ঐদিনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই টিফিন পিরিয়ডে আমি অয়ন্তির সাথে স্কুল ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াতাম। সত্যি বলতে তো ওর সাথে সময় কাটাতে আমারও ভালো লাগতো। ওর প্রতি আস্তে আস্তে একটা টান অনুভব করতে লাগলাম। ওর হাসি, ওর চোখ আর ওর বাচনভঙ্গি সবসময়ই ওর প্রতি আমাকে আকৃষ্ট করতো । তবে এই ব্যাপারটা বরাবরই ওর থেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করতাম।
এরপর একদিন রাতে হঠাৎই যখন পড়ালেখা পর খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফেসবুক ঘাটছিলাম তখনই দেখলাম একটা অপরিচিত মেয়ের আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসলো।
মেয়েটাকে চিনতে না পারায় আমি তখন তার রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করলাম না। এর কিছু পরেই দেখেই ম্যাসেঞ্জারে সেই অপরিচিত আইডি থেকেই ম্যাসেজ রিকোয়েস্ট এসেছে।
এবার আমি ভাবলাম হয়তো পরিচিত কেউ তবে আমি চিনতে পারছি না। এই ভেবে সেই ম্যাসেজ রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করে তাকে রিপ্লাই পাঠালাম।
বেশ খানিকক্ষণ পর সেই আইডি থেকে আবারো ম্যাসেজ আসলো। তাতে লেখা ছিলো -" যে ছেলেটা ক্লাসের ফার্স্ট বয় তার স্মৃতি শক্তি এতটাই দুর্বল যে সে আমাকেই চিনতে পারছে না।"
আমি তখন বললাম - " কে আপনি? আপনার সাথে কি আমি পূর্ব পরিচিত বা আপনি কি আমার কোনো ক্লাসমেট?"
তখন অপর প্রান্ত থেকে রিপ্লাই আসলো-" আজ্ঞে হ্যাঁ মশাই। আমি আপনারই ক্লাসমেট। কিন্তু কে সেটা বলবো না। আপনিই খুঁজে বের করুন।"
এরপর আমি বললাম -" দেখুন আপনি যদি আমার পরিচিত হয়ে থাকেন তাহলে প্লিজ হেঁয়ালি না করে নিজের পরিচয় দিন। অন্যথায় অযথা ম্যাসেজ করা বন্ধ করুন।"
এবার সে আমার পাঠানো ম্যাসেজটা শুধু সিন করলো কিন্তু কোনো রিপ্লাই পাঠালো না। এরপর প্রায় দশ মিনিট পর দেখি ঐ আইডি থেকে একটা ফটো পাঠিয়েছে। তো সেই ফটোটা ক্লিক করতেই আমি অবাক। দেখলাম সেটা অয়ন্তিরই একটা ছবি। ছবিতে সে লাল একটা শাড়ি পড়ে রয়েছে। সত্যি বলতে তখন লাল শাড়িতে অয়ন্তিকে কোনো অপ্সরার থেকে কম সুন্দর লাগছিলো না। তো যাই হোক এতক্ষণে আমার কাছে এটা পরিষ্কার হলো যে এই অপরিচিত আইডিটা কার।
তো আমি এবার অয়ন্তিকে ম্যাসেজ পাঠালাম। আর বললাম -" এটা যে তোমার আইডি তা আগে বললেই তো হতো। আগে বলোনি কেন? আর একটু আগে যে ছবিটা পাঠিয়েছো সেটা এই মুহূর্তে আনসেন্ট করো।"
অয়ন্তি বললো-" যাক অবশেষে তবে চিনতে পেরেছো। কিন্তু ছবি আনসেন্ট করতে বলছো কেন? আমাকে কি ছবিতে খুব খারাপ দেখাচ্ছে নাকি?"
আমি বললাম -" ভালো বা খারাপ দেখানোর কথা নয়। কথাটা হলো বিশ্বাসের। তুমি যেমন আমাকে বিশ্বাস করে ছবিটা পাঠিয়েছো আমিও তেমন তোমার বিশ্বাসের দাম রাখতেই তোমাকে ছবিটা আনসেন্ট করতে বললাম। আর এমনিতেও তুমি ছবির থেকে বাস্তবে দেখতে আরো অনেক বেশি সুন্দর।"
এরপর অয়ন্তি ছবিটাকে আনসেন্ট করলো আর তারপর আরো বেশ কিছুক্ষণ ধরে ম্যাসেঞ্জারে আমাদের মধ্যে কথা হতে লাগলো।
এরপর থেকে প্রায় প্রতি দিনই অয়ন্তির সাথে আমার অনলাইনে একটা দীর্ঘ সময় ধরে কথোপকথন চলতো। আর দিন যতই যাচ্ছিলো ততই আমাদের মধ্যেকার কনভারসেশনের সময়ও আরো দীর্ঘায়িত হতে লাগলো।
চলবে......
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। সেই সাথে সাথে লাইক এবং কমেন্ট করার জন্যও অনুরোধ রইলো। আপনাদের উৎসাহই আমাদের মতো লেখকদের নতুন করে লেখার অনুপ্রেরণা। তাই আপনাদের পাঠকদের পারস্পরিক সহযোগিতা আমাদের একান্ত কাম্য। ধন্যবাদ সবাইকে 🥰)
বাক্সবন্দী স্মৃতি (ষষ্ঠ পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
349
Views
12
Likes
6
Comments
5.0
Rating