমি যা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দাও।
------ স্যার খুব ইম্পরট্যান্ট একটা ফাইল আপনাকে দিয়ে সাইন করানোর দরকার ছিল আপনার সাইন ছাড়া ফাইলটা আমি রেডি করতে পারছিলাম না।আপনি আজকে অফিসে আসেন নি বিধায় আপনাকে আমি কয়েকবার কল দিয়েছিলাম কিন্তু আপনি কল রিসিভ করেন নি। তাই বাধ্য হয়ে আপনার বাসায় আমাকে আসতে হয়েছিল। কিন্তু বাসায় আসার সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম আপনাদের বাসার দরজাটা খোলা। ভিতরে ঢুকতেই হঠাৎ মাইশা ম্যাডামের চিৎকারের আওয়াজ পাই। আমি উপরে যেতেই উনি সেন্সলেস হয়ে আমার উপর ঢলে পড়ে। আর তখনই আপনি চলে আসেন।
আরিয়ান বিড়বিড় করে বলল,
"" Oh shit dammit. এত বড় একটা ভুল আমি কি করে করলাম। রাগের মাথায় বাসার দরজা ঠিক মতো না লাগিয়েই আমি চলে গিয়েছিলাম।সেই সুযোগে কেউ বাসায় ঢুকে মাইশার উপরে আক্রমণ করেছে।
আরিয়ান রিয়াদের হাত থেকে ফাইলটা নিয়ে সাইন করে দিয়ে রিয়াদকে চলে যেতে বলল। রিয়াদ চলে যেতে নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে আরিয়ান কে বলল,
------ স্যার একটা কথা বলি। আমি জানিনা এমন কি হয়েছিল যে মাইশা ম্যাডাম এই ভাবে চিৎকার দিয়ে উঠেছিল। আর কেউ কি বাড়ির ভিতরে ঢুকে ছিল কিনা সেটাও জানি না। যদি কেউ ঢুকেই থাকে তাহলে দারোয়ানের চোখ এড়িয়ে সে কি করে ঢুকলো।যদি স্যার সম্ভব হয় একটু খোঁজ নিবেন। হয়তো এমন কেউ আপনার আশেপাশে আছে যে আপনাদের ক্ষতি করতে চায় তাই একটু সাবধানে থাকবেন স্যার।
কথা গুলো বলে রিয়াদ ওখান থেকে চলে গেল। রিয়াদের কথাগুলো খুব ভাবাচ্ছে আরিয়ানকে। রিয়াদ তো ঠিকই বলেছে দারোয়ানের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ ঢুকলো কি করে বাড়ির ভিতরে।রাগের মাথায় আরিয়ানের এই কথাটা একদমই মাথাই আসে নি। দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলে কিছু হয়তোবা আরিয়ান জানতে পারবে কিন্তু মাইশাকে একা রেখে বসে যেতে পারছে না। তবে আরিয়ান এইটুকু বুঝতে পারছে মাইশা কোন জায়গায় সেভ নয়। মাইশাকে এতোটুকু সময়ের জন্য ও একা রাখা যাবে না। বাড়ির লোকদের ওপর খুব রাগ হচ্ছে আরিয়ানের। সবাই গেছে তো গেছে ফেরার আর কোনো নাম নেই আজকে আসুক সবাই তারপর ওদের সাথে বোঝাপড়া আছে আরিয়ানের।ঠিক কি হয়েছিলাম মাইশার সাথে মাইশার জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত কিছুই বুঝতে পারছে না আরিয়ান।
পুলিশ অফিসার সাব্বির সেই পোড়া লাশ টার ইনভেস্টিগেশন করতে করতে জানতে পারে, থানায় দুই দিন আগে একটা গ্যারেজ থেকে একজন লোক মিসিং হয়ে যাওয়ার জিডি করা হয়েছিল তার পরিবার থেকে। তার পরিবার থেকে একজনকে লাশ সনাক্ত করার জন্য মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
কিছুক্ষণ পরেই মাইশার জ্ঞান ফিরে।মাইশা হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ওঠে।আরিয়ান মাইশাকে জড়িয়ে ধরে।
------ মাইশা রিল্যাক্স রিলাক্স।আমি আছি কিছু হবে না তোর।
আরিয়ান মাইশাকে শান্ত করার অনেক চেষ্টা করে কিন্তু মাইশা ভয় পেয়ে এতটা পরিমাণ ঘাবড়ে আছে যে আরিয়ান কিছুতেই মাইশাকে শান্ত করতে পারছিল না।
মাইশা শুধু বারবার একটা কথাই বলছে,
