ডাক্তার এসে যখন বললো,,,,,
ডাক্তারঃ আপনাদের জন্য সুখবর আছে । হার্ট ডোনার পাওয়া গেছে । আজ রাতেই অপারেশন হবে ।
ডাক্তারের কথা শুনে দেখলাম আম্মু পরী দুজনেই অনেক খুশি হয়েছে । বেশ কয়েকদিন পরে দুজনের মুখে এতো সুন্দর হাসি । দেখে অনেক ভালো লাগলো ।
তারপর রাতে আব্বুর অপারেশন করা হলো ।
অপারেশনের ১৫ দিন পর,,,,,,,,,
আজ রাকিবের বিসিএস এক্সামের রেজাল্ট বের হইছে । আর সে বিসিএস পাস ও করেছে । আব্বুর স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে রাকিব ।
আর অন্য দিকে আজ আব্বুর জ্ঞান ফিরেছে । আর অনেকটা সুস্থও লাগছে । আব্বুকে সুস্থ দেখে আর রাকিবের বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় সবাই অনেক খুশি । ডাক্তার এসে আব্বুকে বললো,,,,,,,
ডাক্তারঃ এখন আপনার কেমন লাগছে ?
আব্বুঃ এখন অনেক টা সুস্থ ।
ডাক্তারঃ যাক আলহামদুলিল্লাহ ।
আম্মুঃ জানো তোমার ছেলে তোমার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে ।
আব্বুঃ মানে ।
আম্মুঃ মানে তোমার ছেলে বিসিএস ক্যাডার হইছে ।
খুশিতে আব্বুর চোখে পানিতে আসছে । পরীকে দেখে বললো,,,,,
আব্বুঃ এটা আমার বউমা তাই না । মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর । বাসায় গিয়েই ওদের আগে বিয়ে দিবো । যাইহোক সবাই কে দেখছি আমার ছেলে রাকিব কোথায় ওকে দেখতে পাচ্ছি না কেন ?
আব্বুর কথা শুনে সবাই মাথা নিচু করলো । ডাক্তার ও মাথা নিচু করলো । আম্মু আর পরী নিরবে চোখের পানি ফেলছে ।
আব্বুঃ কি হলো তোমরা কেউ কিছু বলছো না কেন । আর কান্না করছো কেন ? কি হইছে আমার ছেলের বলো ?
তখন ডাক্তার বললো,,,,,,
ডাক্তারঃ আপনার ছেলে আপনার মধ্যেই আছে ?
আব্বুঃ মানে কি বুঝলাম না ।
ডাক্তারঃ তাহলে শুনুন,,,
অপারেশনের আগের দিন রাকিব আমার কাছে এসেছিল । তখন ও হার্ট ডোনার পাওয়া যাচ্ছিলো না । তখন এসে সে আমাকে বললো,,,,,,
রাকিবঃ ডাক্তার আমার বাবার কি অবস্থা ।
আমিঃ দুই দিনের মধ্যে অপারেশন না করলে উনাকে আর আমরা বাঁচাতে পারবো না ।
রাকিবঃ ডাক্তার টাকা তো জোগাড় করেছি । এখন একটা কথা বলতে চাই ।
আমিঃ হুমম বলো ।
রাকিবঃ আমি আমার হার্ট আব্বুকে দিতে চাই ।
আমি চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠে বললাম,,,,,
আমিঃ হোয়াটটটটট ! তুমি কি পা*গ*ল হইছো । আমি এটা কখনো করতে পারবো না । একজন কে মে*রে ফেলে আরেক জন কে কখনোই বাঁচাবো না ।
তখন রাকিব আমার পায়ে পরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,,,,,,
রাকিবঃ প্লিজ ডাক্তার আমি আমার আব্বুকে বাঁচাতে চাই । এর থেকে ভালো উপায় আমার জানা নেই । তাছাড়া আমি আম্মুকে কথা দিয়েছিলাম যে আব্বু কে বাঁচাবোই । আব্বু না বাঁচলে আমি এমনিতেই আম্মুর কাছে ম*রে যাবো । আর আমার এক কিডনি নেই । সেটাও টাকা জোগাড় করতে বিক্রি করে দিয়েছি । এমনিতেও আমি বেশি দিন বাচবো না আমি জানি । তাই প্লিজ ডাক্তার আমার এই ইচ্ছে টা পূরণ করেন । (অনেক কেঁদে কেঁদে) ।
আমি প্রথমে রাজি না হলেও রাকিবের জোরাজুরি আর কাঁদাকাটিতে রাজি হয়ে ছিলাম ।
👇
👇
ডাক্তারের কথা শুনে সবার চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে । আব্বু ডাক্তার কে বললো,,,,,,,,,,
আব্বুঃ এইটা আপনি কি করলেন ডাক্তার । আমার ছেলের হার্ট দিয়ে আমি বেঁচে আছি । এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা । (কাঁদতে কাঁদতে)
আম্মুঃ অপারেশনের আগের দিন আমাদের কাছে ক্ষমা চাইতেছিলো । তখন তার ক্ষমা চাওয়ার কারন টা বুঝতে পারি নি ।
তারপর আম্মু আব্বুকে একটা চিঠি দিয়ে বললো,,,,,,,
আম্মুঃ এটা রাকিব তোমাকে দিয়ে গেছে ।
আব্বু তাড়াতাড়ি করে খুলে পড়তে শুরু করলো,,,,,,,
কলিজার আব্বু,,,,,
আপনি যখন এই চিঠিটা পড়বেন তখন হয়তো আমি আপনার পাশে থাকবো না কিন্তু আমি আপনার ভিতরে সব সময় থাকবো । নিজের হার্ট আপনার জন্য উৎসর্গ করতে পারবো সেটা কখনো ভাবি নি । এটা ভেবেই আমার অনেক শান্তি লাগছে । তবুও আপনার জন্য এই সামান্য টুকু করতে পারছি । তবে একটা আফসোস থেকেই গেল । আর সেটা হলো আপনার তো অনেক ইচ্ছে আমি বিসিএস ক্যাডার হই । সেটা দেখে যেতে পারলাম না আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি কি না । যদি না পারি অবশ্যই ক্ষমা করে দিয়েন । আপনি আমার জন্য কখনোই মন খারাপ করবেন না । কারন আপনার মধ্যেই আমি সব সময় আছি । আপনি যখন নিজে ভালো কিছু না খেয়ে আমাকে খাওয়াতেন । ভালো কিছু পরে আমাকে কিনে দিতেন তখন কোনোই উত্তর খুঁজে পেতাম না এটা কি ধরনের অদ্ভুত ভালোবাসা । এতো ভালোবাসার পরিবর্তে সন্তান হিসেবে কিছুই যখন দিতে পারছিলাম না তখন নিজেকে আপনার ব্যর্থ সন্তান মনে হয়েছে । কিন্তু এখন অন্তত একটু হলেও করতে পারছি । আপনি ভালো থাকবেন আর আম্মুকেও ভালো রাখবেন । আল্লাহ যদি কখনো আমাকে পৃথিবীতে পাঠায় তাহলে আমি আপনার সন্তান হিসেবেই আসতে চাই । আমার জন্য দোয়া করবেন । ইতি আপনাকে পা*গ*লে*র মতো ভালোবাসা ছেলে রাকিব ।
আব্বু চিঠি পড়তে পড়তে চোখ ভিজে ফেলেছে । সাথে চোখের পানি দিয়ে চিঠিটাও ভিজে ফেলছে । তখন ডাক্তার বললো,,,,,,
ডাক্তারঃ এমন ছেলে জন্ম দেয়াতে আপনার গর্ববোধ করা উচিত । আর প্রত্যেক টা ঘরে যেন ওর মতো সন্তান জন্ম নেয় যে বাবা মাকে পা*গ*লে*র মতো ভালোবাসে ।
তারপর আব্বু বললো,,,,,,
আব্বুঃ আমার ছেলের লাশ কোথায় ?
আম্মুঃ ওকে বগুড়াতে আমাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হইছে ।
তারপর আব্বু কাঁদতে কাঁদতে বললো,,,,,,,
আব্বুঃ হে আল্লাহ কেমন পিতা আমি শেষ বারের মতো নিজের ছেলের মুখটাও দেখতে পেলাম না ।
সবাই আব্বু কে শান্তনা দিতে লাগলো ।
আরো একমাস হাসপাতালে থাকার পর আব্বুকে রিলিজ দেয়া হলো । তারপর সবাই বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো ।
এসেই আব্বু রাকিবের কবর জিয়ারত করলো । এভাবে শোকের মধ্যে আরো ছয়মাস কেটে গেল । পরী এখন রাকিবের আব্বু আম্মুর সাথে থাকে ।
কারন পরীকে বিয়ের কথা বললে সে বলে রাকিব ই তার স্বামী । তার স্বামীর বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবে না । এখানেই তার জীবন পার করে দিবে । পরীই রাকিবের আম্মু আব্বুর দেখাশোনা করে । ওকে বিয়ের কথা বললে প্রত্যেক বার এটাই বলে তাই ওকে আর কেউ জোর করে না ।
এভাই চলে যাচ্ছে রাকিবের পরিবারে অসমাপ্ত গল্প ।
(ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষ গুলো)
_________________সমাপ্ত_______________
_______________THE END____________
অদ্ভুত ভালোবাসা
403
Views
21
Likes
32
Comments
4.8
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (32)
ami ki kichu buji na naki rakib vai valoy to cholche suborna -r sathe 🤣
comment box e aigulo ki cholche rakib vai suborna -r sathe 🤣🤣bye the way golpo ta khub koster🥺
এভাবে
ওকে আমি আর কিছু বলবো না
আপনি বলবেন আমি শুনবো পড়ে ডিলিট করে দিবেন
কিছু তো বলুন
আপনি কিছু জিজ্ঞাসা করুন বা বলেন
এবার আপনি বলুন
হুম 🥰🥰🥰🥰
আপনার গল্প পড়লাম খুব সুন্দর অসাধারণ
কী করেন খাওয়া শেষ
আজ কয় ঘন্টা পর রিপ্লাই দিছেন কাল ঘুমিয়ে গেছিলেন
আজ পরীক্ষা দিয়ে আসছেন শরীর ক্লান্ত ঘুমিয়ে পড়ুন বাই আমি কাল স্কুলে যাবো এসে কথা বলব গুড নাইট।
কিছু বলবেন
আমি পড়তে বসলাম পড়ে কথা বলবো
ওও
আবার কবে পরীক্ষা কাল আছে
দশ ঘন্টা পর রিপ্লাই দিছেন
আর খেয়ে নিন
রিপ্লাই আর দিলেন কেনো
খাইছেন
সরি সরি সরি তুমি করে বলছি
কখন আসলে
হুম বলো
মনে নেই ওকে প্রথম শব্দ আই এবার বুঝিনিন
ভালো
আপনার পরীক্ষা শেষ তো কেমন হলো
🥀
শেষ টা অনেক কষ্টের ছিল একেই বলে ভালোবাসা 😭♥️🥺🖤🥀
শেষটা এতটাই কষ্টের ভাবতে পারিনাই
শেষটা এতো কষ্টের তা ভাবতে পারি নাই🥺🥺🥺
😢😭😭😭😭😭😢😢😢😭