আছিয়া ফজরের নামাযের টাইমে তার বড় মেয়েকে ডাক দিয়ে তুলে বললো যাও ওজু করে আসো নামায পরবে আমার সাথে ,,,।
জারা বলল আচ্ছা মা এই বলে ওজু করে এসে মায়ের সাথে নামায পড়লো । নামায পড়ে আল্লাহর কাছে অনেক কান্না কাটি করে আল্লাহ কাছে জারা চাইলো ,আল্লাহ তুমি আমার বাবাকে ভালো মানুষ বানিয়ে দাও
সবার বাবারা কেমন সবাইকে আদর করে স্কুলে নিয়ে যায়,,, বেড়াতেও নিয়ে যায় আমার বাবা কেনো যায়না আল্লাহ তুমি বলো ? ,,,,আমার বাবাকে ভালো মানুষ বানিয়ে দেও আল্লাহ তুমি এগুলো বলে জারা অনেক কান্না করছে,,,,
আছিয়া : ঠিক দেখবি মা একদিন তোর বাবাকে আল্লাহ ভালো মানুষ বানিয়ে দিবে ।
জারা : আচ্ছা মা বুঝলাম সেটা কবে হবে তুমি বলো? ,,,আছিয়া বললো ধৈর্য ধরো মা ।
এই বলে আছিয়া প্রতিদিনের মতনো ভোর বেলা থেকে , লোকের কাপড় বানানো শুরু করলো ,,,আর জারা পড়তে বসলো তার মায়ের পাশে ।,,,
সারারাত জামাল আর আজকে বাড়িতে আসেনেই ,কোথাই ছিলো কিছুই জানে না তারা ,,,আর শুধু আজকেই না জামাল প্রায় প্রায় এমন করে ,,,রাতে বাড়িতে ফিরে না ।
আর এদিকে আছিয়া লোকের পোশাক বানানোর তালেই আছে ,,,সংসার তো আছিয়াকেই সামলাতে হয় ।জামাল তো জুয়ার নেশায় ডুবে থাকে সারাক্ষণ ।
কিছুক্ষণ পর জামাল বাড়িতে আসলো ,,,বাবাকে দেখে দুই মেয়ে ভয়ে এক ঘরের এক কোনায় যেয়ে দাড়িয়ে রইলো ,,,এই বুজি তাদের মাকে মারবে ,।
এসেই বললো আছিয়াকে কিরে টাকা রেডি করছিস।
আছিয়া : দেখো একটু বোঝার চেষ্টা করো,,, জারার, পরীক্ষার ফিসের জন্য রাখছি এই টাকা টা।
জামাল : মেয়েদের আবার কিসের পরীক্ষা ,,,পেট থেকেতো বের করছিস মেয়ে ,,,,আর এইবার পরীক্ষা না দিলে কিছুই হবে না,, আবার দিবেনি পরের বছর,,,টাকা বের কর এখন ,,,,নয় লাঠি বের কর ,,,আর শুন জুয়া খেলা লাভ বুঝছিস একবারে অনেক টাকা কামানো যায় ,,,তোদের টাকা শুধ করে দিবনি এখন টাকা বাহির কর ,,,।
জারা : মা দিয়ে দেও টাকা,,,।
জামাল : দেখছিস এই না আমার মেয়ে ,,,এতোদিন মনে করছি এইগুলা আমার মেয়ে না ।এখন টাকা দে আছিয়া,,?
আছিয়া কি আর বলবে 500 টাকা কাজ করে অনেক কষ্টে জমা করছিলো । সেই টাকা বের করে দিলো ।
জামাল : মাএ 500 টাকা ,,আরো বেশি বেশি কাজ করবি বুঝছিস ,,,জামাল ছোট মেয়েকে ডাক দিলো তার কাছে
,সারা ,আও মা কুলে আসো ,,,অবুঝ বাচ্চাটা অনেক খুশিতে তার বাবার ভালোবাসার লোভে বাবার দিকে দৌড়ে আসলো ,,,আসার পর সারার গলায় একটা রুপার মালা ছিলো তাও খুলে নিলো ,,,আর বললো মা আইসা তোকে কুলে নিবো এখন যাও খেলো।
মেয়েটা কান্না করা শুরু করলো ,,কি করবে অবুজ বাচ্চা বয়স মাএ 5 বছর সে তার গলার মালার জন্য কান্না করতে শুরু করলো । আর বললো মা বাবা আমার মালা নিয়ে গেলো । আছিয়া মেয়েকে কুলে নিয়ে সেও কান্না করা শুরু করলো আর মেয়েকে বললো আবার কিনে দিবো মা কাদিস না আর এখন।
জামাল : এগুলার কান্না কাটি আর ভালো লাগে না ,,,, তোরাই কাঁদোই আমিই চলে যাই ,,,এই বলে চলে গেলো জামাল ,,,।
আছিয়া মেয়েকে কুলে নিয়ে ভাবতে শুরু করলো যেদিন মেয়ে প্রথম গলায় মালা গলায় দেওয়ার জন্য কান্না করছিলো ,,,,।
একদিন আছিয়া কাপড় বানাচ্ছিল তখন,, সারা এসে ছোট্ট মুখ দিয়ে বললো মা ওমা আমি গলায় মালা দিবো ,,আমাকে কিনে দিবা,,,।সবাই মালা দিয়েছে গলায় ,,আমাকেও দেও ,,ও মা দেওনা মালা ,,, ছোট মেয়ের মুখ থেকে এগুলো কথা শুনে আছিয়ার জমানো টাকা দিয়ে ,,সারাকে রূপার একটি মালা বানিয়ে এনে দিলো ,,সারা এতে অনেক খুশিতে সব প্রতিবেশীকে যেয়ে দেখালো তার মালা ।
আছিয়া সেদিন মেয়ের খুশি দেখে সব কষ্ট ভুলে গিয়েছিলো ,,,আজ মেয়ের কান্না দেখে আছিয়াও হাওমাও করে কান্না করা শুরু করে দিয়েছে । কিছুক্ষণ পর আছিয়া মেয়েকে বললো ,,আজকে আমার সারাকে নতুন মালা বানিয়ে দিবো ,,এই কথা শুনে সারা কান্না থামিয়ে খুশি হয়ে গেলো ,,আছিয়া ঘর থেকে পোশাকে লাগানো পুতি দিয়ে একটা মালা বানিয়ে দিলো ,,,
এখন সারা অনেক খুশি,,,খুশিতে খেলা শুরু করলো । জারার বয়স তো 10 জারা মায়ের কষ্ট কিছুটা বুঝে ।,,জারা রান্না করে তার মাকে নিজের হাতে খাওয়ে দিলো ,আর আছিয়া কাপড় বানাচ্ছে এখনো । আর দুই মা মেয়ে গল্প করতে লাগলো জারা আছিয়াকে জিজ্ঞাসা করলো মা বাবাকি আগেও এমন ছিলো ,,,?
আছিয়া : নারে মা তোর বাবা অনেক ভালো মানুষ ছিলো আগে । তোকে আমাকে অনেক ভালোবাসতো ,,,অনেক মজা করছি আমরা ,,,,জানিয়া এখন তোর বাবার কি হয়েছে চিন্তা করিস না দেখবি একদিন তোর বাবা ঠিকই ভালো হয়ে যাবে আগের মতো,,, আল্লাহ উপর ভরসা রাখ ,,,জারা বললো ইনশাআল্লাহ মা ,,,, এখন তুমি খেয়ে নাও ,,,।
আছিয়া : কাজ থামানো যাবে না ,,,তোর পরীক্ষার ফিস দিতে হবে ,এই বলে কাজ করতেই আছে আছিয়া,,,,,
কিছুক্ষণ পর কাপড় বানিয়ে ,,,
আছিয়া : জারা তোর ছোট বোনকে দেখে রাখিস ,,,আমি কাপড় গুলা দিয়ে আসি ,,,
জারা : আচ্ছা মা যাও,,,,
আছিয়া 3 সিট কাপড় নিয়ে গেলো ,,,তিন জনকে দিতে আর জারার পরীক্ষার ফিশ তিনশ টাকা দিতে হবে ,,এই কাপড়ের টাকা দিলেই ,আছিয়া তার মেয়ের পরীক্ষার ফিস দিতে পারবে ,,,,।
সবাই আছিয়াকে পছন্দ করে কারণ আছিয়া অনেক ভালো মেয়ে ,,, অনেক কষ্টও করে পরিবারের জন্য ,,,,আর অনেক ভালো পোশাক ও বানাতে পারে ।তাই সবাই আছিয়ার কাছেই পোশাক বানাতে দেয় ,,,,।
আর সবাইকি সবার ভালো চায় ,,,যেমন ভালো মানুষ আছে তেমনই খারাপ মানুষ ও আছে আশেপাশে,,
আছিয়ার পাশের বাড়ির এক মহিলাও সেলাইয়ের কাজ করে ,,,,আর তার কাছে মানুষ খুবই কম যায় পোষাক বানাতে । একেতো পোশাকের মুজুরি বেশি নেয় ,,কাপড়ও ভালো করে বানিয়ে দেয়না ,,, কিন্তু সেই মহিলা এগুলো নিয়ে ভাবে না তার এক কথা আছিয়ার জন্য তার কাছে কেও পোশাক বানাতে দেয় না। সেই মহিলা আছিয়াকে শত্রু মনে করে ,,।
আছিয়া সেই মহিলার বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ডাক দিলো আছিয়াকে ,,,
আছিয়া গেল বললো চাচি কি বলো ,,,
সেই মহিলা আছিয়ার মুখে মারার দাগ দেখে বলল ,,,আহারে তোকে এখনো মারে জামাল ,,,আসলেই লোকটা অনেক খারাপ কেমনে থাকিস এই লোকের সাথে ,,,
আছিয়া : দেখো চাচি তুমি আমার কাছে আমার স্বামীর নামে খারাপ কথা বলো কেনো ,,,?
আমিকি তোমাকে বলছি আমার স্বামী আমাকে মারছে ,,,আর কোন দিন এমন কথা বলবা না ,,,যা বলার জন্য ডাকছো সেটা বলো ।
সেই মহিলা : তোকে একটা কথা বলি ,,,
আছিয়া : কি বলবা তাড়াতাড়ি বলো ,,, আমার কাজ আছে চাচী বাড়িতে,,
সেই মহিলা : কিছু মনে করিস না আছিয়া,,, তুই এই জুয়া খুরকে ডিভোর্স দেয়ে দে,, তার পর তোর বাবার বাড়িতে চলে যা ,,,তোর জন্য ভালো হবে ,,,,
আছিয়া বললো ছি চাচি তুমি এতো খারাপ আগে জানতাম না ,,,।
সেই মহিলা : আরে শুন আমার এক ভাতিজা আছে তোকে অনেক পছন্দ করে ,,,বুঝে দেখিস ,,,
আছিয়া : তুমি আমার সাথে কোন দিন কথা বলার চেষ্টা করবে না ,,,এতো ভালো ছেলে তো তাহলে তোমার মেয়েকে না ডিভোর্স দিয়ে এনে ফেলছো,,, তোমার ভাতিজার কাছে বিয়ে দিতে পারো না,,,,ছি এই বলে আছিয়া চলে আসলো ,,,,
সেই মহিলা : তোকে সময় মতো দেখে নিবো আমাকে অপমান করলি দেখিস তোকে আমি কি করি ,,,তোর দেমাক আমি তোর জুয়া খুর স্বামিকে দিয়েই তুলবো ।
আছিয়া বাড়িতে আসলো বাড়িতে এসে দেখলো ,,,জামাল বাড়িতেই ,,,বাহিরে বসে আছে আছিয়াতো জামালকে দেখে ভয় পেতে শুরু করলো ,,,যদি এই টাকাটাও নিয়ে যায় তাহলে জারাকে পরীক্ষা দিতে দিবে না শিক্ষক রা । এখন কি হবে জামাল কি এই ৩০০ টাকাও নিয়ে যাবে আছিয়ার থেকে,,,,,,???
চলবে ,
জুয়া ( পর্ব 2 )
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
279
Views
8
Likes
6
Comments
4.2
Rating