জুয়া ‌( পর্ব 4)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
জামাল ‌আছিয়াকে‌ লাঠি‌ দিয়ে‌ মারা শুরু করলো‌ ,,,,আছিয়া‌  মাটিতে‌ পড়ে‌ কান্না করছে‌ ,,,, ছোট মেয়ে‌ সারা  তার বাবাকে দেখে‌ ভয়ে‌ কুকড়াচ্ছে‌ ,,,এ‌ যেন‌ একটা‌ ভয়ানক‌ মানুষ ‌ ,,,



তখন‌ই আছিয়ার‌ বাবা‌ এসে‌ ডাকা‌ ডাকি‌ করা‌ শুরু করছে‌ ,,,,

আছিয়ার‌ বাবা ‌ :‌ আছিয়া‌ মা‌ তোকে‌ দেখতে‌ আসছি‌ বাহিরে আসো‌ ,আমার‌ নানা‌ ভাইরা‌ কোথায়‌  ,,,, ।

সারা দৌড়ে‌ তার নানার‌ কোলে‌ আসলো‌ ,সারার‌ নানা‌ বললো‌  তোমার আম্মু কোথাই নানা ভাই‌ ,,,সারা বলতেই‌ যাবে ,,,যে‌ তার‌ বাবা‌ তার মাকে‌ মারছে ,,,তখন‌ই আছিয়া‌ এসে‌ নরমাল ভাবে‌ কথা‌ বলা‌ শুরু করলো‌ ,,,

আছিয়া‌ :  বাবা তুমি কেমন আছো‌? মা‌ কেমন আছে‌ ?‌ তোমার আসতে‌ তো‌ কোন সমস্যা হয়নি বাবা ?

‌ আছিয়ার‌ বাবা‌ :  ,,এতো‌ গুলো প্রশ্ন‌ এক‌ সাথে করলে‌ আমি‌ কোনটার‌ উওর‌ দিবো‌ বল‌ ,,, ।

আছিয়া‌ : আচ্ছা বাবা,,,আগে‌ তুমি ঘরে আসো‌ ।

আছিয়ার‌ বাবা‌ : ,,কিরে‌ মা‌ তোকে‌ এমন‌ দেখাচ্ছে‌ কেনো‌ ,,,তোর‌ মুখে‌ কি‌ হয়েছে‌ ,,?
,তোর‌ মুখে‌ এগুলো‌ কিসের দাগ‌ ?

আছিয়া : তেমন কিছু‌ না‌ বাবা‌ ,,পড়ে‌ যেয়ে‌ ব্যাথা‌ পেয়েছি‌ ,,,।

আছিয়ার‌ বাবা‌ :‌ ও‌হ‌ আচ্ছা,,,

আছিয়া‌ :‌  তুমি আগে‌ ঘরে আসো‌  তো‌ । তখন‌ই জামাল আছিয়াকে‌ ডাক‌ দিলো‌ ঘর থেকে‌ ,,,আছিয়া‌ তাড়া‌ হুড়া‌ করে‌ ঘড়ে‌ আসলো‌ ,,,, জামাল বললো‌ আজকে‌ ছেড়ে‌ দিলাম‌ আর‌ তোর‌ বাবা‌ যখন‌ ,,আসছে‌ 50 হাজার টাকা‌ চেয়ে রাখিস,,,বলবি‌ ব্যাবস্যা করবো‌ আমি ,,,, ।

এই কথা যেন‌ মনে থাকে‌ তোর,,,এই‌ বলে‌ জামাল‌ বাহিরে‌ আসলো‌ ,,,আছিয়ার‌ বাবা‌ জামাল‌ কে‌ জিগালো বাবা কেমন আছো‌ ,,, জামাল শুধু বললো‌ ভালো আছি‌ ,,,আর‌ কিচ্ছু‌ বললো‌ না‌ ,,,শশুর‌ কে‌। ,,তখন‌ই চলে‌ গেল‌ জামাল‌ আর কিছু না বলে ।

আছিয়া‌ :  আসতো‌ বাবা‌ তুমি ঘরে‌ আসো‌।

আছিয়ার‌ বাবা‌ ঘরে আসলো‌ ,,,।

আছিয়া‌ :  তোমাকে‌ কতোদিন পর‌ দেখলাম ‌ বাবা‌ ,,,মাকে‌ নিয়ে‌ আসতা‌ ,,,মার কি‌ আমার কথা একটুও মনে‌ পড়ে‌‌ না‌ বাবা‌ ।

আছিয়ার‌ বাবা‌ : মনে‌ পড়বে‌ না‌ কেনো‌ রে‌ মা‌ । তোর‌ জন্য তোর‌ মা‌ প্রতিদিন নামায‌ পড়ে‌ কান্না কাটি‌ করে‌ ,,তোকে‌ নিয়ে‌ যেতে‌ বলছে‌ তোর‌ মা‌ আজকে‌ রেডি‌ হ‌ও ,আর‌ জারা কোথাই‌ আছিয়া‌ ?‌

আছিয়া‌ :‌ বাবা‌ আমি‌ কেমনে যাব‌ বলো‌ ,,জারার‌ তো‌ পরীক্ষা ‌ শুরু‌ হয়েছে‌ ,,,এখন‌ পরীক্ষা ‌ দিতে‌ গিয়েছে‌ । পরে‌ যাব‌ বাড়িতে বাবা‌ এবার যেয়ে‌ অনেক দিন থেকে‌ আসবো‌ তুমি চিন্তা করিও‌ না‌ ,, মাকেও চিন্তা করতে‌ একদম না‌ করবে‌ ,,।

,আছিয়ার‌ বাবা‌ :‌ মারে‌‌ তুই‌ আমাদের‌ একটা‌ মাএ‌ মেয়ে‌ ,, আমাদের কি‌ আরো‌ সন্তান আছে‌ রে‌ মা‌ ,,তোকে‌ নিয়ে‌ আমরা‌ অনেক টেনশন করি ,,,আর‌ জামাল‌ তো‌  ভালো ছেলে না‌ কেমন‌ আছিস‌ কি‌ করিস‌ ,, এগুলো নিয়ে‌ চিন্তা করতে‌ করতে‌  মাঝে মধ্যে তোর‌ মা‌ খুব অসুস্থ হয়ে‌ পড়ে‌ ,,।

এগুলো শুনে আছিয়া‌ কান্না করা‌ শুরু করলো‌ ,,,আছিয়া‌ বললো‌ বাবা‌ আমি‌ অনেক ভালো আছি‌ ,,,আর‌‌ তোমাদের‌ জামাইও‌ ভালো হয়ে‌ গিয়েছে‌।  খুব ভালো আছি‌ আমি‌ বাবা‌ ,, তোমরা‌ আমার কথা‌ এতো‌ চিন্তা করে‌ অসুস্থ হয়ে‌ পড়লে‌ তোমাদের‌ কে‌  দেখবে‌ বলো‌  ,,, তোমাদের সেবা‌ কেইবা‌ করবে‌ ?

মাকে‌ বলবা‌ আমি অনেক অনেক ভালো আছি,, । একদম যেন‌ কোন প্রকার দুচিন্তা‌ না‌ করে‌।

আছিয়া‌  :‌ আচ্ছা বাবা,, এখনো কি‌ তোমরা‌ গরু‌ পালন করো‌ ,,।

আছিয়ার‌ বাবা : কি‌ করবো‌ রে‌ মা‌ ,, কাজ না‌ করলে‌ ,,খাবো‌ কি‌ । আমাদের তো‌ আর‌ ছেলে সন্তান নেই‌ ,,যে‌ তাঁরা রোজগার করে‌ খাওয়াবে‌ আমাদের ,,,।

আছিয়া‌ : হ্যা‌ তাইতো‌ বাবা‌,,, কিন্তু তোমাদের তো‌ বয়স‌ হয়ছে‌ এখন । আমারো‌ অনেক চিন্তা হয়‌ তোমাদের জন্য ‌।

আছিয়ার‌ বাবা‌ :‌  চিন্তা করিস‌ না‌ মা‌ ,,, আল্লাহ একভাবে‌ না‌ একভাবে‌ আমাদের‌ দিন‌ পার‌ করবেই‌।‌ যাদের‌ সন্তান নেই‌ ,, তাদেরকে‌ আল্লাহ যেমন‌ ভাবে‌ দিন‌ পার‌ করে‌ সেভাবেই‌ করলেই আলহামদুলিল্লাহ,,। শুধু দুনিয়াতে সুখ‌ করলেই‌ হবে‌ নারে‌ মা‌ ,,আখিরাতের‌ জন্য‌ও‌‌ তো‌ কিছু করতে‌ হবে‌।

দুনিয়ার দিন‌ কোন‌ রকম ভাবে চললেই‌ হবে‌,,আর‌ তুই‌ ভালো থাকলেই‌ হবে‌ রে‌ মা‌।

আছিয়া :‌ হ্যা‌ বাবা‌ আমিও‌ দুনিয়াতে কোন রকম ভাবে‌ ভালো পথে‌ চলার চেষ্টা করে যেতে‌ চাই‌ ,,আর‌ বাবা‌ দেখলেইতো আমি‌ একদম ভালো আছি‌।

বাবা‌ মেয়ে‌ অনেক সময় গল্প‌ করার পর‌ ,,আছিয়া‌ বললো‌ আমি‌ দেখো‌ কেমন‌ পাগল‌ শুধু কথাই‌ বলছি‌ ।তোমাকে‌ যে‌ খেতে দিবো‌ ,তা‌ ভুলেই‌ গেয়েছি‌ ।

যাও‌ হাত মুখ ধুয়ে আসো‌ আমি‌ খাবার বেরে রাখি তোমার জন্য ,,,।

আছিয়ার‌ বাবা :‌ এতো‌ তাড়াহুড়া করা‌ লাগবো‌ না‌ মা‌,,তোর‌ সাথে‌ কথা‌ বললাম‌ এটাই‌ আমার কাছে‌ অনেক শান্তি,,খেলেও‌ এর‌ থেকে‌ ভালো লাগবে‌ না‌।

আছিয়া‌ হেসে‌ বললো‌ যাও‌ বাবা‌ ,, হাতমুখ ধুয়ে আসো‌ ,,,আছিয়ার‌ বাবা হাতমুখ ধুতে চলে গেল ‌।

আর‌ আছিয়া‌ ভাবতে‌ শুরু করল‌। বাবা যদি‌ জানে‌ আমাকে‌ জামাল‌ মারে‌ প্রতিদিন ,, পশুর মত অত্যাচার‌ করে তাহলে‌ কত‌ইনা‌ কষ্ট পাবে‌ তারা ,,,আর‌ মা তো‌ অসুস্থ‌ই‌ হয়ে‌ পরবে‌ ।‌ কিযে করবো‌ ,,কেও‌ যদি‌ বলে‌ দেয়‌ বাবাকে‌ সব‌ কিছু ,,, এইগুলো ভেবে‌ আছিয়া‌ অনেক টেনশন করতে‌ লাগলো‌।

কিছুক্ষণ পর আছিয়ার‌ বাবা এসে‌ ,,আছিয়াকে‌ ডাক‌ দিলো‌ কিরে‌ মা‌ কি‌ ভাবিস‌। আছিয়া ছিটকে‌ ওঠে‌ বললো‌ কিছুনা‌ বাবা‌। আছিয়া‌ গামছা‌ দিলো‌‌ ‌ তার বাবাকে‌ হাতমুখ‌ মুছতে‌ ‌। হাতমুখ মুছা‌ হ‌ওয়ার‌ পর‌ ,,,ডাওল‌ ভাত‌ খেতে‌ দিলো‌ ।

আছিয়া :  বাবা আজকে কিন্তু তুমি‌ থাকবে‌ ,,,তোমাকে‌ মুরগির মাংস রান্না করে‌ খাওয়াবো‌ ,,,,।

আছিয়ার‌ বাবা :‌ কেমনে‌ থাকবো‌ রে‌ মা‌ ,,,তোর‌ মার তো একাই‌ থাকতে‌ হবে‌ তাহলে‌ ,,,।

আছিয়া‌ : তাইতো‌ ,তাহলে‌ বিকেলে‌ যাবা‌ দুপুরে খেয়ে‌ ,,,।

আছিয়ার‌ বাবা : আচ্ছা তাই‌ যাবো‌ ,

,,,সারাতো‌ অনেক খুশি নানাকে‌ পেয়ে‌ ,,,সারা তার‌ নানার‌ সাথে‌ খেলতে‌ শুরু করলো‌ ,,, অনেক আনন্দ‌ করলো‌ সারা বললো‌ যানো নানা‌ বাবা‌ আমাকে‌ কোলেই‌ নেয়‌ না‌ আদর‌ও করে‌ না‌ । তুমি অনেক ভালো ‌।

আছিয়া‌ : বাবা‌ জামালতো‌ কাজ‌ করে‌ সারাদিন‌ ,,এর‌ জন্য কোলে‌ নিতে‌ টাইম পায়‌ না‌।

আছিয়ার‌ বাবা :‌ ওহ‌ আমিতো‌ অন্য‌ কিছু মনে‌ করে‌ ফেলছিলাম‌ ,,,।

আছিয়া‌ : তেমন‌ কিছু না‌।‌

সারাকে‌ সারার‌ নানা‌ বললো‌ তোমার বাবাতো‌ কাজ‌ করে‌,,, তোমাকে পড়ে‌ আদর‌ করবে‌ ,,,কোলেও‌ নিবে‌।

আছিয়া‌ মনে‌ মনে‌ ভাবলো‌ মেয়েটা‌ আর‌ কিনা‌ কি‌ বলে‌ ফেলবে‌ ,,,আছিয়া‌ বললো সারাকে‌ যাও‌ বাহিরে খেলে‌ আসো‌ এই‌ বলে‌ সরিয়ে‌ ফেললো‌ সারাকে‌ ।

কিছুক্ষণ পর‌ জারা পরীক্ষা দিয়ে আসলো ‌। তার নানাকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল‌। আর কান্না করতে শুরু করল ‌।,,,জারার নানা‌‌ বললো‌ কি‌ হয়েছে‌ নানাভাই‌ কান্না করো‌ কেনো‌ । তখন‌ই আছিয়া‌ যারাকে‌ ডাক‌ দিলো‌।

আর‌ যারা‌ ডাক‌ শুনে‌ মায়ের‌ কাছে‌ যেয়ে‌ বললো‌ কি‌ হয়েছে‌ মা‌ ,,,।

আছিয়া‌ :  তোর‌ নানাকে‌ তোর‌ বাবার‌ বিষয়ে‌ কিছু বলবি‌ না‌।

জারা : কেনো মা‌ ?,,, তখন কিছুটা জারাকে‌ বুঝালো ,,,জারা‌  বুঝতে‌ পেরে বললো‌ আচ্ছা মা‌ ,,, তারপর জারা‌‌ যেয়ে তার নানার‌ সাথে গল্প‌ করলো‌।

দুপুরে আছিয়াদের‌ পালিতো‌‌ মুরগী‌ জবাহ‌ করে‌ রান্না করা‌ হলো । সবাই একসাথে‌ খাওয়া‌ দাওয়া‌ করলো‌। এবার আছিয়ার‌ বাবার চলে‌ যাওয়ার‌ টাইম হয়ে‌ গিয়েছে‌।

আছিয়ার‌ বাবা‌ নিচিন্তায়‌ চলে‌ যেতে‌ লাগলো‌ । এটা‌ ভেবে‌ তার‌ মেয়ে‌ অনেক ভালো আছে‌।‌ আছিয়া‌ তার বাবার‌ চলে যাওয়া‌ দেখলো‌ আর‌ কান্না করা‌ শুরু করলো‌ । কিছুক্ষণ দাড়িয়ে‌ থেকে‌ বাড়িতে‌ চলে‌ আসলো‌।

আর‌ তখন জামাল‌ও‌‌ বাড়িতে‌ এলো,,এসে‌ আছিয়াকে‌ বললো‌ ‌ তারাতারি‌ খাবার দে‌।‌ আছিয়া‌ মুরগীর মাংস দিয়ে‌ জামালকে‌ খেতে‌ দিলো‌ ,,।

জামাল :‌  কিরে‌ তোর বাবার‌ জন্য দেখা‌ যায়‌ মরগের  মাংস‌ রান্না‌ করছিস‌ ,,, আমার সব‌ই তো‌‌ তোর বাবাকে‌ খাওয়ে দিলি‌ দেখা‌ যায়‌ ,,।

আছিয়া‌ : আপনি‌ এমন করে কথা‌ বলেন কেনো‌। আমার বাবা‌ প্রায়‌ 3 মাস‌ পরে‌ আসছে‌ আমাকে‌ দেখতে‌ ,,,,

আর‌ ঔ‌ দিকে‌ ,,আছিয়ার‌ বাবা‌ ‌ সেই‌ খারাপ‌ মহিলার বাড়ির‌ সামন‌ দিয়ে‌ যাওয়ার‌ সময়‌ খুব‌ আদর‌ যত্ন‌ সহকারে‌ ,, আছিয়ার বাবাকে‌ সেই‌ মহিলা‌ তার বাড়িতে নিয়ে‌ গেলো‌ ।

এই‌ মহিলাকে‌ চিনছে‌ন ঔ‌ যে‌ সেলায়ের‌ কাজ‌ করে‌,,আছিয়াকে‌ শত্রু ‌ মনে‌ করে‌ সেই‌ মহিলা‌,,,,,,

এখন‌ কি‌ হবে‌ ?‌ জামালের‌ সব‌ কথা‌ কি‌ বলে‌‌ দিবে‌ ‌কুটনি‌ মহিলা আছিয়ার‌ বাবার‌ কাছে‌ ?,,,,,,

চলবে,,,

147 Views
1 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: