অদ্ভুত ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
বিসিএস এক্সাম দিতে ঢাকায় যাচ্ছি । এজন্য বগুড়া রেল স্টেশনে ঢাকায় যাওয়ার ট্রেনটির জন্য অপেক্ষা করতেছি ।

হঠাৎ রেল লাইনের পাশেই একটা পড়ে থাকা ব্যাগের দিকে আমার নজর চলে গেল । কেন জানি না ব্যাগ টা চেক করতে মনে খুব কৌতুহল জাগলো ।

তাই গিয়ে ব্যাগটা তুলেই নিলাম । গিয়ে দেখি একটা অনেক সুন্দর লেডিস ব্যাগ । লেডিস ব্যাগ এখানে পড়ে থাকবে কেন । আর ভিতরেই বা কি আছে । ভাবছিলাম খুলবো কি না ।

খুলেই দেখি কি আছে । তাই বেশি না ভেবে খুলেই ফেললাম । খুলে দেখি ভিতরে একাডেমিক সার্টিফিকেট একটা ন্যাশন্যাল আইডি কার্ড আর কয়েক কপি ছবি ।

ছবি টা বের করে দেখলাম । একটা মেয়ের ছবি । আমি তো একেবারে হা হয়ে গেছি ছবিটি দেখে । এতো সুন্দর কেউ কিভাবে হতে পারে । ছবি থেকে চোখ তুলতেই পারছি না । এটা মেয়ে নাকি হুর পরী । মাশাআল্লাহ্ ।

তারপর ব্যাগে থাকা ন্যাশনাল আইডি টা বের করলাম । ঠিকানা দেখলাম । এতো ঢাকার ই ঠিকানা । ঢাকায় থাকা মেয়ের ব্যাগ বগুড়ায় কিভাবে আসতে পারে ।

যাইহোক আমি ব্যাগটা নিজের সাথেই নিলাম । কারন আমি যেহেতু ঢাকাতেই যাচ্ছি তাই গিয়ে খুঁজে ফেরত দেয়ার চেষ্টা করবো । কারন এগুলো খুব ইম্পোর্টেন্ট জিনিস ।

কিছুক্ষণ পর ট্রেন চলে আসলো । আমি আমার নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে বসে পড়লাম । ওহহ আচ্ছা আমার পরিচয়ই তো আপনাদের দেয়া হয় নি ।

আমি রাকিব । বগুড়াতেই আমার বাসা । বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে । আমার বাবার ইচ্ছে আমি বিসিএস ক্যাডার হই । তাই বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে বিসিএস এক্সাম দিতে ঢাকায় যাচ্ছি ।

যাইহোক আমি মেয়েটির ছবি বের করে আবার তাকিয়ে আছি । আর অনেক কিছু ভাবছি । আল্লাহ ওকে কত সুন্দর যত্ন করে বানিয়েছেন ।

আমি শুধু মেয়েটিকে দেখেই চলেছি । হঠাৎ একটা মেয়ে এসে বললো,,,,,,,,,,,,,

মেয়েটিঃ ভাইয়া একটু পা টা সরাবেন ? পাশের সিট টা আমার ।

আমিঃ ওহহ আচ্ছা । ওকে ওকে ।

তারপর মেয়েটি আমার পাশে বসে পড়লো । আমি ছবিটা দেখেই চলেছি । আর ট্রেনটা ছুটে চলেছে তার আপন গতিতে । অনেক্ষন পর মেয়েটি আমাকে জিজ্ঞাসা করলো,,,,,,

মেয়েটিঃ ভাইয়া অনেক্ষন ধরে দেখছি এই ছবিটির দিকে পলকহীন ভাবে তাকিয়ে আছেন । ব্যাপার টা কি । গার্লেফ্রন্ড নাকি ।

আমি তার কথা শুনে ধ্যান থেকে বেরিয়ে এলাম । আর বললাম,,,,,

আমিঃ আরে না তেমন কিছু না ।

মেয়েটিঃ তাহলে ব্যাপারটা কি ?

তারপর আমি মেয়েটিকে সব খুলে বললাম । সব শুনে মেয়েটা বললো,,,,,

মেয়েটিঃ বাহহ এরকম মানুষ ও পৃথিবীতে আছে ? যে অন্যের কথা ভেবে উপকার করতে চাচ্ছে ।

আমি শুধু মুচকি হাসলাম । তার কিছুক্ষণ পর মেয়েটি আবার বললো,,,,,,,,

মেয়েটিঃ আর আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে ।

আমিঃ তাই ।

মেয়েটিঃ জ্বি । আপনাকে কোথায় দেখেছি বলেন তো ।

আমিঃ আমি কি করে বলবো ।

মেয়েটিঃ আপনি কি গল্প লেখেন ।

আমিঃ জ্বি ।

মেয়েটিঃ আপনি কি রাকিব ভাইয়া ।

আমিঃ হুমম ।

মেয়েটিঃ ভাইয়া আমি সামিয়া । আপনার অনেক বড় ফ্যান । আমি আপনার সব গল্পই পড়ি । ধন্যবাদ ভাইয়া এতো সুন্দর গল্প লেখার জন্য ।

আমিঃ থ্যাংক ইউ ।

সামিয়াঃ ভাইয়া কিছু মনে না করলে একটা সেলফি নিতে পারি ।

আমিঃ হুমম ।

তারপর সামিয়া আমার সাথে সেলফি তুললো । সামিয়া সারা রাস্তা বকবক করেই চলেছে । আমি শুধু হ্যাঁ না উত্তর দিয়ে চলেছি । আর ছবির মেয়েটার কথা ভাবছি ।

তারপর ট্রেন আমার গন্তব্যে চলে এলো । মানে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন নেমে পড়লাম । তারপর সামিয়াকে বিদায় জানিয়ে আমি একটা হোটেলে উঠে পড়লাম ।

অবশ্য হোটেলটা আমি আগেই বুক করে রেখেছিলাম দুই দিনের জন্য । কারন ঢাকায় আমার চেনা পরিচিত কেউই নেই ।

হোটেলে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে আব্বু আম্মু সাথে ফোনে কথা বলে শুয়ে পড়লাম । কারন পরের দিন ই আমার বিসিএস পরীক্ষা ।

পরের দিন সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম । তারপর পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । যথারীতি পরীক্ষাটাও আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো দিয়েছি ।

খুশি মনে হোটেলে ফিরলাম । ফিরতেই ব্যাগের দিকে তাকাতেই মেয়েটার কথা মনে পড়ে গেল । তাই বিকেলে মেয়েটার ন্যাশন্যাল আইডি কার্ডের ঠিকানা অনুযায়ী তাকে খুঁজতে বের হলাম ।

রিকওয়ালাকে ঠিকানা দেখাতেই আমাকে সেই ঠিকানায় নিয়ে গেল তাই আমাকে বেশি খুঁজতে হয় নি । তবে ভাড়া টা একটু বেশিই নিয়েছে ।

যাইহোক বাসা টা কিন্তু অনেক সুন্দর আর অনেক বড় । আমি বাসার দারোয়ানকে ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,,,,,,

আমিঃ ইনি কি এখানে থাকেন ?

দারোয়ানঃ জ্বি স্যার দোতালায় চলে যান ।

তারপর দারোয়ানের কথা মতো আমি দোতালায় চলে গেলাম । গিয়ে কলিং বেল বাজাতেই মেয়েটা এসে দরজা খুলে দেয় ।

আমি তো প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খাইলাম । ছবির থেকেও বাস্তবে আরো সুন্দর । মনে হচ্ছে আমি জান্নাতে আছি আর আমি জান্নাতের পরী দেখছি ।

কিন্তু তার থেকেও বড় শকড একটু পর আমি খেলাম । কারন আমাকে দেখার পরেই মেয়েটা চোখ বড় বড় করে অজ্ঞান হয়ে গেল ।

আমি মনে মনে ভাবলাম আমাকে দেখতে কি এতোটাই খারাপ লাগছে যে অজ্ঞান হয়ে গেল । এখন যদি কেউ এসে দেখে মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে আছে তাহলে সবাই আমাকে অজ্ঞান পার্টির লোক ভেবে হেব্বি মা*র*বে ।

হায় আল্লাহ উপকার করতে এসে এ কোন মসিবতে পড়লাম ।
""
""
""
চলবে তো,,,,,,,,,,,,,,?
To be continue,,,,,,,,,
898 Views
28 Likes
4 Comments
4.5 Rating
Rate this: