আরিয়ান আর মাইশা আর এনগেজমেন্ট উপলক্ষে খুব সুন্দর করে চৌধুরী বাড়ি সাজানো হচ্ছে। আজমত সাহেব আয়োজনের এতোটুকু ত্রুটি রাখেন নি একমাত্র ছেলের এনগেজমেন্ট বলে কথা। বাড়ির সবাই আজ অনেক খুশি।
আরিয়ান আজ ফরমাল ড্রেস পড়েছে। ক্রিম কালারের শার্ট, কালো কালারের প্যান্ট, নেভি ব্লু কালারের কোর্ট। চুলগুলো জেল দিয়ে স্পাইক করা।দাড়ি গুলো হালকা ছোট করে কাটা । হাতে নিউ ব্রান্ডের একটা কালো ওয়াচ। সব মিলিয়ে আরিয়ানকে অস্থির লাগছে।
আরিয়ান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রাফাত, সুমন, নয়ন, আদিল সহ আরিয়ানের আরো কিছু বন্ধুরা।
সবাই মিলে গল্প করছে আর আড্ডা দিচ্ছে। গল্প করার এক ফাঁকে রাফাত আরিয়ানকে কিছুটা দুষ্টামির ছলে বলে উঠলো,
-------- দোস্ত তোকে যা লাগছে না মাইশা তো এমনিতেই তোর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। এবার বেচারি ডুবেই যাবে।
রাফাতের কথা শুনে সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো। ওদের আরেক বন্ধু আদিল বলে উঠলো,
------- এখন থেকেই বউয়ের গোলাম হওয়ার প্রস্তুতি নে দোস্ত।
আরিয়ান একটু হেসে উঠে বলল,
------- আমি তো আমার মাইশার মনের গোলাম অনেক আগে থেকেই হয়ে গেছি। নতুন করে আর কি হবে বল।
ওদের কথার মাঝখানে আজমত সাহেব প্রবেশ করলেন। আজমত সাহেব কে দেখে আরিয়ানের বন্ধুরা সবাই সালাম দিল। উনি সালামের উত্তর নিয়ে বললেন,
-------- তোমাদের কি হয়ে গেছে। আমার একটু আরিয়ানের সাথে কিছু কথা ছিল।
রাফাত উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
-------- জ্বী আঙ্কেল। এবার তোরা সবাই চল আঙ্কেল আরিয়ানের সাথে কথা বলুক।
আরিয়ান অধীর আগ্রহের সাথে তাকিয়ে আছে তার বাবার কথা শোনার জন্য।আজমত সাহেব চোখের চশমাটা খুলে নিয়ে তার পরনের পাঞ্জাবির এক কোনা দিয়ে চশমাটা ভালো করে মুছে নিলেন। চশমাটা পুনরায় চোখে পড়ে নিয়ে তিনি খাটের এক কোনায় বসে আরিয়ানকে ডেকে নিজের পাশে বসালেন।
তারপর স্নেহশীল দৃষ্টি নিয়ে আরো অনেক দিকে তাকিয়ে আবেগ মাখা কন্ঠে বললেন,
------- বাবা আরিয়ান, আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমিও তোমার এই জায়গায় ছিলাম। আজ থেকে তুমি তোমার নতুন একটা জীবনের অধ্যায় পা দিতে চলেছ। মাইশার বাবা-মা কেউ নেই। মেয়েটা জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছে। তোমার কাছে আমার সাথে একটা জিনিসের চাওয়ার আছে বাবা। তুমি মাইশা কে তোমার সবটুকু দিয়ে আগলে রেখো। তুমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে মাইশার জীবনের সব কষ্ট মুছে দিও, পারবে তো?
আরিয়ান তার বাবার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে বলল,
-------- তোমাদের দোয়া আমার সাথে থাকলে আমি সবকিছু পারবো বাবা তুমি নিশ্চিন্তে আমার উপর ভরসা করতে পারো। আমি মাইশা কে কোনদিন কষ্ট দেবো না। নিজের জীবন দিয়ে ওকে আগলে রাখবো।
------- আমাদের সবার দোয়া সব সময় তোমাদের উপর থাকবে। দোয়া করি তোমরা যেন চির সুখী হও।
আজমত সাহেব আরিয়ানের মাথায় পরম আদরে হাত বুলিয়ে দিয়ে চলে গেলেন।
আরিয়ান তার বাবা যাবার পানে তাকিয়ে থেকে বলল,
-------- যার জন্য এতো টা সংগ্রাম করেছি যাকে পাবার জন্য এত কিছু করেছি তাকে আমি কষ্ট দেবো এটা কখনো আমি স্বপ্ন ভাবতে পারি না বাবা।
অন্যদিকে মাইশা কে সাজানো শেষে আলিয়া মাইশার দিকে মুগ্ধ হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আলিয়া মাইশার থুতনিতে আঙ্গুল দিয়ে ধরে মুখটা উপরের দিকে উঠিয়ে বলল,
------- ইসস মাইশা তোকে যা লাগছে না। ভাইয়া আজকে তোকে দেখলে আবার পুনরায় ক্রাশ খাবে।
মাইশা মেজেন্ড কালারের একটা গাউন পড়েছে। কানে ডায়মন্ডের ম্যাচিং করা কানের দুল। চোখে টানা করে কাজল,আইলেনার, মাশকারা, ঠোঁটে গড়ো লিপস্টিক,গাল দুটো হালকা পিংক কালারের ব্রাশ করা, চুলগুলো উঁচু করে বাঁধা, মাথায় একটা নেটের ওরনা। মাইশা এমনিতেই অনেক সুন্দর তার উপরে তাকে আজকে আরো বেশী সুন্দর লাগছে। যেন একটা অপ্সরী।
সবাই একজায়গায় জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান মাইশার হাত ধরে এগিয়ে আসছে।ক্যামেরা ম্যান ছবি তুলছে। সবাই ওদের ছবি তুলা নিয়ে ব্যস্ত।
আরিয়ান মাইশার কানে আস্তে করে বলল,
------- আমাকে আজকেই তোমার রুপের আগুনে পাগল করে দিতে চাইছ না কি।বাসর ঘর পর্যন্ত যেতে দেবা না নাকি।
মাইশা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে ফেলল। আংটি বদল হলো।সবাই নাচ গান করছে। রাফাত আর আলিয়া আরিয়ান আর মাইশা কে ও টেনে নিয়ে গেলো।
রুমের লাইটস অফ হয়ে গেল। হালকা মিউজিকে গান বাজছে।ওরা একপাশে কাপল ডান্স করছে। মাইশা খুব সুন্দর আরিয়ানের সাথে তাল মিলিয়ে কাপল ডান্স করছে। আরিয়ান তো সম্পূর্ণভাবে টাস্কি গেল। আরিয়ান মাইশার কোমরের হাত দিয়ে মাইশা কে আরো নিজের কাছে টেনে আনলো। আরেক হাতের আঙ্গুর মাইশার হাতের আঙ্গুলের ভেতরে তার আঙ্গুল গুলো ঢুকিয়ে মাইশার হাতের উল্টো পিঠে একটা চুমু দিয়ে বলল,
------- বাহ তুমি তো খুব সুন্দর ডান্স করতে পারো। Really you are my best partner of my life.
মাইশা তার এক হাত আরিয়ানের বুকে রেখে বলল,
-------- ওই বুকের জায়গাটা এখন থেকে শুধুমাত্র আমার। আজকের পর থেকে আমি নতুন এক জীবনে পদার্পণ করলাম তোমার হাত ধরে।
হঠাৎ করতালি শব্দে ওদের ভাবনার ছেদ হয়। ওরা দুজন ওদের আশেপাশে তাকিয়ে দেখে সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে আছে আর রুমের লাইট অন করা। দুজন দুজনের মধ্যে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিল যে কখন রুমের লাইট জ্বলে উঠেছে কখন সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে আছে সেটাও ওরা খেয়াল করে নি। এরকম পরিস্থিতিতে পড়ে মাইশা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।
মাইশা আরিয়ানকে ছেড়ে দিয়ে কিছুটা দূরে দাঁড়ালো। মাইশা চলেই যেতে নেবে সেই মুহূর্তে রেহানা বেগম মাইশা কে আটকে দিয়ে বলল,
-------- আমি বুঝতে পেরেছি তুই আমার ছেলেটাকে খুব ভালবাসিস। এইভাবেই সারা জীবন আমার ছেলেটার প্রেম হয়ে থাকিস।
কথাগুলো বলে রেহানা বেগম মাইশার কপালে একটা চুমু গেল। নিজের হাত থেকে বালা জোড়া খুলে মাইশার হাতে পরিয়ে দিতে দিতে বলল,
-------- আমি যখন তোর মামার ঘরে বউ হয়ে এসেছিলাম তখন তোর মা সযত্নে এই বালা গুলো আমার হাতে পরিয়ে দিয়েছিল। আজ আমি আমার ছেলের হবু বউকে পরিয়ে দিলাম। এইগুলো শুধু বালা নয় এর সাথে অনেক দোয়া আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে সারা জীবন এগুলো আগলে রাখিস মা।
বালা জোড়ায় হাত বুলিয়ে ছল ছল চোখে তাকিয়ে আছে মাইশা। এই বালা গুলোর মধ্যে যেন মাইশা যেন তার মায়ের মুখটা মনে করার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই পারছে না পারবেই বা কিভাবে সে যে তার মাকে আজ পর্যন্ত কোনদিন দেখে নি। তার মাকে যদি চোখে এক নজর দেখতে পারত তার পিপাসিত অন্তরটা হয়তোবা শান্ত হত।
আরিয়ান দের বাড়ির কিছুটা দূরে পুলিশের একটা গাড়ি টহল দিচ্ছে। আর কিছুক্ষণ পরপর এখানকার সমস্ত খবরা-খবর ফোন দিয়ে একজন এএসআই তার ঊর্ধ্বতন অফিসার কে জানাচ্ছে।
সাব্বির মাইশার ছবিটা সামনে নিয়ে বিরহ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। হৃদয় তার এক আকাশ পরিমাণ কষ্ট আর চোখে তার মন ভাঙ্গা বেদনার পানি ছলছল করছে। যা সে না পারছে গিলতে আর না পারছে ফেলতে। যে মেয়েটাকে নিজের অজান্তে এতটা ভালোবেসে ফেলেছিল সাব্বির সেই মেয়েটা আজ তার পর হয়ে যাচ্ছে। আর কোনদিনও ইচ্ছা করলেও তাকে মনের রাজ্যে সাজিয়ে আর কোন স্বপ্ন দেখতে পারবে না এটা ভেবেই সাব্বিরের মনের বুকের ভেতর হু হু করে উঠছে।
সাব্বির মাইশার ছবিটাকে পরম যত্নে বুকের একপাশে জড়িয়ে ধরে নিজেই নিজেকে বললো,
------- পৃথিবীতে সব প্রেম মিলনের মালা পায় না। ভালোবাসা না পেলেও একজনকে ভালোবেসে স্মৃতির মনি কোঠায় সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা যায়। তোমাকে নাই বা পেলাম তাতে কি হয়েছে তোমাকে না হয় আমার এই মনের মনি কোঠায় স্মৃতি করে ফুলের মত সুন্দর করে সাজিয়ে রাখবো।
এদিকে, সীমা আজ নিজের আগের গন্তব্যে কে নিজের ঠাঁয় বানিয়ে নিয়েছে। সীমা এখনো রিয়াদকে ভুলতে পারে নি। রিয়াদের স্মৃতি এখনো সীমার মনে বারবার নাড়া দিয়ে ওঠে। তারপরও তাকে যে ভুলে যেতেই হবে। বেশ কয়েকদিন আগে এসে চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছে। এখন সে এতিমখানার বাচ্চা দেরকে পড়াশুনা করার দায়িত্ব নিয়েছে। তাদেরকে নিয়েই সীমার দিন পার হয়ে যাচ্ছে।
সীমা বাচ্চা দেরকে পড়াচ্ছিল আর আনমনে রিয়াদের কথা ভাবছিল। তখনই দারোয়ান এসে তাকে বলল,
-------- আপা মনি আপনার সঙ্গে একজন দেখা করতে আইছে। আমি তার নাম জিগাইলাম সে আমারে কইলো না।কইলো আপনি তারে দেখলেই চিনবেন।
সীমা বুঝে উঠতে পারছিলো না কে তার সঙ্গে দেখা করতে আসলো। সীমা বাহিরে বাড়িয়ে এসে সামনে থাকা লোকটাকে দেখে সম্পূর্ণভাবে অবাক হয়ে গেল। সে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে রিয়াদের দিকে। সে যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না সে কি সত্যি দেখছে না স্বপ্ন দেখছে।
সীমা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিয়াদ হঠাৎ ওকে জড়িয়ে ধরল। সীমা নিস্তেজ হয়ে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে। সীমা বুঝতে পারছে না রিয়াদ হঠাৎ এমন কেন করছে।
রিয়াদ সীমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে উদ্বিগ্ন স্বরে বলল,
-------- কোথায় চলে গিয়েছিলে তুমি আমাকে ছেড়ে। আমি তোমাকে আমি কোথায় কোথায় খুঁজেছি জানো তুমি। তোমাকে না পেয়ে এই কটা দিন মনে হচ্ছিল আমার জন্য নিঃশ্বাস টা বন্ধ হয়ে আসছিল। এত অভিমান ছিল তোমার আমার প্রতি একবার কেন মুখ ফুটে বললে না তোমার মনের কথাটা।
সীমা রিয়াদের কথাগুলো শুধু শুনে যাচ্ছে কোন প্রতি উত্তর করছে না। সীমা বুঝে উঠতে পারছে না হঠাৎ রিয়াদ কেন এসব কথা সীমাকে বলছে। তবে কি রিয়াদ সব জেনে গেল সীমা থাকে...। না না সীমা আর এই সবের মধ্যে নিজেকে জড়াতে চায় না।
সীমা রিয়াদের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে বলল,
------- আপনি এখানে কেন এসেছেন। আর আপনি আমাকে কেন খুঁজছেন। আর আমার ঠিকানাই বা আপনি কোথায় পেলেন।
সীমার কোন কথা যেন রিয়াদের কান পর্যন্ত পৌঁছালোই না।রিয়াদ খুব শান্ত চোখে দেখে যাচ্ছে সীমাকে। যেন কতগুলো বছর সীমাকে সে দেখে নি। তার দৃষ্টি সীমার মায়া ভরা মুখ টার দিকে অটল হয়ে আছে। সীমার চোখে নিচে কেমন একটা ডার্ক সার্কেল পড়ে গেছে। হয়তো অনেকগুলো দিন মেয়েটা ঠিক মতো ঘুমাতে পারে নি। মুখটা আগের মত প্রাণ উজ্জ্বল নেই সেখানে আজ যেন ভাটা পড়ে গেছে।
সীমা রিয়াদ এর উত্তর না পেয়ে আবার বলল,
------- দেখুন আমি চাইনা আর কোনদিন আপনি এখানে আসুন। আমি সবকিছুকে ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
কথাগুলো বলে সীমা চলে যাচ্ছিল সেই মুহূর্তে রিয়াদ এসে তার দুহাত প্রশস্ত করে সীমার সামনে দাঁড়ালো। সীমা আর সামনে আগাতে পারল না। সীমা ডানে-বামে পাশ কেটে যেতে পারছে না রিয়াদ সীমার পথ আগলে ধরে আছে।
সীমা এবার কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলে উঠলো,
------- আপনি এইভাবে আমার পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছেন কেন সরুন আমাকে যেতে দিন আর আপনিও এখান থেকে চলে যান।
রিয়াদ সীমার দুই বাহুতে ধরে সিমা কে বলল,
------- হ্যাঁ যাবো তবে তোমাকে সাথে নিয়ে যাব তোমাকে রেখে যাব না। একবার তোমাকে হারাতে হারাতে আবার খুঁজে পেয়েছি দ্বিতীয়বার তোমাকে আমি আর হারাতে চাই না।
সীমা রিয়াদের হাত থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল,
------- অনেক আগে একটা কথা শুনেছিলাম ছেলেদের নাকি এক নারী তে মন ভরে না। আপনিও দেখছি ঠিক তাই এক নারীতে আপনার ও মন ভরছে না। তাই বুঝি আবার আমার কাছে এসেছেন নতুন করে নিজের মন ভরাতে।
রিয়াদ কোন কিছু না বলে সঙ্গে সঙ্গে সীমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। নতজানু হয়ে সীমা কে বলল,
------- আমি সত্যি কারের ভালোবাসার মানুষকে রেখে এতদিন মরীচিকার পিছনে ছুটে ছিলাম। আমি বুঝতে পারি নি তুমি আমাকে এতটা ভালবাসতে। আর একটাবার সুযোগ দেবে আমাকে প্লিজ।
সীমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে রিয়াদকে এইভাবে তার সামনে দেখে। তার ভিতরটা বলছে রিয়াদকে আপন করে নিতে আর বাহির অভিমানের এক রাজপ্রাসাদ দাঁড় করিয়ে রেখেছে তার সামনে যে অভিমানের প্রাচীর ভেদ করে সীমা রিয়াদের কাছে নিজেকে অর্পণ করতে পারছে না।
সীমা নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে নিয়ে বলল,
-------- মিস্টার রিয়াদ ভালো করে শুনে রাখুন আমি একই ভুল বারবার করতে চাই না। একই কষ্ট বারবার আমার জীবনে নিমন্ত্রণ করে আনতে চাই না। আপনি আপনার মত থাকুন আর আমাকে আমার মত থাকতে দিন।
কথাগুলো বলে সীমা পাশ কাটিয়ে চলে গেল। রিয়াদ গলা ছেড়ে চেঁচিয়ে সীমা কে বলল,
------- আমি একবার যখন তোমাকে খুঁজে পেয়েছি তোমাকে সাথে করে না নিয়ে আমি কোথাও যাবো না। এইটা আমার চ্যালেঞ্জ। আর আমার ভালোবাসা যদি ঠিক থেকে থাকে তোমাকে আমার কাছে ফিরে আসতেই হবে আর আমার চ্যালেঞ্জে আমিই জিতব।
সীমা কথাগুলো শুনেও না শোনার ভান করে ভিতরে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। সীমার ভেতরটা হু হু করে উঠছে।ইচ্ছে করছে রিয়াদের ডাকে সাড়া দিয়ে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে। কিন্তু যে আকাশ পরিমাণ অভিমান তার হৃদয়ে জমে আছে তা গলা এতটা সহজ নয়। একবার সে ভুলে পা দিয়ে অনেক বড় ভুল করেছে দ্বিতীয় বার সেই ভুলে পা দিয়ে আর কষ্ট পেতে চায় না।
মাইশা তার রুমে বসে একটা ছবি দিকে তাকিয়ে আছে আর সেই ছবি টাতে হাত বোলাচ্ছে। ছবিটা দেখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাইশার দু ফোঁটা চোখের পানি পড়লো ছবি টার উপর। মাইশা তার পরনের কাপড়ের এক কোনা দিয়ে ছবির উপর পড়া পানিটা মুছে দিল।
ছবিটাতে একটা চুমু দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
-------- আমাকে মাফ করে দিস, আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম এই সব থেকে দূরে থাকতে। আরিয়ানের ভালোবাসা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে কিন্তু পারি নি। ওর ভালোবাসায় আমাকে সাড়া দিতেই হল। কিন্তু জীবনে যতদিন বেঁচে থাকবো আমি তোকে কোনদিন ভুলবো না।তুই সারা জীবন আমার হৃদয় থেকে যাবি। সারা জীবন আমার এই মনের ভিতরে তুই অমর হয়ে থাকবি। আর তোর অপূর্ণ কাজগুলো আমি পূর্ণ করব। কারণ তোর কাছে যে আমি ওয়াদা করেছিলাম আমি আমার সেই ওয়াদা থেকে এক চুলও নড়ব না।
হঠাৎ মাইশার রুমে আলিয়ার আগমন ঘটল। মাইশা আলিয়াকে দেখা মাত্রই ছবিটা তার বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেলল। আলিয়া বিষয়টা খেয়াল করলেও মাইশা কে বুঝতে দিল না।
হঠাৎ এইভাবে আলিয়াকে মাইশার রুমে চলে আসতে দেখে মাইশা কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। কিছুটা থতমত খেয়ে বলল,
------- কিরে আলিয়া তুই এখন এখানে কিছু বলবি।
আলিয়া আয়েশার চোখ মুখ দেখে বুঝতে পারল মাইশা হয়তোবা কাঁদছিল। আর মাইশা কাকে দেখে কি লুকিয়ে ফেলল সেটা আলিয়া বুঝতে পারছে না। এমন কি আছে যেটা মাইশা আলিয়ার কাছ থেকে লুকাতে চায়। আলিয়ার ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে মাইশা আবার বলল,
------- কিরে চুপ করে আছিস কেন।
-------- না মানে মা তোকে ডাক ছিল।
-------- আচ্ছা তুই যা আমি আসছি।
আলিয়া মাথা নাড়িয়ে চলে গেল। মাইশা চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। মাইশা রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই আলিয়া মাইশার রুমে ঢুকলো। মাইশার বালিশের নিচে খুঁজে দেখল কিছু পাওয়া যায় কিনা। কিন্তু আলিয়া মাইশার বালিশের নিচে কিছুই খুঁজে পেল না।
আলিয়া সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছে,
"তবে কি আমি ভুল দেখলাম। নাহ, এতটা তো ভুল হবার কথা নয়। আচ্ছা মাইশা কি আমাদের সবার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছে নাকি এটা আমার মনের ভুল।
আলিয়া কিছু না পেয়ে মাইশার রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেল।মাইশা আড়ালে দাঁড়িয়ে সবটাই দেখলো। আর নিজ মনে আওড়ালো,
"কিছু সত্য গোপন থাকাই ভালো। যে সত্যের নাগাল কেউ কোনদিন পাবে না।
মাইশা তার মামী রুমের দিকে যেতে নেবে তখনই হঠাৎ.....
চলবে......
প্রেম আমার সিজন ২
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
272
Views
5
Likes
2
Comments
4.0
Rating