দিন যতই যেতে লাগলো ততই যেন আমাদের মধ্যেকার বন্ধুত্ব আরো গভীর হতে লাগলো। কেন না জানি অয়ন্তির সাথে সময় কাটাতে তখন আমার খুবই ভালো লাগতো। ক্লাসে যাওয়া থেকে শুরু করে কোচিং করা প্রায় সারাটা দিনই তখন অয়ন্তির সাথেই সময় কাটতো আমার। এমনকি বেশ গভীর রাত পর্যন্তও অনলাইনে চলতো আমাদের কথোপকথন।
আস্তে আস্তে যেন আমি অয়ন্তির মায়ায় জড়িয়ে যেতে লাগলাম। আর এই ব্যাপারটা আমি বুঝতেও পারছিলাম কিন্তু তখন অয়ন্তির থেকে দূরে থাকাও যেন আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়লো। কিন্তু আমি জানতাম আমি যদি এই মায়া কাটিয়ে উঠতে না পারি তাহলে অদূরে আমাকেই আরো কষ্ট পেতে হবে।
একদিন বিকালে কোচিংয়ের স্যার অনুপস্থিত থাকায় তাড়াতাড়িই কোচিং থেকে ছুটি পেয়ে যাই। সেদিন অয়ন্তির গাড়িও আসেনি কারণ অয়ন্তির মা ওদের গাড়িটা নিয়ে মার্কেটে গিয়েছিলো। তাই অয়ন্তি আমাকে বললো আমরা দুজনে মিলে আজ যেন কোথাও কাছেপিঠে ঘুরে আসি।
প্রথম প্রথম আমি না করেছিলাম। কারণ আমি তখন এটা ভেবে ভয় পাচ্ছিলাম যে আমরা দুটো ছেলে মেয়ে একা একা কোথাও ঘুরতে গেলে আমাদের পরিচিতি কেউ দেখে ফেললে বা বন্ধু-বান্ধব দেখে নিলে পরে তারা না আবার ভুল বুঝে বসে আমাদের।
তখন আমি অয়ন্তিকে বার বার বোঝানোর চেষ্টা করি যাতে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাই। কিন্তু অয়ন্তি জেদ করেই বসে। তাই নিরুপায় হয়ে অবশেষে আমি আর অয়ন্তি মিলে সেই বিকালে কাছেই একটা দীঘির পাড়ে ঘুরতে যাই।
দীঘির পাড়ের মনোরম পরিবেশ আর বিশুদ্ধ বাতাসে আমাদের দুজনেরই মনটা যেন জুড়িয়ে গেলো। অয়ন্তিকে দেখে বোঝাই যাচ্ছিলো যে সে খুব উপভোগ করছিলো দীঘিরপাড়ের এমন সুন্দর মনোমুগ্ধকর পরিবেশটাকে।
তখন দীঘিরপাড়ের দমকা বাতাসে অয়ন্তির চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় ওকে যেন আরো বেশি সুন্দর লাগছিলো ঐদিন। ওর দিকে তখন বেশ কিছুক্ষণ ধরে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম। আমাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অয়ন্তি বলে উঠলো- " ধ্রুব! অমন করে আমার দিকে তাকিয়ে কি দেখছো?"
অয়ন্তির স্বর শুনেই আমি ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে আসলাম। আমার টনক নড়তেই আমি থতমত খেয়ে বললাম -" আরে না তেমন কিছু না। এমনিই আজ যেন তোমাকে আরো অনেক বেশি সুন্দর লাগছিলো। তাই আরকি...."
আমার কথা শুনে অয়ন্তি সলজ্জভাবে হেসে বললো - " তুমিও না মাঝেমধ্যে কি যে ভাবনার জগতে হারিয়ে গিয়ে ভুলভাল সব বকতে থাকো তা কেবল তুমিই জানো।"
এই কথা বলে অয়ন্তি হেসে উঠলো আর ওর সাথে সাথে আমিও মৃদু হাসলাম আর একসাথে দীঘির পাড়ে হাঁটতে লাগলাম।
আমরা বেশ কিছুক্ষণ দীঘিরপাড়ে একে অপরের হাত ধরে হাঁটার পর যখন বসলাম। তখন আচমকাই অয়ন্তি দীঘিরপাড়ে থাকা ঘাসফুল তুলে আমার সামনে ধরে বলে উঠলো-" I love you, ধ্রুব। "
এমন কথা শুনে আমি হঠাৎ বসা থেকে লাফিয়ে উঠলাম। অয়ন্তিকে কি বলবো কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। তখন আমার ফ্যাকাশে মুখটা দেখে অয়ন্তি হাসতে লাগলো আর বলে উঠলো -" আরে বুদ্ধু আমিতো মজা করছিলাম। তুমি তো দেখছি খুব ভীতু। আমার কথা শুনতেই কেমন ভয় পেয়ে গেছো। "
এই বলেই আবার হাসতে লাগলো। ততক্ষণে আমিও একটু স্বাভাবিক হয়ে বললাম -" আচ্ছা অনেক মজা ফাজলামি হয়েছে। এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে। তাই আমাদের বাড়ি ফিরে যাওয়া উচিত।"
তারপর যদিও অয়ন্তি আরো কিছুক্ষণ দীঘিরপাড়ে থাকার বায়না করছিলো কিন্তু আমি জোর করে সেখান থেকে তাকে নিয়ে চলে আসি।
এরপর ঐদিন রাতে অয়ন্তি আমাকে ম্যাসেঞ্জারে জিজ্ঞেস করলো -" আচ্ছা ধ্রুব, তোমার পছন্দের রঙ কি?"
আমি বললাম -" নীল আর সবুজ। কিন্তু কেন?"
অয়ন্তি বললো-" এখন কিছু বলবো না। একটা সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য। আর দুদিন পরেই তো পহেলা বৈশাখ। তখনই না হয় তোমাকে তোমার সারপ্রাইজ গিফটটা দেবো। "
অয়ন্তির কাছে সারপ্রাইজের কথা শুনে আমি আরো কৌতুহলী হয়ে ওকে বার বার জিজ্ঞেস করতে থাকলাম কি সেই উপহার। কিন্তু সে আমাকে কিছুই বললো না। শুধু বললো পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে।
চলবে......
###
( এই পর্যন্ত গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। সেই সাথে সাথে গল্পটার পরবর্তীতে কি হতে চলেছে সেটা অনুমান করে জানিয়ে দিন কমেন্ট বক্সে। আর খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে। ধন্যবাদ 🥰)
বাক্সবন্দী স্মৃতি (সপ্তম পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
340
Views
8
Likes
2
Comments
5.0
Rating