প্রেম আমার (বোনাস পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম আমার
কানিজ ফাতেমা
সিজন ২
বোনাস পর্ব

(গল্পে অনেক ভুল ছিল তাই এডিট করে রিচেক দিয়ে নতুন করে আপলোড করলাম)

হুড্ডি পরা এক অগান্তক তার পুরো মুখমণ্ডল কালো মুখোশে আবৃত করা। তার হাতে এক রক্তাক্ত ছুরি। টপ টপ করে ছুরি থেকে রক্ত পড়ছে।তার হাতে থাকা ছুরি টা সহ কিছু জিনিসের উপর পেট্রোল ঢেলে সেটা তে আগুন লাগিয়ে দিলো।

দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুনের শিখার দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে বলল,
"" আগুনের শিখায় সব জ্বলে যাক
এই মনটা আমার শান্তি পাক'''।

_______________________________

এদিকে অনেক চেষ্টা করেও পাচারকারীর লিডার কে ধরা যায়নি। সে পালিয়ে অনেক দূরে চলে গেছে পুলিশের নাগালের বাহিরে। সব দোষ এসে পড়েছে সাব্বিরের ঘাড়ে।সাব্বিরের কাছে একের পর এক উপর মহল থেকে ফোন আসছে। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এত ফোর্সের ভিতরে কি করে এমন একজন আসামি পালিয়ে গেল। কমিশনার অফিসে এই নিয়ে তাকে কৈফিয়ত জারি করা হয়েছে। এদিকে সে এখনো পর্যন্ত আফজালের খুনের রহস্য টা ও উন্মোচন করতে পারে নি। সবকিছু মিলিয়ে সে যেন বিপদের সাগরে নিমজ্জিত হচ্ছে।

তার হাতের দুই কনুই টেবিলের উপর মাথাটা হাতের উপর ভর দিয়ে রেখেছে। সেই মুহূর্তে কনস্টেবল মিলন তার রুমে এসে তার সামনে একটা কাগজ দিয়ে বলল,
--------- স্যার আফজালের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট চলে এসেছে।

সাব্বির মাথা তুলে মিলনের দিকে তাকিয়ে বলল,
-------- ঠিক আছে তুমি যাও।

সাব্বির আফজালের পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা খুলে দেখা শুরু করল। সাব্বির সঙ্গে সঙ্গে যেন ১০০০ ভোল্টের একটা ঝটকা গেল। ছবি যেন আফজালের মৃতদেহের সাথে পোস্টমর্টমের রিপোর্টের হিসাব যেন মিলিয়ে উঠতে পারছে না।তার মাথা যেন চক্কর মারছে।

সঙ্গে সঙ্গে তার ফোনটা বের করে ফরেস্টের ডিপার্টমেন্টের ডক্টর ফাহিম কে ফোন দিয়ে বলল,
-------- আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না আমরা পোস্টমর্টেমের জন্য বডি পাঠালাম একরকম আর পোস্টমর্টেম এ রিপোর্ট আসলো আর একরকম এর মানে কি।

ওই প্রান্ত থেকে ফাহিম বলে উঠলো,
-------- শুধু পোস্টমর্টেম রিপোর্টেই শেষ নয় আরো অনেক কিছু জানার আছে আপনার।যা জানলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে। যত দ্রুত সম্ভব সময় করে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের চলে আসুন।

সাব্বিরের মাথা যেন কাজ করছে না। একদিকে পালিয়ে যাওয়া আসামির খোঁজ মিলছে না অন্যদিকে আফজালের পোস্টমর্টেমের এমন একটা চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট তার উপরে আরো নাকি অনেক কিছু জানার আছে সাব্বির কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।

___________________________________

আরিয়ানের চোখ দুটো রক্ত চক্ষু ধারণ করে তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে। আরিয়ান পারলে যেন ওর চোখ দুটো দিয়ে মাইশা কে এখনই খেয়ে ফেলবে। ঘরের সবাই নিশ্চুপ হয়ে আছে কেউ কোন কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। মাইশা একটা শুকনা ঢোক‌ গিললো।

আরিয়ান তেজি গলায় সবার উদ্দেশ্যে বলল,
------- এতো কিছু হয়ে গেল আমাকে কেনো কিছু জানানো হলো না।

সবাই এখনো নিশ্চুপ। আরিয়ান মাইশার কাছে কিছু টা এগিয়ে জোরে একটা ধমক দিয়ে চিল্লিয়ে বলল,
-------- কি রে চুপ করে আছিস কেনো।খুব সাহস তোর না। কে বলেছিল তোকে সাক্ষী দেবার জন্য। তোর কোন আইডিয়া আছে ওরা কতটা ভয়ংকর লোক। অলটাইম তোর পিছনে পড়ে আছে তোকে মারার জন্য। বুঝতে পারছিস তুই ভবিষ্যতে তোর সাথে কি হতে চলেছে।

আরিয়ানের মা রিহানা বেগম তার আঙ্গুল নাড়িয়ে কিছুটা জোরে বলে উঠলেন,
------- এই মেয়ে শুনে কারো কথা। ওকে আমি বারবার নিষেধ করেছিলাম এসবের মধ্যে না জড়াতে। তারপরও ও সবার নিষেধ অমান্য করে ড্যাঙ্গ ড্যাঙ্গ করে সাক্ষী দিতে চলে গেছে।মেয়ে মানুষের এতটা বাড়াবাড়ি ভালো না।এখন এর দায়ভার কে নিবে।

মাইশা এতক্ষণ চুপ করে ছিল আর চুপ করে থাকতে পারলো না। বড় একটা নিশ্বাস নিয়ে চোখটা বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে কিছুটা চিল্লিয়ে বলে উঠলো,
-------- মামি তুমিও তো একজন মেয়ে।কি করে তুমি এই কথাগুলো বলতে পারছো মামী।মেয়ে হয়েছি বলে কি সবাই মাথা কিনে নিয়েছে। একের পর এক মেয়েদেরকে পাচার করা হচ্ছিল।একের পর এক মায়ের বুক খালি হচ্ছিল। আমার এই চোখে দেখেছি ওরা কতটা নির্মম কতটা পাষণ্ড। আমি ভুল কিছু করি নি ওদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়ে।এমনকি ভবিষ্যতেও যদি আমার এর থেকেও বড় কিছু করা লাগে আমি তা করার জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে কেউ আটকাতে পারবেনা।

কথাগুলো বলতে বলতেই হঠাৎ করে মাইশার সম্পূর্ণ চেহারার আদল যেন পরিবর্তন হয়ে গেল। মাইশা যেন অন্যরকম একটা রুপ ধারণ করল। এই মাইশা কে যেন কেউ চিনে উঠতে পারছে না।শান্ত শিষ্ট মাইশা থেকে যেন এক ভয়ঙ্কর মাইশা হয়ে উঠল সে। মাইশার চোখ গুলো যেন লাল রক্তবর্ণ ধারণ করল। আরিয়ান সহ সবাই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে।

কথা গুলো বলে মাইশা কিছুটা রাগ দেখিয়ে ওখান থেকে চলে গেল। আরিয়ান যেন পুরাই তাজ্জব বনে গেল মাইশার এই রূপ দেখে। যেন বুঝে উঠতে পারছে না এ কোন মাইশাকে দেখছে সে।তার দেখা সেই শান্তশিষ্ট মাইশার সাথে যেনো এই মাইশার কোন মিল নেই।



625 Views
11 Likes
4 Comments
4.5 Rating
Rate this: