জুয়া ‌ ‌ ( পর্ব 6 )

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আছিয়াকে‌ চুলে‌ ধরে‌ ,,, অনেক জুরে‌ জুরে‌‌ মুখে মারা‌ শুরু করলো‌ জামাল,,,আর‌ আছিয়া‌ ছুটার‌ জন্য শর্টফট করছে‌ আর কান্না করে‌ আছিয়া‌ বলছে ,,,আল্লাহ আমাকে বাঁচাও,,, ওহ‌ আল্লাহ,,, একটা শব্দ‌ই‌ শুধু আছিয়ার মুখে‌ ,,,মেয়ে‌ দুটো‌ এক‌ পাশে‌ দাড়িয়ে‌ দাড়িয়ে‌ কান্না শুরু কররো‌ ,,,,

আছিয়ার‌ বাবা‌ এসে‌‌ দেখলো‌ তার‌  মেয়েকে‌ জামাল ‌ পাগলের‌ মতন‌ করে‌ মারছে‌ ,, আছিয়ার বাবা‌ তো‌ এটা‌ দেখে‌ বেহুঁশ হ‌ওয়ার‌ অবস্থা‌ ,,, কিন্তু কি‌ করার শক্ত‌ হয়ে‌ বললো‌ জামালকে‌ ছাড়‌ আমার মেয়েকে‌ ,,,।

জামাল :  আচ্ছা আপনি‌ আবার আসছেন ‌ ,,,ভালোই‌ করছেন টাকা‌ দেন‌,,,।

আছিয়া‌ : বাবা‌ তুমি আবার আসছো‌ কেনো‌ চলে যাও‌ ,,,আমি‌ ভালো আছি‌। আছিয়ার বাবা‌ বললো‌ এর‌ পরেও‌ বলিস‌ ভালো আছিস‌ ,,,

জামাল : তোদের নাটক‌‌ আর‌ দেখতে‌ ইচ্ছে করছে‌ না,,,আপনি‌ কি‌ টাকা‌ নিয়ে‌ আসছেন‌ ,,,

আছিয়ার বাবা‌ : ,,, বাবা আমার মেয়েকে‌ ছেড়ে‌ দাও‌ আমার‌ কাছে‌ কোন টাকা‌ নেই ,,,।

জামাল : তাহলে আপনি কিসের জন্য আসছেন আমার বাড়িতে‌। তাড়াতাড়ি আমার বাড়ি থেকে‌ চলে‌ যান‌।

তাও‌ আছিয়ার বাবা‌ দাড়িয়েই‌ আছে‌ ,,,আর‌ অনেক রিকুয়েস্টে করলো তার মেয়েকে‌ ছেড়ে‌ দিতে ,,,,তাও‌ জামাল আছিয়ার চুল‌ ছেড়ে‌ দেয়নি ,,,‌ ‌।

জামাল : কালকে‌ টাকা‌ নিয়ে‌ আসবেন‌ ,,,নয়‌ আপনার মেয়েকে‌ একেবারে মেরে‌ ফেলবো‌ ,,,যা‌ন‌ এখান থেকে‌ চলে যান‌ ছেড়ে দিবো‌ ,,,।

এ‌ কথা শুনে আছিয়ার‌ বাবা‌ একটু‌ দূরে যেয়ে‌ ঘরের‌ পিছনে‌ লুকিয়ে‌ দাড়িয়ে‌ র‌ইলো,,অভাগি‌ বাবাকি‌ মেয়ের‌ এই‌ অবস্থা রেখে‌ চলে‌ যেতে‌ পারে,, জামাল আছিয়ার চুল ছেড়ে‌ দিয়ে‌ চলে‌ গেল‌‌ আর‌ বলে‌ গেল‌ আজকে‌ ছাড়লাম কালকে‌ কিন্তু ছেড়ে‌ দিব‌ না‌ সেটা‌ মাথায়‌ রাখিস,,

জামাল যাওয়ার‌ পর,,আছিয়ার‌ বাবা‌ মেয়ের‌ কাছে‌ দৌড়ে‌ আসলো‌,,

যেয়ে‌ দেখলো‌ আছিয়া‌ মাটিতে‌ পড়ে‌ কান্না করছে‌ ,,,আছিয়ার‌ বাবা‌ মেয়েকে‌ জড়িয়ে‌ ধরে‌ বললো‌ ,,,মা‌ তুই‌ একটুও‌ ভালো নেই‌ ,আমাকে‌ আর‌ মিথ্যা বলিস‌ না,, আমাদের কে‌ ভালো ‌ রাখার‌ জন্য,,চল‌ তোকে‌ নিয়ে‌ যাব‌‌ বাড়িতে আজকেই‌ ।‌

আছিয়া‌ :  বাবা‌ তুমি এখনো‌ যাওনাই‌ কেনো‌ ,?

,আছিয়ার‌ বাবা‌ :  তোকে‌ এভাবে‌ রেখে‌ কিভাবে যাব‌ ,,,,রেডি‌ হ‌ও‌ আর‌ আমার নানু‌ ভাইদেরকে‌ রেডি‌ করাও‌ যাও‌ মা‌ ,,আমি‌ আর‌ তোর‌ কষ্ট দেখতে‌ পারছি‌ না‌।

আছিয়া‌  :  কোথায় যাবো‌ বাবা‌ ,,, ।

আছিয়ার বাবা‌ ?‌ আমার সাথে‌ আমার বাড়িতে‌ ,,,আমি‌ আর‌ দেখতে‌ পারছি‌ না‌ তোর‌ এতো‌ কষ্ট ‌।

আছিয়া : আমার মেয়েদের‌ কি‌ হবে‌,,আর‌ তোমরাই‌‌ খেতে পারো‌ না‌ ,, আমাদেরকে কি‌ খাওয়াবে‌ । বাবা‌ চিন্তা করিও‌ না‌ সব‌ ঠিক‌ হয়ে‌ যাবে‌ ,, তোমার জামাইও‌ ভালো হয়ে‌ যাবে‌ আছিয়া‌ আরো‌ বললো‌ ,, বাবা আমি‌ তাও‌ এখানে কাজ‌ করে‌ মেয়েদেরকে‌ খাওয়াতে‌ পারছি‌ ,,বাড়িতে গেল‌ তো‌ তাও‌ পারবো‌ না‌ ,,কারন‌ আমাদের বাড়ি‌ পাহাড়ে‌ ,, অনেক দূরে দুরে‌ মানুষের বাড়ি‌ ঘর ,,,কে‌ আসবে‌ বলো‌ বাবা‌ আমার কাছে‌ পোশাক বানাতে‌ ,,,,।

আছিয়ার বাবা :  এগুলো আমি‌ কিছু বুজতে‌ চাইনি‌ ,, আমার এক‌ কথাই‌ ,,,তোকে‌ এখানে থাকতে‌ দিবো‌ না‌‌ আর‌।

আছিয়া‌ ‌ :‌ বাবা  ,,জারার বাবার কি‌ হবে‌ ওর‌ তো‌ আর‌ কেও‌ নেই‌ আমরা ছাড়া‌‌ ,আর‌ কে‌ বা‌‌ আছে‌। 

আছিয়ার‌  বাবা  :‌ তুই‌ এতো‌ ভালো দেখে‌ই‌ ,,,তোর‌ কপালে‌ এতো‌ কষ্ট ‌‌।

আছিয়া‌ : বাবা‌ দৈর্য‌ দরলে‌ আল্লাহ দেখবা‌ এর‌ থেকে‌ বেশি দিবে‌ একদিন‌ আমাকে‌।

আছিয়ার বাবা :‌  আচ্ছা তাহলে‌ দেখ‌ মা‌ আর‌ কিছুদিন ‌। আবার যদি‌ কিছু শুনি‌ তখনিই কিন্তু চলে‌ যেতে‌ হবে‌‌ তোকে‌ আমার সাথে‌ বাড়িতে,

আছিয়া‌ :  আচ্ছা বাবা ‌,,,।

আছিয়ার বাবা আরো‌ বললো‌ ,,,মারে‌ তোর‌ মা‌ যদি‌ জানে‌ তোর‌ এই‌ খবর‌ তাহলে চিন্তায় একবারে মরে‌ যাবে‌ রে‌।

আছিয়া : তুমি না‌ বললেই‌ তো‌ আর‌ যানবে‌ না‌‌ মা‌,,আর‌ মা‌ জিগালে‌ বলবা‌ আমি‌ অনেক ভালো আছি‌।

আছিয়ার বাবা বললো :‌ তো‌ আমার চলে যেতে‌ হবে‌ রে‌ মা‌ এখন মা‌ । জারা‌ আর‌ সারাকে‌  আছিয়ার বাবা‌ কিছুক্ষণ আদর‌ করে‌ হাতে‌ ,,500 টাকা‌ দিয়ে‌ গেল ওদেরকে‌ ।

আছিয়া অনেক বার বললো‌ টাকা লাগবে‌ না‌ বাবা‌।

কিন্তু তাও‌ শুনলো‌ না‌ আছিয়ার বাবা,,তাও‌ জুর‌ করেই‌ টাকা‌ দিয়ে‌ চলে‌ গেল‌।

(‌  "কিন্তু এই‌ যাওয়ার‌ মধ্যে আগের যাওয়ার‌ মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে‌ জানেন সেটা‌ কি‌ ?,,,,আছিয়ার‌ বাবা আছিয়াকে‌ যদি‌ সুখে সংসার করতে‌ দেখে‌ যেতে‌ পারতো ,,,তাহলে‌ অনেক আনন্দ‌ নিয়ে‌ বাড়িতে‌ যেতে‌ পারতো‌,, মুখে একটি‌ সুন্দর হাসি‌ নিয়ে‌ ,,, নিচিন্তায় যেতে পারতো‌ ।

কিন্তু এখন মেয়েকে‌ বিদায়‌ দিয়ে‌ চলে‌ যাওয়া‌ অনেক কষ্টের বিষয় একটি‌ বাবার জন্য ‌।একটি‌ মাএ‌ মেয়ে‌ তাদের আছিয়া‌ ,,সেই‌ মেয়েরি‌ এতো‌ কষ্ট,,, বাবা মার‌ কাছে‌ মেনে‌ নেওয়া‌ অনেক কষ্ট জনক‌ এটি । মন‌টা‌কে অনেক কষ্টে সামলিয়ে‌  ,, অনেক ভয়‌ নিয়ে‌‌ আছিয়ার বাবা চলে‌ গেল‌‌ এই বাড়ি ‌ থেকে ‌ ।

আছিয়ার বাবার‌ চলে‌ যাওয়া‌ দেখে‌ ,,,আছিয়া‌ অনেক কান্না কাটি করলো‌ ,, কিছুক্ষণ পর‌ মেয়েদেরকে‌ সামলিয়ে‌ খাওয়া দাওয়া করালো‌ তাদেরকে।

আর‌ ঔ‌ দিকে‌ ,, জামাল ব‌উকে‌ মেরে‌ ,, জুয়ার আসোনে‌ আসলো  কিন্তু আজকে‌ জামালের‌ কাছে‌ কোন টাকা‌‌ পয়সা নেই‌‌ জুয়া‌ খেলার মতো ,,, সেখানকার জুয়াখুরেরা‌ জামালকে  বললো‌ কিরে‌ আজকে‌ খেলবি‌ না‌ নাকি,,।

জামাল : রফিক‌  ভাই‌ আমাকে‌ 10 হাজার টাকা‌ দাড়‌ দে‌ ,,আজকেই‌ দিয়ে‌ দিবো‌‌ খেলা‌ শেষ হলে,,

রফিক : আগের পাওনা 10 হাজার টাকা‌ দিয়ে‌নি,,,রফিক‌ আরো‌ বললো‌ জামাল‌ কে‌ ,,কিরে‌ আজকে‌ ব‌উকে‌ কম‌ মারছিস‌ নাকি‌ ,,,যে‌ আজকে‌ টাকা‌ দিলো‌ না‌ তোর‌ ব‌উ‌ ,,, এগুলো শুনেই‌ জামাল‌ রফিকের সার্টের‌ কলারে‌ ধরে‌ মারতে‌ গেল‌‌ ।

(রফিক‌ হচ্ছে তাদের সাথেই‌ জুয়া‌ খেলে‌ তার নাম)

সবাই‌ মিলে‌ জগড়া‌ থামালো‌ ,,,আর‌ জামাল কে‌ সেখান‌ থেকে‌ ,, তখন‌ সবাই‌ চলে যেতে‌ বললো‌ ,,,জামাল‌ও‌ চলে‌ গেল‌।‌

ঔখান থেকে যাওয়ার‌ পর‌ চুমকি‌র‌ কাছে‌ গেল‌ জামাল‌ ,,,চুমকিকে‌ ডাক‌ দিয়ে‌ বললো‌ চুমকি‌ ঔ‌ চুমকি‌ দরজা‌ খুল‌ ,,,তোর‌ জামাল আসছে‌ ,,,চুপকি‌ দরজার ঔ‌ পাশ‌ থেকে‌ বললো‌ ,,এই‌ চুমকির কাছে‌ আসছিস‌ আগে‌ বল‌ টাকা‌ আনছিস‌ নাকি‌ ,,।

জামাল : না‌ আজকে‌ টাকা‌ নেই‌ দরজা‌ খুল‌ আগে,,,তোর‌ সাথে‌ কি‌ শুধু আমার টাকার‌ সম্পর্ক‌ নাকি‌ ,,,তোকে‌ টাকা‌ দিয়ে‌ ভরিয়ে‌ দিবোরে‌ চুমকি‌ আমাকে‌ ভেতরে‌ যেতে‌ দে‌ ,,,

চুমকি‌ : এই‌ চুমকি‌ টাকা‌ ছাড়া কারো‌ না‌ ,,,।

জামাল : আচ্ছা থাক‌‌ চুমকি কালকে তোর‌ জন্য অনেক টাকা নিয়ে‌ আসবো‌ আর‌ কারো‌ কাছে‌ যাবিনা‌ কিন্তু,,,চুমকি‌ বললো‌ আচ্ছা এখন যা‌ এখান‌ থেকে‌ ,,।

জামাল : আচ্ছা আমি‌ চলে‌ গেলাম,,,কালকে‌ আসবো আর‌ তোর‌ জন্য টাকাও‌ নিয়ে‌ আসবো।

তখন‌ সন্ধা‌ 7 টা‌ ভেজে‌ গিয়েছে‌ ,,,

আর‌ ঔ‌ দিকে‌ আছিয়া‌  দুই মেয়েকে‌ নিয়ে‌ বসে‌ আছে‌  বারান্দায়‌ ,,মা‌ মেয়েরা‌ চাঁদের‌ আলোতে‌ খুনশুটি‌ করছে,,,আছিয়া‌ যেনো‌ মেয়েদের‌ নিয়েই‌ একটু‌ ভালো‌ সময়‌ কাটায়‌ ,,আছিয়া‌ মেয়েদের‌ নিয়ে‌ গল্প‌ করুক‌ আর‌ ঔ‌ দিকে‌ দেখি‌ জামাল‌ কি‌ করে‌,,

জামাল বাড়ির‌ দিকে‌ র‌ওনা‌ দিয়েছে‌ ,,বাড়িতে‌ যাওয়ার‌ পথেই‌ কুটনি‌ বেগমের বাড়ি‌ পরে‌ ,,,,বেগমদের‌ ঘরের সামন‌ দিয়েই‌ যেতে হয়‌ । জামাল যখন‌ বেগমের বাড়ির‌ সামনে‌ আসছে‌ ,, তখন বেগম জামাল কে‌ ডাক‌ দিল‌ ,,,।

বেগম‌ :‌ জামাল‌ এদিকে‌ আস‌‌ ,,

জামাল : কি‌ বলবা‌ সেটা‌ বলো‌।‌

বেগম‌ :‌ আহারে‌ তোর‌ জন্য মায়া‌ লাগে‌ রে‌ ,,,তোর‌ ব‌উটা‌ সারা‌ দিন‌ ঘুরাঘুরি‌ করে‌ ,,আর‌‌ জানিস‌ তোর‌ ব‌উ‌ তোর‌ শশুরকে‌ কয়দিন‌ পর‌ পরি‌ দাওয়াত‌ দিয়ে‌ এনে‌  অনেক কিছু রান্না করে‌ খাওয়ায়, ।‌ আছিয়া‌ অনেক টাকা‌ পয়সা‌ তোর‌ শশুরকেও‌ দিয়ে‌ দেয়‌ আমি‌ দেখছি‌ ,,,,।

জামাল :‌ এগুলো কি‌ বলো‌  চাচী‌ আছিয়া‌ এতো‌ টাকা‌ কোথায় পাবে‌ ,,,  ।

বেগম‌ : একটা‌ কথা‌ বলি‌ ,,,আর‌ শুন‌ আমি‌ কিন্তু তোর‌ ভালো‌ চাই‌ ,,কিছু মনে করিসনা,, ।

জামাল : কি‌ বলবা‌ তাড়াতাড়ি‌ বল‌ ,,,আমি‌ চলে‌ যাবো‌ ,,,

বেগম এমন কি‌ কথা‌ বলবে জামাকে‌ ?

আর‌ সেই‌ কথা‌ শুনে‌ জামাল কি‌ বলবে‌ বা‌ করবে?

চলবে,,,,,,,

177 Views
0 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: