আজ যখন বহুদিন পরে বাড়ির পুরানো জিনিসপত্র আর ঘরে থাকা জন্জ্ঞাল পরিষ্কার করতে ব্যস্ত ছিলাম- ঠিক তখনই পরিষ্কার করতে করতে হঠাৎ ঘরের আলমারির ওপরে কোণায় পড়ে থাকা একটা বাক্সের দিকে চোখ পড়তেই দৃষ্টি আটকে গেলো। এরপর আস্তে আস্তে সযত্নে সেই বাক্সটা তুলে নিয়ে এসে খাটের ওপর রাখলাম। একে তো বহুদিন আগের বাক্স তার ওপরে এতদিন ধরে পড়ে থাকায় খুব ধুলো ময়লা জমে গিয়েছিলো তার ওপরে। তাই তোয়ালে দিয়ে বাক্সটাকে কোনোমতে পরিষ্কার করেই বহু আগ্রহ নিয়ে বাক্সটা খুলতে উদ্যত হলাম।
অবশ্য এতদিন ধরে বহু জায়গায় বহুবার খুঁজেছিলাম বাক্সটা । কিন্তু তখন শত খোঁজাখুঁজির পরেও কোথাও খুঁজে পাইনি । আজ হয়তো কপাল জোরে অজান্তেই বাক্সটার দেখা পেয়ে গেলাম।
সত্যি বলতে এই বাক্সটিতে বন্দি হয়ে আছে আমার অতীতের এক স্মৃতি। যা এখনো আমার মনে গেঁথে আছে আর হয়তো আজীবন ধরেই সেই স্মৃতি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। চাইলেও তাকে আমার পক্ষে ভুলে থাকা সম্ভব নয়। আর এই বাক্সের ভিতরেই গচ্ছিত আছে আমার বহু মূল্যবান এক গুপ্তধন। যার দাম আমার কাছে অমূল্য।
আসলে এই বাক্সটার ভিতরে ছিল এমন এক উপহার যা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। কারণ এই বাক্সবন্দি উপহার যেই মানুষটা আমাকে দিয়েছে, সে ছিল আমার জীবনের খুবই বিশেষ একজন । আজ হয়তো সে আমার কাছে নেই কিন্তু তার দেয়া এই স্মৃতিটুকুই আমার কাছে পড়ে রয়েছে।
এখন আপনারা হয়তো ভাবছেন যে আমি কিই বা এমন বাক্সবন্দী অমূল্য সম্পদের কথা বলছি আর যে আমাকে এই উপহার দিয়েছিলো তার সাথে আমার সম্পর্কটাই বা কি ছিলো? তাহলে এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আপনাদের ফিরে যেতে হবে আমার স্কুল জীবনের অতীতে। কারণ স্কুল জীবনের অতীতের সেই বিশেষ স্মৃতিটাই আজ আমার কাছে বাক্স বন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। আর এখন সেই বাক্স বন্দি স্মৃতিগুলোকেই আপানাদের সম্মুখে তুলে ধরতে যাচ্ছি ।
ঘটনাটা এখন থেকে প্রায় সাত বছর আগের।তখন আমি সবেমাত্র ক্লাস নাইনে উঠেছি। স্কুল জীবনে আমি বরাবরই ছিলাম খুব শান্ত আর ইন্ট্রোভার্ট টাইপের। খুব একটা বেশি কারো সাথেই তেমন কথা বলতাম না ।
ক্লাসে সবার সাথেই ভালোই সম্পর্ক ছিল । তবে আমি নিজের মতো চুপচাপ থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতাম। আর যেখানে ছেলে বন্ধুদের সাথেই তেমন একটা কথাবার্তা বলা হয়ে উঠতো না সেখানে মেয়েদের সাথে কথা বলার কথা তো ভাবতেও পারতাম না। আমার দু চারটা যাও ছেলে বন্ধু ছিল কিন্তু মেয়েদের সাথে কথা বলতে বরাবরই খুব ভয় করতো বলে মেয়ে বান্ধবীর সংখ্যা ছিল শূন্য।
মেয়েদের সাথে কথা বলতে গেলেই আমার হাত পা কাঁপতো। কেন জানি না ওদের সামনে গেলেই আমি আর কিছু বলতে পারতাম না। তাই মেয়েদের সাথে বরাবরই আমার একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকতো।
কিন্তু আমার জীবনেও যে কখনো নারীসঙ্গ লেখা থাকতে পারে তা অনুধাবন করতে সক্ষম হই যখন কিনা আমার জীবনে অয়ন্তির আগমন ঘটে।
ক্লাস নাইনে তখন আমাদের স্কুলে নতুন অনেকেই ভর্তি হয়। আর তার মধ্যে অয়ন্তিও একজন। আমার এখনো মনে আছে ক্লাসে প্রথম যেদিন অয়ন্তির সাথে আমার দেখা হয় সেদিন ওকে প্রথম দেখেই না জানি আমি কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি অনুভব করেছিলাম।
ওকে দেখার পরেই কেন জানিনা আমার চোখ আর ওর থেকে সরতেই চাইছিলো না সেদিন। ওর মায়াভরা দুটো চোখ, মুখে লেগে থাকা এক চিলতে হাসি আর ঠোঁটের ওপরে থাকা তিল - সবটা মিলেই যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি। সত্যি বলতে তো ওর রূপের সৌন্দর্য কখনো শব্দের দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
ঐদিনই প্রথম যেদিন আমি কোনো মেয়ের দিকে নিষ্পলকভাবে তাকিয়ে ছিলাম। যেন চোখই সরাতে পারছিলাম না ওর থেকে।
ইচ্ছা করছিলো নিজে থেকেই ওর সাথে কথা বলতে কিন্তু সাহস করে উঠতে পারিনি।
চলবে.....
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে। ধন্যবাদ 🥰)
বাক্সবন্দী স্মৃতি
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
747
Views
12
Likes
4
Comments
5.0
Rating