আকাশ প্রথমে পুরো কলেজে কয়েকজনকে অরিনকে খুঁজতে লাগিয়ে দেয়। কিন্তু তাতে তেমন কোনো লাভ হয় না। কিছুক্ষণ পর খবর আসে জসীম হাউসের প্যারেট কমান্ডার দীপ্তিকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আশ্চর্যের বিষয়! এখন পর্যন্ত প্যারেটে সবচেয়ে ভালো করছিল নজরুল আর জসীম হাউস। দুই হাউসের প্যারেট কমান্ডারই গায়েভ!
এবার ব্যাপারটা আকাশের সন্দেহেজনক লাগে।কোনোভাবে নীল এর সাথে জড়িত নয় তো? কারণ কোনভাবে যদি নজরুল আর জসীম হাউস প্যারেটে খারাপ করে তাহলে ফজলুল হাউসের রাস্তা পরিষ্কার। আর কিছু ভাবতে পারছিল না আকাশ। মাথা পুরো হ্যাং হয়ে যাচ্ছিল। হাতে বেশী সময়ও নেই। Function শুরু হতে আর মাত্র সতেরোমিনিট আছে। এর মধ্য ওদেরকে না পেলে দু'হাউসই শেষ।
হঠাৎ আকাশের মাথায় আসে সিসিটিভির কথা। সে দ্রুত টেকনিক্যাল রুমে যায়। টেকনিশিয়ানকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য বলে আকাশ। প্রথমে সে কিছুতেই তা মানতে চাইছিল না। পরে তাকে কিছু টাকা দিলে সে সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে রাজি হয়।
আকাশ দেখে অরিন স্বাভাবিকভাবেই ওয়াশরুমের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ পেছন থেকে একটি মেয়ে এসে তার মুখে রুমাল চেপে ধরে। মেয়েটি হিজাব পড়ে ছিল। তার চোখ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। ছয় সেকেন্ডের মাথায় অরিন অজ্ঞান হয়ে যায়। মেয়েটি অরিনকে একটি ক্লাসরুমে নিয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর সে বেরিয়ে আসে। দীপ্তিকেও একইভাবে সে সেই ক্লাসরুমে এনে সেখানে তালা লাগিয়ে চলে যায়।
আকাশ আর একমুহূর্তও দেরী না করে সেই ক্লাসরুমের সামনে চলে যায়। সে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আকাশ অরিন আর দ্বীপ্তিকে অচেতন অবস্থায় পায়। সে দুজনের মুখে পাশের একটা বোতল থেকে পানির ছিটে দেয়। এতে অরিনের জ্ঞান ফিরলেও দীপ্তির জ্ঞান ফেরে না। তার অবস্থা খুব খারাপের দিকে চলে যাচ্ছিল। আকাশ তাকে কলেজের মেডিকেল সেন্টারে পাঠিয়ে দেয় আর জসীম হাউজের জন্য অন্য একজনকে প্যারেট কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়। তারপর অরিনের দিকে তাকিয়ে দেখে সে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। অরিনের অসুস্থতা কোনো এক কারণে সবসময় শান্তশিষ্ট থাকা আকাশের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছিল।
- Are you okey? (আকাশ)
- পুরোপুরি নয়। তবে মোটামুটি ভালো আছি। (অরিন)
- তুমি কি পারবে প্যারেট করতে? (আকাশ)
- হয়ত একটু কষ্ট হবে, কিন্তু পারব। (অরিন)
এই বলে অরিন উঠে দাঁড়াতে গেলে সে তার পায়ে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে।
- আউচ... (বলে অরিন আবার বসে পড়ে)
- তুমি পারবেনা অরিন। তোমার পায়ে লেগেছে। এই অবস্হায় তোমাকে প্যারেট করতে দিয়ে আমি risk নিতে চাই না। আমি অন্য একজনকে দায়িত্ব দিচ্ছি। (আকাশ)
- না, না, প্লিজ আপনি এটা করবেন না। আমি পারব। (অরিন)
- এত risk নেওয়ার দরকার নেই। তোমার জায়গায় অন্য একজনকে দায়িত্ব দিলে তেমন কিছুই হবে না। (আকাশ)
- অনেক কিছু হবে। যারা প্যারেটে আছে, তারা আমার সাথে তাল মিলিয়ে অভ্যস্ত। আমার প্রতিটি স্টেপ তাদের নখদর্পনে। এখন হুট করে অন্য একজনকে দিলে তার সাথে ওরা তাল মেলাতে পারবে না। বোঝার চেষ্টা করুন। আমার আর ওদের এতদিনের কষ্ট সব বৃথা যাবে। (অরিন)
- আচ্ছা। আমি অন্য কাউকে দায়িত্ব দিচ্ছি না। কিন্তু যদি হিতে বিপরীত হয় তাহলে আমি স্টেপ নিতে বাধ্য হব। সাবধানে থাকবে। (আকাশ)
- হুম। (অরিন)
_______________________
মাঠে এসে যে যার অবস্হানে দাঁড়িয়ে গেছে। অরিনের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকাটাই কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। কিন্তু তাও সে কাউকে কিছুই বুঝতে দিচ্ছে না। স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে।কিছুক্ষণের মধ্যে প্যারেট শুরু হয়ে গেল। অরিনের মনে হচ্ছিল যে কেউ তার পায়ে হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি মারছে। সে অনেক কষ্টে প্যারেটটা শেষ করে। প্যারেট শেষ করে অরিন সবার আড়ালে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে বসে পড়ে। আকাশ তৎক্ষণাৎ সেখানে আসে এবং অরিনকে মেডিকেলে দিয়ে আসে। তার অরিনকে একা ফেলে আসতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু কী আর করার! তার অনেক কাজ রয়েছে। মেডিকেলে গিয়ে বসে থাকলে চলবেনা তার।
দু'ঘন্টা পর.......................
আকাশ হাতের সমস্ত কাজ সেরে মেডিকেল সেন্টারে আসে। অরিন চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলো। সে আকাশের পদশব্দ শুনে চোখ খোলে।
- আপনি? (অরিন)
- তোমাকে দেখতে এলাম। (আকাশ)
- আপনাকে না discipline এর দিকটা দেখতে বলা হয়েছিল, তা না করে আপনি এখানে এসেছেন! (অরিন)
- সেটা অন্য প্রিফেক্টরা দেখে নিতে পারবে। আর একটা কথা, Display একটু পর শুরু হবে। (আকাশ)
- সেটা বলুন। তাই তো ভাবি, আপনি আমার মতো একজন সামান্য প্রিফেক্টের কেন খবর নেবেন। (অরিন)
- তুমি না সবসময় একটু বেশি কথা বল। এখন কি হাঁটতে পারছ? (আকাশ)
- হুম। (অরিন)
- তাহলে চল। লিসা তোমার জন্য wait করছে। ওকে এখনও জানাইনি তোমার অবস্থার কথা। নাহলে টেনশনে ভালোভাবে dance ই করতে পারবে না। (আকাশ)
- হুম। ভালো করেছেন জানাননি। এখন চলুন। (অরিন)
অরিন গিয়ে লিসার সাথে দেখা করল। আস্তে আস্তে সব compitition শেষ হলো। এখন চার হাইজের সব event এর মার্ক গড় করে বিজয়ী হাউসের নাম ঘোষণা করা হবে।প্যারেটে যে নজরুল হাউজ সবচেয়ে ভালো করবে এটা নিশ্চিত। কারণ, আগে থেকেই নজরুল আর জসীম হাউস প্যারেটে ভালো করছিল। দীপ্তির অসুস্সতার কারণে সেটার সম্ভাবনা অনেক কমে গেছে। আর যাই হোক, ফাইনালের আগ মূহুর্তে কমান্ডার পরিবর্তন করলে সে হাউস নিশ্চয়ই তার গতি হারিয়ে ফেলবে।
কিন্তু সমস্যা হয়েছে দৌড়ে। ফজলুল হাউসের পক্ষ থেকে যে ছেলেটি দৌড়ে ছিল, সেই ছেলেটি দৌড়ের সময় ইচ্ছে করে নজরুল হাউসের পক্ষ থেকে যে ছেলেটি দৌড়াচ্ছিল তাকে ফেলে দিয়েছিল। তাই নজরুল হাউস দৌড়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে। অরিনদের চিন্তা হচ্ছে সে জায়গায়।
এখন এসে গেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ......... বিজয়ী হাউজের নাম ঘোষণা করা হবে এখন।
- এই কি হবে বলতো। (ফিহাম)
- জানি না। (অরিন)
- আমার না খুব টেনশন হচ্ছে। (লিসা)
- আমারও। (অরিন)
- আমার পেটের ভিতরটা গুড়গুড় করছে। (অনি)
- এই তোরা থামবি? (লিওন)
- Hey! What's your problem? (লিসা)
লিওন লিসার দিকে অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকালে লিসা ভয়ে একটি ঢোক গিলে চুপ হয়ে যায়।
- তো এই মুহূর্তে ফলাফল আমাদের হাতে চলে এসেছে।বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২* এর বিজয়ী হাউস............................... (অনুষ্ঠান সঞ্চালক)
To_be_continued....................
কী মনে হয়,কোন হাউজ হবে বিজয়ী?
শুধু তোমারই জন্য
189
Views
6
Likes
4
Comments
4.8
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (4)
very nice next part please
next part kobe diben.
porer porbo taratari den
golpo ta sondor hoise. nex part taratari den plz