অদ্ভুত ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমি তো প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খাইলাম । ছবির থেকেও বাস্তবে আরো সুন্দর । মনে হচ্ছে আমি জান্নাতে আছি আর আমি জান্নাতের পরী দেখছি ।

কিন্তু তার থেকেও বড় শকড একটু পর আমি খেলাম । কারন আমাকে দেখার পরেই মেয়েটা চোখ বড় বড় করে অজ্ঞান হয়ে গেল ।

আমি মনে মনে ভাবলাম আমাকে দেখতে কি এতোটাই খারাপ লাগছে যে অজ্ঞান হয়ে গেল । এখন যদি কেউ এসে দেখে মেয়েটা অজ্ঞান হয়ে আছে তাহলে সবাই আমাকে অজ্ঞান পার্টির লোক ভেবে হেব্বি মা*র*বে ।

হায় আল্লাহ উপকার করতে এসে এ কোন মসিবতে পড়লাম । তারপর আমি তাকে নাড়িয়ে বললাম,,,,,,,

আমিঃ এই যে শুনছেন,,উঠুন প্লিজ ।

মেয়েটার কোনো সাড়া শব্দই পেলাম না । তারপর একটু পরেই একটা ভদ্র মহিলা ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেন । এসেই বললো,,,,

মহিলাঃ এই পরী তুই এখানে পড়ে আছিস কেন । আর এই ছেলে তুমি কে,,,?

ওহহ তার মানে এই মেয়েটার নাম পরী । মাশাআল্লাহ খুব সুন্দর নাম । আমার ভাবনাকে ছেদ ঘটিয়ে আবার মহিলাটা বললো,,,,,,,

মহিলাঃ এই ছেলে কথা বলছো না কেন ? কে তুমি ?

আমিঃ জ্বি আন্টি আমি রাকিব ।

মহিলাঃ তা এখানে কেন এসেছো ?

আমিঃ আন্টি সেটা একটু পরে বলছি আগে এনার জ্ঞান ফেরান ।

মহিলাঃ ঠিক আছে ।

তারপর মহিলাটি ভিতর থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে মেয়েটির মুখে একটু পানি ছিটিয়ে দিল । আর সাথে সাথে জ্ঞান ফিরলো । আমিও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম । তারপর আমি বললাম,,,,,,

আমিঃ এই মেয়ে আপনি আমায় দেখে অজ্ঞান হয়ে গেছিলেন কেন ?

পরীঃ আপনি রাকিব তাই না ।

আমিঃ জ্বি । আপনি আমাকে চিনেন ।

পরীঃ অবশ্যই চিনি । আমি আপনার গল্পের অনেক বড় একটা ফ্যান । আপনাকে নক ও দিয়েছিলাম কিন্তু কোনো রিপ্লেই পাই নি ।

আমিঃ ওহহ আচ্ছা ।

পরীঃ আপনাকে সরাসরি দেখে নিজেকে সামলাতে পারি নি । যে আপনি আমার বাসায় তাও আমার সামনে । তাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছিলাম ।

তার মানে মেয়েটা আমাকে আগে থেকেই চিনে । যাক ভালোই হলো । তারপর পরী বললো,,,,,,,

পরীঃ কি হলো কথা বলছেন না কেন ?

আমিঃ না কিছু না ।

পরীঃ তা হঠাৎ আপনি এখানে,,?

আমিঃ আসলে এই ব্যাগটা আমি বগুড়া স্টেশনে পেয়েছিলাম । ব্যাগের ভিতরে ন্যাশন্যাল আইডি কার্ডে আপনার ছবি আর এই ঠিকানা দেখতে পেলাম । আর ব্যাগের মধ্যে অনেক সার্টিফিকেট ও আছে তাই ভাবলাম এগুলো ছাড়া তো আপনি অনেক বিপদে আছেন তাই দিতে আসলাম ।

পরীঃ ও মাই গড । সত্যিই এগুলো ছাড়া অনেক বিপদে ছিলাম । কোথাও চাকরীর জন্য আবেদন করতে পারতাম না । আমি তো আশায় ছেড়ে দিয়েছিলাম ।

আমিঃ আপনার ব্যাগ বগুড়া কিভাবে গেল ।

পরীঃ আসলে ব্যাগটা আমার ছিনতাই হয়ে গেছিলো ।

আমিঃ ওহহ আচ্ছা । দেখেন সব কিছু ঠিক আছে কি না ।

পরী চেক করে,,,,,,

পরীঃ হ্যাঁ সব ঠিক ই আছে শুধু টাকা গুলো নেই । হয়তো ছিনতাইকারী টাকা গুলো নিয়ে ব্যাগ ফেলে দিয়েছে ।

আমিঃ হুমম হয়তো ।

পরীর মাঃ দেখেছিস মা পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে ।

পরীঃ হ্যাঁ মা । সত্যিই উনি অনেক ভালো মানুষ ।

আমিঃ আচ্ছা তাহলে আমি এখন চলি ।

পরীর মাঃ চলি মানে । ভিতরে এসো বাবা । আমাদের এতো বড় উপকার করলে তোমাকে তো আজকে না খেয়ে যেতে দিবো না ।

আমিঃ না আন্টি আজকে না । আরেক দিন আসি ।

পরীঃ না । কোনো কথা হবে না । আজকেই আসতে হবে ।

বলেই পরী আর পরীর মা জোর করে ভিতরে নিয়ে গেল । তারপর ভিতরে গিয়ে বসলাম । আন্টি নাস্তা দিয়ে রান্না করতে চলে গেল । আর এই ফাঁকে আমি আর পরী অনেক্ষন গল্প করলাম । পরী আমার থেকে নাম্বার ও নিলো । আমিও নিলাম ।

দুপুরে খাওয়ার সময়,,,,,,,,

আন্টিঃ তা বাবা তুমি ঢাকায় কি করো ?

আমিঃ আন্টি আমি কিছুই করি না । ঢাকায় এসেছি বিসিএস এক্সাম দেয়ার জন্য । আজকেই বগুড়া চলে যাবো ।

আন্টিঃ ওহহ তাই নাকি কেমন হয়েছে এক্সাম ।

আমিঃ জ্বি আন্টি আলহামদুলিল্লাহ ভালো হইছে ।

আন্টিঃ তা তোমরা কোথায় থাকো ? তোমার বাসায় কে কে আছে,,,?

আমিঃ আন্টি আমি বগুড়ায় থাকি । আমি আব্বু আর আম্মু ।

পরী শুধু আমাদের কথা শুনছে আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে । তারপর আমি বললাম,,,,,

আমিঃ আন্টি একটা কথা বলবো,,,,

আন্টিঃ হ্যাঁ বাবা বলো ।

আমিঃ আন্টি আঙ্গেল কে দেখছি না । উনি কোথায়,,,?

তারপর দেখলাম আন্টি আর পরীর মন খারাপ হয়ে গেল । তারপর আমি আবার বললাম,,,,,,,

আমিঃ কি হইছে আন্টি ?

আন্টিঃ তোমার আঙ্গেল তিন বছর আগে একটা রোড এ*ক*সিডেন্টে মা*রা যায় । তখন থেকেই আমরা মা মেয়ে একা ।

উনার কথা শুনে আমার নিজেরই মন খারাপ হয়ে গেল । তারপর আমি বললাম,,,,,

আমিঃ সরি আন্টি আমি মনে করে দিয়ে কষ্টটি বাড়িয়ে দিলাম ।

তারপর আন্টি চোখ মুছে বললো,,,,,

আন্টিঃ আরে না সমস্যা নেই বাবা ।

তারপর তাদের সাথে আরো অনেক্ষন গল্প করলাম । খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলো তাদের সাথে । তারপর আসার সময়,,,,,,

আমিঃ আন্টি তাহলে আমি এখন চলি ।

আন্টিঃ ঠিক আছে বাবা যোগাযোগ রেখো । আর ঢাকায় কোনো প্রয়োজন হলে অবশ্যই জানাবে ।

আমিঃ জ্বি আন্টি অবশ্যই । ভালো থাকবেন । আল্লাহ্ হাফেজ ।

বলেই সেখান থেকে চলে আসলাম । তারপর সেখান থেকে হোটেলে গিয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।

কয়েকঘন্টা পর বগুড়ায় পৌছেও গেলাম । সেখান থেকে রিক্সা নিয়ে সোজা বাসায় চলে এলাম । বাসায় এসে কলিং বেল বাজাতেই আম্মু এসে দরজা খুলে দিলো । আর বললো,,,,,,,,,

চলবে তো,,,,,,,,,,
To be continue,,,,,,,,,,,
461 Views
19 Likes
6 Comments
4.4 Rating
Rate this: