প্রেম_আমার
অন্তিম_পর্ব
কানিজ ফাতেমা
সাব্বির তার ফোনটা বের করে একজনকে ফোন দিয়ে বলল,
------ তার কি কোন খবর পাওয়া গেছে।
------ আপনার সন্ধান চলছে তবে খুব দ্রুত তাকে আমরা পেয়ে যাব।
------ যত দ্রুত সম্ভব ওকে খুঁজে বের কর কারণ একজনের জীবন খুব সংকটাপণ্ন ওকে যদি দ্রুত গ্রেফতার করা না যায় তাহলে যে কোন মুহূর্তে সে ওকে মেরে ফেলবে। সুতরাং আমি খুব দ্রুত পজিটিভ রেজাল্ট চাই।
সাব্বির ফোন রেখে দিয়ে আরিয়ান কে ফোন করে বলল আগামীকালকে মাইশাকে নিয়ে থানায় আসতে।
মাইশা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা ঠান্ডা একটা বাতাস দুলে দুলে তার শরীরটাকে দুলিয়ে দিচ্ছে। বাতাসটা খুব ভালো লাগছে মাইশার। তবে সাব্বিরের কথাটা বারবার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে মাইশার। সাব্বির মাইশাকে মনে করতে না পারলেও মাইশা ঠিকই সাব্বিরকে মনে আছে।মাইশা চায় না পুরাতন সেই অধ্যায় টা মাইশার জীবনে আবার ফিরে আসুক।
হঠাৎ পিছন থেকে আরিয়ান এসে মাইশা কে এক টান দিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বলল,
------ এই মাইশা সত্যি করে বলতো তোকে ওই সাব্বির কি করে চেনে।
মাইশা কিছুটা থতমত খেয়ে বলল,
------ আমি কি করে জানব উনি আমাকে কি করে চিনে। হয়তো কারোর চেহারার সাথে আমার মিল পেয়েছে তাই হয়তোবা এই কথাটা বলেছে।
------ কেন কিভাবে তোকে চিনে সেটা কালকে থানায় গেলে বুঝতে পারবি।
----- মানে!
------ মানে হচ্ছে তোকে আর আমাকে সাব্বির থানায় ডেকেছে। কি যেন বলবে তাই।
কথাটা শুনে কিছুটা ঘাবড়ে গেল মাইশা। মাইশা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো,
------ আমি থানা যেতে পারবো না তুমি একাই চলে যেও।
------ না একদম না আমার সঙ্গে তোকেও যেতে হবে যেতে হবে মানে যেতে হবেই। কথাটা মনে রাখিস।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পরদিন সকালে ওরা দু'জন থানায় গেল। থানায় গিয়ে দেখল ওখানে রাফাত ও আছে। সাব্বির ওদেরকে বসতে বলল।
তারপর সাব্বির মাইশাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
------ মিস মাইশা আমি জানি আমি তোমাকে মনে করতে না পারলেও তুমি আমাকে ঠিকই মনে রেখেছো।
মাইশা কিছু বলছে না গুটিসুটি মেরে চুপচাপ বসে আছে।
------ কি মাইশা ঠিক বলছি তো।
আরিয়ান বলল,
------ আপনি আসলে কি বলতে চাচ্ছেন সোজাসুজি খুলে বলুন। আপনি কিভাবে মাইশা কে চেনেন আর মাইশা কি করে আপনাকে চিনে।
-------ঘটনাটা কি তুমি বলবে নাকি আমি বলব মাইশা।
------ মানে কি সব বলছেন আপনি কিসের ঘটনা।
------ ঠিক আছে তুমি যখন বলতেই চাইছো না, তাহলে আমিই শুরু করছি।
সাব্বির বলা শুরু করল।
------ আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে একটা পাচারকারী দল ঢুকেছিল এ শহরে। ছয় মাসে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ মেয়ে পাচার হয়ে গিয়েছিল এই শহর থেকে। বিভিন্ন জায়গার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল ওই পাচারকারী দেরকে ধরার জন্য। কিন্তু পুলিশ কিছুতেই সাকসেস হচ্ছিল না।
হঠাৎ একদিন একটা মেয়ে দৌড়ে এসে বলল, তার এক বান্ধবীকে কিছু লোক ধরে নিয়ে গেছে সে কোন রকমে পালিয়ে থানায় চলে এসেছে বিধায় তাকে ধরতে পারে নি। আমি সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোলে জানিয়ে দিয়েছিলাম সবাইকে সতর্ক থাকতে। সর্বশেষে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় আর ওই মেয়েটার সাহায্যে আমরা সেই পাচারকারীর ডান হাতকে ধরতে পারি। আর ওই মেয়েটাকে ও উদ্ধার করতে পারি। সেই পাচারকারীকে অনেক কষ্টে কোর্ট পর্যন্ত তুলেছিলাম কিন্তু সে অহংকারের সাথে বলেছিল তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ জোগাড় করতে পারবে না আর কখনো তার কোনো শাস্তিও হবে না।
শেষে সেই মেয়েটা বলল সে সাক্ষী দেবে।তার যা যা করা দরকার সবটাই করবে ওদেরকে শাস্তি পাওয়ার জন্য। সর্বশেষ সেই মেয়েটা সাক্ষীতে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো। পাঁচ দিন রিমান্ডে তিন দিন যেতেই সে গর গর করে সমস্ত কথা বলে দিল। তাদের আস্তানা নাম ঠিকানা সমস্ত কিছু বলে দিয়েছিল। সবাইকে আমার ধরতে সক্ষম হয়েছিলাম শুধু পালের গোদাকে আমরা হাতের নাগালে পাইনি। তবে খুব তাড়াতাড়ি তাকেও পেয়ে যাব আমাদের মিশন চলছে এবং খুব তাড়াতাড়ি তার সাকসেসফুল হবে। এখন মিস্টার আরিয়ান আপনি হয়তোবা প্রশ্ন করতে পারেন একথা আমি কেন আপনাকে বলছি এর সাথে আপনাদের বা মাইশার কি সম্পর্ক।
------- হ্যাঁ অবশ্যই এখানে মাইশার কি সম্পর্ক সেটা অবশ্যই আমাকে জানতে হবে।
সাব্বির মাইশার দিকে তাকিয়ে বলল,
-------কি মাইশা এখনো চুপ করে থাকবে নাকি বাকিটা তুমি বলবে।
মাইশা এইবার মুখ খুলল,
------- হ্যাঁ সেই মেয়েটা আমিই ছিলাম। আমি সাক্ষী দিয়েছিলাম ওদের বিরুদ্ধে।আর আমার সাক্ষীতেই ওরা ধরা পড়েছিল আর ওদের শাস্তি হয়েছিল। তুমি তখন স্কলারশিপ পেয়ে বাহিরে গিয়েছিলে তাই তুমি কিছুই জানো না। আমি মামা আর মামীকে নিষেধ করেছিলাম এ ব্যাপারে তোমাকে জানাতে তাই তারা আজও পর্যন্ত তোমাকে এই ব্যাপারে কিছুই জানায় নি।
কথাগুলো শুনে আরিয়ান আর রাফাত ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছে মাইশার দিকে। মাইশা এত কিছু করেছে অথচ আরিয়ানের কিছুই জানেনা।
সাব্বির আবার বলা শুরু করল,
------- এবার মূল কথায় আসা যাক। আমি এতদিন কেস টাকে নিয়ে অন্ধকারে হাতড়ে মরছিলাম। যখনই মাইশাকে দেখি এবং কিছু ফাইল আমি ঘাটাঘাটি করি তখনই আমার কাছে সম্পূর্ণ ক্লিয়ার হয়ে গেল কেন কেউ মাইসাকে আক্রমণ করছে, মারার চেষ্টা করছে আর ওই গাড়িটা পোড়া থেকে শুরু করে গাড়িতে পোড়া লাশ এই সব কিছু কেন হচ্ছে।
------ কেন হচ্ছে।
------ এর কারণ হচ্ছে মাইশা। কারণ মাইশার সাক্ষীতে ওদের শাস্তি হয়েছে। পাচারকারী দলের প্রধানের ব্যবসার নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সে একজনকে হায়ার করেছে মাইশাকে মেরে ফেলার জন্য। বলতে পারেন রিভেন্স।
রাফাত সাব্বিরকে জিজ্ঞেস করল,
------ এখানে আমাকে ফাঁসানোর কারণ কি।
------ কারন আপনি আরিয়ানের বন্ধু। ও চেয়েছিল মাইশা কে সহ ওর সাথে জড়িত প্রত্যেকটা লোককে কঠিনভাবে প্যাচে ফেলতে। এমন ভাবে ফাঁসাতে যাতে করে ওরাও জেলে যায়। কিন্তু আমার আফজালের জন্য আফসোস হচ্ছে মাঝখান থেকে ওর জীবনটা গেল। তবে আপনি চিন্তা করবেন না খুব দ্রুত আমরা তাকে ধরে ফেলব আমাদের মিশন চলছে। তবে মাইশা তোমাকে সব দিক থেকে সতর্ক থাকতে হবে সব সময়। তোমার অনেক লাইফ রিক্স আছে।
কিছুদিন পর, পুলিশের অনেক প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত পাচারকারী দলের প্রধানের পেয়েছিল পুলিশ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়েছে পালিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে সাব্বির মাইশা আর আরিয়ানকে সতর্ক করে নিলো যেন তারা সতর্ক থাকে। কারণ সে আবার তার তান্ডব শুরু করবে মাইশা আর তার কাছের মানুষগুলোর উপর।
কি হতে চলেছে জানতে হলে সিজন-২ এর জন্য অপেক্ষা করুন।ভালো থাকবেন সবাই আল্লাহাফেজ।
প্রেম আমার (শেষ পর্ব)
1.05K
Views
24
Likes
7
Comments
4.4
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (7)
Apu apnar golpo guli onek shundor
তাড়াতাড়ি সিজন ২ দেন এত দেরী ভাল লাগে না 🥺🥺🥺প্লিজ তাড়াতাড়ী দিবেন আপু। 💜💜💜😭😭😭😭😭😭😭😭
please taratari season 2 diben,,,,,,I want to read
সিজন,, 2 কবে আসবে
আমি সিজন টু পড়তে চাই
সিজন 2 তারাতারি ছারলে ভালো হতো। প্লিজ প্লিজ
সিজন টু দ্রুত দিন