------ ও আমাকে মেরে ফেলবে, ও আমাকে মেরে ফেলবে।আমাকে বাঁচাও আমাকে বাঁচাও।
------ তোর কিছু হবে না মাইশা আমি আছি তো দেখ।
মাইশা আরিয়ানের দিকে তাকালো।আরিয়ান ওর দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল মাইশা ভয়তে কুকড়ে আছে।
আরিয়ান মাইশাকে অনেক চেষ্টা করে কিছুটা শান্ত করে মাইশা কে জিজ্ঞেস করল,
------ মাইশা আমাকে বলতো ঠিক কি হয়েছিল।
মাইশা আরিয়ানকে সবটা খুলে বলল। আরিয়ান মাইশার গলার দিকে তাকিয়ে দেখল মাইশার গলায় একদম দাগ পড়ে গেছে। আরিয়ানের বুকের ভেতরটা ছ্যাঁদ করে উঠলো। মানুষ কতটা নৃশংস হলে এভাবে কারো গলা পেঁচিয়ে ধরতে পারে। আরিয়ান বুঝতে পারছিল মাইশার গলায় ঐ লোক টা শক্ত দড়ি জাতীয় কিছু দিয়ে খুব জোরে চেপে ধরেছিল।
মাইশা এখনো ভয়তে কেঁদেই যাচ্ছে।আরিয়ান মাইশার চোখের পানি মুছে দিয়ে ওর কপালে একটা ভালোবাসার পরশ এঁকে দিয়ে মাইশার দুই হাত ধরে বলল,
------ কাঁদিস না প্লিজ। আমার মাছরাঙ্গা পাখি টা কাঁদলে যে আমার খুব কষ্ট হয় বুঝিস না।
আরিয়ানের কথা শুনে মাইশা আরিয়ানের দিকে তাকালো। কিছু মুহূর্তের জন্য মাইশার মনে হল,
"" সে কি কোনো কারণে আরিয়ানকে ভুল বুঝছে। আরিয়ানের চোখে মাইশার জন্য সত্যিকারের উদ্বিগ্নতা দেখতে পাচ্ছে মাইশা।তবে কি কোন একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে ওদের মাঝে""।
~~~~~~~~~~
আলিয়া অনেকক্ষণ ধরে দেখে যাচ্ছে রাফাত চিন্তা মগ্ন হয়ে কি যেন ভাবছে।আলিয়া মূলত রাফাতের সঙ্গেই দেখা করতে এসেছে বান্ধবীর কথা বলে। রাফাত আর আলিয়ার সম্পর্কটা এখনো পর্যন্ত বাসায় কেউ জানে না। রাফাত জানাতে চেয়েছিল কিন্তু আলিয়া নিষেধ করেছে। আলিয়ার পরীক্ষা টা শেষ হয়ে গেলেই বাসায় সবাইকে জানাবে আলিয়া।
রাফাতের চিন্তায় চিন্তায় মাথা পুরো হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। তার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।কে? কেন? রাফাত কে ফাঁসাচ্ছে! কি লাভ রাফাত কে ফাঁসিয়ে তার।
রাফাত কে এত চিন্তা ভাবনা অবস্থায় দেখে আলিয়া তাকে বলল,
------- কি হয়েছে রাফাত তোমার, তুমি সেই কখন থেকে দেখছি চিন্তিত হয়ে কি যেন ভাবছো।তা এত কি ভাবছো বলতো আমাকে।
রাফাত আলিয়াকে কিছু বুঝতে না দিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে বলল,
------ না তেমন কিছু না। বাদ দাও।
আলিয়া রাফাতের হাত ধরে বলল,
------ যদি কোন প্রবলেমে পড়ে থাকো আমাকে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করে বলতে পারো। আমি তোমার পাশে ছিলাম আছি আর সারা জীবন থাকবো।
রাফাত ভাবছে,""আমি কি বলবো আলিয়া তোমাকে যে,আমার গাড়িতে কারো পরার লাশ পাওয়া গেছে। বলার মত কিছু হলে অবশ্যই তোমাকে বলতাম। আমি তো নিজেই বা গুরুত্ব হয়ে গেছি তোমাকে আর কি বলবো।
------ এই কি হল তোমার কি ভাবছো আবার।
আলিয়ার ডাকে ঘোর ভাঙ্গে রাফাতের।
------ না কিছু না আসলে ভাবছিলাম ব্যবসাটা কি করে আরো দূরে এগিয়ে নেওয়া যায়
------ এত ভেবো না তো। পরে দেখা যাবে আমাকে ভুলে গিয়ে সারাদিন ব্যবসা নিয়ে পড়ে আছো।
রাফাত খুব জোর করে তার ঠোঁটের কোণে কিছুটা হাসি আনার চেষ্টা করল।
------ আচ্ছা শোনো এখন আমাকে উঠতে হবে অনেকক্ষণ হয়েছে এসেছি মাইশা বাসায় একা আছে এমনিতেই ওর শরীরটা ভালো না।
------ আচ্ছা চলো তোমাকে আমি এগিয়ে দিয়ে আসি।
রাফাত কে আজকে আলিয়ার কাছে অন্যরকম লাগছে। অন্যান্য দিন আলিয়া যেতে চাইলেও রাফাত তাকে ছাড়তে চায় না আরো কিছুক্ষণ থাকতে বলে। কিন্তু আজ আলিয়ার এক কথাতেই রাফাত ওকে যেতে দিতে চাইছে। আসলে রাফাতের হয়েছে টা কি। কিন্তু আলিয়া এটুকু বুঝতে পারছে রাফাতের কিছুটা কিছু অবশ্যই হয়েছে যার জন্য রাফাত কে আজকে অন্যরকম লাগছে আর খুব চিন্তিতও মনে হচ্ছে।
আলিয়া যেতে নিয়ে আবার দাঁড়িয়ে রাফাত কে বলল
------- আমি জানি না তোমার কি হয়েছে। তবে এইটুকু বলব যদি আমাকে ভালোবেসে থাকো আর বিশ্বাস করে থাকো নির্দ্বিধায় আমার সাথে তোমার প্রবলেম টা শেয়ার করো।
রাফাত আলিয়ার দু'গালে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে বলল,
------ আরে পাগলি কিচ্ছু হয়নি আমার। I am totally fine. এবার চলো তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আরিয়ানদের বাড়ির কিছুটা দূরে একটা লোক কারো একজনের সাথে ফোনে কথা বলছিল।
------- আপনি কিছু চিন্তা করবেন না। আমি যেভাবেই হোক আমার কাজটা কমপ্লিট করবোই। আমি যে কাজ একবার নিয়েছি সে কাজে কখনো বিফল হয়নি এই কাজে ও ভাবনা হয়তো বা একটু সময় বেশি লাগছে কিন্তু সফল হবই।
লোকটা ফোনটা রেখে দিয়ে আরিয়ানের বাড়ির দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে মনে মনে আওড়ালো,
"" কতদিন আর কতদিন তুই ওকে আমার কাছ থেকে বাঁচাবি।ওকে যে আমার হাতে মরতেই হবে। আর সেই দিন টা খুব নিকটে।
কথাটা বলেই হো হো করে হাসতে লাগলো সে।
সন্ধ্যার দিকে সবাই বাসায় চলে আসলো। সবাই বাসায় ফিরতেই আরিয়ান সবার উপর চেঁচামেচি শুরু করলো।
------ তোমাদের কি কোন সেন্স নেই তোমরা সেই কখন মাইশাকে বাসায় একা রেখে গিয়েছো। তারপরে কি তোমারা ফেরার কোন প্রয়োজন মনে করলে না। তোমরা জানো মাইশা অসুস্থ। কি করে তোমরা মাইসশা কে বাসায় একা রেখে এতক্ষণ পর্যন্ত বাহিরে থাকো।
আরিয়ানের রাগ দেখে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।
আরিয়ান আলিয়া কে বলল,
------ শোন আলিয়া মাইশার যেহেতু শরীর ভালো নেই তুই এখন থেকে মাইশার সঙ্গে ওর রুমে থাকবি। যতক্ষণ বাসায় থাকবি সর্বক্ষণ মাইশাকে দেখে রাখবি।
আলিয়া আরিয়ানের কথায় সাঁয় দিয়ে মাইশার রুমে চলে গেল।আরিয়ান দারোয়ানের সাথে কথা বলতে চলে গেল।
মর্গ থেকে ফিরে একজন কনস্টেবল সাব্বিরকে বলল,
------ স্যার উনারা লাশটা আইডেন্টিফাই করতে পেরেছে। লাশটা ছেলে টার বাবার। ছেলে টা আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে।
------ আচ্ছা ওকে পাঠিয়ে দাও।
ছেলে টা এসে সাব্বিরের সামনে বসলো। ছেলেটা কান্নারত কন্ঠে বলল,
------ স্যার আমার নাম মুরাদ। আমার বাবা ওই গ্যারেজের দেখাশোনা করত। বাবা মিসিং হবার আগের দিন রাত্রে কারো একজনের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকেই বাবাকে ফোনে আর পাইনি। আর আজকে যখন পেলাম তখন বাবার লাশ পেলাম।
সাব্বির মুরাদ কে একটা টিস্যু এগিয়ে দিয়ে বলল,
------ নিজেকে সামলাও। আচ্ছা তোমার বাবার সাথে কি কারো কোন শত্রুতা ছিল।
------ না স্যার আমার বাবা অত্যন্ত ভালো আর ভদ্র একজন মানুষ ছিল। কেন কেউ বাবার সাথে এমন করল তা আমরাও বুঝতে পারছি না স্যার।
------ তোমার কি কাউকে সন্দেহ হয়।
------ না স্যার সন্দেহ করার মত ঐ রকম কেউ আমার জানার মধ্যে নেই।
সাব্বির মুরাদের কাছ থেকে ওই গ্যারেজ সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন নিলো। আর মনে মনে ভাবল,
"" খুব জটিল একটা কেস এটা। একটা মানুষ রাত্রের বেলা আরো একজনের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গেল তারপরে মিসিং তারপর পুড়ে মারা গেল। একটু খুঁটিয়ে দেখতে হবে ব্যাপারটা আসলে ঠিক কি""।
আরিয়ান দেখলো দারোয়ান মতিন টেবিলের উপর মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে। আরিয়ানের খুব রাগ হলো এই দৃশ্য দেখে।
------ ওকে রাখা হয়েছে এই বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য। এখন তো দেখছি ওকেই পাহারা দেওয়ার জন্য অন্য কাউকে রাখতে হবে।
আরিয়ান তার হাত দিয়ে টেবিলের উপর জোরে একটা থাপ্পড় মারলো।সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিয়ে উঠল দারোয়ান। আরিয়ানকে দেখেই বসা দেখেই দাঁড়িয়ে গেল।
আরিয়ান কিছুটা রাগ দেখিয়ে ওকে বলল,
------ এই তোমাকে কি বাড়ির পাহারা দেয়ার জন্য রাখা হয়েছে নাকি ঘুমানোর জন্য রাখা হয়েছে।
------ সরি স্যার আমার তো কখনো এমন হয় না। কেন জানি না আজকে আমার খুব ঘুম ঘুম পাচ্ছে।কিছুতেই চোখ টেনেই মিলতে পারছি না।
------ কেন আজকে ডিউটিতে আসার সময় কি ঘুমের ওষুধ খেয়ে এসেছিলে। তাই চোখ মেলতে পারছ না।
------ না স্যার সকালের দিকে রাস্তা দিয়ে একজন চা নিয়ে যাচ্ছিল উনার কাছ থেকে এক কাপ চা খেয়েছিলাম তারপর থেকেই আমার কেমন যেন একটা ঘুম ঘুম ভাব।
------ মানুষের চা খেলে ঘুম কমে আর তোমার ঘুম বাড়ছে। এইসব আজগুবি কথা বন্ধ করো ঠিক আছে।আচ্ছা যাই হোক শোনো আমি বের হয়ে যাবার পরে কি বাড়িতে কেউ ঢুকে ছিল।
আরিয়ানের কথা শুনে মতিনের মুখটা কিছুটা শুকিয়ে গেল। মতিন চুপ করে আছে। কোন কথা বলছে না। আরিয়ান আরো একবার একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করল কিন্তু মতিন কোন উত্তর দিল না।
এবার আরিয়ান জোরে একটা ধমক দিয়ে বলল,
------ এই তোমাকে কি আমি পড়া জিজ্ঞেস করেছি যে পড়া পারছো না বলে মাথা নিচু করে আছো। চুপ করে আছো কেন আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।
মতিন কি বলবে বুঝতে পারছে না কারণ তখন তো সে টেবিলের উপর মাথা দিয়ে ঝিমুচ্ছিল।
তারপরও ভয়ে ভয়ে আমতা আমতা করে বলল,
------- আসলে স্যার তখন আমার একটু ঝিমুনি এসেছিল বিধায় টেবিলের মাথা দিয়ে ঝিমিয়ে পড়েছিলাম।
------ স্টুপিড কোথাকার।এবার তোমার চাকরি টা ও আমি ঝিমিয়ে দেই।
মতিন আরিয়ান এর হাতে পায়ে ধরে বলতে লাগলো,
------ না স্যার, প্লিজ স্যার এই কাজটা করবেন না স্যার তাহলে আমার বউ ছেলে মেয়ে না খেতে পেয়ে মারা যাবে স্যার। আর কখনো এমন হবে না স্যার।
হঠাৎ আরিয়ানের গেটের দিকে চোখ যেতেই দেখল......
চলবে......
প্রেম আমার (পর্ব ১০)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
964
Views
23
Likes
4
Comments
4.3
Rating