প্রেম আমার (সিজন ২ পর্ব ২)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম_আমার
কানিজ_ফাতেমা
সিজন_২
পর্ব_২

রেহানা বেগমের কথাগুলো মাইশার বুকে যেয়ে ছুরির মত বিঁধলো। মাইশার চোখে পানি টলমল করছে। সবার আড়ালে চোখের পানি টা মুছে নিলো মাইশা।ওর পক্ষে এই খাবার খাওয়া টা এখন আর সম্ভব নয়।মাইশা আঙ্গুল দিয়ে পেটের খাবার গুলো নাড়াচাড়া করছে। আরিয়ানের চোখ পড়লো মাইশার দিকে। আরিয়ান বুঝতে পারছে তার মায়ের কথা গুলো মাইশার অন্তর টা কে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে।মাইশা খাচ্ছে না তাই আরিয়ানের ও যেনো খাবার টা ঠিক হজম হচ্ছে না।

আরিয়ান মাইশা কে বলল,
-------- কি হলো খাচ্ছিস না কেনো

-------- আসলে খেতে ইচ্ছা করছে না।

-------- আমি কোন কথা শুনতে চাই না।দ্রুত নাস্তা শেষ করে নে। তাড়াতাড়ি বের হতে হবে।

কথাটা বলে আরিয়ান নাস্তা শেষ করে একটা ফাইল আনার জন্য তার রুমের দিকে যেতে নিয়ে আবার দাঁড়িয়ে বলল,
------- নাস্তা শেষ না করে কিন্তু এখান থেকে একদম উঠবি না।

কথাটা বলে আরিয়ান তার রুমের দিকে চলে গেল।আরিয়ানের যাবার দিকে তাকিয়ে মাইশা ছোট করে একটু হাসলো।তার নাস্তার প্লেটটা একপাশে সরিয়ে রেখে এক গ্লাস পানি খেয়ে নাস্তার টেবিল থেকে উঠে দাঁড়ালো।সঙ্গে সঙ্গে আলিয়া মাইশার হাত টান দিয়ে মাইশাকে বলল,
--------- কিরে মাইশা নাস্তা শেষ না করে উঠে যাচ্ছিস যে।

--------- আমার খিদে নেই আলিয়া।

-------- মায়ের কথায় রাগ করেছিস।

-------- না মামি তো ঠিকই বলেছে রাগ করার তো কিছু নেই।

মাইশার মামা মাইশা কে আদর মাখা কন্ঠে বলল,
-------- তোর মামীর কথায় রাগ করিস না মা নাস্তা টা খেয়ে নে।

মাইশা তার মামার কথাটা এড়িয়ে গিয়ে বলল,
-------- মামা আমি গাড়িতে গিয়ে বসছি আরিয়ান ভাইয়া আসলে গাড়ির দিকে পাঠিয়ে দিও।

মাইশা দ্রুত বেগে সেখান থেকে চলে গেল।

______________________________________

সাব্বির আফজালের পোস্টমর্টেম রিপোর্টের বিষয়ে ফরেনসিক বিভাগের ডাঃ ফাহিমের কাছে গিয়ে ডিটেইলস জানতে চাইলো।

ফাহিম হাতের ইশারায় সাব্বির কে তার সামনের চেয়ারে বসতে বলল।সাব্বির চেয়ার টেনে বসতে বসতে বলল,
-------- আমাকে বিষয় টা একটু দ্রুত বলুন আমাকে আজকের মধ্যে এর রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

ফাহিম তার সামনে রাখা গ্লাস থেকে একটু পানি খেয়ে নিয়ে বলল,
--------- দেখুন আফজালের মৃত্যু টা কোনো সাধারণ মৃত্যু নয় এটা একটা পরিকল্পিত মার্ডার।

ডাঃ ফাহিমের কথা শুনে অনেকটাই অবাক হলো সাব্বির।

-------- মানে কি বলছেন আপনি।

-------- আমি বলছি না রিপোর্ট বলছে।আফজাল কে মারার আগে কেউ নেশা জাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়ে ছিলো।তার মাথায় ভাড়ি কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তারপর ছুরি দিয়ে তার পুরো শরীরটা কে ক্ষতবিক্ষত করা হয়েছে। তারপর তার লাশ টা কে গাড়ি তে রেখে গাড়ি সহ পুড়িয়ে দিয়েছে।

ডাঃ ফাহিমের কথা গুলো শুনে সাব্বিরের পুরো গাঁয়ে কাটা দিয়ে উঠল।সে ভেবে পাচ্ছে না কে মধ্য বয়স্ক একটা লোক কে এই ভাবে নৃশংস ভাবে হত্যা করলো আর কেনই বা করলো।কি শত্রুতা ছিল তার সাথে কারো।

______________________________________

মাইশা গাড়িতে বসে তার মোবাইলে কিছু একটা দেখছিল।সেই মুহূর্তে আরিয়ান আসলো মাইশা আরিয়ানের উপস্থিতি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তার মোবাইলটা আড়ালে সরিয়ে ফেলল।বিষয়টা আরিয়ান এর চোখ এড়ালো না কিন্তু সে মাইশা কে কোন কিছুই বুঝতে দিলো না।আরিয়ান গাড়ি স্টার্ট দিল।গাড়ি ছুটে চলেছে তার আপন গতিতে। বাইরের বাতাস এসে মাইশার শরীরে লাগছে আর ওর চুলগুলো উঠছে। ভাষা কিছুক্ষণ পরপর তার কপালে আসা এলোমেলো চুলগুলো কানের পাশে খুঁজে দিচ্ছে।মাইশা উদাস হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন ঐ আকাশের বিশাল বুকের ওর চোখ জোড়া কাউকে একজনকে খুঁজে চলেছে।

হঠাৎই মাইশা খেয়াল করল আরিয়ান অফিসের রাস্তা না ধরে অন্য এক রাস্তায় গাড়ি ঘুরিয়ে নিচ্ছে।মাইশা আরো একটু ভালো করে নিশ্চিত হবার জন্য জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আশেপাশে ভালোভাবে পরখ করে দেখে নিলো তার ধারণাই ঠিক এটা অফিসের রাস্তা নয়।

মাইশা আরিয়ানের দিকে ফিরে বলল,
-------- আরিয়ান ভাইয়া তুমি অফিসের রাস্তা না ধরে এই রাস্তায় কোথায় যাচ্ছ।

আরিয়ান মাইশার কথার কোন উত্তর না দিয়ে তার ফোনটা বের করে একজনকে ফোন দিয়ে বলল,
--------- শোনো মিটিংটা কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দাও আমি একটা ইম্পোর্টেন্ট কাজে আছি।

আরিয়ানের কথা শুনে মাইসা ভাবছে,
""ইম্পর্ট্যান্ট কাজ মানে কই আরিয়ান ভাইয়া তো আমাকে কিছু বলল না""।

মাইশা আবারো আরিয়ানকে একই প্রশ্ন ছুঁড়ে জিজ্ঞেস করল,
------- আরিয়ান ভাইয়া বলবে তুমি কোথায় যাচ্ছ। অফিসের দিকে না যেয়ে তুমি গাড়ি অন্য রাস্তায় কেন ঘুরালে আর কি এমন ইম্পরট্যান্ট কাজ আছে তোমার আমাকে তো কিছু বললে না।

আরিয়ান কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে মাইশাকে বলল,
-------- এই মাইশা গাড়ি ড্রাইভ করার সময় এত কথা কেন বলিস তুই। চুপ করে বসে থাকতে পারছিস না। এর পরেও যদি কোন কথা বলিস না তোর মুখে ডাইরেক্ট সুপার গুলো লাগিয়ে দেব।

আরিয়ানের এমন কথা শুনে মাইশা আর কোন কিছু বলার সাহস পেল না। কারণ মাইশা ভালো করেই জানে আরিয়ান যে কখন কি করে বসে তার কোনো ঠিক নেই।আরিয়ান তার হাতে থাকা ঘড়ির দিকে তাকালো। হঠাৎই আরিয়ান তার গাড়ির স্পিড কিছুটা বাড়িয়ে দিলো।এইভাবে আরিয়ার গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দেওয়াতে মাইশার খুব বিরক্ত লাগছিল। কারণ এত স্পিডে গাড়ি চালানো মাইশা একদম পছন্দ করে না। কিন্তু আরিয়ানকে কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।কিন্তু মাইশা আরিয়ানকে কথা না বলে আর থাকতে পারছিল না।

তাই মাইশা শুধু ছোট করে আরিয়ান কে বলল,
---------তুমি হঠাৎ করে কারো স্পিড বাড়ালে কেন। তুমি কি জানো না এইভাবে এত স্পিডে হাইওয়েতে গাড়ি চালানো কিন্তু একদম ঠিক নয়।গাড়ির স্পিড কমাও প্লিজ।

মাইশার কথা শুনে কিছুটা অবাক হলো আরিয়ান। কারণ আরিয়ান যতটুকু জানে মাইশা স্পিডে গাড়ি চালানো পছন্দ করে। তাহলে আজ কেন মাইশা অন্য কথা বলছে। আরিয়ানের প্রতিটা নিয়ত মনে হচ্ছে মাইশার প্রত্যেকটা অভ্যাস চলাফেরা কেমন জানি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। মাইশা বারবার বলেই যাচ্ছে গাড়ির স্পিড কমাতে কিন্তু আরিয়ান কমাচ্ছে না।

শেষে মাইশা কিছুটা চেঁচিয়ে বলল,
-------- আমার ভালো লাগছে না আরিয়ান ভাইয়া গাড়ির স্পিড টা কমা প্লিজ।

আরিয়ান তার চোখ জোড়া বড় করে কিছুটা আড় চোখে তাকালো মাইশার দিকে।মাইশা সঙ্গে সঙ্গে আরিয়ানের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে সামনের দিকে তাকালো।

___________________________________

আমজাদ সাহেব নিজের রুমে বসে চা খাচ্ছিলেন আর খবরের কাগজ পড়েছিলেন। খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা জাগায় তার চোখ আটকে গেল।

খবরটা পড়ে কিছুটা বিরক্তি আর আফসোস দুটোই প্রকাশ করে বললেন,
--------- এই দেশ থেকে শান্তি উঠে গেছে। একটা মধ্যবয়স্ক লোক পর্যন্ত নিরাপদ নয়।ইশ এতো নৃশংস ভাবে কে এই লোক টা কে মারলো।

কিন্তু কেন যেন আমজাদ সাহেবের কাছে এসে লোকটাকে কিছুটা পরিচিত মনে হচ্ছিল। কিন্তু পত্রিকার ছবিটা স্পষ্ট না আসার কারণে মুখটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না।তিনি খুব মনোযোগ দিয়ে খবরটা পড়াতে মনোযোগ দিলেন।

সেই মুহূর্তে তার স্ত্রী রেহেনা বেগম তার কাছে এসে বললেন,
-------- শুনছো তোমার সাথে আমার একটা কথা আছে।

আমজাদ সাহেব খবরের কাগজ থেকে তার চোখটা সরিয়ে নিয়ে রেহানা বেগমের দিকে এক নজর তাকিয়ে বললেন,
-------- হ্যাঁ শুনছি কি বলবে বলো।

রাগ বেগম কিছুটা রাগ দেখিয়ে তার মাজায় দুহাত দিয়ে আমজাদ সাহেবকে কিছুটা রাগী গলায় বললেন,
-------- আমি তোমার সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে আসলাম আর তুমি খবরের কাগজ পড়া নিয়ে ব্যস্ত।

আমজাদ সাহেব কিছুটা বিরক্ত হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও খবরের কাগজটা ভাঁজ করে এক পাশে রেখে রেহেনা বেগমকে বললেন,
--------- কি এমন দরকারি কথা তোমার যা বলার জন্য এতো উতলা হয়ে উঠেছো বলো তো শুনি।

-------- তুমি যত দ্রুত সম্ভব মাইশার বিয়ের ব্যবস্থা করো।

স্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে কিছুটা আশ্চর্যই হলেন আমজাদ সাহেব। তার ভ্রু যুগল কিছুটা কুঁচকে রেহানা বেগমকে বললেন,
--------- হঠাৎ মাইশার বিয়ে নিয়ে তুমি উঠে পড়ে লাগলে কেন।

রেহানা বেগম স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে কিছুটা চেঁচিয়ে আমজাদ সাহেব কে বলল,
-------- উঠে পড়ে লেগেছি মানে। মাইশা বড় হয়েছে ওর কি বিয়ে দিতে হবে না।

-------- সেটা যখন সময় হবে তখন দেখা যাবে।

-------- দেখো আমি কোনো জানতে বা বুঝতে চাই না আমার স্রেফ একটাই কথা।মাইশা কে যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে দিয়ে আমি এই সংসার থেকে বিদায় করতে চাই।

কথাটা বলে রেহেনা বেগম হন হন করে সেখান থেকে চলে গেলেন।আমজাদ সাহেব রেহানা বেগমের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলেন। আমজাদ সাহেব তার বোন মারা যাবার পর থেকে মাইশা কে নিজের মেয়ের মত করে আগলে রেখে বড় করেছে। সব সময় চেষ্টা করেছে মা আর বাবার অভাব মাইশা কে বুঝতে না দিতে। তাই মাশার ব্যাপারে যে কোনো সিদ্ধান্ত একমাত্র আমজাদ সাহেবই নেবে। এটা বিয়ে হোক বা অন্য যেকোনো ব্যাপারে হোক।

বেশ কিছুক্ষণ পর আরিয়ান গাড়িটা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে এসে থামালো। মাইশা বুঝতে পারছে না আরিয়ান অফিসে না গিয়ে রেস্টুরেন্টে কেন আসলো।

আরিয়ান মাইশার দিকে তাকিয়ে বলল,
--------- গাড়ি থেকে নাম।

-------- তুমি অফিসে না গিয়ে এখানে কেন আসলে।

-------- মানুষ রেস্টুরেন্টে কেন আসে।

-------- খাওয়া দাওয়া করতে।

-------- যাক এইটুকু বুদ্ধি তাহলে তোর মাথায় আছে। এখন আর কোন কথা না বাড়িয়ে গাড়ি থেকে নাম।

মাইশা গাড়ি থেকে নামলো। আরিয়ান গাড়ি টাকে লক করে মাইশা কে রেস্টুরেন্টের দিকে ইশারা করে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকতে বলল। মাইশা বুঝতে পারছে না আরিয়ান কি করতে চাইছে। মাইশা রেস্টুরেন্টের মধ্যে ঢুকছে না এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে। আরিয়ান মাইশার হাত ধরে মাইশাকে রেস্টুরেন্টের ভিতরে নিয়ে গেল

আরিয়ান রেস্টুরেন্টে ধোকা মাত্রই একটা ওয়েটার তার কাছে এসে বলল,
-------- আসুন স্যার আপনাকে আপনার টেবিলটা দেখিয়ে দিচ্ছি।

ওয়েটার আরিয়ান আর মাইশাকে একটা টেবিলে নিয়ে গেল। টেবিলটা খুব সুন্দর আর পরিপাটি করে সাজানো। আরিয়ান মাইশাকে চেয়ারে বসতে বলল।

আরিয়ার চেয়ার টা নিয়ে বসতে বসতে ওয়েটার কে বলল,
-------- সবকিছু রেডি করা আছে তো।

-------- জি স্যার আমি আপনার অর্ডার মত সবকিছু রেডি করে রেখেছি।

-------- ঠিক আছে দ্রুত করে সবকিছু নিয়ে এসো।

মাইশা সবটা খালি চুপচাপ দেখে যাচ্ছে কিন্তু কিছুই তার মাথায় ঢুকছেনা। অফিসে যাবে বলে এত দ্রুত করে বাড়ি থেকে বের হয়ে এলো কিন্তু অফিসে না গিয়ে রেস্টুরেন্টে কেন ঢুকলো। আর আরিয়ান কিসের অর্ডার দিয়েছিল কিছুই বুঝতে পারছে না মাইশা।

মাইশা খুব কৌতুহল নিয়ে আরিয়ানকে জিজ্ঞেস করল,
------- আরিয়ান ভাইয়া এবার তো বলো কেন রেস্টুরেন্টে আসলে।

-------- সার্কাস খেলা দেখতে।

-------- মানে!

-------- মানে চুপচাপ বসে থাক কেন এসেছি একটু পরেই জানতে পারবি।

মাইশার ভালো লাগছে না আরিয়ানের এই ভোনিতা গুলো। বলে দিলেই তো হয় কেন রেস্টুরেন্ট নিয়ে এসেছে এত কথা পেচানোর কি আছে বুঝতে পারছেনা মাইশা।

_________________________________

এদিকে চিন্তা মগ্ন হয়ে অফিসে বসে আছে সাব্বির। সব যেন তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে আফজালের লাশটা দেখে মনে হয়েছিল সামান্য একটা পোড়া লাশ।কিন্তু ফরেনসিক বিভাগের ডক্টর সাব্বিরকে মা বলল তারপর থেকে সাব্বিরের মাথা টা যেন গোল গোল করে ঘুরছে। সে বুঝতে পারছে না কেন, কি শত্রুতার বসে একজন মধ্যবয়স্ক মানুষকে এতটা নিশংস ভাবে কেউ হত্যা করল। হত্যা করলো তো করল কোনরকম ক্লু পর্যন্ত রেখে যায়নি যার দ্বারা সে বুঝতে পারবে কেন হত্যা করা হলো। সাব্বির তার ভাবনায় নিমজ্জিত হয়ে আছে।সেই মুহূর্তে সাব্বিরের ইন্টার কাম বেজে উঠলো।

সাব্বির ফোন ধরতে ওপাশ থেকে কমিশনার বলে উঠলো,
-------- তোমার এলাকায় একটার পর একটা মার্ডার হচ্ছে, ঐ রকম একজন দুর্ধর্ষ ক্রিমিনাল পালিয়ে গেল, মিডিয়া পুলিশের উপর আঙ্গুল তুলছে তুমি কি করছো অফিসে বসে। তুমি কি অফিসে হাওয়া বাতাস লাগিয়ে বসে থাকার জন্য চাকরি নিয়েছ। আধ ঘন্টার মধ্যে আফজালের মৃত্যুর সমস্ত ডকুমেন্টস নিয়ে তুমি আমার অফিস হাজির হবে।

কমিশনার সিয়াম সাব্বিরকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ইন্টারকামের লাইনটা কেটে দিল।

না এবার সাব্বিরকে একটু উঠে পড়ে লাগতে হবে। এর পিছনে অনেক বড় একটা মাস্টারমাইন্ড কাজ করছে হয়তো সিরিয়াল কিলার আর নয় সাইকো কিলার। সাব্বির বুঝতে পারছে না এর সাথে কি পাচারকারী দলের কোন যোগসূত্র আছে।

সাব্বির কনস্টেবল মিলন কে তার রুমে ডেকে পাঠালো। মিলন তার রুমে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে সাব্বির তাকে বলল,
--------- এই এলাকার সমস্ত ইম্পোর্টেন্ট পয়েন্টে পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে দাও। যেসব জায়গায় সিসি ক্যামেরা নেই সেসব জায়গার সমস্ত তথ্য এনে আমাকে সাবমিট করো। আর যেসব জায়গায় সিসি ক্যামেরা আছে সমস্ত সিসি ক্যামেরার রেকর্ড আমার অফিসে চাই।

সাব্বির বলতে গেলে একরকমের রেগে ফায়ার হয়ে আছে। তার এই চাকরির লাইফে আজ পর্যন্ত তার দায়িত্ব নিয়ে কেউ আঙ্গুল তুলে কথা পারে নি। আজ কমিশনার তাকে যা ইচ্ছা তাই বলে কথা শুনিয়েছে। এবার এর শেষ দেখে ছাড়বে সাব্বির। সাব্বির দ্রুত রেডি হয়ে সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে কমিশনার অফিসের দিকে চলে গেল।

___________________________________

কিছুক্ষণ পর ,ওয়েটার কিছু খাবার নিয়ে আরিয়ানের টেবিলে এনে রাখল।

আরিয়ান সবগুলো খাবার মাইশার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
--------- নে চুপচাপ খাবার গুলো খেয়ে নে।

মাইশা চোখ বড় বড় করে খাবার গুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। সে কিছুটা আশ্চর্য হয়েছে কারণ এখানে সবগুলো খাবার মাইশার পছন্দের। তারমানে আরিয়ান মাইশাকে খাওয়ানোর জন্যই অফিসের না গিয়ে এই রেস্টুরেন্ট নিয়ে এসেছে। মাইশা আরিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে কি আরিয়ান বুঝতে পেরেছে মাইশা সকালে নাস্তা করে নি।

মাইশা কি চুপচাপ বসে থাকতে দেখে আরিয়ান মাইশা কে বলল,
-------- কিরে খাচ্ছিস না কেনো।

আরিয়ানের কথায় মাইশার ঘোর ভাঙলো। মাইশা আরিয়ানকে কিছু বুঝতে না দিয়ে আরিয়ান কে বলল,
------- এই সবের মানে কি আরিয়ান ভাইয়া। আমি তো সকালে নাস্তা করেছি আর কতবার নাস্তা করব বলো।

আরিয়ান অরেঞ্জে জুস খাচ্ছিল। মাইশার কথা শুনে মাইশার দিকে তাকালো আরিয়ান। জুসের গ্লাস থেকে এক চুমুক জুস খেয়ে নিয়ে জুস টাকে টেবিলের উপর রেখে আরিয়ান টেবিলের উপরে দুই হাত রেখে মাইশার দিকে কিছুটা এগিয়ে এসে বলল,
-------- মাইশা তুই সবার চোখ ফাঁকি দিতে পারলেও আমার চোখ ফাঁকি দিতে পারবি না। তুই নাস্তা করেছিস কি করিস নি সেটা আমি তোর মুখ দেখেই বুঝতে পেরেছি। সুতরাং আর কোন কথা না বলে চুপচাপ খেয়ে নে। এমনিতে অনেক লেট হয়ে গেছে তাড়াতাড়ি অফিসে যেতে হবে।

মাইশার চোখ জোড়া মুহূর্তের মাঝেই ভিজে উঠলো। আরিয়ানের এত কেয়ার এত ভালোবাসা মাইশার মনের ভেতর আনন্দের একটা দোলা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আদৌ আরিয়ানের এই ভালোবাসা কি সত্যি মাইশার প্রাপ্য। নাকি সে শুধুমাত্র কিছুদিনের একজন অতিথি।

মাইশা খাচ্ছে না দেখে আরিয়ান ওর মুখের কাছে খাবার নিয়ে বলল,
--------- নে হা কর আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি।

মাইশা ছোট করে হাঁ করল আরিয়ান মাশার মুখে খাবার তুলে দিল। মাইশা তার চোখের পানি ধরে রাখতে পারল না।মাইশার চোখ থেকে টপ করে এক ফোটা পানি পড়তে নেবে তখনই আরিয়ান মাইশার চোখের সে পানিটা নিচে পড়ার আগেই নিজের আঙ্গুলে নিল।

আরিয়ান মাইশার চোখের পানির সেই ফোটার দিকে তাকিয়ে বলল,
--------- তোর চোখের এক ফোঁটা পানি আমার কাছে মনি মুক্তার থেকেও অনেক দামি। আমি সব সময় তোর মুখে হাসি দেখতে চাই। তুই কেন বুঝিস না তোর চোখে পানি আমাকে খুব ব্যথা দেয় মাইশা।

আরিয়ান হাত দিয়ে মাইশার বাকি চোখের পানিটা মুছে দিলো। তারপর আরিয়ান মাইশার দুহাত ধরে বলল,
--------- আমার পুরো পৃথিবী এক দিকে আর তুই এক দিকে। এই পৃথিবীর মানুষ যে যাই বলুক না কেন আমি জানি তোর মনটা অনেক নিষ্পাপ অনেক সরল। আর শেষ সরল আর নিষ্পাপ মনে আমি সবসময় আনন্দ দেখতে চাই কোন দুঃখের ছায়া আমি দেখতে চাই না মাইশা।

মাইশা ছোট বাচ্চার মত আরিয়ানের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আরিয়ানের কথা গুলো শুনছিলো। আরিয়ানের কথা প্রেক্ষিতে সে কি বলবে তা তার জানা নেই। কারণ তার কাছে এই কথার কোন উত্তর নেই। মাইশা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখান থেকে মাইশা না পারছে আরিয়ানের হতে আর না পারছে আরিয়ানের কাছ থেকে দূরে যেতে। মাইশা জানেনা তার ভাগ্য তাকে ঠিক কোন জায়গায় নিয়ে দাঁড় করাবে। তবে মাসে শুধু এইটুকু জানে তার তার কাঁধে অনেক বড় এক দায়িত্ব যার শেষ শেষ না করা পর্যন্ত মরেও শান্তি পাবে না। কারণ তার সেই দায়িত্ব তাকে মরার পর ও শান্তি দেবে না।

চলবে.....

641 Views
21 Likes
5 Comments
4.5 Rating
Rate this: