প্রেম আমার সিজন ২

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম আমার
পর্ব-২০

সকাল থেকে অনেক রকমের ফুল আর লাইটিং দিয়ে আজ আরিয়ান দের বাড়ি আবার সাজানো হচ্ছে। সবকিছুর তদারকি করছে আরিয়ান নিজে। সবাই শুধু আশ্চর্যজনক চাহনিতে সব টা দেখে যাচ্ছে কোন কিছুই করো কাছে বোধগম্য হচ্ছে না আজ কেন হঠাৎ করে বাড়ি সাজানো হচ্ছে। আরিয়ান আর মাইশার গায়ে হলুদের এখনো কয়েক দিন বাকি আছে।কোনো একটা কারণে ওদের গায়ে হলুদের দিনটা আরিয়ান নিজেই পিছিয়ে দিয়েছিল আবার আরিয়ান ই লোকজন এনে বাড়ি সাজাচ্ছে। বাড়ির সবাই অনেকবার আরিয়ানকে এই নিয়ে প্রশ্ন করেছে কিন্তু আরিয়ান কারো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নিজের মত তদারকি দিয়ে ব্যস্ত।

মাইশা দেয়ালের একপাশে হেলান দিয়ে দুই হাত ভাঁজ করে সবটা নিষ্পলক ভাবে দেখে যাচ্ছে আর বোঝার চেষ্টা করছে আরিয়ান আসলে চাইছে টা কি।

আরিয়ান একদিকে তদারকি করছে আর অন্যদিকে কিছুক্ষণ পর পর আড় চোখে খুব ভালো করে অবলোকন করছে মাইশা কে। মাইশা কে সে এত দেখে তার পরেও যেন তার দেখার সাধ মিটে না। হয়তো এই জন্মে তার মাইশাকে দেখার স্বাদ মিটবে না।

মাইশা গুটিগুটি পায়ে হেঁটে আরিয়ানের পিছনে এসে দাঁড়ালো। আরিয়ান পিছনের দিকে না তাকিয়েই তার হাতে থাকা ফোনটা স্ক্রল করতে করতে মাইশা কে উদ্দেশ্য করে বলল,
" কি হলো কিছু বলবে নাকি।

মাইশা অনেকটা অবাক হল এই ভেবে যে, আরিয়ান পিছন ফিরে তাকিয়ে কি করে বুঝলো যে তার পিছনে মাইশা দাঁড়িয়ে আছে। মাইশা তার ভ্রু যুগল কিছুটা কুঁচকে আরিয়ান কে বলল,
" না দেখেই কি করে বুঝলে আমি এসেছি।

আরিয়ান মাইশার দিকে ঘুরে তাকালো। আরিয়ানের তার হাতে থাকা একটা গোলাপ ফুলের স্টিকে নাক দিয়ে সে গোলাপ ফুল গুলোর ঘ্রাণ নিয়ে লম্বা করে একটা শ্বাস টেনে বলল,
" এই গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ যেমন মানুষকে উতলা করে, তেমনি তোমার গায়ের যে মনমুগ্ধ করা ঘ্রাণ সবসময় আমাকে আকৃষ্ট করে। তুমি এক হাজার মাইল দূরে থাকলেও তোমার গায়ের ঐ মিষ্টি মুগ্ধ করা ঘ্রাণ আমাকে বলে দিবে তুমিই আমার মাছরাঙ্গা পাখি।

কথাগুলো শেষ করে আরিয়ান হাঁটু গেড়ে বসলো মাইশার সামনে গোলাপ ফুলের স্টিক টা মাইশার সামনে ধরলো। মাইশা গোলাপের স্টিকার দিকে তাকিয়ে দেখল, সেখানে অনেক রঙের অনেক রকমের গোলাপ। গোলাপের স্টিক টা এত সুন্দর যে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে। এমনিতেই গোলাপ অনেক পছন্দ মাইশার। সে হাত বাড়িয়ে গোলাপ গুলো আরিয়ানের কাছ থেকে নিলো।

আরিয়ান মাইশার অন্য এক হাত ধরে তার হাতের উল্টো পিঠে একটা চুমু দিয়ে বলল,
" গোলাপের মতো সুন্দর হোক তোমার জীবন।

আরিয়ান উঠে দাঁড়িয়ে একটা লাল টকটকা গোলাপ নিয়ে মাইশা কে পিছন ঘুরতে বলল। আরিয়ান মাইশার চুলে সুন্দর করে একটা খোপা তুলে সেই টকটকে লাল গোলাপটা ওর খোঁপায় গুঁজে দিল। মাইশা কে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ে একটা চুমু দিয়ে ওর চুলের নাক দিয়ে ঘ্রাণ নিয়ে বলল,
" আহ্ তোমার ওই চুলের মুগ্ধ করা ঘ্রাণ আর এই গোলাপের ঘ্রাণ যেন চারিদিকে সুবাস ছড়িয়ে দিচ্ছে।

মাইশা আরিয়ানকে ওর কনুই দিয়ে একটা গুতা মেরে নিজেকে আরিয়ানের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
" হয়েছে হয়েছে আর এত ঢং করতে হবে না। আচ্ছা এবার বলতো তোমার মতলবটা কি।

আরিয়ান একটু হেসে তার দুই হাত পেছনে বেঁধে মাইশার দিকে একটু ঝুঁকে বলল,
" কিসের মতলব বউ।

" এই যে হঠাৎ করে এভাবে বাড়ি সাজাচ্ছো।

" সেটা সময় হলেই বুঝতে পারবে।

হঠাৎ আরিয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো। আরিয়ান মাইশা কে ওখানেই দাঁড়াতে বলে ফোনটা রিসিভ করে কথা বলতে বলতে বাহিরে চলে গেল। মাইশা তার চোখ ঘুরিয়ে চার পাশ টা একবার ভালো করে অবলোকন করল। বাহারি রকমের ফুল লাইটিং আরো অনেক এক্সপেন্সিভ জিনিস দিয়ে পুরো বাড়িটাকে সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে। যে কেউ দেখলে মুগ্ধ হতে বাধ্য। তবে সবগুলো ফুল মাইশার পছন্দের।

কিছুক্ষণ পর আরিয়ান মাইশার কাছে আসলো। মাইশা আরিয়ানের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলো ওর হাতে দুই টা শপিং ব্যাগ। আরিয়ান শপিং ব্যাগ গুলো ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
" এই গুলো ধরো।

মাইশা একবার শপিং প্যাক গুলোর দিকে এক নজর তাকিয়ে আরিয়ানের দিকে লক্ষ্য স্থির করে ওকে প্রশ্ন ছুড়ে বলল,
" কি আছে শপিং ব্যাগে।

আরিয়ান মাইশার কথার কোন উত্তর না দিয়ে শপিং ব্যাগগুলো ওর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
" এত কথা না বলে শপিং ব্যাগগুলো ধরো। একটা তোমার আর একটা আলিয়ার।

মাইশা শপিং ব্যাগটা হালকা ফাঁক করে তার ভিতরে কি আছে তা দেখতে যাবে তখনই আরিয়ান ওকে বাঁধা দিয়ে বলল,
" এটা এখন দেখবে না সময় মত দেখবে।

মাইশা আর কোনরকম কথা না বাড়িয়ে চলে গেল। আরিয়ান মাইশার যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। একটু মুচকি হেসে আনমনে বললো,
" সন্ধ্যায় অনেক সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে তোমার জন্য আমার মাছরাঙ্গা পাখি।

সাব্বির একটা জেন্টস ঘড়ি হাতে নিয়ে তার কেবিনে বসে ঘড়িটাকে এদিক ওদিক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভালো করে অবলোকন করছে। সাব্বির ঘড়িটা ঐ ক্রাইম স্পট থেকে পেয়েছিল। সবাই যখন ওখান থেকে ফিরে আসছিল সাব্বির কি যেন মনে করে ঘুরে দাঁড়িয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে যেতেই তার পায়ের সাথে কি যেন একটা লেগেছিল নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে এই ঘড়িটা ওখানে পড়ে আছে। অনেক বৃষ্টি হবার জন্য ঘড়িটা অনেকটা কাঁদার মধ্যে গেঁথে গিয়েছিল তাই ঘড়িটা কারো চোখে পড়েনি। সাব্বির পাওয়া মাত্রই ঘড়িটা সেখান থেকে তুলে নিয়েছে। ঘড়িটা তার বেশ পরিচিত মনে হচ্ছিল কারো হাতে যেন এই ঘড়িটা বেশ কয়েকবার দেখেছে ও। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে মনে করতে পারছে না। নিজের মনের ওপর নিজেরই বেজায় রাগ হচ্ছে আজ সাব্বিরের। সময় মত মন এমন তিড়িং বিড়িং শুরু করে যে কোন কিছুই মনে করা যায় না। তবে মন যতই তিড়িং বিড়িং করুক আর আসামি যতই চালাক হোক না কেন সাব্বির এর শেষ দেখেই ছাড়বে।

সাব্বির চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আনমনে কথাগুলো ভাবছিল হঠাৎ একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে সাব্বিরের রুমে ঢুকলো। এইভাবে ওনাকে রুমে ঢুকতে দেখে সাব্বির কিছুটা বিচলিত হয়ে গেল। সাব্বির পাশে চোখ ঘুরিয়ে দেখল মহিলাটার সাথে ১৮-১৯ বছর বয়সের একটা মেয়েও আছে। মেয়েটার চোখগুলো ও অশ্রু মিশ্রিত। বুঝাই যাচ্ছে মেয়েটাও এতক্ষণ কাঁদছিল তার চোখের পাপড়ি গুলো এখনো ভেজা। ছিপছিপে গড়নের মেয়েটা। শ্যামলা হলেও চেহারা মন্দ নয়। চুলগুলো বেচায় এলোমেলো, পরনের কাপড়গুলাও খুব ময়লাটে বর্ণ ধারণ করেছে। সাব্বির মেয়েটাকে আপাদমস্তক একবার চোখ বুলিয়ে নিল। তাদেরকে ডেকে সাব্বিরের সামনের চেয়ারে বসতে বলল।

অতঃপর টেবিল এর উপর দুই হাত রেখে তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে বলল,
" কি হয়েছে আপনাদের।

মহিলাটা কান্নার জন্য কোন কথা বলতে পারছে না। পাশে থাকা মেয়েটা মহিলাটাকে থামানোর উদ্দেশ্যে তাকে মা সম্বোধন করে থামতে বলল। সাব্বির বুঝতে পারল এরা মা আর মেয়ে।

সাব্বির মহিলা টার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মেয়ে টার দিকে দৃষ্টিপাত করে তাকে জিজ্ঞেস করল,
" কি হয়েছে আপনার মায়ের উনি এইভাবে কাঁদছে কেন।

মেয়েটা কিছু বলতে যাবে সেই মুহূর্তে কনস্টেবল মিলন সাব্বিরের রুমে এসে বলা শুরু করল,
" স্যার উনারা হচ্ছে গতকালকে আমরা যার লাশ পেয়েছিলাম তার পরিবারের লোক। আসলে গতকালকে যিনি মারা গিয়েছিলেন তিনি আমাদের একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। উনি পুলিশের এএসআই ছিলেন।

কথাটা শুনে সাব্বির কিছু সময়ের জন্য থমকে গেল। এই পর্যন্ত যতগুলো মার্ডার হয়েছে সেটা কোনো না কোনো প্রেক্ষিতে হয়েছে সে অব্দি মানা যায় কিন্তু এই পুলিশ সদস্যের মার্ডার টা যেন কিছুতেই সাব্বির মেনে নিতে পারছে না।

সাব্বির মেয়েটার দিকে তার দৃষ্টি ছুঁড়ে দেখল মেয়েটার চোখ বেয়ে থুতনি দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। সাব্বির টিস্যু বক্স থেকে একটা টিস্যু নিয়ে মেয়েটা কে এগিয়ে দিয়ে বলল,
"এই নিন চোখটা মুছে নিন।আর ঘটনাটা ঠিক কি হয়েছিল আমাকে সবটা খুলে বলুন।

মেয়েটা হাত বাড়িয়ে সাব্বিরের কাছ থেকে টিস্যু টা নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল,
" স্যার আমার নাম ঝুমুর। আর উনি আমার মা, ওনার নাম সাবিহা বেগম। আমার বাবা এএসআই ইমরুল হাসান। গত কালকে ওনার নাইট রাউন্ড ডিউটি ছিল। আমার মা রাত নয় টার সময় উনার সাথে কথা বলেছিল এরপরে রাত সাড়ে দশটা থেকে আমার বাবার ফোন সুইচ অফ বলছে। মা আর আমি অনেকবার ট্রাই করেছিলাম কিন্তু বারবার ফোন সুইচ অফ বলছিল। থানাতে ও ফোন করেছিলাম তারা বলল বাবা নাকি নাইট রাউন্ড ডিউটি করছে। সারারাত টেনশনে আমি আর মা ঘুমাতে পারিনি। কারণ বাবা কখনোই এমন করেনা। সকাল হতেই আমি থানায় চলে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে একজন আপনাদের এখানকার কথা বলল। স্যার সত্যি কি আমার বাবা আর নেই।

কথাটা বলতে গিয়ে ঝুমুরের গলা ধরে এলো। তার চোখ জোড়া আবার পানিতে ভিজে এলো।

সাব্বির ঝুমুরকে সান্তনা মূলক গলায় বলল,
" আগে তো লাশ শনাক্ত করতে হবে তা না হলে তো আমরা কিছু বলতে পারছি না। উনার বডিটা মর্গে রাখা আছে আপনাদেরকে সেখানে গিয়ে ওনার বডি শনাক্ত করতে হবে।

কথাটা শোনার মত ঝুমুর আর সাবিহা বেগম এক যোগে কান্না শুরু করে দিল। সাব্বির অনেক কষ্টে তাদেরকে শান্ত করে ঝুমুর আর সাবিহা বেগমকে নিয়ে মর্গের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।

এদিকে মাইশা আলিয়াকে ওর রুমে না পেয়ে অনেকক্ষণ যাবৎ এদিক ওদিক খুঁজে ছাদে গিয়ে দেখল আলিয়া ছাদের এক কোণে ওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। মাইশা আলিয়ার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। আলিয়া যেন একটা মূর্তির মত দাঁড়িয়ে আছে মাইশা যে ওর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু আলিয়ার কোন ভাবান্তর নেই। ওর চোখ জোড়া রাস্তার দিকে স্থির যেন চোখের পলক পর্যন্ত পড়তে চাইছে না। হয়তো ওর চোখ দুটো রাস্তার দিকে রাফাত কে খুঁজছে। যদি রাফাতের দেখা মিলে।

মাইশা আলিয়ার কাঁধে হাত রাখল। আলিয়া সঙ্গে সঙ্গে একটু কেঁপে উঠলো। উচ্ছ্বাসিত কন্ঠে বলে উঠলো,
" রাফাত তুমি এসেছ।

কিন্তু পাশ ফিরে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো মাইশা দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তের মধ্যে তার সেই উচ্ছ্বাসিত দৃষ্টি আর মুখ দুটোই মলিন হয়ে গেল। আলিয়া আবার তার দৃষ্টি পুনরায় রাস্তার দিকে স্থির করলো।

মাইশা আলিয়াকে নিজের দিকে ঘোরালো। ওর দিকে তাকিয়ে দেখল ওর চোখ মুখ এমন একটা হয়ে আছে। চোখের নিচে কেমন কালো হয়ে গেছে মুখটা একদম মলিন। মাইশা বুঝতে পারল আলিয়া হয়তো সারারাত ঘুমায় নি কেঁদেই সারারাত টা পার করেছে।

মাইশা আলিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
" কেন এমন অবুঝের মত করছিস বল তো। সারারাত না ঘুমিয়ে কেঁদে কেঁদে চোখ মুখের কি অবস্থা করেছিস। আয়নায় দেখেছিস নিজের চেহারাটা কি হাল হয়েছে তোর।

আলিয়া নিশ্চুপ। মাইশার দিক থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিয়ে কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
" সব সময় আমার সাথেই কেন এমন হয় বলতে পারিস মাইশা।

মাইশার আলিয়াকে এভাবে দেখতে আর মোটেও ভালো লাগছিল না। এই মেয়েটাকে নিজের ভালোবাসার উপর তিল মাত্র বিশ্বাস নেই। ভালোবাসাটা হলো একটা পোষা পাখির মত। খুব যত্ন করে রাখলে তা চিরস্থায়ী হয়। আর অবহেলা করলে তার দম বন্ধ হয়ে মারা যায়।

মাইশা তার চোখে মুখে দৃঢ়তা এনে কিছুটা রুক্ষ গলায় আলিয়া কে বলল,
" ব্যাস আলিয়া অনেক হয়েছে এইবার এইসব বন্ধ কর। আর একটাও কথা না বলে এই মুহূর্তে নিচে চল।

আলিয়া মাইশার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,
" আমি যাব না তুই যা।

মাইশা আলিয়ার কোন কথা না শুনে ওর হাত ধরে টেনে ওকে নিচে নিয়ে গেল। আলিয়া মনের ভেতর প্রচন্ড রাগ আর অভিমান নিয়ে হনহন করে নিজের রুমে এসে ধপাস করে খাটের উপর বসে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে ওর চোখ গেল খাটের ওপর থাকা একটা শপিং ব্যাগের দিকে। শপিং ব্যাগটা হাতে নিয়ে খুলে দেখলো তার ভিতরে রেপিং করা একটা প্যাকেট। প্যাকেটের গায়ে ছোট্ট একটা চিরকুটে লেখা আছে,
" This is only for you my heart.

আলিয়া বুঝতে পারছে না এটা কে পাঠালো তার জন্য। সে কৌতুহলবশত রেপিং টা খুলতেই দেখল ভেতরে আরো একটা রেপিং তার উপরে এবার বেশ বড় করে একটা চিরকুট দেয়া এবং তাতে লেখা,
" আর সামনের দিকে এগিয় না। যদি নিজের ভালোবাসার উপর বিশ্বাস থেকে থাকে এখানেই থেমে যাও।

এমন একটা লেখা দেখে আলিয়া আর রেপিং টা খোলার জন্য কৌতূহল দেখালো না। রেপিং করা প্যাকেট টা তার ড্রেসিং টেবিলের উপরে রেখে দিল।

সাবিহা বেগম মর্গে নিজের স্বামীর লাশ শনাক্ত করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। ঝুমুর কিছুতেই সাবিহা বেগমকে সামলে উঠতে পারছে না।উনি হাউমাউ করে কান্না করছেন। ঝুমুরের চোখ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। তার বাবাকে যে আর এই পৃথিবীতে কোনদিন সে কাছে পাবে না। আর কখনো কাছ থেকে বাবা বলে ডেকে বুকে ঝাপিয়ে পড়তে পারবে না। ঝুমুর জানে না কার সাথে তার বাবার এতটা পরিমাণ শত্রুতা ছিল যার জন্য এই ভাবে তার বাবাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করল।

সাব্বির অনেক কষ্টে ওদেরকে মর্গ থেকে বাইরে নিয়ে আসলো। ওদের উদ্দেশ্যে সান্তনা মূলক বাণী ছেড়ে বলল,
" আপনারা একটু শান্ত হোন উনার পোস্টমর্টেম শেষ হয়ে গেলে আপনাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। এখন আপনারা বাড়ি চলে যান।

তারপর ঝুমুরের উদ্দেশ্যে বলল,
" শোনো তোমার মা কিছুটা শান্ত হলে তুমি একবার থানা থেকে এসে ঘুরে যাও তোমার কাছ থেকে আমার কিছু তথ্য নেবার আছে।

ঝুমুর তার মাকে অনেক বুঝিয়ে শুুজিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ঝুমুর ওখান থেকে যাবার আগে বারবার পিছন ফিরে দেখছিল হয়তো তার বাবার স্নেহ, ভালোবাসা আর আদর তাকে হাতছানি দিয়ে হয়তো ডাকছে। ঝুমুরের এই কান্না দেখে আজ সাব্বিরের তার বাবার কথা খুব মনে পড়ছে। বাবাকে সে কোন ছোটবেলায় সে হারিয়েছে বাবার আদর, ভালোবাসা আর স্নেহ কেমন হয় তা সে ভুলেই গেছে। আজ পুরনো ক্ষত টা আবার মনের ভেতর জাগ্রত হয়ে উঠেছে সাব্বিরের। একদিকে ভালোবাসা না পাওয়ার বেদনা অন্যদিকে বাবাকে অকালে হারানোর পুরনো সেই ক্ষত সবমিলিয়ে সাব্বিরের মনটা তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। সাব্বির এখন ভারাক্রান্ত দুনিয়ার এক বাসিন্দা। ওর জানা নেই এই ভারাক্রান্ত মন কখনো শান্ত বা স্থির হবে কিনা।

সীমাকে চোখে একটা পট্টি পড়িয়ে রিয়াদ কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। সীমা বারবার করে জিজ্ঞেস করছে ওকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিন্তু রিয়াদ বারবার কথা এড়িয়ে যাচ্ছে। সীমার এতটা পরিমাণ উতলা দেখে রিয়াদ ওর হাত দুটোকে নিজের হাতের মুষ্টি যুগলের মধ্যে রেখে বলল,
" একটু অপেক্ষা কর প্রিয় সময় মতো সবটা জানতে পারবে।

সীমা আর কোন কথা বাড়ালো না চুপচাপ রিয়াদের কথা মেনে নিল আর সেই সময়ের অপেক্ষায় রইলো যে সময়টাতে তার কাঙ্ক্ষিত উত্তরটা পেয়ে যাবে।

বিকালের দিকে পার্লার থেকে কয়েকজন মেয়ে আসলো মাইশা আর আলিয়াকে সাজানোর জন্য। এদিকে আরিয়ানকে দুপুরে খাবার পর থেকেই বাড়ির কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না মাইশা। মাইশার চোখ জোড়া আরিয়ানকে হন্যে হয়ে খুঁজছে কিন্তু আরিয়ানের কোন দেখা নেই। ইদানিং কেমন যেন আরিয়ানকে না দেখলে মাইশার ও মোটেও ভালো লাগেনা। কেমন যেন এক অজানা কষ্ট অনুভব করে আরিয়ান চোখের নজর এড়ালে।

হঠাৎই.....

চলবে .....
269 Views
5 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: