সত্যিই আমি খুব ক্লান্ত । তাই বেশি কথা না বলে পাশেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম । ঘুম থেকে উঠে যা দেখলাম তা দেখে আমি তো অবাক ।
কারন আমি দেখলাম পরী আব্বুর সাথে গল্প করছে । আব্বু কথা বলছে দেখে আমি অনেক খুশি হলাম ।
তবে চোখ বন্ধ করেই তাদের কথা গুলো শুনতে ছিলাম । আব্বু বলছিল,,,,,,,,
আব্বুঃ তোমার নাম কি মা ?
পরীঃ জ্বি আব্বু আমার নাম পরী ।
আব্বুঃ ওহহ আচ্ছা তুমি দেখতেও পরীর মতোই সুন্দর । আমার ছেলে তোমাকে ভালোবাসে তাই না ।
পরীঃ জ্বি আব্বু ও আমাকে যতটা ভালোবাসে আমি তার থেকে ওকে আরো বেশি ভালোবাসি ।
আব্বুঃ শুনে অনেক খুশি হলাম মা । ম*রা*র আগে তবুও আমার ছেলের বউয়ের মুখ দেখতে পেলাম । এখন আর আমার কোনো কষ্ট নেই । শুধু তুমি আমার ছেলেকে দেখে রেখো ।
পরীঃ প্লিজ আব্বু আপনি এগুলো বলবেন না । দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে । আমরা সবাই একসাথে থাকবো । আপনি প্লিজ এখন শুয়ে থাকেন । আর কিছু লাগলে আমাকে বলবেন প্লিজ ।
আমি চোখ বন্ধ করে সব শুনলাম । নিজে অসুস্থ থেকেও তার সন্তানকে দেখে রাখতে বলতেছে । সন্তানকে কষ্ট দিতে চাচ্ছে না ।
এ কেমন অদ্ভুত ভালোবাসা । আব্বু রা মনে হয় এরকমই হয় । এসব ভাবতে ভাবতেই চোখের কোনে পানি জমে গেছে ।
কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠলাম । উঠে দেখি পরী আব্বুর পায়ের কাছে মাথা লাগিয়ে চোখ বুজেছে । মনে হয় সেও খুব ক্লান্ত ।
তাই তার কাছে গিয়ে বললাম,,,,,,,
আমিঃ এই পরী এখানে এভাবে শুয়ে আছো কেন?
আমার কথা শুনে পরী চমকে উঠে বললো,,,,,,
পরীঃ ওহহ তুমি । উঠে গেছো কখন ?
আমিঃ একটু আগেই । তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমিও অনেক ক্লান্ত । তাই যাও এখন তুমি ঘুমিয়ে পর ।
পরীঃ না না আমি ঠিক আছি । তুমি চিন্তা করো না ।
আমিঃ কিছুই ঠিক নেই । তুমি প্লিজ যাও ঘুমাও ।
প্রথমে রাজি না হলেও আমার জোরাজুরিতে রাজি হলো । একটু পর পরী ঘুমিয়ে পরলো । আর আমি আব্বুর পাশে থাকলাম ।
এভাবে একবার পরী একবার আমি আব্বুর পাশে থেকে রাতটা কেটে দিলাম । সকালে আমি হসপিটাল থেকে বাহিরে এসে নাস্তা নিয়ে এলাম ।
পরী তখনও ঘুমাচ্ছে । সেও আমার সাথে অনেক কষ্ট করছে । তাই আর তার ঘুম ভাঙালাম না । পরী বাচ্চা পরীর মতোই ঘুমাচ্ছে । দেখতে অপরূপ সুন্দর লাগছে ।
কিছুক্ষণ পর আম্মু আর পরীর আম্মুও চলে আসলো । আর তখনই পরীর ঘুম ভাঙে । উঠেই আমাকে বললো,,,,,
পরীঃ আরে তুমি কখন উঠছো । আর আমাকে ডাকো নি কেন ?
আমিঃ তুমি সারারাত অনেক কষ্ট করেছো তাই আর ডাক দেই নি । যাইহোক ফ্রেশ হয়ে আসো আর নাস্তা টা করে নাও ।
পরীঃ তুমি খাইছো ?
আমিঃ না । তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো । একসাথে খাবো ।
তারপর আর কোনো কথা না বলে পরী ফ্রেশ হতে গেল । আমি আম্মু কে বললাম,,,,,
আমিঃ আম্মু তুমি খাইছো,,,?
আম্মুঃ হ্যাঁ বাবা । পরীর আম্মু আর আমি খেয়ে আসছি ।
একটু পর পরী ফ্রেশ হয়ে আসলো । পরী খেতে খেতে বললো,,,,,,
পরীঃ রাকিব আমি তোমাকে খাইয়ে দেই ?
আমিঃ আরে কি বলছো এগুলো । এখানে সবাই আছে দেখছো না ।
পরীঃ কিছু হবে না খাইয়ে দেই না প্লিজ ।
দেখলাম আম্মু আর পরীর আম্মু হাসতেছে । যাহহ ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গেল । আর এদিকে না খাওয়া পর্যন্ত ছাড়বেও না । তাই বললাম,,,,,
আমিঃ ঠিক আছে খাওয়াও ।
পরীঃ সত্যিই ।
আমিঃ হুমম ।
তারপর পরী অনেক খুশি হয়ে আমাকে খাইয়ে দিল নিজের হাতে । খাওয়া শেষে আমি বললাম,,,,,,
আমিঃ আম্মু বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেই তাহলে ।
পরীঃ বগুড়া যাবে খেন ?
আমিঃ টাকার ব্যবস্থা করতে । গ্রামের বাড়ির জমি গুলো সব বিক্রি করতে ।
আম্মুঃ ঠিক আছে ।
আমিঃ আজকে আমি হয়তো আসতে পারবো না । জমির ব্যাপার তো । পরী আজকে তুমি আম্মুর সাথে থেকো প্লিজ ।
পরীঃ আরে তুমি চিন্তা করো না । সেটা তোমাকে বলতে হবে না । আমি এখান থেকে যাচ্ছি না আব্বু ভালো না হওয়া পর্যন্ত ।
আমিঃ তাহলে আমি আসি । আল্লাহ্ হাফেজ ।
সবাইঃ আল্লাহ্ হাফেজ ।
তারপর আমি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । সাড়ে পাঁচ ঘন্টা জার্নি করার পর বগুড়ায় পৌছালাম ।
সেখানকার জমি জমার কাজ সারতে দুই দিন লেগে গেল । এই দিন আমি অনেক বার ফোন করেছি অবশ্যই । বলেছে আব্বুর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে । যত দ্রুত সম্ভব টাকার ব্যবস্থা করে ঢাকায় ফিরে যেতে ।
জমি গুলো বিক্রি করে আমি তিনদিনের মাথায় ঢাকায় পৌছালাম । ঢাকায় পৌছেই সরাসরি চলে গেলাম হাসপাতালে ।
গিয়ে দেখলাম,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,
ভালো লাগলে অবশ্যই রেসপন্স করবেন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
অদ্ভুত ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
229
Views
16
Likes
0
Comments
4.3
Rating