অদ্ভুত ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সত্যিই আমি খুব ক্লান্ত । তাই বেশি কথা না বলে পাশেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুম থেকে উঠে যা দেখলাম তা দেখে আমি তো অবাক ।

কারন আমি দেখলাম পরী আব্বুর সাথে গল্প করছে । আব্বু কথা বলছে দেখে আমি অনেক খুশি হলাম ।

তবে চোখ বন্ধ করেই তাদের কথা গুলো শুনতে ছিলাম । আব্বু বলছিল,,,,,,,,

আব্বুঃ তোমার নাম কি মা ?

পরীঃ জ্বি আব্বু আমার নাম পরী ।

আব্বুঃ ওহহ আচ্ছা তুমি দেখতেও পরীর মতোই সুন্দর । আমার ছেলে তোমাকে ভালোবাসে তাই না ।

পরীঃ জ্বি আব্বু ও আমাকে যতটা ভালোবাসে আমি তার থেকে ওকে আরো বেশি ভালোবাসি ।

আব্বুঃ শুনে অনেক খুশি হলাম মা । ম*রা*র আগে তবুও আমার ছেলের বউয়ের মুখ দেখতে পেলাম । এখন আর আমার কোনো কষ্ট নেই । শুধু তুমি আমার ছেলেকে দেখে রেখো ।

পরীঃ প্লিজ আব্বু আপনি এগুলো বলবেন না । দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে । আমরা সবাই একসাথে থাকবো । আপনি প্লিজ এখন শুয়ে থাকেন । আর কিছু লাগলে আমাকে বলবেন প্লিজ ।

আমি চোখ বন্ধ করে সব শুনলাম । নিজে অসুস্থ থেকেও তার সন্তানকে দেখে রাখতে বলতেছে । সন্তানকে কষ্ট দিতে চাচ্ছে না ।

এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা । আব্বু রা মনে হয় এরকমই হয় । এসব ভাবতে ভাবতেই চোখের কোনে পানি জমে গেছে ।

কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠলাম । উঠে দেখি পরী আব্বুর পায়ের কাছে মাথা লাগিয়ে চোখ বুজেছে । মনে হয় সেও খুব ক্লান্ত ।

তাই তার কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,

আমিঃ এই পরী এখানে এভাবে শুয়ে আছো কেন?

আমার কথা শুনে পরী চমকে উঠে বললো,,,,,,

পরীঃ ওহহ তুমি । উঠে গেছো কখন ?

আমিঃ একটু আগেই । তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমিও অনেক ক্লান্ত । তাই যাও এখন তুমি ঘুমিয়ে পর ।

পরীঃ না না আমি ঠিক আছি । তুমি চিন্তা করো না ।

আমিঃ কিছুই ঠিক নেই । তুমি প্লিজ যাও ঘুমাও ।

প্রথমে রাজি না হলেও আমার জোরাজুরিতে রাজি হলো । একটু পর পরী ঘুমিয়ে পরলো । আর আমি আব্বুর পাশে থাকলাম ।

এভাবে একবার পরী একবার আমি আব্বুর পাশে থেকে রাতটা কেটে দিলাম । সকালে আমি হসপিটাল থেকে বাহিরে এসে নাস্তা নিয়ে এলাম ।

পরী তখনও ঘুমাচ্ছে । সেও আমার সাথে অনেক কষ্ট করছে । তাই আর তার ঘুম ভাঙালাম না । পরী বাচ্চা পরীর মতোই ঘুমাচ্ছে । দেখতে অপরূপ সুন্দর লাগছে ।

কিছুক্ষণ পর আম্মু আর পরীর আম্মুও চলে আসলো । আর তখনই পরীর ঘুম ভাঙে । উঠেই আমাকে বললো,,,,,

পরীঃ আরে তুমি কখন উঠছো । আর আমাকে ডাকো নি কেন ?

আমিঃ তুমি সারারাত অনেক কষ্ট করেছো তাই আর ডাক দেই নি । যাইহোক ফ্রেশ হয়ে আসো আর নাস্তা টা করে নাও ।

পরীঃ তুমি খাইছো ?

আমিঃ না । তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো । একসাথে খাবো ।

তারপর আর কোনো কথা না বলে পরী ফ্রেশ হতে গেল । আমি আম্মু কে বললাম,,,,,

আমিঃ আম্মু তুমি খাইছো,,,?

আম্মুঃ হ্যাঁ বাবা । পরীর আম্মু আর আমি খেয়ে আসছি ।

একটু পর পরী ফ্রেশ হয়ে আসলো । পরী খেতে খেতে বললো,,,,,,

পরীঃ রাকিব আমি তোমাকে খাইয়ে দেই ?

আমিঃ আরে কি বলছো এগুলো । এখানে সবাই আছে দেখছো না ।

পরীঃ কিছু হবে না খাইয়ে দেই না প্লিজ ।

দেখলাম আম্মু আর পরীর আম্মু হাসতেছে । যাহহ ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেল । আর এদিকে না খাওয়া পর্যন্ত ছাড়বেও না । তাই বললাম,,,,,

আমিঃ ঠিক আছে খাওয়াও ।

পরীঃ সত্যিই ।

আমিঃ হুমম ।

তারপর পরী অনেক খুশি হয়ে আমাকে খাইয়ে দিল নিজের হাতে । খাওয়া শেষে আমি বললাম,,,,,,

আমিঃ আম্মু বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই তাহলে ।

পরীঃ বগুড়া যাবে খেন ?

আমিঃ টাকার ব্যবস্থা করতে । গ্রামের বাড়ির জমি গুলো সব বিক্রি করতে ।

আম্মুঃ ঠিক আছে ।

আমিঃ আজকে আমি হয়তো আসতে পারবো না । জমির ব্যাপার তো । পরী আজকে তুমি আম্মুর সাথে থেকো প্লিজ ।

পরীঃ আরে তুমি চিন্তা করো না । সেটা তোমাকে বলতে হবে না । আমি এখান থেকে যাচ্ছি না আব্বু ভালো না হওয়া পর্যন্ত ।

আমিঃ তাহলে আমি আসি । আল্লাহ্ হাফেজ ।

সবাইঃ আল্লাহ্ হাফেজ ।

তারপর আমি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । সাড়ে পাঁচ ঘন্টা জার্নি করার পর বগুড়ায় পৌছালাম ।

সেখানকার জমি জমার কাজ সারতে দুই দিন লেগে গেল । এই দিন আমি অনেক বার ফোন করেছি অবশ্যই । বলেছে আব্বুর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে । যত দ্রুত সম্ভব টাকার ব্যবস্থা করে ঢাকায় ফিরে যেতে ।

জমি গুলো বিক্রি করে আমি তিনদিনের মাথায় ঢাকায় পৌছালাম । ঢাকায় পৌছেই সরাসরি চলে গেলাম হাসপাতালে ।

গিয়ে দেখলাম,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,

ভালো লাগলে অবশ্যই রেসপন্স করবেন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
229 Views
16 Likes
0 Comments
4.3 Rating
Rate this: