বাক্সবন্দী স্মৃতি (দশম পর্ব)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ঐদিন রাতে বাড়িতে ফিরে অয়ন্তিকে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ করলাম। কিন্তু তখন সে অনলাইনে ছিল না। তাই অনেকক্ষণ ধরে তার অনলাইনে আসার অপেক্ষা করার পরও যখন অনলাইনে তার দেখা পেলাম না, তখন ভাবলাম ওকে একটা ফোন করি।



এরপর অয়ন্তিকে প্রায় দশ-বারো বার ফোন করার পরে রিং বাজা সত্ত্বেও ফোন রিসিভ করলো না।
অবশ্য না করাটাই স্বাভাবিক ‌। এমনিতেই আজ বিকালে তাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। তাই হয়তো অভিমান করে আর ফোনই তোলেনি । এজন্য সেদিন রাত ১:০০ টা পর্যন্ত অনলাইনে অপেক্ষা করার পরেও অয়ন্তির সাথে কথা না বলতে পারায় তাকে ম্যাসেঞ্জারেই ম্যাসেজ করে দেই আর সেদিনকার মতো ঘুমিয়ে পড়ি।


পরদিন সকালে ঘুম ভাঙতেই আমি ফোন হাতে নিয়ে দেখি গতকাল রাতে অয়ন্তিকে পাঠানো ম্যাসেজটা শুধু সিন করে রেখে দিয়েছে। ম্যাসেজের কোনো রিপ্লাই দেয়নি। বুঝলাম বেশ ভালোই অভিমান করে রয়েছে। যাক আজ স্কুলে গিয়ে ওর সাথে কথা বলতে হবে এই ব্যাপারে আর ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে - এটা ভেবেই আমি বিছানা থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি।

এরপর আমি স্কুলে যাওয়ার পথে দেখি অয়ন্তি স্কুল গেটে দাঁড়িয়ে। আমি অয়ন্তিকে দেখা মাত্রই ওর দিকে হাত তুলে ইশারা করে হাসতে হাসতে যেই এগিয়ে যেতে লাগলাম তৎক্ষণাৎ অয়ন্তি আমাকে পাত্তা না দিয়ে ক্লাসে চলে গেলো। এরকম হতে দেখে আমি একটু দমে গেলাম। আর একটু খারাপও লাগলো বটে। তবে ভাবলাম এরকমটা হওয়াই স্বাভাবিক। তাই পরোক্ষণেই আবার ক্লাসের দিকে রওনা দিলাম।

ক্লাসে গিয়ে দেখলাম যেখানে সবাই যে যার মতো হাসাহাসি, গল্পগুজব করতে ব্যস্ত সেখানে একমাত্র অয়ন্তিই মনমরা হয়ে চুপচাপ ক্লাসের এক কোণে গালে হাত দিয়ে বসে রয়েছে। যেই মেয়েটা কিনা আগে সবার সাথে হাসিখুশি আর সবসময়ই সবার সাথে কথাবার্তা বলতে ব্যস্ত থাকতো তাকে আজ এই প্রথম এমন নিশ্চুপ মনমরা হয়ে পড়ে থাকতে দেখলাম।

এটা দেখে আমি ব্যাগ রেখে অয়ন্তির কাছে গেলাম ওর সাথে গতকালের ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলতে। এদিকে অয়ন্তি তখন আমাকে ওর দিকে যেতে দেখে তখনই বেন্ঞ্চ থেকে উঠে আমাকে এড়িয়ে কমন রুমে চলে গেলো।

এবারও আমি অয়ন্তির সাথে কথা বলতে ব্যর্থ হলাম। বার বার সুযোগ পেয়েও অয়ন্তির সাথে কথা বলে উঠতে পারছিলাম না সেদিন।

এছাড়া ক্লাসের মাঝেও ওর সাথে নানান কৌশলে কথা বলার চেষ্টা করলেও অয়ন্তি আমার সাথে একটা কথাও বললো না।

তাই তখন ভাবলাম একবারে না হয় ছুটির পরই আবার অয়ন্তির সাথে কথা বলবো। এখন ছুটি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায়ও ছিল না। তাই ছুটি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় রইলাম।

স্কুল ছুটি হতে না হতেই আমি অয়ন্তির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম অয়ন্তি তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। একটু শোনো।
অয়ন্তি আমার দিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো -" যার কাছে আমার ভালোবাসা, অনুভূতির কোনো মূল্য নেই তার সাথে আমার কথা বলারও কোনো আগ্রহ নেই।"

এটা বলেই তৎক্ষণাৎ অয়ন্তি তার গাড়িতে উঠে গেলো। আর আমি হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।


সত্যিই তো মেয়েটাকে বড় কষ্ট দিয়ে ফেলেছি তাই এমন পুরস্কারই হয়তো আমার প্রাপ্য। কিন্তু ওকে সেদিন না ফিরিয়েই বা আমার আর কি করার ছিল? কারণ এটা আমি খুব ভালো করেই জানতাম যে আমি বা আমার অবস্থান কখনোই অয়ন্তির যোগ্য নয়। আর তাছাড়াও আমাদের এই সম্পর্কের কোনো পরিণতি নেই। তাই এমন সম্পর্কে জড়িয়ে অয়ন্তিকে কষ্ট দেওয়ার থেকে ওর কাছে না হয় আমিই খারাপ সেজে থাকলাম আজীবনের জন্য। তাতে অনন্ত অয়ন্তিকে তো সারাটা জীবন ধরে কষ্ট পেতে হবে না।

এসব বলেই নিজেকে বুঝ দিতে লাগলাম আর বাড়ির পথে রওনা দিলাম।

কিন্তু তখনও আমি আশা ছাড়িনি। মনে মনে ঠিক করলাম যে অয়ন্তির সাথে বিকালে কোচিংয়ে বসেই আরেকবার না হয় কথা বলার চেষ্টা করবো। তাও অয়ন্তিকে অন্তত একবারের জন্য হলেও বলা দরকার কেন আমি ওকে সেদিন ফিরিয়ে দিয়েছি। না হয় এই একটা আফসোস নিয়ে আমি সারাজীবন ধরে বয়ে বেড়াতে পারবো না।


তাই যে করেই হোক অয়ন্তিকেও বোঝাতে হবে আমার অবস্থার কথাটা। যাতে করে অন্তত সে আমাকে কোনো প্রতারক বা বিশ্বাসঘাতক না মনে করে। নয়তো প্রিয় মানুষের কাছে বিনাকারণেই বিশ্বাসঘাতকের তকমা পাওয়াটা যে কতটা হৃদয় বিদারক তা হয়তো যে হয়েছে কেবল সেই ই জানে।

চলবে.....

###
( গল্পটা পড়ে আপনাদের মূল্যবান মতামত এবং রেটিংয়ের মাধ্যমে গল্পটিকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ রইলো। সেই সাথে সাথে পরবর্তী পর্বের জন্য সবাইকে সাথে থাকার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ সবাইকে 🥰)
305 Views
10 Likes
2 Comments
4.9 Rating
Rate this: