এরপর থেকে প্রতিদিনই ক্লাসে গিয়ে কেন জানিনা শুধু অয়ন্তির আসার অপেক্ষা করতাম। একটা অজানা ভালোলাগা কাজ করতো তখন। তবে এটা ভালোবাসা নাকি নিছকই ভালো লাগা সেটা তখনো আমি জানতাম না।
এরপর একদিন ক্লাসের এক কোণে বসে আমি চুপচাপ ছবি আঁকছিলাম ঠিক তখনই কে যেন আমার পিছনে এসে আচমকাই আমাকে ধাপ্পা দিলো। আমি চমকিয়ে পিছনে ফিরে তাকাতেই দেখি অয়ন্তি দাঁড়িয়ে আর মুখ বুজে হাসছে।
আমি তখন নিজেকে সামলে স্বাভাবিক ভাবেই বললাম - " কিছু কি বলবেন?"
অয়ন্তি বলে উঠলো -" হ্যাঁ বলতাম। তবে তার আগে এই আপনি আপনি বলাটা ছাড়ো। ক্লাসমেটদের সাথে আপনি আপনি বলাটা ঠিক মানানসই নয়।"
আমি বললাম -" দেখুন অপরিচিতদের সাথে আমি আপনি আপনি করেই বলে থাকি। অনেকদিনের অভ্যাস তো , পরিবর্তন হতে সময় লাগবে। আর তাছাড়াও এক ক্লাসে পড়লেও আমরা তো এখনো একে অপরের অপরিচিত। তাই না?"
আমার মুখে এই কথাটা শুনে অয়ন্তি কিছুক্ষণ নীরবে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর বললো -" বেশ তো । আমরা যখন অপরিচিত তাহলে কি পরিচিত হওয়া যায় না?"
ওর এই প্রশ্নের কি উত্তর দেবো ভাবতে ভাবতেই আবার অয়ন্তি বলে উঠলো-" আর শোনো তুমি যেহেতু আমার ক্লাসমেট আমি কিন্তু তোমাকে আপনি আপনি বলতে পারবো না। আর তুমিও আমাকে তুমি করেই সম্বোধন করবে। ঠিক আছে?"
অয়ন্তি যখন শাসনের স্বরে এই কথাগুলো বলছিলো তখন আমি ওর চোখ দুটোর মায়ায় ডুবে ছিলাম আর ভাবছিলাম যে কত সহজেই যেন মেয়েটা আমার ওপর অধিকার খাটিয়ে কথাগুলো বলছে। যেন আমি ওর অনেকদিনকার পরিচিত কেউ।
এদিকে অয়ন্তির কথা শেষ হতেই আমি কেবল নীরবে মাথা নেড়ে ওর কথার সাথে সম্মতি জানালাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম -" এখন বলো কি বলতে এসেছিলে তখন ?"
অয়ন্তি তখন আমার পাশে বসলো আর বিনয়ের সাথে বললো-" ক্লাসের সবার কাছে শুনেছি তুমি নাকি খুব ভালো ছবি আঁকতে পারো। কিন্তু আমি একদমই ছবি আঁকতে পারি না। তাই তুমি যদি আমার জীববিজ্ঞানের প্রাক্টিক্যাল খাতার ছবিগুলো এঁকে দিতে তাহলে আমার খুব উপকার হতো। এখন বলো তুমি কি পারবে আমার জন্য এই ছবিগুলো এঁকে দিতে।"
আমার তখন কোনো সাধ্য ছিল না অয়ন্তির অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়ার। আর এমনিতেও ক্লাসের অনেকেরই প্রাক্টিক্যাল খাতায় আমিই ছবি এঁকে দিতাম। তাই এ আর নতুন কি। এই ভেবেই আমি বললাম -" তা বেশ। আমি না হয় তোমার জন্য ছবি এঁকে দেবো। তুমি সময় করে তোমার খাঁচাগুলো আমার কাছে নিয়ে এসো।"
এটা শোনার পর অয়ন্তি একটা স্বস্তির হাসি হেসে বললো-" আমি তাহলে আগামীকাল তোমার জন্য খাতাগুলো নিয়ে আসবো।" তখন অয়ন্তিকে হাসতে দেখে বার বার মনে হচ্ছিলো - এভাবেই যদি সারাটা জীবন ধরে অয়ন্তির হাসিমাখা মুখটা দেখতে পারতাম!
যখন এসব ভাবছিলাম আর অয়ন্তিকে নিয়ে দিবাস্বপ্নে বিভোর ছিলাম তখনই আমার সেই সুন্দর স্বপ্নে ব্যাঘাত ঘটিয়ে ক্লাসে স্যার এসে পড়লেন । অয়ন্তিও দৌঁড়ে নিজের বেঞ্চে গিয়ে বসলো। ঐদিন অয়ন্তির সাথে স্কুলে বসে কথা বলার আর সুযোগই হয়ে উঠলো না।
ঐদিন বিকালে কোচিংয়ে গিয়ে যখন স্যার আসার অপেক্ষা করছিলাম ঠিক তখনই দেখলাম অয়ন্তিও কোচিংয়ে এসে উপস্থিত। আমি রীতিমতো অবাক হয়ে যাই ওকে দেখে। আমি ভাবতেও পারিনি ওর সাথে কোচিংয়ে আমার দেখা হয়ে যাবে। তবে অয়ন্তিকে দেখে আমি মনে মনে যতই খুশি হই না কেন ওর সামনে একদম স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলাম।
চলবে......
###
(গল্পটা পড়ে আপনাদের অনুভূতি এবং মূল্যবান মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ সবাইকে 🥰 আপনাদের উৎসাহই আমার নতুন করে লেখার অনুপ্রেরণা)
বাক্সবন্দী স্মৃতি (দ্বিতীয় পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
450
Views
10
Likes
1
Comments
4.6
Rating