বাক্সবন্দী স্মৃতি (১১তম পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
এরপর ঐদিন বিকালে আমি যথাসময়েই কোচিংয়ে গিয়ে উপস্থিত হলাম। তার সাথে সাথে অয়ন্তিকে দেবো বলে একটা চিঠিও লিখে নিয়ে আসি। কারণ সামনাসামনি কথা বলার সুযোগ না পেলেও কোনো এক সময়ে অয়ন্তির ব্যাগে ঐ চিঠিটা রেখে দেবো । যাতে অন্তত যে কোনো ভাবেই হোক আমার না বলা কথাগুলো অয়ন্তির কাছে পৌঁছে দিতে পারি।

কিন্তু সেদিন আর অয়ন্তি কোচিংয়ে আসেনি। অয়ন্তিকে কোচিংয়ে আসতে না দেখে আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। খুব আশা করে এসেছিলাম যে আজ অন্তত ওর সাথে একবার হলেও কথা বলবো। কিন্তু সেইই তো এলো না যার জন্য আজ এতো পরিকল্পনা করে রেখেছি। সেদিন কোচিংয়ে আর কিছুতেই মন বসাতে পারলাম না। কারণ মন তো ছিল তখন কেবল অয়ন্তির চিন্তাতেই মগ্ন । তাই সেদিন কোচিংয়ের ক্লাস শেষ হতেই সিদ্ধান্ত নিলাম অয়ন্তির বাড়িতে যাওয়ার।

ভাবলাম একবার অন্তত চোখের দেখা দেখে আসি মেয়েটাকে। এমনিতেও আজ কোচিংয়ে আসেনি বলে ওর জন্য খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো।
তাই তৎক্ষণাৎ কোচিং থেকে বের হয়েই রওনা হলাম অয়ন্তির বাড়ির উদ্দেশ্যে।


কিছুক্ষণ পর অয়ন্তির বাড়ির সামনে যেতেই ভাবলাম অয়ন্তিকে একটা ফোন করে বলি যে আমি ওর বাসার সামনেই দাঁড়িয়ে। ও যেন একবার বারান্দায় এসে আমার সাথে দেখা করে।
পরোক্ষণেই ভাবলাম না থাক ফোন দিলে হয়তো ফোনই রিসিভ করবে না। তার থেকে বরং একবারেই ওদের বাড়িতে গিয়ে ওর সাথে দেখা করা যাক।

এটা ভেবেই অয়ন্তির বাড়ির সামনে গিয়ে কলিং বেল বাজাতে লাগলাম। কলিং বেল বাজাতেই একজন পরিচারিকা এসে দরজা খুললো আর জিজ্ঞেস করলো আমি কে ।

আমি নিজেকে অয়ন্তির ক্লাসমেট বলে পরিচয় দিয়ে যখন জিজ্ঞেস করলাম যে অয়ন্তি বাড়ি আছে কিনা আর আজ কেনই বা সে কোচিংয়ে যায় নি।

তখন সেই পরিচারিকা বললো- হঠাৎ করেই অয়ন্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওর বাবা মা ওকে নিয়ে একটু হাসপাতালে গিয়েছে। আর তাই ওরা কেউই এখন বাসায় নেই।

এমনটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। বললাম -" অয়ন্তির কি হয়েছিলো?"

পরিচারিকা বললো -" ঐ হঠাৎ করেই মাথাব্যথা শুরু হয়েছিলো। ক্রমেই সেটা বেড়ে যাচ্ছিলো তাই তখনই তার বাবা মা তাকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছে। হয়তো আর কিছুক্ষণ পরেই ফিরে আসবে।"

আমি বললাম -" আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তাহলে আজ আসি।"
এই বলেই আমি অয়ন্তির বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম আর বাড়ির দিকে রওনা হলাম।

কিন্তু সারটা রাস্তাই যেন অয়ন্তির কথা ভাবছিলাম। হঠাৎ করেই মেয়েটার অসুস্থ হয়ে যাওয়ার খবরটা শুনে আমার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। তখন খুব ইচ্ছে করছিলো একবার হলেও অয়ন্তিকে সামনাসামনি দেখার। ওর সাথে দুটো কথা বলার।

এরপর আমি বাড়িতে ফিরে ঐদিন আর সারারাত কোনো কাজেই মন বসাতে পারলাম না। পড়ালেখাতেও মন বসছে না। মন কেবলই ব্যস্ত হয়ে রয়েছে অয়ন্তির চিন্তায়। একটু পর পরই অয়ন্তিকে ফোন দিচ্ছিলাম, অনলাইনে ম্যাসেজ করছিলাম কিন্তু কিছুতেই কোনো রিপ্লাই না পেয়ে দুশ্চিন্তা যেন আরো বাড়ছিলো।

রাতে খাবার টেবিলে মা জিজ্ঞেস করলো - " কিরে ধ্রুব! আজ তোকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে। ক্লাসে কোনো সমস্যা হয়েছে নাকি?"

আমি মায়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলাম না। শুধু বললাম -" তেমন কিছু না। সামনে পরীক্ষা তাই পড়ালেখার প্রেশার যাচ্ছে খুব।"
এই বলে খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়লাম। ঠিকমতো খেতেও মন চাইছিলো না। সারাক্ষণ ধরেই অয়ন্তির চিন্তায় ছটফট করছিলাম।


সেদিন রাতে অয়ন্তির চিন্তায় আর ঘুমাতেই পারলাম না। সারাটা রাত জেগে কেবল অয়ন্তির জন্যেই দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো।

চলবে.....
317 Views
5 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: