শুধু তোমারই জন্য

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ক্লাসে এসে বেঞ্চের এক কোণায় ব্যাগ রেখে সেখানে বসলো একটি বছর আঠারোর যুবতী। চারপাশে নিজের হরিণাক্ষী চোখ দিয়ে বুলিয়ে নিলো সে। তারপর একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। ক্লাসে প্রচুর শোরগোল হচ্ছে। ক্লাসে বসেই নিজের বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে সবাই। আজকে সাতদিন হয়ে গেলো কলেজে ভর্তি হয়েছে, নিয়মিত ক্লাস করছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কারো সাথে বন্ধুত্ব হয়নি তার। কারণটা সে নিজেই। এতটা বেশি চুপচাপ আর ইন্ট্রোভার্ট সে যে সে নিজে তো যেয়েচেয়ে কারো সাথে কথা বলে ভাব জমাতে পারেই না, উল্টে কেউ যদি তার সাথে কথা বলতে আসে, তাহলে সেও উৎসাহ পায় না। তাই দিনশেষে তাকে থাকতে হয় বন্ধুহীন। নিজের মায়াপূর্ণ আহত দৃষ্টিটা নামিয়ে বই বের করে বইয়ের ভেতরে মুখ গুঁজলো সে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি মেয়ে এসে তার পাশে বসলো।

- Hi ( মেয়েটি)

- Hello (অরিন)

একঝলক মেয়েটির দিকে তাকিয়ে অরিন আবার বইয়ে মুখ গুঁজে। মেয়েটি হঠাৎ বইটি অরিনের মুখের সামনে থেকে ছোঁ মেরে নিয়ে বলল-

-This is breaktime and In the breaktime, no reading,no writing (মেয়েটি)

অরিন পুরো অবাক হয়ে যায়। কারণ আজ পর্যন্ত কলেজে ভর্তি হওয়ার পর কেউ ওর সাথে এমন ব্যবহার করেনি।

- By the way,I'm Lisa Nowshin. And you? (লিসা)

- Arin.Arinnia Sheikh (মৃদ্যু হেসে অরিন)

- উম.. nice name. আমরা কী friends হতে পারি?(লিসা)

- Sure.But তুমি আমার সাথে friendship করতে চাচ্ছ কেন? (অরিন)

- দেখলাম তুমি অনেক শান্তশিষ্ট। সারাদিন বই পড়ো।তোমাকে interesting মনে হলো।আর তাছাড়াও ফ্রেন্ডসার্কেলে এমন শান্তশিষ্ট একজন ফ্রেন্ড থাকা উচিত (লিসা)

- তুমি অনেক কথা বলো না? (অরিন)

- একদম ঠিক ধরেছ।আচ্ছা, এই তুমিটা কেমন জানি একটা শোনাচ্ছে।যেহেতু এখন আমরা ফ্রেন্ড তাই তুইটা বলাই যায়না?(লিসা)

- একদম। (অরিন)

-আচ্ছা শোন না,আমি না তোকে অরি বলে ডাকব........…..…………(লিসা)

এরপর লিসা বকবক শুরু করে।আর অরিন তা শুনতে থাকে। ও বেশি কথা বলছে না। তবে মাঝেমধ্যে হ্যাঁ,হু উত্তর দিচ্ছে। অরিনের আগে খুব বিরক্ত লাগতো যদি কেউ তার কানের কাছে এভাবে বকবক করতো, কিন্তু আজকে ভালো লাগছে। কেন সেটা জানা নেই।

____________________

কলেজ বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে বাস্কেটবল খেলছে এক যুবক।Team first year vs Team 2nd year. বিপক্ষ দল থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে গোলপোস্টের দিকে ছুটে চলেছে 1st year এর ছেলেটি। কয়েক সেকেন্ড পর চারদিক থেকে "গোল"  শোরগোল শোনা গেল। 1st year জিতে গেল।

খেলা শেষ করে যুবকটি কয়েকটি ছেলের সাথে এসে বাস্কেটবল গ্রাউন্ডের পাশের গাছতলায় দাঁড়িয়েছে। কলেজ ড্রেস পড়ে থাকলেও অনেকক্ষণ খেলায় তার শরীর থেকে ঘাম বেড়িয়ে গেছে।শার্টটি চিপকে ধরে আছে তার শরীরকে।তাই জিম করা পেশিবহুল শরীরটা দৃশ্যমান হয়েছে। ঘামে ভিজে সামনে চুলগুলো থেকে পানি পড়ছে দেখে আরো বেশি  আকর্ষণীয় লাগছে কিছুক্ষণ পর একটি মেয়ে এসে বলল -

- Hi handsome! (মেয়েটি)

- Hello (ছেলেটি)

- You are looking smart and handsome in the college dress. In my opinion, you are the most handsome boy in this college.Honestly speaking, you are so so so handsome. (মেয়েটি)

- I know (বলে বাঁকা হেসে ছেলেটি চলে যায়)

-This attitude suits you and it have attracted me to you. CPSCS এর পরের H.C (House commander) তুমিই হবে। (মেয়েটি)

_________________

রাতের বেলা অরিনের বাড়ির ডাইনিং টেবিলে সবাই রাতের ডিনার করছে। অরিনের পরিবারে রয়েছে সে, তার বাবা-মা, তার ছোট বোন নোয়েল, বড় ভাই আবীর ও তার স্ত্রী সুমি। খাওয়ার মাঝেই হঠাৎ অরিনের বাবা বলে উঠলেন -

- অরিন,কলেজে যাচ্ছ তো প্রতিদিন? (অরিনের বাবা)

- জ্বী বাবা। (অরিন)

- পড়াশোনা কেমন চলছে? (অরিনের বাবা)

- বাবা সবে তো ক্লাস শুরু হল,তবে ভালোই চলছে পড়াশোনা। (অরিন)

- ওহ। ভালো চললেই ভালো। (অরিনের বাবা)

- মন দিয়ে পড়াশোনা করবি। বুঝছিসই তো অনেক টাকা খরচ করে তাকে পড়াচ্ছি। কোন বিষয়ে যেন কমপ্লেইন না আসে। (আবীর)

- তোর কি মনে হয় আবীর, অরিনের নামে কোনদিন কোন কমপ্লেইন এসেছে,যে এখন আসবে। (অরিনের মা)

- না,বলা তো যায় না। দিনকাল বদলাচ্ছে। আজকাল অনেক মেয়েই কলেজে গিয়ে বিগড়ে যায়। (আবীর)

- কিন্তু আমার মেয়ের উপর আমার বিশ্বাস আছে। তোমাকে ও নিয়ে অত ভাবতে হবে না। ভাবছি পরের বছর নোয়েলকেও ওখানে ভর্তি করিয়ে দেবো (অরিনের বাবা)

নোয়েল একবার তার বাবার দিকে আর একবার তার আপুর দিকে তাকালো।

- নোয়েলকে ওখানে ভর্তি করার কি দরকার বাবা অরিনতো পড়ছেই (আবীর)

- আমি তো তোমাকে আগেই বলেছি আবীর, আমি নোয়েল- অরিনের পড়াশোনার বিষয়ে কোনো কথা তোমার কাছ থেকে শুনবো না (অরিনের বাবা)

আবির চুপ হয়ে যায়।


__________________

আবীরের ঘরে.....

- দেখলে আবীর দেখলে, তোমার বাবা কি করে  তোমাকে চুপ করিয়ে দিল (সুমি)

- হুম, কিন্তু আমি কি করবো? (আবীর)

- তোমার বোনেদের তাড়াতাড়ি বিয়ের ব্যবস্থা করো। (সুমি)

- কিন্তু মা বাবা যতদিন থাকবে ততদিন ওদের উপর আমার কোন জোর খাটবে না সুমি। বুঝতে হবে তো সেটা। (আবীর)

- সংসারের চাবিটা শুধু আমার হাতে আসতে দাও। তারপর দেখো আমি কি করি (সুমি)

- হুম,সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে হবে (আবীর)

চলবে.....................

কভারপেজ দিয়ে যেমন বইয়ের ভেতরটা যাচাই করা যায় না, তেমনই গল্পের প্রথম পর্বটা পড়ে সম্পূর্ণ গল্পটা বিচার করা যায় না। তাই পাঠকদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আরো কয়েকটি পর্ব পড়ুন। তারপর ইচ্ছে হলে পড়বেন, নাহলে পড়বেন না।
522 Views
8 Likes
1 Comments
4.6 Rating
Rate this: