পরেরদিন আমি যখন স্কুলে গিয়ে টিফিন পিরিয়ডে একা একা ক্লাসরুমে বসে বই নিয়ে মগ্ন ছিলাম, ঠিক তখনই অয়ন্তি ক্লাসে প্রবেশ করলো আর আমার সামনে এসে দাঁড়ালো আর হাত বাড়িয়ে ওর জীব বিজ্ঞান প্র্যাকটিক্যাল খাতা দিলো। আমিও হাসিমুখে সেটা নিয়ে বললাম -" কবে খাতা দিলে হচ্ছে?"
অয়ন্তি বললো-" তোমার সুবিধা মতো এঁকে কয়েকদিন পর দিলেই হবে।"
ওর উত্তর শুনে আমি আবার বই পড়াতে মন বসাতে যাবো ঠিক তখনই অয়ন্তি বলে উঠলো -" আচ্ছা তুমি কি এমনই!"
আমি বিস্ময়ের স্বরে বলে উঠলাম -" কেমন?"
ও আবার বলতে শুরু করলো-" এই যে সারদিন চুপচাপ, বই নিয়ে ক্লাসের একটা কোণে পড়ে থাকো। সবসময়ই চুপচাপ থাকো। কারো সাথে তেমন নিজে থেকে কথাও বলো না। তুমি না আসলে ভারী অদ্ভুত।"
একথা শুনে আমি মৃদু হেসে বললাম -" তাই যদি হয় তাহলে অদ্ভুত মানুষদের এড়িয়ে চলাই ভালো।"
অয়ন্তি তখন বললো-" তুমি যতটাই অদ্ভুত হও না কেন তাও তোমার ব্যবহার আমার খুব ভালো লাগে। "
আমি তখন ওর কথার কোনো জবাব দিলাম না বরং কথাটা না শোনার ভান করে পড়তে থাকলাম। তখনই অয়ন্তি আমাকে আমার হাতটা ধরে টানতে লাগলো আর বললো-" ছাড়ো তো। এখনো পরীক্ষার অনেক বাকি। এত আগেই বই পড়ে সব শেষ করতে হবে না। এমনিতেই তুমি ক্লাসের বিদ্যাসাগর। এখন অন্তত টিফিন পিরিয়ডে বই পড়া বাদ দিয়ে চলো না আমার সাথে বাইরে কোথাও। দেখবে তোমার ভালো লাগবে।"
আমি বললাম আরে করছো কি? এভাবে হাত ধরে টানাটানি কোরো না। যখন তখন যে কেউ এভাবে আমাদের দেখে নিলে যা তা ভাববে।
এ কথা শুনে অয়ন্তি হেসে বললো- " যে যা খুশি ভাবে ভাবুক তো। তাদের ভাবনা ভাবতে আমার বড় বয়েই গেছে। এখন তুমি আমার সাথে যাবে কিনা বলো।"
মেয়েটা খুব নাছোড়বান্দা। একবার কিছু করবে বলে ঠিক করলে তা ওকে করতেই হবে। নইলে ওর আশেপাশে থাকা লোকজনের আর নিস্তার নেই।
আমিও তখন কোনো উপায় না পেয়ে বললাম-" আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাবো তোমার সাথে। কিন্তু আগে হাতটা ছাড়ো আর বলো এখন যাবোই বা কোথায়?"
অয়ন্তি তখন বললো-" চলো স্কুল মাঠেই ঘুরে আসি। অন্তত সারাদিন ক্লাসে বসে বইয়ে মুখ গুজে থাকার চেয়ে মাঠে গিয়ে খেলাধুলা দেখাও ঢের ভালো।"
তারপর আমিও অয়ন্তির সাথে স্কুল মাঠের পাশে হাঁটতে হাঁটতে কিছুক্ষণ গল্প করতে লাগলাম।
গল্পের এক পর্যায়ে অয়ন্তি জিজ্ঞেস করে বসলো-" আচ্ছা ধ্রুব একটা প্রশ্ন করবো তোমাকে? কিছু মনে করবে না তো?"
আমি বললাম -" আগে প্রশ্নটা তো করো তারপর না হয় ভেবে দেখবো কিছু মনে করা যায় কিনা।"
অয়ন্তি বললো-" আসলে প্রশ্নটা হলো তোমার কি কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে কিনা?"
কোনো মেয়ের মুখে আচমকা এমন একটা প্রশ্ন শুনে আমি একটু থমকে যাই। পরোক্ষণেই একটু হেসে বললাম - " দেখো গার্লফ্রেন্ড বলতে যদি শুধু মাত্র বান্ধবী বুঝিয়ে থাকো তাহলে তো ক্লাসের প্রতিটা মেয়েই আমার ক্লাসমেট হওয়ার সুবাদে তারা সকলেই আমার বান্ধবী। আর যদি গার্লফ্রেন্ড বলতে তথাকথিত প্রেমিকার কথা বুঝিয়ে থাকো তাহলে আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই। প্রথমত আমার নারী সঙ্গে এলার্জি আছে। আর দ্বিতীয়ত হলো আমি মেয়েদের সাথে খুব একটা সহজে কথা বলতে পারি না।"
আমার কথা শুনে অয়ন্তি হাসতে লাগলো আর বললো-" নারী সঙ্গে তোমার যদি এলার্জি থেকেই থাকে তাহলে এই যে আমার সাথে আছো তার বেলা?"
আমি ওর এই প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে ওর সাথেই হাসতে লাগলাম আর প্রশ্নটা এড়িয়ে গেলাম। এরপরেই ঘণ্টা বাজার আওয়াজ পেয়ে আমরা দুজনেই আবার ক্লাসরুমের দিকে ছুটলাম।
চলবে.....
###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। সেই সাথে সাথে পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকতে অনুরোধ করা হলো। খুব শীঘ্রই পরবর্তী পর্ব আসছে 🥰। ধন্যবাদ সবাইকে)
বাক্সবন্দী স্মৃতি (পঞ্চম পর্ব)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
353
Views
8
Likes
2
Comments
5.0
Rating