প্রেম আমার
সিজন-২
আরিয়ান নিজের রুমে ফিরতে যাবে তখনই পুরো বাড়ি লোডশেডিং হয়ে গেল। চারিদিকে শুধু ঘুটঘুটে অন্ধকার কিছু দেখা যাচ্ছে না ভালো করে। হঠাৎই কেউ তার চোখ যুগল একটা কাপড় দিয়ে আবৃত্ত করে ফেলল। কোন কিছুই সে বুঝে উঠতে পারছে না।তার বুকের ভেতরটা ধুক ধুক করছে।
কেউ খুব চাপা কন্ঠে তার কানের কাছে বলে উঠলো,
" কোন কথা না বলে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছি চুপচাপ সেই দিকে চলো।
কথাগুলো বলে সেই ব্যক্তি টা আরিয়ানের হাত শক্ত করে চেপে ধরল। এই হাতের স্পর্শটা আরিয়ানের খুব পরিচিত মনে হল হয়তো এই হাতগুলো সে বহুবার ধরেছে। আর কণ্ঠস্বরটা এত পরিমাণ চাপা সে বুঝে ওঠে ও যেন বুঝে উঠতে পারছে না কে হতে পারে। অন্ধকারে কোন দিকে কি আছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না তাই আরিয়ান কোনরকম কথা না বাড়িয়ে তাকে অনুসরণ করতে লাগলো।
আরিয়ানকে এক জায়গায় এনে কিছু পরিচিত কন্ঠ একযোগে বলে উঠলো,
" Happy birthday to dear Aryan.
সঙ্গে সঙ্গে পিছন থেকে কেউ একজন তার চোখের বাঁধন খুলে দিল। সামনে তাকিয়ে দেখল রাফাত আলিয়া তার বাবা-মা দাঁড়িয়ে আছে। পিছন থেকে খুব পরিচিত মিষ্টি কন্ঠে একজন বলে উঠল,
" Happy birthday, many many happy returns of the day.
আরিয়ান পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখল মাইশা দাঁড়িয়ে আছে। কিছুই যেন আরিয়ানের বোধগম্য হচ্ছে না।সে নিশ্চুপ চাহনিতে মাইশার দিকে চেয়ে আছে। মাইশা ঠোঁটের কোণে কিঞ্চিত মৃদু এক ফালি হাসি এনে বলল,
" আজকে তোমার জন্মদিন ভুলে গেছো।
আরিয়ানের আশ্চর্যের ঘোর কাটলো। কপালে দু আঙ্গুল মাথাটা কিছুটা নামিয়ে বলল,
" Oh shit. একদমই ভুলে গিয়েছিলাম।
মাইশা খুব ধীর কন্ঠে আস্তে করে আরিয়ান কে বলল,
" তুমি ভুলে গেলেও তোমার মাছরাঙ্গা পাখি ভুলে নি।
আরিয়ানের ঠোঁটে একটা খুশির ঝিলিক ফুটলো।সে খুশিতে মাইশা কে জড়িয়ে ধরল। মাইশা তো পুরাই বোকা বনে গেল আরিয়ানের এইরকম কান্ড দেখে। কারণ ছাদে বাড়ির সবাই ছিল। আরিয়ান অতি খুশিতে বেমালুম ভুলেই গেল ব্যাপারটা।
মাইশা আরিয়ানের হাতে চিমটি কেটে বলল,
"কি করছে কি ছাড়ো এখানে সবাই আছে।
মাইশার কথায় আরিয়ানের হুঁশ ফিরলো। সে সঙ্গে সঙ্গে মাইশা কে ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ালো। তাকিয়ে দেখলো সবাই মিটি মিটি হাসছে।
আরিয়ান খুব কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল,
" তোমরা এতসব কখন করলে।
আলিয়া মাইশার কাছে এগিয়ে এসে পিছন থেকে মাইশার দুই কাঁধে হাত দিয়ে বলল,
" এই সমস্ত কিছুর প্ল্যানিং মাইশার। তোর জন্মদিনের কথা মাইশাই সবাইকে বলেছিল সন্ধ্যার দিকে। তারপর আমরা সবাই মিলে এই প্ল্যানিংটা করলাম তোকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য।
আরিয়ানের হৃদয়ের খুশির জোয়ার আর চোখে আনন্দ। তার ভালোবাসার মানুষটার সারপ্রাইজ তাকে আজ বিশাল বড় এক আনন্দের জোয়ারে নিয়ে ফেলেছে।
মাইশা আরিয়ানের কাছে এগিয়ে এসে ওর হাতে একটা ছুরি ধরিয়ে দিয়ে বলল,
" নাও এই বার কেকটা কাটো।
আরিয়ান ছুরি টা হাতে নিয়ে কেকটা কেটে এক টুকরো কেক মাইশাকে খাইয়ে দিল। মাইশা ও এক টুকরো কেক আরিয়ানকে খাইয়ে দিল। আরিয়ান একে একে সবাইকে এক টুকরো করে কেক খাইয়ে দিল।
মাইশা খুব সুন্দর করে রেপিং করা একটা গিফট আরিয়ানের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
" আমার পক্ষ থেকে এটা তোমার জন্য।
আরিয়ান গিফট টাকে উল্টে পাল্টে নেড়েচেড়ে দেখল। অকপটে মাইশার উপর একটু রাগ দেখিয়েই বলল,
" এই সবের কি দরকার ছিল।
মাইশা ঠোঁটের কোণে মৃদু একটা হাসি নিয়ে বলল,
" ছিল আমার প্রিয় মানুষটার জন্য আমার তরফ থেকে প্রিয় একটা উপহার।
আরিয়ানের মন আজ খুশিতে ভেসে যাচ্ছে। তার এতদিনের সংগ্রাম এত কিছু সব আজ সার্থক হয়েছে। মাইশার হৃদয় গহীনে লুকিয়ে থাকা সবটুকু ভালোবাসা সে অর্জন করতে পেরেছে।
সবাই মিলে কেক কেটে খাওয়া শেষে কিছুক্ষণ হই-হুল্লোড় করে গল্পগুজব করে যে যার মত চলে গেল। মাইশা নিজের রুমে ঢুকতে নেবে সেই মুহূর্তে আরিয়ান তার হাত টেনে ধরে তার বুকের সাথে মিশিয়ে নিল।
পরম যত্নে মাইশা কে বুকের সাথে নিয়ে মাইশার হাতে একটা চুমু খেয়ে বলল,
" সত্যি ই আজ আমি অনেক খুশি হয়েছি যে খুশির গভীরতা প্রকাশ করার মতো ক্ষমতা আজকে আমার নেই।
কথাগুলো বলতে বলতে আরিয়ানের গলাটা ধরে এলো।সে আর কিছু বলতে পারল না। মাইশা বুঝতে পারছে হয়ত আরিয়ান নিরবে কাঁদছে। ছেলেরা খুব সহজে কাঁদে না অতি সুখে বা অতি দুঃখে তাদের চোখে পানি আসে। মাইশা তার নরম হাত দিয়ে খুব কোমল ভাবে আরিয়ানের চোখের অশ্রু ধারা মুছে দিল।
আরিয়ানের ঠোঁটে নিজের ঠোঁটটা সামান্য খানিকটা স্পর্শ করে বলল,
" খুব ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়। কারন তুমি যে প্রেম আমার।
এই প্রথম মাইশা নিজ থেকে আরিয়ানকে তার ঠোঁটের ভালোবাসার উষ্ণ পরশ দিয়েছে। মাইশার লজ্জায় মুখটা অনেকটা লাল হয়ে গেল। আরিয়ান কেমন একটা নেশাক্ত চাহনিতে তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে। ও আর লজ্জায় সেখানে এক মুহূর্ত দাঁড়াতে পারল না দৌড়ে নিজের রুমে চলে গেল। আরিয়ান তো খুশিতে গদগদ। আজকে তার জীবনের সবথেকে আনন্দের দিন। তার ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার সে আজ পেয়ে গেছে। মাইশার মনের অরণ্যে তার বিচরণ আরিয়ানের হৃদয়ের উঠানের দারুন একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস।
রাতের আঁধার কেটে মাত্র ভোর হতে শুরু করেছে। সূর্য মামা জানান দিচ্ছে তার ওঠার সময় হয়েছে।সূর্যের হালকা রশ্নি এসে পড়ছে রিয়াদের চোখে। বাহিরে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ। মাথাটা কেমন তার ঝিমঝিম করছে। পিটপিট করে চোখ মেলে চারিদিকে তাকালো কিন্তু পরিবেশটা কেমন এক অচেনা লাগছে। মাথায় হাত দিয়ে দেখল তার মাথায় একটা জলপট্টি দেয়া। জল পট্টি টা প্রায় খানিকটা শুকিয়ে গেছে অনেকটা খরখরে ভাব এসেছে কাপড়ে। চোখটা একটু পাশে ঘুরাতে দেখলো তার পাশে খাটের কার্নিশের সাথে কনুই রেখে হাতের উপর হেলান দিয়ে ঝিমুচ্ছে সীমা। একটু পর পর তার শরীরটা হেলে দুলে পড়ছে। আবার নিজেকে সামলে নিয়ে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যাচ্ছে।
রিয়াদ আরমোড়া ভেঙ্গে উঠে হালকা কাত হয়ে হাতটা মাথা নিচে দিয়ে কনুয়ে ভর দিয়ে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে সীমার দিকে। সীমার তেল চিটচিটে মুখটা যেন একদম মায়াতে ভরে আছে।
হঠাৎই তার মনে একটা প্রশ্ন জানান দিয়ে উঠলো।
সে এই রুমে কিভাবে আসলো তার স্পষ্ট মনে আছে সে তো বাহিরে ছিল একটা বেঞ্চের উপর শুয়ে গায়ে তার হালকা হালকা জ্বর অনুভূত হচ্ছিল তারপর আর কিছু মনে নেই।তবে সে এইটুকু বুঝতে পারছে তার সাথে ঠিক কি হয়েছিল কে তাকে এ রুমে নিয়ে আসতে পারে।
ভাবতেই খুশিতে তার হৃদয় অন্তর নেচে উঠলো। তার উত্তর সে পেয়ে গেছে আর কিছুই দরকার নেই। এখন অপেক্ষা শুধু সঠিক সময়টার। রিয়াদ আস্তে আস্তে খাট থেকে নেমে গেল। সীমার কপালে আলতো করে নিজের ঠোঁটটা ছুঁইয়ে দিল। তারপর পা বাড়ালো নিজের উদ্দেশ্যে।
সকাল বেলা আরিয়ান ফ্রেশ হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রেডি হচ্ছিল অফিস যাবার জন্য। হঠাৎ তার চোখ পরল তার ড্রেসিং টেবিলের ওপরে রাখা রেপিং করা গিফট টার দিকে। সে যত্ন সহকারে গিফটটা হাতে তুলে নিল। আস্তে আস্তে রেপিং টা খুলে দেখলো তার ভিতরে খুব এক্সপেন্সিভ একটা কাপল শোপিস। যার উপরে পুরোটা এক্সপেন্সিভ গ্লাস দিয়ে ভিতরে দুটো ডল কাপল। একজন একজনকে যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রেখেছে। তার ভিতরে সুন্দর করে খোদাই করা লেখা, ____"প্রেম আমার"
আরিয়ান ছোট করে একটা চুমু দিলো শোপিস টাতে। খুব সুন্দর করে যত্ন সহকারে তার সেটা তার ড্রেসিং টেবিলের উপর রেখে রুম থেকে চলে গেল।
এদিকে সাব্বির ট্রিপল নাইনের ফোন পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে তার চোখ জোড়া পুরোই ছানাবোড়া। নৃশংস আর নির্মমভাবে মেরেছে এই লোকটাকে গত খুন গুলোর থেকেও এই খুনটা খুব নৃশংসভাবে করা হয়েছে। বুঝাই যাচ্ছে এর ওপর সবচেয়ে বেশি রাগ ছিল হয়তো বা সেই খুনি টার। সে বিবস্র অবস্থায় পড়েছিল তার পুরো শরীর জুড়ে শুধু ছুরির আঘাত পুরো মুখ মাথা থেতলানো।
কনস্টবল তুহিন আশেপাশে ঘুরে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে সাব্বিরকে সে বলল,
" স্যার কিছুটা দূরে দুইজন পুলিশ কনস্টেবল এর দেহ পড়ে আছে। ওদের শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে মনে হচ্ছে ওদেরকে কেউ নেশা জাতীয় কিছু খাইয়ে ছিল।
সাব্বির ফোন বের করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে ফোন দিল। সাব্বির আশেপাশে ঘুরতে ঘুরতে একটা ছেঁড়া আইডি কার্ড বের। আইডি কার্ড টা খুব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না।
তার সাথে থাকা অন্য এক কনস্টেবল সুরুজ কে আইডি কার্ড টা দিয়ে বলল,
" এটা প্রিন্ট করে এলাকার বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দাও। আর খবর নাও এর মধ্যে কোন মিসিং কমপ্লেইন করা হয়েছিল কিনা।
কিছুক্ষণের মধ্যে এম্বুলেন্স এসে ওই দুজন পড়ে থাকা কনস্টেবল কে নিয়ে গেল। সাব্বির বুঝতে পারছে না কনস্টেবল এখানে কেন এইভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে আর তাদের সাথের অফিসার কোথায়। হয়তো ওদের জ্ঞান ফিরলে সবটা জানা যাবে।
কিছুক্ষণের মধ্যে ফরেসিক বিভাগের লোক চলে আসলো। তারা বিভিন্ন আলামত খুঁজতে লাগলো কিন্তু কোথাও এতটুকু আলামত নেই। খুঁজতে খুঁজতে এক জায়গায় একটা ফুট প্রিন্ট পেল। সাব্বিরকে ডাক দেওয়া মাত্র সাব্বির হন্তদন্ত হয়ে সেই দিকে ছুটে গেল। গতকালকে প্রচুর বৃষ্টি হয়েছিল বৃষ্টির জন্য কাদা পানি জমে একাকার হয়ে যাওয়াতে সে খুনি টার ফুট প্রিন্ট এখানে আটকে গিয়েছিল কিন্তু সে হয়তো সেটা খেয়াল করেনি।
সাব্বির ভালো করে ফুট প্রিন্ট টা খেয়াল করে দেখল সে অবশ্যই আট থেকে নয় নম্বরে জুতা পড়ে। আর ৮ বা ৯ নম্বরের জুতা তো কোন মেয়ের পড়ার কথা নয়। তাহলে কি গত কালকের খুনি টা কোন ছেলে ছিল। সাব্বিরের মাথায় সবকিছু জটলা পেকে যাচ্ছিল। স যেন কিছুতেই এই কেসটা নিয়ে আগাতে পারছে না যতই আগাচ্ছে ততই নতুন নতুন সব আলামত এসে ধরা দিচ্ছে। সেই দিন কার খুনি তো একটা মেয়ে আর যাকে সে চিনে ফেলেছে কিন্তু এই নতুন কিন্তু খুনি টা আবার কোথা থেকে আবার উদয় হল।
সাব্বিরের মাথায় দুটো প্রশ্ন ঘুরছে,
১ম,খুনি কি একই ব্যক্তি যে পুলিশকে ভুল পথে পরিচালনা করার জন্য বিভিন্ন রকমের গেম সাজাচ্ছে।
২য়, আর না হয় খুনি আলাদা আলাদা ব্যক্তি নিজেদের মতো করে প্রতিশোধ নিচ্ছে। হয়তো কেউ কারো পরিচয় জানে না, আর না হয় জানে।
সাব্বির ফুট প্রিন্টের আশেপাশে পাওয়া কিছু স্যাম্পল ফরেনসিকে পাঠিয়ে দিল। আর লাশ টাকে সমস্ত কাজকর্ম শেষে মর্গের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিল।
তবে সাব্বির এইটুকু বুঝতে পারছিল যাদেরকে ধরে ধরে মারা হচ্ছে তারা সেই পাঁচ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত ছিল। তাহলে আজকে যে মার্ডার হলো তার টা একটু খতিয়ে দেখতে হবে সে কোন ভাবে জড়িত কিনা। তাহলে অনেক ক্লু চলে আসবে।
সীমা এতিমখানার আশেপাশে সকল জায়গায় তন্ন তন্ন খুঁজছে কিন্তু কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। রিয়াদ যেন অমাবস্যার চাঁদের মত হয়ে গেছে হঠাৎ কোথায় যেন উধাও হয়ে গেল বুঝতে পারছেনা সীমা। অনেক খোঁজা শেষে হতাশ হয়ে নিজের রুমে এসে ধপাশ করে খাটে বসে পড়ল। তার চোখ দুটো মুহূর্তের মধ্যে ভিজে উঠলো তার আর বুঝতে বাকি নেই রিয়াদ তাকে আবারও ঠকিয়েছে। প্রথমবার নিজের ভুলে ঠকেছে দ্বিতীয়বার বিশ্বাস করে ঠকেছে। নিজেকে নিজে ধিক্কার দিতে দিতে নিজেই নিজের গালে থাপ্পড় মারতে লাগলো সীমা। মাটিতে বসে পড়ে চিৎকার দিয়ে সে কাঁদছে।
সেই মুহূর্তে রুবিনা দৌড়ে আসলো তার রুমে। রুবি নাকি দেখে সীমা তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
" খালা তুমি না বলেছিলে সে আমাকে ভালোবাসে দেখেছো সে আমাকে আমার ঠকিয়েছে। আমাকে জ*ঘ*ন্য ভাবে আবার ঠকিয়ে চলে গেছে।
রুবিনা কিছু বলছে না শুধু নিশ্চুপ হয়ে সীমার দিকে তাকিয়ে আছে। রুবিনা সীমার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
" শান্ত হ মা। মানুষ যা দেখে তা সব সময় সঠিক হয় না। মানুষ যা দেখে না সেটাই সঠিক হয়। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।
সীমা অনেক কষ্টে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে চোখের পানি মুছে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
" সত্যি আমি অনেক বোকা ভুল মানুষকেই বারবার বিশ্বাস করে ঠকি। আমি সারা জীবনের জন্য এই শহর ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবো।
কথাগুলো বলেই সীমা নিজের ব্যাগ গুছাতে শুরু করল। রুবিনা অনেকবার ওকে বোঝানোর চেষ্টা করল বাধা দেবার চেষ্টা করল কিন্তু রুবিনা কে কোনরকম তোয়াক্কা করল না। শেষ পর্যন্ত রুবিনা সীমার সঙ্গে না পেরে সীমাকে ঘরের মধ্যে তালা বন্দী করে চলে গেল। সীমা বারবার দরজা থাকে বলছে দরজা খুলে দিতে।
রুবিনা জানালার কাছে এসে সীমাকে আওয়াজ ছেড়ে বলল,
" অপেক্ষা কর ঠিক সময় মত এই রুমের দরজার তলা আপনা আপনি খুলে যাবে।
কথা বলে রবি না ওখান থেকে চলে গেল সীমা অনেকবার জোরে জোরে চিল্লিয়ে রুবিনা কে ডাকলো কিন্তু রুবিনা কোন সাড়া দিল না।
বিকালের দিকে,
আরিয়ান দের বাড়িতে আরিয়ানের বার্থডে আর রাফাতের বাবা আশা উপলক্ষে ছোটখাটো একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আরিয়ান সকালবেলায় যাওয়ার সময় মাইশাকে বলে গিয়েছিল আজ যেন সে শাড়ি পড়ে। তাই মাইশা অনেক কষ্টে শাড়ি পড়ে শাড়ির আঁচল কোমরে গুঁজে কাজে নেমে পড়েছে। একমাত্র হবু ননদের হবু শশুর আসবে বলে কথা তাই সবকিছু নিখুঁত হওয়া চাই আজ। মাইশা কাজ করতে করতে শাড়িতে পা পেছিয়ে পড়ে যেতে নিচ্ছিল সেই মুহূর্তে আরিয়ান এসে শক্ত করে ওকে ধরে ফেলল।
আরিয়ান উদ্বিগ্ন হয়ে মাইশাকে ভালো করে অবলোকন করে বলল,
" কোথাও ব্যাথা পাওনি তো। একটু দেখেশুনে কাজ করবে তো এত তাড়াহুড়া করার কি আছে। আর বাড়িতে অনেকগুলো কাজের লোক আছে তুমি কেন এইসব করছ।
মাইশা ভালো করে শাড়ি টাকে গুছিয়ে নিতে নিতে একটু মুচকি হেসে বলল,
" নিজের বাড়ির কাজ আমি করবো না তো কি করবে। আমাকে বিরক্ত করো না তো এখন কাজ করতে দাও।
মাইশা চলেই যাচ্ছিল আরিয়ান মাইশার হাত টেনে ধরল। মাইশা বেশ বুঝতে পারছে আরিয়ানের মাথায় আবার কোন না কোন দুষ্টু বুদ্ধি চেপেছে। মাইশা তার এক হাতের আঙ্গুল আরিয়ানের ঠোঁটে চেপে ধরে বলল,
" এখন কিন্তু মোটেও দুষ্টামি করবে না আমার অনেক কাজ আছে আমাকে ছাড়ো বলছি।
আরিয়ান মাইশার কিছুটা কাছে এসে বলল,
" উপকার করলে কিন্তু তার প্রতিদানে কিছু দিতে হয় সেটা জানো তো।
মাইশা ভ্রু জুগল কুঁচকে বলল,
" মানে !
আরিয়ান মাইশার ঠোঁটের দিকে ইশারা করে কিছু একটা বোঝাতে চাইলো।
মাইশা ভ্রু নাচিয়ে মনে মনে বলল,
" সব সময় খালি দুষ্টু বাহানা না দাঁড়াও তোমাকে দেখাচ্ছি মজা।
মাইশা হঠাৎ কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বলল,
" মামি দেখো না আমাকে আটকে রেখেছে কাজ করতে দিচ্ছে না।
মাইশার মুখে এমন কথা শুনেই সঙ্গে সঙ্গে ওর কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়াল আরিয়ান। ও দূরে সরে যেতে ই মাইশা ওর জিহব্বা বের করে একটা ভেংচি কেটে ওখান থেকে চলে গেল।
মাইশার এমন কান্ড দেখে আরিয়ান একটু হাসলো। অতঃপর মনে মনে আওরালো,
" আর তো কিছুদিন পাখি এরপর সব সুদে আসলে উসুল করব। তখন দেখব তুমি কি করে পালাও।
সন্ধ্যার দিকে,
রাফাতের বাবা এনায়েত চৌধুরীর প্রবেশ ঘটলো আরিয়ান দের বাড়িতে। উনি সবার সাথে কুশল বিনিময় করছেন। কথা বলার একপর্যায়ে এনায়েত চৌধুরীকে মাইশার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য মাইশা কে ডাকলো। মাইশা কে দেখা মাত্রই এনায়েত চৌধুরী ভিমরি খেয়ে গেলেন। উনার চোখে মুখে এক আতঙ্কে এসে ভর করল। উনার চোখের পাতা ক্রমশ উঠানামা করছে। বারবার শুকনো ঢোক গিলছেন। তার যেন হার্টবিট বেড়ে যাবার উপক্রম। সে নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না সে এ কাকে দেখছে। এটা কি করে সম্ভব। মৃদু পাওয়ারে এসি চলছে। তার মধ্যেও এনায়েত চৌধুরী ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছেন। সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না সে কি বাস্তবে আছে না কোন দুঃস্বপ্ন আছে।
চলবে......
প্রেম আমার সিজন ২
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
214
Views
5
Likes
0
Comments
5.0
Rating