লেখকের নিবেদন ও শেষ কথাঃ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার, যিনি আমাকে জীবন দিয়েছেন, পরীক্ষা দিয়েছেন, ধৈর্য ধরার তাওফিক দিয়েছেন এবং আবার নতুন করে শুরু করার সাহস দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর।
‘ভাঙা স্বপ্নের পরে’ শুধু একটি উপন্যাস নয়; এটি আমার জীবনের অনুভূতি, উপলব্ধি, ভাঙা স্বপ্ন, ভুল থেকে শেখা শিক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি ফিরে আসার একটি দীর্ঘ পথচলার সাহিত্যিক রূপ।
এই বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ে আনন্দ আছে, কষ্ট আছে, আশা আছে, নিরাশা আছে, ভালোবাসা আছে, আবার বিচ্ছেদও আছে। কিন্তু সবকিছুর ঊর্ধ্বে একটি বিষয় রয়েছে— আল্লাহর প্রতি ভরসা।
আমি কখনো এই বইকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা প্রতিশোধের ভাষা বানাতে চাইনি। বরং জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতা পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি, যা হয়তো অন্য কোনো মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে।
এই উপন্যাসে ব্যবহৃত চরিত্র, স্থান ও ঘটনার অনেক অংশ ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখার জন্য পরিবর্তন, সংযোজন ও সাহিত্যিক রূপান্তর করা হয়েছে। তাই বাস্তব জীবনের সঙ্গে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া গেলে সেটিকে সম্পূর্ণ কাকতালীয় হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ রইল।
আমার বিশ্বাস, মানুষ যত বড় কষ্টই পাক না কেন, যদি সে আল্লাহকে আঁকড়ে ধরে, তবে একদিন না একদিন সে আবার দাঁড়াতে পারবে। হয়তো আগের জায়গায় নয়, কিন্তু আরও পরিণত, আরও শক্ত এবং আরও সচেতন একজন মানুষ হিসেবে।
এই বইটি আমি উৎসর্গ করছি সেই সব মানুষদের, যারা জীবনের কোনো না কোনো সময় ভেঙে পড়েছেন, বিশ্বাস হারিয়েছেন, প্রিয় মানুষকে হারিয়েছেন, কিংবা মনে করেছেন— আর বাঁচার কোনো কারণ নেই। আপনাদের উদ্দেশে শুধু একটি কথাই বলতে চাই—
আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হবেন না।
হয়তো আজকের কান্নাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় রহমতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
সবশেষে আমার বাবা-মায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তাঁদের দোয়া, ত্যাগ, ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ সমর্থন ছাড়া আমি আজকের আমি হতে পারতাম না। তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আজীবনের।
---
শেষ কথা
‘ভাঙা স্বপ্নের পরে’ মোট ২৮টি অধ্যায়ে রচিত একটি উপন্যাস। এটি কোনো মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগের বই নয়।
এটি প্রতিশোধের গল্পও নয়।
এটি একজন অল্পবয়সী মানুষের বড় হয়ে ওঠার গল্প।
এমন একজন মানুষের গল্প, যে খুব অল্প বয়সেই শিখে ফেলেছিল— মানুষের হাসির আড়ালেও গভীর কষ্ট লুকিয়ে থাকতে পারে; প্রতিশ্রুতি সব সময় সত্যি হয় না; আর ভালোবাসা পেলেই জীবনের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায় না।
জীবনের একটি সময় আমি সত্যিই ভেবেছিলাম— সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। মনে হয়েছিল, আমার স্বপ্ন শেষ, আমার পথ শেষ, আমার ভবিষ্যৎও শেষ।
কিন্তু আজ বুঝি—
আল্লাহ যখন একটি দরজা বন্ধ করেন, তখন তিনি হয়তো এমন একটি দরজা খুলে দেন, যা আমরা তখনও দেখতে পাই না।
আমি হারিয়েছি।
অনেক স্বপ্ন হারিয়েছি।
অনেক পরিকল্পনা ভেঙে যেতে দেখেছি।
যে মানুষটিকে একদিন নিজের ভবিষ্যৎ ভেবেছিলাম, সেও আজ শুধু একটি স্মৃতি।
তবুও আজ আর আমি কাউকে দোষ দিই না।
কারণ সময় আমাকে শিখিয়েছে—
ক্ষমা করতে পারা দুর্বলতার নয়, বরং শক্তির পরিচয়।
আজও কিছু রাত আছে, যখন পুরোনো স্মৃতিগুলো নীরবে ফিরে আসে।
আজও কিছু রাস্তা, কিছু গান, কিছু পরিচিত জায়গা আমাকে থমকে দাঁড় করিয়ে দেয়।
আজও কখনো কখনো মনে হয়— যদি কিছু ঘটনা অন্যভাবে ঘটত!
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই আরেকটি কথা মনে পড়ে—
আল্লাহ কখনো ভুল করেন না।
মানুষ আজকে দেখে।
আল্লাহ আজ, আগামীকাল এবং তারও পরের দিন দেখেন।
হয়তো যাকে আমি হারানো ভেবেছিলাম, সেটাই ছিল আমার রক্ষা।
হয়তো যে কষ্ট আমাকে ভেঙে দিয়েছিল, সেই কষ্টই আমাকে আমার রবের আরও কাছে নিয়ে এসেছে।
যদি এই বই পড়ে কোনো একজন মানুষও জীবনের কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরতে শেখে, আবেগের মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে, কিংবা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে শেখে— তাহলেই আমার এই লেখা সার্থক হবে।
যারা ভালোবাসছেন, তাদের উদ্দেশে শুধু একটি কথা বলতে চাই—
ভালোবাসুন, কিন্তু নিজের স্বপ্ন হারিয়ে নয়।
পরিবারকে অবহেলা করে নয়।
নিজের আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে নয়।
আর সবচেয়ে বড় কথা—
নিজের রবকে ভুলে নয়।
জীবনে এমন সময় আসতে পারে, যখন সবাই চলে যাবে।
বন্ধুরা বদলে যাবে।
প্রিয় মানুষ দূরে সরে যাবে।
স্বপ্ন ভেঙে যাবে।
কিন্তু একজন কখনো ছেড়ে যান না।
তিনি আল্লাহ।
তাঁর ওপর ভরসা রাখুন।
আমি জানি না, ভবিষ্যতে আমার জীবন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।
আমি জানি না, আমি আবার রাজনীতিতে ফিরব কি না।
আমি জানি না, ব্যবসায় সফল হতে পারব কি না।
আমি শুধু জানি—
আমি আবার শুরু করব।
শূন্য থেকে।
কারণ একজন মুমিনের জীবনে নিরাশার কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই।
যে মানুষ একবার ভেঙে পড়েও আবার উঠে দাঁড়ায়, সে আর আগের মানুষ থাকে না।
সে আরও পরিণত হয়।
আরও শক্ত হয়।
আর আমার বিশ্বাস—
ভাঙা স্বপ্নের পরেও, আল্লাহ চাইলে নতুন স্বপ্ন জন্ম নেয়।
সেই নতুন স্বপ্ন নিয়েই আমি সামনে এগিয়ে যেতে চাই।
আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পথে অবিচল থাকতে পারি এবং আল্লাহ তাআলা আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা করে আমাকে উত্তম জীবনের তাওফিক দান করেন।
ওয়ামা তাওফীকী ইল্লা বিল্লাহ।
আমার সকল সফলতা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
আল্লাহ আমার জন্য যা উত্তম, সেটাই যেন আমার ভাগ্যে লিখে দেন।
আমীন।
— লেখক
আব্দুল্লাহ বিন মালিক
ভাঙা স্বপ্নের পরে — শেষ পর্ব
36
Views
0
Likes
0
Comments
0.0
Rating
কোন মন্তব্য নেই