আমিঃ আমি কথা দিলাম আম্মু আব্বুকে যা করেই হোক আমি বাঁচাবোই ।
হসপিটালে আব্বুর কেবিনে বসে আছি আমি আর আম্মু । আর ভাবছি কি করবো এখন আমি । কি করলে আব্বুকে বাঁচাতে পারবো ।
তারপর দেখলাম সকাল হয়ে গেছে । আর আম্মুও রাত থেকে কিছুই খায় নি । তাই আম্মুকে বললাম,,,,,
আমিঃ আম্মু তুমি তো কাল থেকে কিছুই খাও নি আমি বাহিরে থেকে কিছু নিয়ে আসি । আর তুমি আব্বুর পাশেই থেকো ।
বলেই আমি কেবিন থেকে বেরিয়ে আসলাম । তারপর ভাবলাম পরীকে একটা ফোন ও করা দরকার না হলে সেও চিন্তা করবে । ফোন বের করে দেখলাম ফোনটা অফ হয়ে আছে ।
কখন চার্জ শেষ হয়ে গেছে খেয়াল ই করি নি এই টেনশনে । তাই রিসিভশনে গিয়ে একটু রিকোয়েস্ট করাতে ফোন চার্জ দিতে রাজি হলো ।
তাই আমি ফোন চার্জে দিয়ে বাহিরে থেকে আম্মুর জন্য নাস্তা নিয়ে এলাম । আম্মু এই অবস্থায় খেতে চাইলো না । কিন্তু আমি জোর করেই খাইয়ে দিলাম ।
কারন না খেলে তার শরীর ও খারাপ করবে । দেখলাম আস্তে আস্তে আব্বুর পাল্স রেট টাও কমে যাচ্ছে । অনেক ভয় লাগতে লাগলো ।
কিছুক্ষণ পর ফোন টা নিয়ে এসে অন করতেই পরীর অনেক মেসেজ আর ৫৭ টা মিসড কল আসছে । আমি যা ভাবছি তাই । সে অনেক টেনশন করেছে ।
সত্যিই মেয়েটা আমাকে অনেক ভালোবাসে । তাই আমিও পরীকে ফোন দিলাম । দেয়ার সাথে সাথেই রিসিভ করলো । আর বলে উঠলো,,,,,,,
পরীঃ কি হইছে তোমার । সারারাত ফোন বন্ধ কেন ?
আমিঃ ফোনে চার্জ ছিল না ।
পরীঃ তুমি এতো কেয়ারলেস কেন বলবা আমায় ?
আমিঃ ............
পরীঃ কাল রাতে তোমার আম্মু চিৎকার দিয়ে ছিল কেন ? বললে না তো ?? কাল রাতে আমার অনেক টেনশন হয়েছে । তোমার কিছু হইছে নাকি ?
তারপর আমি পরীকে সব ঘটনা খুলে বললাম । সব শুনে পরী বললো,,,,,,
পরীঃ এতো কিছু হয়ে গেল আর আমাকে একটা বার জানানোর প্রয়োজন বোধ করলে না ?
আমিঃ বললাম তো টেনশনে ছিলাম ।
পরীঃ এখন তোমরা কোথায় ?
আমিঃ ঢাকায় ।
পরীঃ কোন হসপিটালে ?
আমিঃ ******* হসপিটালে ।
পরীঃ ঠিক আছে আমি এখনি আসছি ।
বলেই ফোনটা কেটে দিলো । তারপর আমি আর আম্মু আব্বুর কেবিনে চুপ করে বসে আছি । আম্মু একটু পর আমাকে বললো,,,,,,,,,
আম্মুঃ রাকিব কিছু ভাবলি ?
আমিঃ বুঝলাম না আম্মু ।
আম্মুঃ মানে টাকার কথা কিছু ভাবলি ?
আমিঃ সেটাই ভাবতেছি আম্মু কি করা যায় ।
আম্মুঃ এতো ভাবার সময় নেই । শোন আমাদের গ্রামের বাড়িতে যে জমি আছে কাল তুই বগুড়া গিয়ে সেগুলো বিক্রি করে দিয়ে আসবি ।
আমিঃ কি বলো আম্মু সব বিক্রি করলেও তো 50 লক্ষ টাকা হবে না ।
আম্মুঃ যেটা হবে তাতেই বিক্রি করে আসবি । এখন এই জমিই একমাত্র ভরসা ।
আমিঃ ঠিক আছে আম্মু ।
একটু পর দেখলাম পরী আর পরীর আম্মু আসলো । আম্মু বলতেছে,,,,,
আম্মুঃ আপনারা কারা ?
তারপর আমি তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম । পরীর মা বললো,,,,,,,
পরীর মাঃ বাবা তোমরা কাল আসছো আর আজ খবর দিচ্ছো । এতোটাই পর করে দিলে ।
আমিঃ ছিঃ ছিঃ আন্টি কি বলেন এগুলো । খুব টেনশনে ছিলাম তো তাই ফোন করতে পারি নি ।
পরীর মাঃ ডাক্তার কি বললো ?
তারপর আমি তাদের সব টা খুলে বললাম । সব শুনে পরী বললো,,,,,,,
পরীঃ এতো টাকা এখন তুমি কোথায় পাবে ?
আমিঃ কাল আমি বগুড়া যাবো । আমাদের গ্রামের বাড়িতে যে জমি আছে ওগুলো সব বিক্রি করে দিতে হবে ।
তারপর পরী বললো,,,,,,,,
পরীঃ আম্মুর (আমার আম্মু) এখানে থাকলে থাকলে তো শরীর খারাপ করবে । আম্মু আপনি আমাদের বাসায় চলে যান আমার আম্মুর সাথে । আমি আর রাকিব এখানে আছি
পরীর মাঃ পরী একদম ঠিক বলেছে আপা । আপনি প্লিজ আমাদের বাসায় চলেন । এখানে থাকলে আপনিও অসুস্থ হয়ে পড়বেন ।
আম্মু যেতে চাইলো না । কিন্তু সবার জোরাজুরিতে যেতে রাজি হলো । কারন আমিও ভেবে দেখলাম সত্যিই এখানে থাকলে তার শরীর ও খারাপ করবে ।
আম্মুঃ ঠিক আছে আমি তাহলে যাচ্ছি ।
পরীর মাঃ কিছু দরকার লাগলে অবশ্যই ফোন করবে বাবা ।
আমিঃ ঠিক আছে ।
তারপর আম্মু আর পরীর আম্মু চলে গেল । আমি আর পরী হসপিটালে আব্বুর পাশে থাকলাম । তারপর পরী বললো,,,,,,,,
পরীঃ তুমি তো কাল রাতে একটুও ঘুমাও নি । পাশের বেডে তুমি একটু ঘুমিয়ে নাও প্লিজ । আমি আব্বুর পাশে আছি ।
সত্যিই আমি খুব ক্লান্ত । তাই বেশি কথা না বলে পাশেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুম থেকে উঠে যা দেখলাম তা দেখে আমি তো অবাক ।
কারন আমি দেখলাম,,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,
ভালো লাগলে অবশ্যই রেসপন্স করবেন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
অদ্ভুত ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
241
Views
20
Likes
1
Comments
4.1
Rating