জমি গুলো বিক্রি করে আমি তিনদিনের মাথায় ঢাকায় পৌছালাম । ঢাকায় পৌছেই সরাসরি চলে গেলাম হাসপাতালে ।
গিয়ে দেখলাম আম্মু পরী আর পরীর আম্মু সবাই আছে । আম্মু আমাকে দেখেই বললো,,,,,
আম্মুঃ কি রে এতো দেরী হলো যে । সব ঠিকঠাক হয়েছে তো ।
আমিঃ হ্যাঁ ঠিক ঠাক হয়েছে । জমির ব্যাপার তো তাই একটু লেট হলো ।
আম্মুঃ কত টাকা জোগাড় করতে পারলি ।
আমিঃ 40 লক্ষ টাকা বিক্রি করছি ।
আম্মুঃ আরো তো দশ লক্ষ টাকা লাগবে ।
আমিঃ হুমম কিন্তু তুমি কোনো চিন্তা করো না । জোগাড় করে ফেলবো আমি ।
আম্মুঃ কবে ? তোর আব্বুর অবস্থা দেখ । ক্রমশ খারাপ হচ্ছে ।
দেখলাম পাল্স আরো কমে এসেছে । তবুও আমি বললাম,,,,
আমিঃ খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা করবো ।
আম্মুঃ আর ডোনারের কী হলো ।
আমিঃ ওই টাও চিন্তা করো না । সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ ।
তারপর পরী আর পরীর আম্মুর দিকে তাকালাম । এই তিন দিনে তাদের অনেক শুকনো লাগছে । অনেক কষ্ট করছে তারাও ।
আমি পরীর আম্মুকে বললাম,,,,,,
আমিঃ আন্টি আপনারা চলে যান । এই তিন দিন অনেক কষ্ট করছেন । বাসায় গিয়ে রেষ্ট নিয়ে পরে না হয় আবার আইসেন ।
তারা যেতে না চাইলেও পরে আমার আর আম্মুর অনেক জোরাজুরিতে যেতে রাজি হলো । তারপর বললো,,,,,,
পরীঃ ঠিক আছে তুমিও রেষ্ট নিও । আর আমাকে ফোন কইরো ।
আমিঃ আচ্ছা ঠিক আছে ।
তারপর পরী আর পরীর আম্মু চলে গেল । আমি আম্মুকে বললা,,,,,,,
আমিঃ আম্মু তুমি কিছু খাইছো,,,?
আম্মুঃ না খাওয়া হয় নি।
আমিঃ ঠিক আছে তুমি আব্বুর খেয়াল রেখো আমি খাবার নিয়ে আসছি ।
বলেই খাবার নিতে চলে গেলাম । একটু পর খাবার নিয়ে আসলাম । আম্মু কে বললাম,,,,,
আমিঃ আম্মু এই নাও । খেয়ে নাও ।
আম্মুঃ তুই খেয়েছিস ।
আমিঃ না ।
আম্মুঃ তাহলে আয় এক সাথে খাই ।
তারপর আমি আর আম্মু খাওয়া দাওয়া করে নিলাম । খেয়ে বসে বসে ভাবছি কি করা যায় । তখনই ই ফোন বেজে উঠলো । ফোন বের করে দেখি পরী ফোন করেছে ।
রিসিভ করলাম । আর বললাম,,,,,,
আমিঃ হ্যালো বাসায় গেছো ।
পরীঃ হ্যাঁ । আচ্ছা শোনো একটু হাসপাতালের পাশের এই পার্কে দেখা করতে পারবে ।
আমিঃ কেন ?
পরীঃ খুব আর্জেন্ট । প্লিজ ।
আমিঃ ঠিক আছে । কখন যাবো ?
পরীঃ এখন ই আসো ।
আমিঃ ঠিক আছে । আসছি ।
বলেই ফোনটা কেটে দিলাম । আমি আম্মুকে বললাম,,,,,,
আমিঃ আম্মু তুমি আব্বুর পাশে থেকো । আমি একটু আসছি ।
আম্মুঃ কই যাবি ।
আমিঃ পরী ডাকছে । জানি না কেন । বললো খুব আর্জেন্ট ।
আম্মুঃ আচ্ছা ঠিক আছে যা । কিন্তু তাড়াতাড়ি আসিস ।
আমিঃ ঠিক আছে ।
বলেই বেরিয়ে এলাম । তারপর পরীর দেয়া ঠিকানা অনুযায়ী পার্কে চলে আসলাম । এসে দেখি পরী এখনো আসে নি । তাই পাশেই একটা বেঞ্চে বসে পড়লাম ।
বসে বসে ভাবছি কি করে আরো ১০ লক্ষ টাকা যোগাড় করি । আর হার্ট ডোনার ই বা কোথা থেকে পাবো । আম্মুকে তো খুব বড় মুখ করে বললাম সব যোগাড় করবো ।
এদিকে আব্বুর অবস্থাও ভালো না । এসব ভাবতে ভাবতে চোখ দুটো ভিজে আসছে । আব্বুর সাথে ঘটা গুলো স্মৃতি গুলো মনে পরছে ।
একবার ঈদে আমার নতুন জুতো জোড়া থাকতেও আমি জুতোর জন্য বায়না করেছিলাম । উনি কোনো কথা না বলে আমাকে মার্কেটে নিয়ে গেছিলেন ।
আমার পায়ে জুতোর পড়তে গিয়ে দেখি আব্বুর পায়ের জুতোটা পাঁচটা পটি লাগানো তাও আবার অনেকটা ছিঁড়ে গেছে ।
এটা দেখে আমার চোখ দিয়ে অজান্তেই পানি আসছিলো । তাকে বুঝতে না দিয়ে বললাম,,,,,,
আমিঃ আব্বু তুমি জুতো নিবে না ? তোমার জুতো তো ছিঁড়ে গেছে ।
তারপর আব্বু আমাকে যে উত্তর টা দিলো আমি শুনে অনেকটা অবাক হলাম । কারন উনি বললেন,,,,,,
আব্বুঃ আমার এটা দিয়েই চলে যাবে । তুমি জুতো পায়ে দিয়ে যতটুকু খুশি হবে আর সেটা দেখে আমি যতটুকু সুখ পাবো সে সুখ তো আমি আমার জুতো কিনেও পাবো না । তুমি পায়ে দিয়ে খুশি থাকলেই আমি অনেক খুশি । আমার এই জুতো ফুটপাত থেকে সেলাই করে নিলেই আরো কয়েকদিন টিকে যাবে ।
আমি সেদিন কোনো উত্তর খুঁজে পাই নি । এই ভালোবাসার নাম কি । এটা কোন ধরনের অদ্ভুত ভালোবাসা ।
উনি ছেঁড়া শার্ট পড়ে থেকে আমাকে নতুন শার্ট কিনে দিয়েছে । আর সেই বাবাকে আজ টাকার অভাবে আমি চিকিৎসা করাতে পারছি না ।
কেমন সন্তান আমি । আমি মনে উনার সন্তান হিসেবে ব্যর্থ । আমি থাকতে আমার বাবা বিনা চিকিৎসায় শেষ হয়ে যাচ্ছে ।
এগুলো ভাবতে ভাবতেই চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পরে যাচ্ছে । তারপর,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,,,
অদ্ভুত ভালোবাসা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
224
Views
17
Likes
1
Comments
4.5
Rating