প্রেম আমার (সিজন ২ পর্ব ১০)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম-আমার
কানিজ-ফাতেমা
সিজন-২
পর্ব-১০

এই গরমে মাইশার শাড়ি পড়ে অনেক আনইজি লাগছে। এসি গাড়ির মধ্যেও ঘেমে সে একাকার হয়ে যাচ্ছে। মাইশার অত্যধিক পানি পিপাসাও পেয়েছে। মাইশা গাড়ির ভেতর এদিক ওদিক সামনে পিছে সব জায়গায় চোখ বুলিয়ে দেখল কিন্তু কোথাও পানির বোতল পেল না।

আরিয়ান মাইশাকে এমন করতে দেখে ওকে জিজ্ঞেস করল,
" কিরে তুই এদিক-ওদিক তাকিয়ে কি খুঁজছিস।

" আসলে আমার খুব পানি পিপাসা পেয়েছে একটু পানি হলে ভালো হতো।

আরিয়ান গাড়িটা একপাশে থামিয়ে জানলা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে এপাশ-ওপাশ ভালো করে দেখে নিল। কিন্তু আশেপাশে তেমন কোন দোকান চোখে পড়লো না।

" আচ্ছা শোন এখানে আসে পাশে তেমন কোন দোকান নেই সামনের দিকে গিয়ে দেখছি কোন দোকান পাওয়া যায় কিনা।

মাইশা আস্তে করে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিল। আরিয়ান আস্তে আস্তে গাড়ি চালাচ্ছে আর আশেপাশে তাকাচ্ছে কোন ভালো হোটেল বা রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায় কিনা। বেশ কিছু তোর যাবার পরে আরিয়ান গাড়িটা একটা ফাস্টফুডের দোকানের সামনে থামালো।

" শোন তুই গাড়িতে বস আমি তোর জন্য পানি নিয়ে আসছি। একদম গাড়ি থেকে বের হবি না।

আরিয়ান গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে কিছুটা দূর পা বাড়িয়ে আবার গাড়ির দিকে ফিরে আসলো। মাইশা আরিয়ানকে ফিরে আসতে দেখে বলল,
" কি হলো ফিরে আসলে যে।

আরিয়ান গাড়িটা ভালো করে লক করে দিল। মাইশা কে ভিতরে রেখে আরিয়ানকে এইভাবে গাড়ি লক করতে দেখে মাইশা বলে উঠলো,
" একি তুমি আমাকে গাড়ির ভিতর রেখে লক করে দিচ্ছ কেন।

আরিয়ান মাইশার কথার কোন উত্তর না দিয়ে পানি আনতে চলে গেল। মাইশার প্রচন্ড পরিমাণে রাগ হচ্ছে আরিয়ান এর উপর। বাসাতেও তাকে ঘর বন্দী করে রেখেছে। এমনকি বাহিরে এসে ও কোন শান্তি নেই। গাড়ির মধ্যে লক করে দিয়ে গেছে। মাইশা নিজেকে এখন একটা পাখি মনে হচ্ছে মনে হচ্ছে যেন পাখিটা উড়াল দিয়ে চলে যাবে তাই তাকে খাঁচায় বন্দি করে রেখে গেছে।

কিছুক্ষণ পর আরিয়ান একটা ঠান্ডা পানির বোতল আর কিছু খাবার নিয়ে আসলো। মাইশা চোখমুখ খিছে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে।আরিয়ান মাইশার দিকে পানির বোতল আর খাবার এগিয়ে দিলো। মাইশা আরিয়ানের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলল।

মাইশাকে এই ভাবে মুখ ঘুরিয়ে ফেলতে দেখে আরিয়ান বলল,
" কিরে তোর না বলে পানি পিপাসা পেয়েছে এখন মুখ ঘুরিয়ে আছিস কেন।

মাইশা তার রাগটাকে আর সংববরণ করতে পারল না। কিছুটা চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
" তুমি এইভাবে আমাকে গাড়িতে লক করে গেলে কেন।

" কারণ ছোট বাচ্চাকে বন্দী করে রাখতে হয় তার বুঝ না হওয়া পর্যন্ত।

"আমাকে তোমার কাছে বাচ্চা মনে হয়।

"মনে হবার কি আছে তুই তো বাচ্চাই।

আরিয়ান কথা বলা মাত্রই মাইশা পানির বোতল খুলে কিছু টা পানি আরিয়ানের মাথায় ঢেলে দিলো। আরিয়ান তো পুরাই বোকা বনে গেল।

মাইশা কে একটা ধমক দিয়ে বলল,
"এটা কি করলি।

মাইশা দাঁত বের করে হেসে বলল,
"হি হি কেনো আমি বাচ্চা না।তাই বাচ্চামি করলাম আরিয়ান ভাইয়া।

আরিয়ান আর কিছু বলল না।কারণ এই মেয়ের সাথে পেরে ওঠাটা এত সহজ নয়। আরিয়ান টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু বের করে ওর মাথাটা মুছে নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিল। আরিয়ান খুব জোরে গাড়ি চালাচ্ছে।

মাইশা ভয় পেয়ে আরিয়ান কে বলে উঠলো,
" আরিয়ান ভাইয়া গাড়ি আস্তে চালাও এক্সিডেন্ট করবে তো।

আরিয়ান নিশ্চুপ।মাইশা বিড়বিড় করে বলল,
"তোমার নাম কি শুধু শুধু আইলা বাচ্চারা রেখেছি। তুই আসলেই একটা আইলা"।

আরিয়ান গাড়ি চালাচ্ছে তো চালাচ্ছে ওর মধ্যে কোন হেলদোল নেই। মাইশা আর কোন কথা না বলে গালে হাত দিয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে।কিছুক্ষণ পর আরিয়ান একটা মার্কেটে সামনে গাড়ি থামালো। গাড়ি থেকে নেমে মাইশার দরজা খুলে দিল। মাইশা গাড়ি থেকে নামতেই আরিয়ান ওর হাত টাকে শক্ত করে ধরল। ওকে হাত ধরে মার্কেটের ভেতরে নিয়ে গেল। অধিকাংশ লোকে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ মাইশা দাঁড়িয়ে গিয়ে বলল,
"আরিয়ান ভাইয়া হাতটা ছাড়ো।

আরিয়ান মাইশার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
"কেনো কি সমস্যা তোর।

" দেখছো না সবাই কিভাবে তাকিয়ে আছে।

"তাকিয়ে থাকলে থাকবে তাতে আমার কি। আমি আমার বউয়ের হাত ধরেছি অন্য কারো হাত ধরে নি।

"কিন্তু

"চুপ আর কোনো কথা না।

আরিয়ান মাইশা কে নিয়ে একটা জুয়েলার্সের দোকানে ঢুকলো। দোকানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে দোকানের এক কর্মচারী আরিয়ানের সামনে একটা নেকলেসের বক্স দিয়ে বলল,
"স্যার আপনার অর্ডার মত আমি নেকলেস টা তৈরি করে রেখেছি দেখে নিন সব ঠিক আছে কিনা।

আরিয়ান আগে থেকে নতুন কালেকশনের একটা নেকলেস মাইশার জন্য অর্ডার করে রেখেছিল।

আরিয়ান বক্সটা খুলে মাইশা থেকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
" দেখ পছন্দ হয় কিনা।

মাইশা হা করে তাকিয়ে আছে নেকলেসটার থেকে।। নেকলেসটা যেমন সুন্দর তেমন নিখুঁতভাবে তৈরি করা। দেখলে যে কারোর পছন্দ হবেই। মাইশা নেকলেসটা নেড়েচেড়ে দেখছে। বলতে গেলে মাইশার নেকলেস টা খুব পছন্দ হয়েছে।আরিয়ান একপাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। আর মাইশার দিকে খুব খেয়াল করে দেখছে মাইশার চোখে মুখে অন্যরকম একটা আনন্দ ফুটে উঠেছে। মাইশার এই আনন্দ, এই এক চিলতে হাসির জন্য আরিয়ান সবকিছু করতে পারে।

আরিয়ান মাইশাকে জিজ্ঞেস করলো,
"কিরে নেকলেসটা পছন্দ হয়েছে।

মাইশা মুখটা তুলে মুচকি একটা হাসি দিয়ে আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
" হ্যাঁ খুব পছন্দ হয়েছে।

আরিয়ান মাইশাকে নেকলেস টা পরিয়ে দিল। মাইশার দিকে উপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরিয়ান। মাইশা কে এত সুন্দর লাগছে যে ও ওর দিকে থেকে নজর সরাতেই পারছে না।

"মাশাল্লাহ আমার বউ টাকে তো খুব সুন্দর লাগছে দেখতে।

মাইশা একটু মুচকি হাসলো।
"এই সবে কি দরকার ছিল বলতো।

"তুই আরিয়ান চৌধুরীর হবু বউ। তোকে আমি পুতুলের মত করে সাজিয়ে রাখবো।

মাইশার জায়গায় অন্য কেউ হলে খুশিতে আটখানা হয়ে যেত। কিন্তু মাইশার ভাগ্য মাইশাকে খুশি হতে বঞ্চিত করেছে। তাই সে এত কিছুর মাঝখানেও খুশি হতে পারছে না। কারন সে জানে তার ভাগ্যে ঠিক কি লেখা আছে এই খুশি বেশি দিনের জন্য স্থায়ী নয়।

আরিয়ান নেকলেস টা প্যাকিং করে বিয়ের জন্য আরো কিছু জুয়েলার্স অর্ডার দিয়ে মাইশা কে নিয়ে কসমেটিক্সের দোকানে চলে গেল। মাইশার প্রয়োজনীয় কিছু কসমেটিকস কিনে জুতার দোকানে গেল। সেখান থেকে দু জোড়া জুতা কিনে শাড়ির দোকানে চলে গেল।

আরিয়ানের পছন্দমত মাইশাকে বেশ কয়েকটা শাড়ি আর থ্রি পিস কিনে দিল। এছাড়াও জিন্স, টপস আর গেঞ্জি কিনলো বাসায় পড়ার জন্য।মাইশা কিছুটা অস্বস্তি ফিল হল এই জিনিসগুলো কেনাতে কিন্তু মাইশা তেমন কিছু একটা বলল না কারণ সে জানে মাইশা বললেও আরিয়ান শুনবে না।

সমস্ত কেনাকাটা শেষ করে মার্কেট থেকে বের হতে যাবে তখনই ওদের সাব্বিরের সঙ্গে দেখা হলো। মাইশা কে দেখে সাব্বিরের পিপাসিত অন্তর টা যেন জুড়িয়ে গেল। সাব্বির মাইশার পা থেকে মাথা পর্যন্ত খুব ভালো করে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। বিশেষ করে মাইশার চোখ গুলো সব সময় সাব্বিরকে আকৃষ্ট করে।

সাব্বির মনে মনে বলল,
"মাশাল্লাহ একটা মেয়ে এতটা সুন্দর কি করে হতে পারে। মেয়ে তো নয় মনে হয় যেন একটা পরী। ওর চোখের মায়ায় বারবার আমি পড়ে যাই যেখান থেকে নিজেকে তোলার এতটুকু ক্ষমতা আমার নেই।

সাব্বিরকে এভাবে মাইশার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরিয়ানের সহ্য হচ্ছে না। আরিয়ানের ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছে। তারপরও আরিয়ান নিজেকে সামলিয়ে নিলো।মাইশা কে কিছুটা দূরে সরিয়ে দিয়ে সাব্বিরের সাথে কথা বলা শুরু করলো।

কথা বলার একপর্যায়ে সাব্বিরকে মাইশা আর আরিয়ানের বিয়ের খবরটা দিল। কথাটা শোনা মাত্রই সাব্বিরের যেন পায়ের নিচের মাটি সরে গেল। সাব্বির বা ক্রুদ্ধ হয়ে গেল থম মেরে দাঁড়িয়ে রইল। সাব্বিরের বুকের বা পাশে চিন চিন করে ব্যথা করে উঠলো। সে যেনো আর কোন কিছু ভাবতে পারছে না। সাব্বিরের মনে হচ্ছে তার দম যেন বন্ধ হয়ে আসছে। এই প্রথম একটা মেয়েকে তার খুব ভালো লেগেছিল। মনের ভেতর মাইশা কে নিয়ে একটা স্বপ্ন বুনন করে ছিল সে। মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু কেমন যেন ভেঙে তছনছ হয়ে গেল।

সাব্বির অনেক কষ্টে নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে আরিয়ান কে আর মাইশাকে বিয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে দ্রুত ওখান থেকে চলে গেল।

এদিকে আরিয়ান তার পাশে তাকিয়ে দেখলো মাইশা নেই। আরিয়ান এদিক ওদিক অনেকক্ষণ মাইশা কে খুঁজলো কিন্তু কোথাও পেল না।মাইশার নাম ধরে ডাকছে আর মাইশাকে খুঁজছে। কিন্তু কোথাও মাইশার কোনো সাড়া নেই। আরিয়ান মাইশাকে খুঁজতে খুঁজতে পার্কিংয়ে এসে দেখে মাইশা পার্কিংয়ের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে।

আরিয়ান দ্রুত মাইশার কাছে গিয়ে ওর হাতে হেঁচকা একটা টান দিয়ে কর্কশ গলায় মাইশা কে বলল,
" তোর কোন কমন সেন্স নেই তোকে আমি কতক্ষণ ধরে খুঁজছি তুই জানিস। আর তুই এখানে কি করছিস।

মাইশা চুপ করে আছে ওর মুখে কোন কথা নেই।মাইশা যেন একদম মূর্তি হয়ে গেছে। আরিয়ান ওর চোখ মুখের দিকে তাকিয়ে দেখল মাইশার চোখ মুখ জানি কেমন দেখাচ্ছে। ওর চোখ গুলো কেমন জানি লাল বর্ণ ধারণ করেছে। ওর চেহারায় যেন অন্যরকম এক আদল। এই মাইশাকে আরিয়ান চিনে উঠতে পারছে না।

আরিয়ান দু বাহুতে হাত দিয়ে জোরে একটা ঝাঁকানি দিয়ে বলল,
"এই মাইশা কথা বলছিস না কেন।

মাইশার ভাবনার ছেদ ঘটলো। মাইশা কেমন একটা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে আরিয়ানের দিকে। আরিয়ানের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাইশা আস্তে করে বললো,
"চলো।

মাইশা এলোমেলো পায়ে হেঁটে গাড়ির কাছে গেল। মাইশা যেন নিজের মধ্যে নেই। আরিয়ান বুঝে উঠতে পারছে না হঠাৎ মাইশার কি হলো।

____________________________

সাব্বির বারান্দায় দাঁড়িয়ে একটার পর একটা সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। চাকরি হবার পর থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে ও সিগারেট খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু আজকে ওর মনের ভিতর যে আগুন জলে উঠেছে তা নিভানোর জন্য সিগারেট ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ওর যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে কিন্তু পারছে না।

সাব্বির ওর হাতটাকে মুষ্টিবদ্ধ করে ওয়ালের সাথে জোরে একটা ঘুষি মেরে বলল,
"কেন তোমার সাথে আমার দেখা হল। কেন এসেছিলে তুমি আমার এই জীবনে। আমার জীবনে বৃষ্টি হয়ে এসে ঝড়ের মতো চলে গেলে। আমার যে ভিতরটা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে আমি যে কাউকে দেখাতে পারছি না আর বলতেও পারছি না। ঠিক করব আমি এখন আমাকে বলে দাও তুমি।

কথাগুলো বলে সাব্বির হাটু গেড়ে ওখানে বসে পড়ল। তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফ্লোরে কয়েকবার ঘুষি মারল। অনেকক্ষণ ধরে সাব্বিরের ফোন বেজে যাচ্ছে কিন্তু সাব্বিরের সেদিকে কোন খেয়াল নেই। সাব্বিরের ফোনের আওয়াজ পেয়ে পাশের রুম থেকে সাব্বিরের মা শায়লা বেগম সাব্বিরের রুমে ঢুকলো। রুমে ঢুকতেই সিগারেটের বিশ্রী গন্ধ তার নাকে আসলো। তিনি নাক টাকে শাড়ির আঁচল দিয়ে চেপে ধরলেন। দেখলেন বিছানার ওপর সাব্বিরের ফোন পড়ে আছে আর ফোনটা বেজেই যাচ্ছে। শায়লা বেগম ফোনটা হাতে নিয়ে বারান্দায় সাব্বির এর কাছে এগিয়ে গিয়ে দেখল সাব্বির হাটু গেড়ে মেঝেতে বসে আছে। ছেলের এই অবস্থা দেখে শায়লা বেগম একদম বিচলিত হয়ে গেলেন।

ছেলের কাঁধে আলতো করে হাত রেখে বললেন,
"কিরে বাবা কি হয়েছে তোর।

মায়ের গলা পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে সিগারেটটা আড়ালে সরিয়ে ফেলল। নিজেকে কিছুটা স্বাভাবিক করে দাঁড়িয়ে তার মায়ের দিকে ঘুরে বলল,
"কই মা কিছু হয়নি তো।

শায়লা বেগম ছেলের মুখের দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলো তার ছেলের মুখটা একদম মলিন হয়ে আছে। তার মনের চাপা কষ্টটা যেন মুখে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। শায়লা বেগম তার ছেলেকে আদর মাখা কন্ঠে বললেন,
"মায়ের কাছ থেকে সন্তান কিছু লুকাতে চাইলেও লুকাতে পারেনা কারণ মা সবকিছু বুঝে কি হয়েছে বল না বাবা।

সাব্বির আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না তার মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিল।শায়লা বেগম বুঝতে পারল তার ছেলে কোন না কোন কারনে খুব কষ্ট পেয়েছে। কারণ তার ছেলে কাঁদার মানুষ নয়। ছোটবেলায় তার স্বামী মারা যাবার পরে এই ছেলেকে খুব কষ্ট করে খুব কঠিন করে গড়ে তুলেছিল শায়লা বেগম। সেই থেকে তার ছেলে নিজেকেও কঠিন করে গড়ে নিয়েছিল এই পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। আজ আর সেই ছেলে কাঁদছে তার মানে অনেক বেশি কষ্ট পেয়েছে সে কোন না কোন কারণে।

শায়লা বেগম ছেলেকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে চোখের পানি মুছে দিয়ে ছেলেকে নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
"কি হয়েছে বাবা তোর বল মাকে।

"মা আমার স্বপ্ন ভালোবাসা সব শেষ হয়ে গেছে।

"মানে কি বলছিস তুই এই সব।

"মাইশা আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে মা। ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

ছেলের মুখে এমন কথা শুনে শায়লা বেগম কিছুটা থমকে গেলেন। কারণ এই মাইশার কথা তার ছেলে এমন কোন দিন নেই যে তাকে বলতো না। এই মাইশা নামটা তার ছেলের মুখে এত পরিমাণে শুনেছে যে মাইশাকে নিজের ছেলের বউ ভাবতে শুরু করেছিলেন।

শায়লা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
"কষ্ট পাস না বাবা। তোর জন্য আমি দেখে শুনে ভালো একটা মেয়ে ঘরে নিয়ে আসবো।

"প্লিজ মা এই সব কথা এখন বলো না। এই মন যাকে খোঁজে সে বোঝেনা। আর সেজন্যই দুজনের চাওয়া পাওয়া কখনোই মিলে না মা। আমি যাকে চেয়েছি তাকে পাইনি যাকে চাই না তাকে আমার জীবনে কোন দরকার নেই।

শায়লা বেগম ছেলেকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করলেন। কিন্তু ব্যর্থ হলেন। হঠাৎই সাব্বিরের ফোনটা আবার বেজে উঠলো।শায়লা বেগম ছেলের হাতে ফোন টা দিয়ে চলে গেলেন।

সাব্বির ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো ফরেনসিক বিভাগের ডক্টর ফাহিম ফোন দিয়েছে। সাব্বিরের ইচ্ছা করছিল একটা আছাড় মেরে ফোনটাকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলতে। এই চাকরির সুবাদে মাইশার সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। সেই মাইশা তার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। কি হবে এইসব দিয়ে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও কর্তব্যের খাতিরে ফোনটা রিসিভ করল সাব্বির। ওপাশ থেকে ফাহিম সাব্বিরকে কিছু বলল। সাব্বির ফোনটা রেখে ফ্রেশ হয়ে তৎক্ষণাৎ বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।

_____________________

মাইশা বাসায় আসার পর থেকে কারো সাথে একটা কথাও বলে নি। এমনকি রাতের খাবারটা ও ঠিকমত খেতে পারে নি। মাইশা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে অঝোরে কাঁদছে।

ভাঙ্গা কন্ঠে মাইশা বলে উঠলো,
"আমি যে আমার লক্ষ্যে কিছুতেই সফল হতে পারছা না রে। আমার বুকের ভেতরে যে আগুন জ্বলছে তা আমি কি করে নেব বলে দে তুই।

হঠাৎ ,

চলবে

514 Views
14 Likes
5 Comments
4.4 Rating
Rate this: