জুয়া ‌ ( পর্ব 8 )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
জামাল : যদি‌ প্রমান‌ না‌ করতে‌ পারো‌‌ তাহলে ভালো হবে না‌ কিন্তু চাচী ।

বেগম‌ : তোর‌ ফোন নম্বরটি‌ দিয়ে‌ যা‌ যখন ফোন‌ দিবো‌‌ তখনই আসবি‌ ,,,

জামাল : আচ্ছা,, এখন চললাম‌ এই‌ বলে‌ চলে‌‌ গেল।

আর‌ এদিকে‌ আছিয়া‌ মেয়ের‌ টেনশনে‌ পাগল পাড়া‌ হয়ে পড়েছে‌ ।‌ সারা যেন এখনো‌ কুকড়াচ্ছে‌ জ্বরে‌ আর‌ রাতে‌র‌‌ ঘটনার ভয়ে‌।‌ ,,যারার‌ আজকে‌ পরীক্ষা  আছিয়া‌ জারাকে‌ খাওয়ে‌ ‌পরীক্ষা‌ দেওয়ার জন্য পাঠিয়ে দিলো‌।

এখন সারাকে‌ ঘুম‌ আনিয়ে পোশাক বানিয়ে‌ যার‌ পোষাক ‌ তাকে‌ দিতে‌ নিয়ে‌ গেল ,,,আর‌ পাওনা‌ টাকা‌টি‌ আনতে‌, টাকাটি‌ আনতে‌ পারলে‌ সারাকে‌ ডাক্তারের‌ কাছে‌ নিয়ে‌ যেতে‌ পারবে‌ ।

("রহিমাদের‌ বাড়িতে‌ গেল‌ ,আর‌ হ্যা‌ রহিমা‌‌  হলো‌ ঔ‌ মহিলার‌‌ নাম‌ যে‌ পোশাক বানাতে‌ দিয়ে‌ ছিলো‌‌ আছিয়ার‌ কাছে")

আছিয়া‌ তার বাড়িতে যেয়ে‌ বললো‌ রহিমা ভাবি‌ ,,

আমি পোশাক বানিয়ে‌ নিয়ে‌ আসছি‌, টাকা টি‌ দিয়ে‌ দেন‌ তাড়াতাড়ি‌  আমার খুব দরকার আমার মেয়েটা‌ অনেক অসুস্থ তাকে ডাক্তারের‌ কাছে নিয়ে যাবো‌ ‌।

রহিমা‌ ওতোটাও‌ ভালো লোক ন‌ই‌ ।  রহিমা বললো‌ আমার কাছে আজকে‌ টাকা‌ নেই‌ কালকে‌ এসে‌ নিয়ে‌ যেও‌।‌ আছিয়া‌ কেঁদে ফেললো‌, কেঁদে বললো দেখেন‌ ভাবি‌ মেয়েটির‌ শরীর জ্বরে‌ পুড়ে‌ যাচ্ছে‌।‌ ডাক্তারের‌ কাছে নেওয়া খুব দরকার।

রহিমা‌ :  দাড়াও‌ আছিয়া‌ দেখি‌ টাকা‌ আছে কিনা‌ ,,এই‌ বলে‌ ঘরে ‌ গেল‌ রহিমা ‌, 300 টাকা এনে‌ বললো‌  যাও‌ সারাকে‌ নিয়ে‌ ডাক্তারের‌ কাছে‌ । আছিয়ার‌ মুখে‌‌ একটু‌ খানি হাসি‌ ফুটে‌ ওঠলো‌  এই‌ কথাটা‌ শুনে‌ ।  তাড়াহুড়া করে‌ তখনই আছিয়া‌ সারাকে‌ নিয়ে‌ হসপিটালে চলে গেল‌ ডাক্তারের‌ কাছে চেকাব‌ করারো‌র‌ জন্য,,।‌

  চেকাব‌ করে‌ ডাক্তার‌ বললো‌ সারার‌ ট্রাইফ্রয়েড জ্বর‌ হয়ছে‌ ,,,আর‌ সারার‌ মাথায় অনেক চাপ‌ পরছে । সারাকে‌ হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করবেন,,,নাহলে কিন্তু সারার‌ ভয়ানক‌ রোগ‌‌ হ‌ওয়ার‌ সম্ভাবনা ‌ আছে‌‌ ।

আপনার মেয়ের দিকে‌ খেয়াল‌ রাইখেন‌ । আর‌ কিছু‌ ফল‌‌-মূল, দুধ‌ ,,, এগুলো খাওয়ায়েন‌ । এগুলো শুনে তো‌ আছিয়ার‌ পায়ের‌ নিচ‌ থেকে‌ মাটিই‌ চলে‌ গিয়েছে‌।‌ মেয়ের চিন্তায়‌ যেন‌ আছিয়া‌ হাওমাও‌‌ করে‌ কেঁদে ফেললো। কি‌ করবে‌ কিছু বুজতে‌ পারছে‌ না‌ ,আর‌ এই‌ কথা‌ কাকেই‌ বা‌ বলবে‌ ।‌ জামাল কে‌ যে‌ বলতে‌ পারবে‌ এমনটাও‌ না‌ ।‌

আছিয়া‌ সারাকে‌ নিয়ে‌ বাড়ির‌ দিকে‌ র‌ওনা‌ দিয়েছে‌ ।সারা যে‌ন এখনো চুপচাপ হয়েই‌ রয়েছে‌। জ্বর‌ যেন‌ এখনো‌ শরীল‌ ভর্তি‌,,কমে‌ নেই‌ একটুও‌ ।বাড়িতে‌ এসে‌ আছিয়া‌ খুব তাড়াতাড়ি‌ করে‌‌ চুলায় গরম পানি করে,,সারার‌ সারা শরীল‌ মুছে দিলো‌।
তাড়াহুড়া করে‌ জ্বরের নাপা‌ ঔষধ খাওয়ালো‌ ।

আরো‌ অনেক ঔষধ লেখে‌ দিয়েছে‌ ডাক্তার‌ ,,,কিন্তু টাকার জন্য আনতে‌ পারে‌ নেই‌‌ একটিও নাপা‌ ছাড়া‌।

আর‌ আছিয়ার শরীর অনেক অসুস্থ,,ব্যাথা‌ ভর্তি‌ শরীল‌ ।রাতে‌ জামালের মাইরের‌ পর‌ থেকে‌ অনেক ব্যাথা‌ হয়েছে‌‌ তার শরীলে । সন্তানের‌ জন্য‌ আছিয়া নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানের‌ অসুস্থতার জন্য টেনশনে যেন‌ পাগল পারা হয়ে‌ পড়েছে‌‌ আছিয়া‌।

সারার‌ সেবা যত্ন‌ করে‌ ,,ঘুম‌ আনিয়ে‌ ,, পোষাক বানাতে বসে পড়লো‌ আছিয়া‌ ,,, আছিয়ার মাথায় একটিই‌ টেনশন‌ তার অনেক টাকার ‌ প্রয়োজন‌ মেয়েকে সুস্থ করার জন্য।

‌ এভাবেই না‌ খেয়ে‌ দেয়ে‌ কাজ‌ করা‌ শুরু করলো‌ আছিয়া‌।‌ সকাল থেকে প্রায় দুপুর তিনটে‌ বেঝে গিয়েছে‌  পোষাক বানাতে বানাতে । প্রায়‌ 5 সীটের‌ মতো পোষাক বানিয়ে‌ ফেললো‌ আছিয়া‌ ।‌ আর‌ ঔ‌ দিকে‌ জামাল ‌ এখনো‌ বাড়িতেই‌ ফিরে‌ নেই‌ সেই‌ সকালে‌ গিয়েছে‌ এখন বিকেলের কাছাকাছি হয়ে‌ গিয়েছে।

জারাও‌ পরীক্ষা ‌ দিয়ে‌ বাড়িতে‌ ফেরলো‌‌।‌ জারাকে‌ সারার‌ কাছে‌ রেখে‌  যাদের ‌ কাপড়‌ তাদেরকে‌ দিয়ে‌ টাকা আনতে‌ গেল । টাকা‌ আনলে‌ তো‌ ফল‌, ঔষধ খাওয়াতে‌ পারবে‌ সারাকে‌ ।

এভাবেই লোকের বাড়ি‌ বাড়ি‌ যেয়ে‌ টাকা তুলে আনলো‌ আছিয়া‌ । বাড়িতে এসে বোরকা‌ পড়ে‌ বাজারের‌ উদ্দেশ্যে ‌ বেড়িয়ে‌ পড়লো‌ ।‌বাজারে‌ এসে‌ সবার‌ আগে‌ কিছু ফল‌ যেমন‌ আপেল কমলা‌ কিনে‌ নিল,,এবার‌ ঔষধ কিনতে‌ যেয়ে‌ দেখলো‌ টাকা খুবই কম‌ । অর্ধেক ঔষধও নেওয়া‌ যায়না‌ । ডাক্তারের হাতে‌ পায়ে‌ ধরার মতন করে‌ বুঝিয়ে বাকি‌ ঔষধটি‌ নিতে‌ পারলো‌ আছিয়া‌‌ ,,এতেই‌ যেন‌ একটু‌ সস্থির‌ নিঃশ্বাস ফেললো‌ । বাড়িতে চলে আসলো‌ । সারাকে‌ ফল‌ খাওয়ে‌ ঔষধ খাওয়ালো‌ ।

("‌ সারার‌‌ এতো অসুস্থ হ‌ওয়ার‌ কারণ আসলে‌ ডাক্তার‌ও ধরতে পারে‌ নেই‌ ,, বাচ্চাদের শরীলে‌ আর‌ কতো‌ ভয়‌ ব্যাতি সহ্য হবে‌।‌ প্রতিদিনের জামেলা‌ আর‌ সারার‌ শরীল‌ নিতে‌ পারছে‌ না‌ । বাবাকে‌ হিংস‌ বাঘের মতো মায়ের উপর‌ মারার জন্য ‌ ঝাপিয়ে‌ পড়া‌ । এগুলো দেখতে দেখতে ছোট্ট সারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে‌।‌ ")

কিছুক্ষণ পর‌ জামাল বাড়িতে আসলো,, কিন্তু কিছু‌ বলবে না‌ জামাল আজকে ঠিক‌ করেছে ,, বেগম প্রমান‌ দেওয়ার পর‌ একবারে‌ তার ব‌উকে‌ মারবে‌।

জামাল ঘরে যেয়ে‌ দেখলো‌ ,, টেবিলের উপর ফল‌ রাখা‌ ,, অনেক ঔষধ‌ । বড়‌ মেয়ে‌ পরছে‌ ,,দুধ‌ ও‌ জাল‌ দিয়েছে‌  মেয়ের‌ জন্য আছিয়া‌। জামাল ভাবতে‌ লাগলো‌ এগুলো দেখে,এতো‌ টাকা ক‌ই‌ পায়‌ আছিয়া‌ ।

যা‌ পোষাক বানিয়ে‌ টাকা‌ ইনকাম করে‌ ,,আমিতো‌ তা‌ সব‌ই নিয়ে‌ যাই‌ তাহলে‌ আছিয়া‌ এতো‌ টাকা‌ কোথায়‌ পায়‌ । তোবে‌ কি‌ আছিয়া‌ সত্যিই‌ দুশ্চরিত্র মহিলা,?,

এগুলো জামাল ভাবতে‌ লাগলো‌ ,,,তখনই জারা বললো‌ বাবা ভাত‌ বেরে‌ দেই‌ ভাত‌ খাবে‌ না‌।

জামাল : আচ্ছা বেরে‌ দে‌ ।
জামাল আরো জিগালো‌ যারার‌ কাছে‌ তোর‌ মা‌ কোথাই‌ গিয়েছে‌ ।

যারা‌ : যানিনাতো‌ বাবা ,হয়তো‌ কোন‌ দরকারে‌ গিয়েছে‌ কোথাও ।

জামাল : আচ্ছা ভাত‌ খেতে‌ দে‌ । জারা‌ খাবার বেরে‌ দিল‌ ,জামাল খাওয়া‌ শুরু করলো‌ ।

আর‌ খেয়ে‌‌ ধেয়ে যাওয়ার‌ সময় বলে‌‌  গেল‌ ‌জারার‌ কাছে‌ ,,আজকে‌ আমি‌ রাতে আসবো‌ না‌‌ তোর‌ মাকে‌ বলিস ,,যারা‌ শুনে‌ বললো‌ তুমি তো‌ কোন দিনি‌ আসো‌ না‌ ‌ আজকে‌ বলে‌ যাওয়ার‌ দরকার কি‌ । জামাল মেয়েকে‌ ধমক‌ দিয়ে‌ বললো‌ তোর‌ বুঝি‌ মায়ের‌ মতন‌ সাহস‌ হয়েছে‌ ,,এই‌ বলে‌ ধমক‌ দিয়ে‌ চলে‌ গেল‌ ।‌

("‌ আজকে‌ যে‌ জামাল আসবে‌ না‌ এই‌ কথাটা‌ বিশেষ ভাবে‌ বলে‌ যাওয়ার‌ কারণ হচ্ছে,,ঔ‌ যে‌ বেগম‌ আজকে‌ রাতে‌ প্রমান‌ দিবে‌ আছিয়া‌ ‌দুশ্চরিত্র‌ মহিলা এর‌ জন্য বিশেষ ভাবে মেয়েকে‌ বলে‌ গেল‌ ,,তাই‌ যেন‌ আছিয়াকে‌ হাতে‌ নাতে‌ দরতে‌ পারে‌ জামাল)"

জামাল যেয়ে‌ বেগম‌দের‌ বাড়িতে‌ গেল‌ ,,

জামাল ‌ : কি‌ খবর চাচী‌ প্রমান‌ দেওয়ার জন্য কি‌ রেডি‌ আছো‌ । আমি‌ কিন্তু তোমার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিব‌ ।যদি‌ ঠিক‌ প্রমান‌ টা‌ দিতে‌‌ না পারো‌ ।‌

বেগম : মোবাইল হাতে‌ রাখিস‌ যখন‌ ফোন দিবো‌ তখন‌ই আসিছ‌ ,,,

জামাল : আচ্ছা এই বলে চলে‌ গেল‌ ।


বেগমের মেয়ে বললো‌ মা‌ তুমি কি‌ শুরু করেছ‌ ,, আমার কিন্তু ভালো লাগছে‌ না‌ ।

বেগম :‌ আমি‌ সব‌ ঠিক‌ করে‌ রেখেছি‌ ।তুই‌ চিন্তা করিস না‌ । বেগমের মেয়ে রাগ‌ করে‌ চলে‌ গেল‌ ঔখান‌ থেকে ‌।‌ বেগমের এক‌ চাচার‌ ছেলে‌  তার নাম ছিল‌ শাজাহান,, বেগম তাকে‌ ফোন করে‌ আসতে‌ বললো‌,,সে এক‌ ঘন্টা পর‌ আসলো‌ ,,

এসে‌ বললো‌ কি‌ হয়েছে‌ আফা‌ কিসের জন্য ডাকছো‌ আমাকে ,,

বেগম : ভাই‌ যদি‌ একটি‌ কাজ‌ করে‌ দিতে‌ পারিস‌ তোকে‌ 5 হাজার টাকা‌ দিবো‌ ,, শাজাহান ছিল একটু‌ গরিব,, নেশা করে‌ বেড়াতো‌ ,, বাটপার টাইপের ,, শাজাহান প্রথমে‌ই রাজি‌ হলো‌ বললো‌ বলো‌ কি‌ করতে‌ হবে‌ ,,

বেগম :‌  আছিয়ার‌ ঘরে‌ ডুকতে‌ হবে‌ ,, শাজাহান প্রথমে‌ রাজি‌ হলো‌ না‌ ,, তার পর‌ আরো‌ 1 হাজার টাকার‌ লোভ‌ দেখালো‌ বেগম ‌। এইবার রাজি‌ হলো‌ আর‌ রাঝি হবেই‌ না‌ বা‌ কেনো‌ ঔ‌ যে‌ নেশা খুর‌ সামান্য কাজের জন্য 6 হাজার টাকা পাবে‌ নেশাও‌ করতে‌ পারবে‌‌ কয়েকদিন।‌

শাজাহান :‌ আমার বিপদ‌ হলে‌ কেমন‌ হবে‌ ,,এর‌ দায়ভার কার‌ থাকবে ?

বেগম : আমি‌ কোন ভাবে‌ সামলিয়ে নিবো‌ ,,,

এবার‌ কি‌ হবে‌ সত্যিই‌ কি‌ প্রমান‌ করতে‌ পারবে‌ যে‌ আছিয়া‌ ‌দুশ্চরিএ‌ মহিলা ?

বা‌ আছিয়া‌ কি‌ প্রমান‌ করতে‌ পারবে‌ যে‌ আছিয়া‌ ‌দুশ্চরিএ‌ মহিলা না ?

চলবে,,,,,

153 Views
2 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: