এক রাতে আমি আমার রুমে বসে পরীর সাথে কথা বলতেছিলাম । হঠাৎ ই আম্মু তাদের রুম থেকে চিৎকার দিয়ে উঠলো । আমিও সাথে সাথে চমকে উঠলাম ।
আর সাথে সাথে দৌড়ে উনাদের রুমে চলে গেলাম । আর গিয়ে দেখি আব্বু বিছানায় শুয়ে ছটফট করছে । আর আম্মু পাশে বসে কাঁদছে ।
মনে হচ্ছে বুকের ব্যাথা টা আবার বেড়েছে । আমি গিয়ে বললাম,,,,,,
আমিঃ কি হয়েছে আম্মু ।
আম্মুঃ দেখ তোর আব্বু কেমন জানি করছে ।
তারপর আমি আব্বু কে বললাম,,,,,,
আমিঃ আব্বু কি হচ্ছে আমাকে বলো ।
কিন্তু আব্বু বুকের ব্যাথায় কিছুই বলতে পারছে না । আমি ভাবলাম পরিস্থিতি খুব খারাপ । তাই তাড়াতাড়ি করে এম্বুলেন্স ফোন করলাম । আর আম্মু কে বললাম,,,,,,,
আমিঃ আম্মু তুমি তাড়াতাড়ি রেডি হও আব্বু কে হাসপাতালে নিতে হবে । আমি এম্বুলেন্স কল করেছি । একটু পরেই আসবে ।
তারপর একটু পরেই এম্বুলেন্স এসে গেল । আমি আর আম্মু আব্বুকে নিয়ে তাড়াতাড়ি করে এম্বুলেন্সে তুলে হসপিটালে নিয়ে আসলাম ।
এম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে স্টেচারে করে আব্বুকে তাড়াতাড়ি ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে নেওয়া হলো । তখন রাত রাত প্রায় সাড়ে এগারো টা । ডাক্তার একটু পর ইমার্জেন্সি রুম থেকে বেরিয়ে এসে বললো,,,,,,,,
ডাক্তারঃ এই রুগীর রিলেটিভ কে ?
আমিঃ জ্বি আমি ।
ডাক্তারঃ উনি আপনার কে হয় ?
আমিঃ জ্বি আব্বু । কি হয়েছে উনার ।
ডাক্তারঃ দেখুন আপনারা উনাকে অনেক দেরী করে হাসপাতালে এসেছেন ।
ডাক্তারের কথা শুনে আম্মু ধপাস করে ফ্লোরে বসে পড়লো । আমিও আমতা আমতা করে বললাম,,,,,,,,
আমিঃ মা...মা মানে কি ডা..ডাক্তার ?
ডাক্তারঃ আরে ঘাবরাবেন না । মানে আমরা এখন কিছুই করতে পারবো না । উনাকে ইমিডিয়েটলি ঢাকায় শিফট করতে হবে । তাহলে উনাকে বাঁচাতে পারবেন । আমরা কিছুই করতে পারছি না । সরি ।
আমি একটু ভেবে বললাম,,,,,,
আমিঃ ঠিক আছে ডাক্তার আপনি ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেন ।
ডাক্তারঃ ঠিক আছে ।
তারপর আবার আব্বুকে এম্বুলেন্সে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম আমি আর আম্মু ।
আম্মু তো সারা রাস্তা অনেক কেদেছে । আমি একটুও কাঁদি নি । কারন আমি জানি আমি কাঁদতে লাগলে আম্মুকে আর সামলাতে পারবো না । তাই মনে পাথর বেঁধে আম্মুকে শান্তনা দিচ্ছি ।
পাঁচ ঘন্টা পর মানে ভোর সাড়ে চার টায় ঢাকার একটা বড় হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো । ওখানেও ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করানো হলো ।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার দেখলো আর বাহিরে যা বললো তা শুনে আমার আর আম্মুর পায়ের মাটি সরে গেল ।
কেননা ডাক্তার এসে বললো,,,,,,,
ডাক্তারঃ উনার হার্টে সমস্যা হয়েছে । হার্ট ফুটো হয়ে গেছে । নিঃশ্বাস পাল্স করতে পারছে না । এরকম কয়েকদিন থাকলে আমাদের ও বাঁচাতে সম্ভব হবে না ।
এটা শুনেই তো আম্মু অনেক কান্না করতে লাগলো । আমি নিজেকে অনেক কষ্টে সামলিয়ে বললাম,,,,,,
আমিঃ তাহলে এখন কি কোনো উপায় নেই ভালো করার ?
ডাক্তারঃ অবশ্যই আছে কিন্তু সাকসেস রেট 20% ।
আমিঃ মানে বুঝলাম না । কি উপায় ।
ডাক্তারঃ উনার হার্ট সার্জারি করতে হবে । মানে হার্ট ট্রান্সফার করতে হবে । নতুন হার্ট দিতে হবে । কিন্তু সমস্যা হলো হার্ট ডোনার পাওয়াই যায় না । এক লক্ষ মানুষে ডোনার একজন মিলে । আর রোগীর সাথে ব্লাড গ্রুপ ও মিল থাকতে হবে । আর এগুলো সব পাওয়া গেলেও সাকসেস রেট মাত্র 20% । অনেক কঠিন একটা সার্জারি ।
শুনেই তো আমার মাথা ঘুরে গেল । এগুলো কি শুনছি । তাহলে কি আমার আব্বুকে আমি সন্তান হয়ে বাঁচাতে পারবো না ? তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে ডাক্তারকে বললাম,,,,,,
আমিঃ ডাক্তার এই অপারেশনের খরচ কত পরবে ??
ডাক্তারঃ 50 লক্ষ টাকা লাগবে ।
টাকার কথা শুনে আরো মাথা আরো চক্কর দিতে লাগলো । তারপর ডাক্তার বললো,,,,,,,
ডাক্তারঃ আপনারা হার্ট ডোনার আর টাকার যোগাড় করুন তাহলে অপারেশন করতে পারি । আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চেষ্টা করুন । কারন উনার হাতে বেশি সময় নেই ।
বলেই ডাক্তার চলে গেল । আম্মু তো অনেক কান্না করতে লাগলো । আর কান্না করতে করতে বললো,,,,,,
আম্মুঃ তোর আব্বু কে বাঁচা বাবা ।
আমিঃ তুমি টেনশন করো না আম্মু । আব্বু অবশ্যই বাঁচবে ।
আম্মুঃ আমাকে কথা দে তোর আব্বুকে যে করেই হোক বাঁচাবি ।
আমিঃ আমি কথা দিলাম আম্মু আব্বুকে যা করেই হোক আমি বাঁচাবোই ।
হসপিটালে আব্বুর কেবিনে বসে আছি আমি আর আম্মু । আর ভাবছি কি করবো এখন আমি । কি করলে আব্বুকে বাঁচাতে পারবো,,,,,,,,,,,,
রাকিব এখন কি করবে আপনারাই বলেন,,,,??
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
ভালো লাগলে অবশ্যই রেসপন্স করবেন । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন ।
অদ্ভুত ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
282
Views
20
Likes
2
Comments
4.4
Rating