আমিও তাই অধীর আগ্রহে পহেলা বৈশাখের অপেক্ষায় রইলাম। দেখতে দেখতে দুদিন কেটে গেলো। এই দুদিনে অয়ন্তিকে যতবারই সারপ্রাইজের কথা জিজ্ঞেস করেছি ততবারই সে কথাটা এড়িয়ে গিয়েছে। তাই আমিও আর কিছুতেই নিজের কৌতুহল চেপে রাখতে পারছিলাম না। বার বার জানতে ইচ্ছে করলো পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমার জন্য অয়ন্তির সেই বিশেষ সারপ্রাইজটা কি। কিন্তু পহেলা বৈশাখের আগে তো সেটা জানারও কোনো উপায় ছিল না। তাই পহেলা বৈশাখ আসতেই যেন আমি আরো অধৈর্য হয়ে পড়লাম অয়ন্তির সারপ্রাইজ পাওয়ার জন্য।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছর আমাদের স্কুলের মাঠেই বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম নয়। এদিকে অয়ন্তি আমাকে আগেই বলে রেখেছিলো যে আজ এই বৈশাখী মেলাতেই নাকি সে আমাকে আমার সারপ্রাইজটা দেবে। তাই আমিও সেই বিকাল ৪:০০ টা থেকেই মেলার মাঠে এসে উপস্থিত। কিন্তু যার জন্য আসা তারই কোনো খোঁজ নেই।
এদিকে আমিও খুব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম সারপ্রাইজের আশায়। তাই অয়ন্তিকে দু তিনবার ফোনও দেই। কিন্তু প্রতিবারই সে আমার ফোন কেটে দিলো। প্রায় এক ঘন্টা ধরে মেলার মাঠে হাঁটাহাঁটির পর হঠাৎ টের পেলাম আমার ফোনে একটা ম্যাসেজ এসেছে। আর ম্যাসেজটা দিয়েছে অয়ন্তি।
ম্যাসেজটাতে বলা ছিল আমি যেন স্কুল মাঠের পাশে থাকা নদীর পাড়ে এসে পৌঁছাই। অয়ন্তি সেখানেই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
ম্যাসেজ পাওয়ার সাথে সাথেই আমি এক দৌঁড়ে নদীর পাড়ে গিয়ে উপস্থিত হলাম। কিন্তু কোথাও কেউ নেই।
এমন সময় অয়ন্তিকে আবার ফোন করতেই যাবো তখনই আমার পিছন থেকে কেউ এসে আমার চোখ চেপে ধরলো। হাতের স্পর্শেই অনুভব করতে পারলাম যে পিছনে দাঁড়িয়ে অয়ন্তি।
তাই চোখ খুলে পিছনে ঘুরে তাকাতেই দেখি অয়ন্তি একটা নীল রঙের শাড়ি পড়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে। হাতে তার সবুজ কাঁচের চুড়ি আর কপালে একটা ছোট্ট লাল টিপ।
অয়ন্তি এমনিতেই অনেক সুন্দরী ,তার ওপরে আজ তার এমন সাজ দেখে আমি যেন ওর থেকে চোখই সরাতে পারছিলাম না। অয়ন্তির রূপের মোহে যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম সেদিন।
হঠাৎ করেই তখন অয়ন্তি বলে উঠলো -" কি কেমন লাগলো আমার এই সারপ্রাইজটা? আর তোমার পছন্দের রঙের শাড়িতে আমাকে কেমন মানিয়েছে?"
ওর প্রশ্ন শুনে আমার হুঁশ ফিরলো। তখন শুধু বললাম -" কিছু কিছু সৌন্দর্য কখনো শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। আর আজ তোমাকে সত্যিই এতই সুন্দর লাগছে যে তার প্রশংসা করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।তবে আমি সত্যিই কখনো ভাবতেও পারিনি যে তুমি আমাকে এমন এক সারপ্রাইজ দেবে।"
আমার মুখে এমন কথা শুনে অয়ন্তি এবার একটু লজ্জা পেয়ে গেলো আর বললো -" থাক অনেক হয়েছে কবি সাহিত্যিক মার্কা কথাবার্তা। এখন চলো মেলার মাঠে।"
তারপর আমি আর অয়ন্তি মেলার মাঠে বেশ কিছুক্ষণ ঘুরলাম। একসাথে ফুচকা, ঝালমুড়ি আর আইসক্রিম খেলাম।
তারপর অয়ন্তি বললো-" আচ্ছা ধ্রুব, মেলায় তো খাওয়া দাওয়া হলো এবার চলোনা দুজনে মিলে আবার নদীর পাড়ে কিছুক্ষণ হাঁটতে থাকি। এমনিতেও এখন এত লোকের ভিড়ে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।"
আমিও তখন বললাম - " বেশ তো তাহলে চলো নদীর পাড়েই যাওয়া যাক।"
চলবে.....
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের কেমন লাগলো সেটা জানাতে ভুলবেন না এবং সেই সাথে সাথে গল্পটি পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে। ধন্যবাদ 🥰)
বাক্সবন্দী স্মৃতি (অষ্টম পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
324
Views
8
Likes
1
Comments
5.0
Rating