অদ্ভুত ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
জমি গুলো বিক্রি করে আমি তিনদিনের মাথায় ঢাকায় পৌছালাম । ঢাকায় পৌছেই সরাসরি চলে গেলাম হাসপাতালে ।

গিয়ে দেখলাম আম্মু পরী আর পরীর আম্মু সবাই আছে । আম্মু আমাকে দেখেই বললো,,,,,

আম্মুঃ কি রে এতো দেরী হলো যে । সব ঠিকঠাক হয়েছে তো ।

আমিঃ হ্যাঁ ঠিক ঠাক হয়েছে । জমির ব্যাপার তো তাই একটু লেট হলো ।

আম্মুঃ কত টাকা জোগাড় করতে পারলি ।

আমিঃ 40 লক্ষ টাকা বিক্রি করছি ।

আম্মুঃ আরো তো দশ লক্ষ টাকা লাগবে ।

আমিঃ হুমম কিন্তু তুমি কোনো চিন্তা করো না । জোগাড় করে ফেলবো আমি ।

আম্মুঃ কবে ? তোর আব্বুর অবস্থা দেখ । ক্রমশ খারাপ হচ্ছে ।

দেখলাম পাল্স আরো কমে এসেছে । তবুও আমি বললাম,,,,

আমিঃ খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা করবো ।

আম্মুঃ আর ডোনারের কী হলো ।

আমিঃ ওই টাও চিন্তা করো না । সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ ।

তারপর পরী আর পরীর আম্মুর দিকে তাকালাম । এই তিন দিনে তাদের অনেক শুকনো লাগছে । অনেক কষ্ট করছে তারাও ।

আমি পরীর আম্মুকে বললাম,,,,,,

আমিঃ আন্টি আপনারা চলে যান । এই তিন দিন অনেক কষ্ট করছেন । বাসায় গিয়ে রেষ্ট নিয়ে পরে না হয় আবার আইসেন ।

তারা যেতে না চাইলেও পরে আমার আর আম্মুর অনেক জোরাজুরিতে যেতে রাজি হলো । তারপর বললো,,,,,,

পরীঃ ঠিক আছে তুমিও রেষ্ট নিও । আর আমাকে ফোন কইরো ।

আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে ।

তারপর পরী আর পরীর আম্মু চলে গেল । আমি আম্মুকে বললা,,,,,,,

আমিঃ আম্মু তুমি কিছু খাইছো,,,?

আম্মুঃ না খাওয়া হয় নি।

আমিঃ ঠিক আছে তুমি আব্বুর খেয়াল রেখো আমি খাবার নিয়ে আসছি ।

বলেই খাবার নিতে চলে গেলাম । একটু পর খাবার নিয়ে আসলাম । আম্মু কে বললাম,,,,,

আমিঃ আম্মু এই নাও । খেয়ে নাও ।

আম্মুঃ তুই খেয়েছিস ।

আমিঃ না ।

আম্মুঃ তাহলে আয় এক সাথে খাই ।

তারপর আমি আর আম্মু খাওয়া দাওয়া করে নিলাম । খেয়ে বসে বসে ভাবছি কি করা যায় । তখনই ই ফোন বেজে উঠলো । ফোন বের করে দেখি পরী ফোন করেছে ।

রিসিভ করলাম । আর বললাম,,,,,,

আমিঃ হ্যালো বাসায় গেছো ।

পরীঃ হ্যাঁ । আচ্ছা শোনো একটু হাসপাতালের পাশের এই পার্কে দেখা করতে পারবে ।

আমিঃ কেন ?

পরীঃ খুব আর্জেন্ট । প্লিজ ।

আমিঃ ঠিক আছে । কখন যাবো ?

পরীঃ এখন ই আসো ।

আমিঃ ঠিক আছে । আসছি ।

বলেই ফোনটা কেটে দিলাম । আমি আম্মুকে বললাম,,,,,,

আমিঃ আম্মু তুমি আব্বুর পাশে থেকো । আমি একটু আসছি ।

আম্মুঃ কই যাবি ।

আমিঃ পরী ডাকছে । জানি না কেন । বললো খুব আর্জেন্ট ।

আম্মুঃ আচ্ছা ঠিক আছে যা । কিন্তু তাড়াতাড়ি আসিস ।

আমিঃ ঠিক আছে ।

বলেই বেরিয়ে এলাম । তারপর পরীর দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী পার্কে চলে আসলাম । এসে দেখি পরী এখনো আসে নি । তাই পাশেই একটা বেঞ্চে বসে পড়লাম ।

বসে বসে ভাবছি কি করে আরো ১০ লক্ষ টাকা যোগাড় করি । আর হার্ট ডোনার ই বা কোথা থেকে পাবো । আম্মুকে তো খুব বড় মুখ করে বললাম সব যোগাড় করবো ।

এদিকে আব্বুর অবস্থাও ভালো না । এসব ভাবতে ভাবতে চোখ দুটো ভিজে আসছে । আব্বুর সাথে ঘটা গুলো স্মৃতি গুলো মনে পরছে ।

একবার ঈদে আমার নতুন জুতো জোড়া থাকতেও আমি জুতোর জন্য বায়না করেছিলাম । উনি কোনো কথা না বলে আমাকে মার্কেটে নিয়ে গেছিলেন ।

আমার পায়ে জুতোর পড়তে গিয়ে দেখি আব্বুর পায়ের জুতোটা পাঁচটা পটি লাগানো তাও আবার অনেকটা ছিঁড়ে গেছে ।

এটা দেখে আমার চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি আসছিলো । তাকে বুঝতে না দিয়ে বললাম,,,,,,

আমিঃ আব্বু তুমি জুতো নিবে না ? তোমার জুতো তো ছিঁড়ে গেছে ।

তারপর আব্বু আমাকে যে উত্তর টা দিলো আমি শুনে অনেকটা অবাক হলাম । কারন উনি বললেন,,,,,,

আব্বুঃ আমার এটা দিয়েই চলে যাবে । তুমি জুতো পায়ে দিয়ে যতটুকু খুশি হবে আর সেটা দেখে আমি যতটুকু সুখ পাবো সে সুখ তো আমি আমার জুতো কিনেও পাবো না । তুমি পায়ে দিয়ে খুশি থাকলেই আমি অনেক খুশি । আমার এই জুতো ফুটপাত থেকে সেলাই করে নিলেই আরো কয়েকদিন টিকে যাবে ।

আমি সেদিন কোনো উত্তর খুঁজে পাই নি । এই ভালোবাসার নাম কি । এটা কোন ধরনের অদ্ভুত ভালোবাসা ।

উনি ছেঁড়া শার্ট পড়ে থেকে আমাকে নতুন শার্ট কিনে দিয়েছে । আর সেই বাবাকে আজ টাকার অভাবে আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না ।

কেমন সন্তান আমি । আমি মনে উনার সন্তান হিসেবে ব্যর্থ । আমি থাকতে আমার বাবা বিনা চিকিৎসায় শেষ হয়ে যাচ্ছে ।

এগুলো ভাবতে ভাবতেই চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পরে যাচ্ছে । তারপর,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,,,
224 Views
17 Likes
1 Comments
4.5 Rating
Rate this: