আসেন ভাই ,আসেন,,একটু বসে যান ,,,এতো আদর আপ্যায়ন করে আছিয়ার বাবাকে সেই মহিলা বাড়িতে নিয়ে আসলো ,,,,( "আর হ্যা এই মহিলার নাম বলে দেই ,,,এই মহিলার নাম বেগম ")
বেগম : ভাই আপনি কি আছিয়ার বাবা ,,,
আছিয়ার বাবা : হ্যা আপনাকে তো চিনলাম না ,, কোন দিন তো দেখিনি মনে হচ্ছে।
বেগম : ভাই আপনি আমাকে দেখেন নেই কিন্তু আমি আপনাকে দেখেছি আমি ঠিকই চিনিও আপনাকে ,,,আমি আছিয়ার চাচি শাশুড়ি।
এই কথা শুনে আছিয়ার বাবা বললো ওহ আচ্ছা,,,আপনি ভালো আছেন।
বেগম : হ্যা ভালো আছি,,কিন্তু আপনার মেয়ের টেনশনে আমি ঘুমাতে পারি না ,,,কি ভালো মেয়েটি আপনার,,কতই না ভালো আছিয়া ,, কিন্তু মেয়েটির জন্য বড্ড মায়া লাগে।
আছিয়ার বাবা কিছু বুজতে পারছে না এগুলো কথা ।
আছিয়ার বাবা : কি হয়েছে আমার মেয়ের ? আমার কাছে বলেন,,, আমার মেয়েতো অনেক ভালোই আছে ,,সুখে আছে ,,,আপনি এগুলো কি বলেন,,,
বেগম : নেই,, আপনার মেয়ে একটুও ভালো নেই গো ভাই ,,,
আছিয়ার বাবার তো পায়ের নিচ থেকে মাটিই সরে যাচ্ছে এমন অবস্থা । বেগম আরো বললো কি যে অত্যাচার করে আপনার মেয়ের উপর ,,,,মেরে মেরে অজ্ঞান করে ফেলে রাখে ।
আহারে বেচারা কতো কষ্টই না করে ,,,সারা দিন রাত লোকের পোশাক বানায় আর জামাল এসে সেই টাকা দিয়ে জুয়া খেলে বেড়ায়,,, এগুলো শুনে আছিয়ার বাবা যেনো কিছু বুজতে পারছে না অভাক হয়ে বসেই আছে।।
আছিয়ার বাবা : আমি বিশ্বাস করিনা আপনার কথা আমার মেয়ে আমাকে বলছে সে অনেক ভালো আছে ,,,সব কিছু ঠিক আছে ,,,। তো আপনি এগুলো কি বলেন আপনি মিথ্যা বললেন এগুলো সব বলেন ।
এখন বেগম আরো বেশি বেশি বলা শুরু করলো যে প্রতিরাতেই মারে আপনার মেয়েকে জামাল ,,এমন মারে মেরে বিছানায় ফেলে রাখে ,,,আমরা যেয়ে সেবা করে আসি ,,,, বিশ্বাস না হলে আমার মেয়ের কাছে জিগান ,,,আছিয়ার বাবা জিগালো বেগমের মেয়ের কাছে ,,
মা তুমি বলো তো সবই কি সত্যি। বেগমের মেয়েও বললো হ্যা সত্যি ।
সাথে সাথে আছিয়ার বাবা বেহুঁশ হয়ে পরলো । বেগমের মেয়ে বললো মা লোকটি মরে গেল নাতো ,,,মরে গেলে তো তোমাকে আমাকে দুই জনকেই জেলে ভরে রাখবে । তুমি এতো কথা কেনো বললে এখন কি হবে মা এখন আমাদের? আমার ভয় লাগছে কিন্তু ।
বেগম : দাড়া কিছু হবে না । বেগম চ্যাক করে দেখলো ,,বেহুঁশ হয়ে পরছে। মুখে পানি সিটকে দিয়ে জ্ঞান ফেরালো । আছিয়ার বাবার হুশ ফেরার পর বললো আমি তোমাদের কথা বিশ্বাস করি না ,,আমি যেয়ে দেখবো এই বলে আছিয়ার বাবা চলে গেল । আবার রওনা দিলো মেয়ের বাড়ির দিকে ,,,
(" বেগম নামক এমন মহিলাদেরকে নিয়ে কিছু কথা বলি এরা হলো এমন লোক,, মানুষের মধ্যে প্যাচ লাগানোই তাদের কাজ ,,,একজনের কথা আরেক জনকে বলা তাদের নেশা ,,, মানুষের কষ্ট দেখলে তাদের আনন্দ লাগে অনেক ভালো লাগে তাদের। আর মানুষের সুখ দেখলে তাদের শরীল জ্বলে । বেগমের মতো মানুষরা এটাও ভাবে না আমাদের পরিবারে এমন অশান্তি ,মেয়ের সুখ না হওয়া , এগুলোর পিছনে কি আবার আমার গুনাহ করার ফল নেই। এগুলো একটুও চিন্তা করে না তারা । হয়তো এগুলো ভাবলে এমন জঘন্ন কাজ তারা করতে পারতো না। আল্লাহ এদেরকেও বিচার করবে ,,, আল্লাহ মানুষকে ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না। হয়তো কাওকে সাথে সাথে অনেক ক্ষতির মাধ্যমে শাস্তি দেন,,,,না হয় কিছুদিন পর বা কয়েক বছর পর ,,,না হয় মরে যাওয়ার পর আখিরাতে দিবেন,, কিন্তু আল্লাহ ছেড়ে দিবেন না। হয়তো এমন বেগমদেরকেও কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দিবেন আল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই যতো অহংকার করুক না কেনো মানুষ । চলেন এখন গল্পে ফেরা যাক ")
আছিয়ার বাবাতো রওনা দিয়েছেন । আছিয়াদের বাড়ির দিকে ।
যেতে থাকুক,, ঔ দিকে দেখি কি হচ্ছে। জামাল তো খেতে বসছে ,,আর আছিয়ার বাবা মাকে নিয়ে অনেক খারাপ কথা বলতে লাগছে ,,,মেয়েরা সব সইতে পারে কিন্তু বাবা মাকে নিয়ে কোন কথা বললে তাদের মাথায় রক্ত ওঠে যায় ,,,,আছিয়াও তর্ক করা শুরু করলো জামালের মুখে মুখে,,,
আছিয়া : আমার বাবাকে নিয়ে একটাও খারাপ কথা বলবেন না আমার বাবা একজন ভালো মানুষ ।
জামাল : তাতো দেখতেই পাচ্ছি কেমন ভালো,,,একটা মাএ মেয়ে তাদের সেই মেয়ে টাকা চাইলো দিলো না ।
আছিয়া : আমি আমার বাবার কাছে টাকা চাইনি ,,,আপনাকে টাকা এনে দেই আর আপনি জুয়া খেলেন তাইনা। আর আমার বাবা টাকা কোথাই পাবে ?
জামাল : কিরে তোর দেখা যাচ্ছে,, কথা বলার জোর বেরে যাচ্ছে । তোর বাবাকি এইগুলো শিকিয়ে পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে নাকিতোকে ,,, এতোক্ষণ অনেক ভালো ভাবে কথা বললাম শুনলি না ,,, ভালো কথার দাম নেই আমার তাইনা ,,,
জারা : মা চুপ করো বাবা আবার তোমাকে মারবে।
আছিয়া : মারুক মেরে একবারে শেষ করে ফেলুক। ,,
জারা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বললো মা তুমি মরে গেলে আমাদের কি হবে ,ও মা তুমি চুপ করো ,,,।
আছিয়া : তোদের জন্যই আমি বেঁচে আছি ,,,আর আল্লাহকে ভয় করে মরে যাই না ,,, ।
জামাল : তোদের বক্তব্য শেষ হয়েছে কি আগে তাই বল।
জারা : বাবা ও বাবা মাকে আর মেরো না ,,,মা অনেক অসুস্থ ,,, ।
জামাল : তাহলে তোর মাকে ভালোই ভালোই বল টাকা এনে দিতে।
আছিয়া : ওগো চলেন না আমরা আগের মতনো সুখে সংসার করি।
জামাল : চুপ একদম চুপ কর ,,আমার একটাই সপ্ন জুয়া খেলে একদিন কোটিপতি হবো ,,,আর ঔ কামলা দিয়ে লোকের কাজ করে,, সারা জীবন পরিশ্রম করতে পারবো না ,,,আমাকে কোন প্রকার জ্ঞান দিতে আসবি না তোরা ,,,,সুখে আছিস তেমনি থাক ,,,।
আছিয়া হেসে বললো আমি নাকি সুখে আছি ,,,এই বলে হাসতে লাগলো ,, ।
জামাল দমক দিয়ে বললো থামবি ,,,আজকেই রাতে তোর বাবাকে ফোন দিয়ে বলবি ,,,আমি ব্যবসা করবো টাকা দিতে টাকা লাগবে ।
আছিয়া : বুঝার চেষ্টা করেন আমার বাবা বুড়া হয়ে যাচ্ছে মা অনেক অসুস্থ থাকে । আমার বাবা টাকা পাবে কোথাই বলেন।
জামাল : ওতো কিছু শুনতে চাইনা আমি ,,,তুই তাদের একমাত্র মেয়ে না হুম। তোর বাবা মা মারা যাওয়ার পরতো ,,ঔ বাড়ি সেটা কার হবে,,,তোরই তো হবে ।
গরু আছেনা তোর বাবার সেটা কার হবে তোর হবে।
আছিয়া : আপনি চুপ করেন ,,, এগুলো কি বলেন আপনি এতো খারাপ ছি ,,ছি ,,,আপনি এখন আরো তাদেরকে সাহায্য করবেন তা না করে আপনি এগুলো কি বলেন ।
আপনি তাদের একটা মেয়ের স্বামী ,,,আপনি আর আমি ছাড়া তাদের কে আছে বলেন।
জামাল : দেখবোনি আগে কোটিপতি হয়ে নেই। এখন তো তোর বাবাকে টাকা দিতে বল।।আর গ্যান প্যান করিস না , বলনা আছিয়া তোর বাবার কাছে ,গরুটা বেঁচে দিতে দেখিস 60 থেকে 70 হাজার টাকা বেচঁতে পারবে,,, বিশ্বাস কর আমি শুধু 50 হাজার টাকাই নিবো ,,আর টাকা গুলো তোর বাবা মাকে দিয়ে দিবো,,
আছিয়ার এখন খুব রাখ ওঠে গিয়েছে,, অনেক জুরে জুরে কথা বলা শুরু করলো ,,আর আছিয়া বললো জীবনেও তোকে আর এক টাকাও এনে দিবোনা ,,,আর আমার বাবাকে এই বাড়িতেও আসতে বলবো না আর কোনদিন,,, আমার বাবা কোন টাকা পয়সা দিতে পারবে না । এতে আপনার যা খুশি করতে পারেন,,,,
জারা : বাবা মাকে মেরো না জারাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো জামাল । আর আছিয়াকে মারা শুরু করলো ,,
আছিয়াকে মারছে তখনই আছিয়ার বাবা এসে সরাসরি দেখলো ,,,, এবার কি হবে ,,দেখার জন্য পাশে থাকেন,,,,,
চলবে,,,,,
জুয়া ( পর্ব 5 )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
141
Views
1
Likes
0
Comments
0.0
Rating