সকালে ঘুম ভাঙলো পরীর ডাকে । ডেকে তুলে বাহিরে নিয়ে গিয়ে আমাকে যা বললো তা শুনে আমি চমকে গেলাম ।
কারন পরী বললো,,,,,,,
পরীঃ রাকিব তোমার এটা কিসের ব্যান্ডেজ বলো ।
আমি চমকে উঠে ভাবলাম পরী এটা কেমনে দেখলো । আমার চুপ থাকা দেখে পরী আবার বললো,,,,,
পরীঃ কি হলো কথা বলছো না কেন । টাকা কই থেকে পাইছো সত্যি বলো ।
তারপর পরীকে সব সত্যি কথা গুলো বলে ফেললাম । আমার কথা শুনার পর পরী সাথে সাথে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো । আমি ওর কাদা দেখে বললাম,,,,,
আমিঃ এই পা*গ*লি মেয়ে কাঁদতেছো কেন ?
পরীঃ তুমি এটা কেন করলে বলো (কাঁদতে কাঁদতে)
আমিঃ কি আর করতাম বলো । সন্তান হয়ে আব্বুকে বাঁচাতে পারছি না এই কথা ভাবলেই নিজের প্রতি অনেক ঘৃণা কাজ করে । আর আমি আম্মুকে কথা দিয়েছি আব্বুকে যে করেই হোক বাঁচাবোই । তাই এর থেকে ভালো উপায় আমার জানা ছিল না ।
পরীঃ তুমি এমন কেন ?
আমিঃ আমি এমন ই । প্লিজ এই কথা গুলো আম্মুকে বইলো না । তাহলে আম্মু অনেক কষ্ট পাবে । এমনিতেই আব্বুর টেনশনে অনেক কষ্টে আছে ।
পরীঃ ঠিক আছে ।
আমিঃ এখন চোখের পানি মুছে ভিতরে চলো ।
তারপর আমি আর পরী কেবিনে গেলাম । আম্মু বললো,,,,,
আম্মুঃ কি রে সকালে উঠেই কোথায় গিয়েছিলি ।
আমিঃ কোথাও না আম্মু । এখানেই হাঁটছিলাম ।
তারপর হঠাৎ দেখি আব্বুর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে । পাল্স রেট তাড়াতাড়ি করে নেমে যাচ্ছে । আর আব্বুর ও নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে । আম্মু এটা দেখে একটা চিৎকার দিলো ।
আমি তাড়াতাড়ি করে ডাক্তার কে ডেকে নিয়ে আসলাম । উনি দেখে বললেন,,,,,,
ডাক্তারঃ দেখুন অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে । দুই দিনের মধ্যে অপারেশন না করলে উনাকে আর আমরা বাঁচাতে পারবো না ।
আমিঃ ডাক্তার আমরা সব টাকা জোগাড় করেছি ।
ডাক্তারঃ ওকে টাকা গুলো কাউন্টারে জমা দিন । আর দুইদিনের মধ্যে হার্ট ডোনার খুঁজে বের করুন ।
আমিঃ জ্বি আচ্ছা ।
বলেই ডাক্তার চলে গেল । আম্মু তো অনেক কান্না করতে লাগলো । পরী আম্মুকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছে ।
দুপুরের পর অনেক ভেবে ডাক্তারের সাথে একান্তে কথা বললাম । কথা বলে এসে আম্মুর পাশে এসে বসলাম । দেখি আম্মু মনমরা হয়ে আছে ।
আমি আম্মুকে বললাম,,,,,,
আমিঃ আম্মু তোমার কোলে একটু মাথা রাখতে পারি । খুব ইচ্ছে করছে ।
আম্মুঃ ঠিক আছে বাবা রাখ ।
তারপর আমি আম্মুর কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম । অনেক শান্তি লাগছে । তারপর আম্মুকে বললাম,,,,,,
আমিঃ আম্মু ।
আম্মুঃ হুমম ।
আমিঃ আমি যদি তোমার কাছে কোনো ভুল করে থাকি তুমি আমাকে মাফ করবে না ?
আম্মুঃ কি বলছিস এগুলো । তুই আমার কাছে কোনো ভুল করিস নি বাবা । আর মায়ের কাছে সন্তানের কোনো ভুল থাকে না ।
আমিঃ তবুও কোনো ভুল করলে ক্ষমা করে দিও ।
চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি পড়ছে আমার । আমার চোখে পানি দেখে আম্মু বললো,,,,,
আম্মুঃ তুই কাঁদছিস কেন । কি হইছে তোর ?
আমিঃ কিছু না আম্মু । আব্বুর জন্য টেনশন হচ্ছে ।
আম্মুঃ চিন্তা করিস না । আল্লাহ সব ঠিক করে দিবেন ।
আমিঃ হুমম ।
তারপর আমি পরীর কাছে আসলাম । পরীকে বললাম,,,,
আমিঃ আজকে তোমাকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে । প্লিজ ধরতে দিবে ।
পরী আমাকে কিছু না বলে নিজেই অনেক শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো । পরীর ঘাড়ে আমার চোখের পানির স্পর্শ পেল । তারপর পরী বললো,,,,,,,
পরীঃ এই তুমি কাঁদছো কেন ?
আমিঃ এমনিতেই । আব্বুর জন্য ।
পরীঃ চিন্তা করো না । সব ঠিক হয়ে যাবে ।
আমিঃ পরী আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও । আর আব্বু আম্মু কে কখনো কষ্ট দিও না ।
পরীঃ কি বলছো এগুলো কিছুই বুঝছি না । আর আব্বু আম্মু কে কষ্ট দিবো কেন । উনারা এখন আমার আব্বু আম্মু ও ।
আমিঃ হুমম ।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার এসে বললো,,,,,
ডাক্তারঃ আপনাদের জন্য সুখবর আছে । হার্ট ডোনার পাওয়া গেছে । আজ রাতেই অপারেশন হবে ।
ডাক্তারের কথা শুনে দেখলাম আম্মু পরী দুজনেই অনেক খুশি হয়েছে । বেশ কয়েকদিন পরে দুজনের মুখে এতো সুন্দর হাসি । দেখে অনেক ভালো লাগলো ।
তারপর রাতে আব্বুর অপারেশন করা হলো ।
অপারেশনের ১৫ দিন পর,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,
ভালো লাগলে অবশ্যই রেসপন্স করবেন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
অদ্ভুত ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
219
Views
22
Likes
1
Comments
4.8
Rating