বাক্সবন্দী স্মৃতি (১৫তম পর্ব)

আমি এদিকে ওদিকে ভালো করে আরেকবার দেখে নিয়ে এরপর ব্যাগটার দিকে আস্তে আস্তে এগোতে লাগলাম। ব্যাগটা হাতে নিতেই দেখি কিছু একটা নড়াচড়া করছে। তাই ঝটপট ব্যাগের মুখটা খুলে দিতেই তো আমি রীতিমতো অবাক।

দেখলাম ছোট্ট একটা বিড়াল ছানা ব্যাগটার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসলো। ব্যাগ থেকে বেরিয়েই বেচারা আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে‌ ‌। সত্যি বলতে অমন নিষ্পাপ চাহনি দেখে আমিও আর ওকে একা রাস্তায় ফেলে এগিয়ে যেতে পারছিলাম না। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার সময় ওকে এখন নিয়েই বা যাই কি করে।

এসব ভাবতে ভাবতেই দেখি ছানাটা আমার পায়ের কাছে এসে মিউ মিউ করে ডাক ছাড়ছে। এটা দেখে আমার খুব মায়া হলো। তৎক্ষণাৎ আমি ওকে কোলে তুলে নিয়ে আবার বাড়ির পথে রওনা দিলাম। এক ছুটে দৌঁড়ে এসে বাড়ি পৌঁছানো মাত্রই মা কে ডাকতে লাগলাম। দুয়েকটা ডাক দিতে না দিতেই মা এসে হাজির।


আমাকে এভাবে স্কুলে না গিয়ে আবার বাসায় ফিরতে দেখে মা বললেন -" কি রে স্কুলে না গিয়ে আবার ফিরে এলি যে ! আর তোর কোলে থাকা ঐ বিড়াল ছানাটিকে কোথায় পেলি?"

আমি তখন মা কে বললাম -" এখন এত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নেই। আমার স্কুলে যেতে দেরী হয়ে যাচ্ছে। আর তুমি এই ছানাটিকে আপাতত বাড়িতেই রাখো আর ওকে কিছু খেতে দাও। আমি স্কুল থেকে এসে ওর একটা ব্যবস্থা করছি।"

এটা বলেই মায়ের হাতে বিড়াল ছানাটিকে দেয়া মাত্রই আমি দৌঁড় দিলাম স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। মা ও আমাকে আর কোনো পাল্টা প্রশ্ন করলো না। শুধু বললো সাবধানে যাস আর তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরিস।


স্কুলে দেরি হওয়ার ভয়েতে সারাটা রাস্তা দৌঁড়ের ওপরেই থাকলাম। কারণ স্কুলে সময় মতো পৌঁছাতে না পারলে ক্লাস টিচার আবার বাইরে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখবে । তো যাই ই হোক অবশেষে পুরোটা রাস্তা দৌঁড়াতে দৌঁড়াতেই স্কুলে এসে উপস্থিত হলাম।

হন্তদন্ত হয়ে ক্লাসরুমে ঢুকেই বেঞ্চে ব্যাগটা রেখে দম নিতে লাগলাম। এদিকে তখনও ক্লাস টিচার ক্লাসে আসেনি বলে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

কিছুক্ষণ পরেই দেখি আমার ঠিক দুই বেঞ্চ সামনেই অয়ন্তি বসে। চুপচাপ আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। অয়ন্তির চোখে চোখ পড়তেই আমি ওরদিকে তাকিয়ে একটু মৃদু হাসি দিলাম। দেখলাম অয়ন্তি তখনও আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।

এবারে আমি ব্যাগ থেকে অয়ন্তির প্রাক্টিক্যাল খাতা বের করে ওকে দেওয়ার জন্য ওর কাছে যেতে লাগলাম। অয়ন্তির বেঞ্চের কাছে গিয়ে খাতাগুলো ওর হাতে দিয়ে ওর পাশে বসলাম। তখনও অয়ন্তি চুপচাপ বসে রইলো।

এবারে আমি ওকে বললাম - " অয়ন্তি , আজ ছুটির পর আমার জন্য একটু অপেক্ষা করবে? তোমাকে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আছে। প্লিজ না কোরো না। আজকে অন্তত আমাকে একটু সময় দিও তোমাকে আমার মনের কথাগুলো বলার। "

আজ যেন অয়ন্তিকে বাকি দিনগুলোর থেকে একটু অন্যরকম লাগছিলো। আমার বলা কথাগুলো শোনার পর অয়ন্তি বললো-" আচ্ছা বেশ , ছুটির পর আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।" এই বলেই অয়ন্তি আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিলো।

বহুদিন পর যেন অয়ন্তিকে আবার এভাবে হাসতে দেখলাম। মনে মনে ভাবলাম তাহলে হয়তো এতদিনে অভিমানটা কিছুটা হলেও কমেছে।


এরপরেই ক্লাসে স্যার এসে পড়েন। তাই আমার আর অয়ন্তির কথোপকথন বেশি একটা দীর্ঘায়িত হওয়ার সুযোগ পায় না।

এদিকে ক্লাস শেষে কখন ছুটি হবে আমি যেন সেই সময়টারই অপেক্ষা করতে লাগলাম। আর অয়ন্তিকে কি বলবো সেই কথাগুলো মনে মনে সাজিয়ে নিতে লাগলাম।

চলবে.......
632 Views
5 Likes
5 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(3)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (5)

Reader photo
Unknown
09-Jun-2025, 04:01 PM

পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম মিস্টার ❤️

Reader photo
Hima Talukder
20-Apr-2025, 04:51 PM

next part koi

তমাল কৃষ্ণ মৃধা
তমাল কৃষ্ণ মৃধা
20-Apr-2025, 04:54 PM

পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই আসছে। আমার পরীক্ষা থাকায় লেখার সময় করে উঠতে পারিনি তবে খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব দিয়ে দেবো। আর এই পর্যন্ত গল্পটা ধৈর্য্য সহকারে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ 💚

Reader photo
Sagor
21-Feb-2025, 12:26 AM

ছোট বোনের মতো ক্ষমা করে দিন

Reader photo
Sagor
20-Feb-2025, 11:45 PM

কেমন আছেন

Reader photo
Sagor
20-Feb-2025, 11:45 PM

পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম

সকল পর্ব