শুধু তোমারই জন্য

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
পরের দিন কলেজে এসেই সবাই বার্ষিক ক্রিড়ার নোটিশ পেয়ে গেল। তাই আজ আবার সবাই একত্রিত হয়েছে। তবে whatsapp গ্রুপে নয়, কলেজের বটমূলে। আকাশ, লিওন, অনি আর ফিহামের আগে থেকেই এই জায়গাটা আড্ডা দেওয়ার জায়গা ছিল। এখন তার সাথে অরিন আর লিসাও যুক্ত হয়েছে। সবাই এখন প্রায়ই এখানে এসে আড্ডা দেয়।

- তোরা সবাই তো নোটিশ পেয়ে গেছিস। (আকাশ)

-হুম। প্র্যাকটিসের জন্য বেশিদিন রাখেনি এবারে। দুসপ্তাহ পর ফাইনাল। (লিওন)

- তাহলে তোরা আজকেই সব ঠিকঠাক করে নে। প্র্যাকটিস খুব দ্রুতই শুরু হবে। কোনো হেল্প লাগলে বলিস। আমি এখন আপাতত যাচ্ছি। কেউ দেখে ফেললে আবার ঝামেলা হবে। (আকাশ)

- হ্যাঁ, তুই যা। আর তাছাড়াও আমরা কোন দুর্নীতি করতে চাই না। তুই হাউস কমান্ডার হয়ে যদি আমাদেরকে সাজেশন দিস তাহলে সেটা একপ্রকার দুর্নীতি হবে। (লিওন)

- হুম, মন দিয়ে নিজের কাজ কর সবাই। আমি কিন্তু এবারে চ্যাম্পিয়ান হাউজ হিসেবে নজরুল হাউজকে দেখতে চাই, যা নিশ্চিত দায়িত্ব তোদের। আসছি। (আকাশ এই বলে সেখান থেকে চলে যায়)

- তাহলে তোমরা preparation শুরু করে দাও। সব ঠিকঠাক করে নাও কে কোন event এর দায়িত্ব নেবে। কারণ প্র্যাকটিস দুদিন পর থেকে শুরু হয়ে যাবে। (লিওন)

- আচ্ছা, হাউজভিত্তিক কি কি event আছে যেন? (ফিহাম)

- যেগুলো প্রতিবারে থাকে, নাটক,প্যারেট আর ডিসপ্লে। (লিওন)

- আচ্ছা সবচেয়ে বেশি মার্ক কোথায় থাকছে? (অরিন)

- প্যারেটে। তারপর নাচে। তবে Annual Sports এ প্যারেটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ছেলে মেয়ে আলাদা আলাদা হয়ে প্যারেট করবে। আজকে তো ছেলেদের প্যারেট কমান্ডার বাছাই করা হলো। হয়তো কালকে মেয়েদের প্যারেট কমান্ডার বাছাই করা হবে। (লিওন)

- আমার দ্বারা না প্যারেট হবে না। আমি ডিসপ্লের দিকটা দেখবো। (লিসা)

- আমি নাটকের দায়িত্ব নিচ্ছি। আর প্যারেটেও মাঝে মাঝে আসব। (ফিহাম)

- আমি তো প্যারেট কমান্ডার। ছেলেদের প্যারেটের দায়িত্ব আমার (লিওন)

- আমিও লিওনের সাথে প্যারেটে থাকবো। (অনি)

- ঐ, তুই তো প্লাকার্ডবাহী। ভুলে গেলি? (লিওন)

- ও...হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি তো প্লাকার্ডবাহী। প্যারেট ছাড়া কোথায় যাবো। (অনি)

- আমি তাহলে মেয়েদের প্যারেটের দায়িত্ব নিই? (অরিন)

- আমাকেও নিস তোর সাথে, ঠিকাছে? (অনি বেশ গদগদ হয়ে বললো)

- অনি, তোকে কিন্তু চাপকে সোজা করে দেব। (লিওন চোখ রাঙিয়ে)

- আচ্ছা সরি, সরি। (অনি)

- মেয়েদের প্যারেট কমান্ডার কবে সিলেক্ট করা হবে? (লিসা)

- মনে হয় আগামীকাল। (লিওন)

- আর কে সিলেক্ট করবে। (অরিন)

- Obviously House Commander (অনি)

- আকাশ ভাইয়া? (লিসা)

- তো হাউস কমান্ডার কে, তুই? (লিওন)

- আমি কি সেটা বলেছি নাকি? (লিসা)

- তাহলে হয়েছে। ঐ খাটাসটা তো আমাকে জীবনেও প্যারেট কমান্ডার করবে না। (অরিন)

- আরে না না, আকাশ ওরকম না। ও যদি তোমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে নিশ্চয়ই তোমাকে প্যারেট কমান্ডার করবে। (লিওন)

- দেখা যাক, কি হয়। (অরিন)

- হুম। তবে যে যেই দায়িত্বেই থাকিস না কেন, সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবি। Annual Sports এ সবচেয়ে বেশি মার্ক আমাদের হাউজের পাওয়া চাই। (লিওন)


সবাই বেশ গম্ভীর হয়ে গেলো। কি যেন চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেলো।

_______________

আজকে সব হাউসের মেয়েদের প্যারেট কমান্ডার নির্বাচন করা হবে। একটুখানি চিন্তা মাথায় করেই অরিন সকাল সকাল কলেজে এসেছে। না জানি কি হয়! সে এসে দেখে অনি, ফিহাম, লিসা বসে বসে আড্ডা দিচ্ছে। সেও যোগ দিল তাতে-

- কীরে কখন এসেছিস তোরা? (অরিন)

- আমি তো কেবলই এসে বসলাম। (লিসা)

- আমি দু'ঘণ্টা আগে এসেছি। (অনি)

- এত আগে এসে কি শাশুড়ির বিয়ে খেলি? (অরিন)

- শাশুড়ী মা আমার বেশ দুষ্ট বুঝলি। নিজে সামনে আসছে না, ওনার মেয়েকেও সামনে আনছে না। তাই ও চিন্তা বাদ। আমি তো আগে এসেছি সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে দেখার জন্য। এই পর্যন্ত সাতবার ক্যাম্পাস round দিয়েছি। (অনি দাঁত কেলিয়ে বললো)

- তুই আর ভালো হলি না অনি। (ফিহাম)

- হবোও না। (অনি)

- দেখবি এই স্বভাবের জন্য ও ওর বউয়ের কাছে ঝাটাপেটা খাবে। (লিসা)

- (আকাশ এসে) তা আর বলতে। দিন দিন যা হচ্ছিস তুই, তাতে ওই দিনের আর বেশি দেরী নেই। (আকাশ)

- আসলো, আড্ডার তেরোটা বাজাতে। (অরিন মনে মনে)

- তো সকাল সকাল আড্ডা কী নিয়ে। (আকাশ)

- না, না, ভাইয়া এমনিই এটা ওটা হাবিজাবি কথা বলছিলাম। (লিসা)

- আচ্ছা লিসা,তুই আমাকে ভাইয়া বলিস দেখে কী আমার সঙ্গে সিনিয়রদের মতন আচরণ করছিস? আরে বাবা বয়সে দু বছরের বড় হলে কি এমন করতে হবে নাকি? দেখিস না অনিরা আমার সঙ্গে কেমন friendly behave করে? আমার সাথে সেভাবে মিশবি। (আকাশ)

- আচ্ছা ভাইয়া। (লিসা)

- আচ্ছা আপনি এখানে এসে এমন গিরগিটির মতন রং পাল্টান কেন? অন্য সময় ক্যাম্পাসে তো এমন ভাব নিয়ে থাকেন মনে হয় আপনি একা এখানে রাজত্ব করছেন। আর ফ্রেন্ডদের কাছে এসে সেসব কিছুই নেই। (অরিন)

- দেখ, আমি CPSCS এর H.C. So, বাইরে যদি আমি একটু attitude না নিই, তাহলে সেটা আমার সাথে suit করে না। আর বন্ধুদের কাছে attitude নিয়ে কি লাভ? আরে যদি তুমি friend দের সাথে free না থাক তাহলে তো তুমি জীবনটা উপভোগ-ই করতে পারবে না। (আকাশ)

- না, মানতে হবে-ছেলের কথায় যুক্তি আছে। (ফিহাম)

-আমি তোদের মতো যুক্তিহীন কথা বলিনা। (আকাশ)

- আচ্ছা তোরা কাজের কথায় আয় এবার। (লিওন)

- বল। (আকাশ)

- সব হাউসের মেয়েদের প্যারেট কমান্ডার select করা হবে কবে? (অরিন)

- আজকে। কেন তুমি participate করবে নাকি? (আকাশ)

- তো participate করব বলেই তো বলছি নাকি। (অরিন)

- হবে না, হবে না। তোমার ওই পাটকাঠির চেহারা দিয়ে প্যারেট হবে না। (আকাশ)

- সেটা একটু পরেই দেখতে পারবেন আমি কি পারি আর কি পারি না। (অরিন)

- ঠিক আছে দেখা যাবে। (আকাশ)


______________________


মাঠে কড়া রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে নজরুল হাউসের প্রায় পনেরো-বিশজন শিক্ষার্থী। আর তাদের সামনে খুব হাতদুটো পেছনে নিয়ে বুক টানটান করে কঠিন মুখশ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আকাশ। সে আজকে এদের মধ্য থেকে সবচেয়ে সেরাদের বাছাই করে নেবে। আকাশ একবার অরিনের দিকে তাকালো। অরিন অন্যদিকে তাকাল। সে মনে মনে ভাবল-

- আমাকে ignore করা। দাড়াও দেখাচ্ছি মজা। (আকাশ)

- Is everyone ready? (আকাশ গলা উচিয়ে)

- Yes. (সবাই)

এরপর আকাশ কমান্ড দেওয়া শুরু করলো। সেই কমান্ড অনুযায়ী সবাই কুচকাওয়াজ জারি রাখলো। কেউ ভালো করছে কেউ খারাপ। সূক্ষ্মভাবে বাজপাখির ন্যায় তীক্ষ্ণ নজরে সবাইকে পর্যবেক্ষণ করছে আকাশ। অরিন বেশ ভালোই করছিলো। কিন্তু তাও আকাশ বারবার তাকে বিরক্ত করছে।

-আপনি খুব ধীরে পা চালাচ্ছেন।স্পিড বাড়ান। পায়ে শক্তি নেই?  (আকাশ)

- আমি তো ঠিকভাবেই করছি আর কত speed বাড়াব?(অরিন মনে মনে)

এভাবে আকাশ বারবার অরিনকে বিরক্ত করতে থাকে।অবশেষে অনেক যুদ্ধ করার পর আকাশ অরিনকে প্যারেট কমান্ডার করে।


রাতে WhatsApp গ্রুপে..................


- কী মিস্টার খুব তো বলেছিলেন আমি প্যারেট পারবো না এখন কি হলো? (অরিন)

- ঠিক আছে, ঠিক আছে, নজরুল হাউসের প্যারেটে তেমন কেউ ভালো না বলে তোমাকে সিলেক্ট করেছি। অত ভাব নেওয়ার কিছু নেই। (আকাশ)

- এই তোরা আবার শুরু করলি। (ফিহাম)

- আচ্ছা তাহলে ছেলেদের প্যারেট কমান্ডার হলো লিওন আর মেয়েদের হল অরিন, তাইতো? (অনি)

- হুম। (লিওন)

- এখন কি প্ল্যান? (অরিন)

- না, না এখন কিছুনা।আগে প্র্যাকটিস শুরু হোক। গতিবিধি দেখে তারপর প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করব। (লিওন)

- আচ্ছা। (অরিন)

- Okey. (লিসা)

- আর শোন, তোরা কলেজে তোদের attitude mood on রাখিস না হলে প্রিফেক্টেদের কেউ থাকবে না। (আকাশ)

-এই আপনার অ্যাটিটিউড আপনার পকেটে রাখুন। (অরিন)

- ভাইয়া অ্যাটিটিউড দেখালে কিভাবে হবে?ছোট বাচ্চাগুলোকে শেখাতে হলে তো ওদের সাথে ভালোভাবে মিশতে হবে। না হলে তো ওরা কথা শুনবে না আর শিখবেও না। আমার মনে হয় এ কয়দিন attitude না দেখানোই ভালো। আমাদের সঙ্গে মিশে ওদের মতন হয় শেখানো উচিত (লিসা)

- যাক এটুকু বুদ্ধি আছে তাহলে। (লিওন)

- আপনার থেকে বেশি আছে। (লিসা) 9:51

- আকাশ তুই তো কমান্ডার হয়ে থাকবি। তুই শুধু ভিজিট করবি যে সবগুলো হাউজের প্র্যাকটিস ভালোভাবে হচ্ছে কিনা। তুই তো আর ওদেরকে শেখাবি না। শেখাতে হবে আমাদের। আমাদের এটিটিউড দেখানো উচিত না (ফিহাম)

- হুম বুঝলাম। কিন্তু আমি অ্যাটিটিউড ছাড়া থাকতে পারবো না। (আকাশ)

- আপনাকে থাকতেও হবে না। (অরিন)


চলবে...........



এত দেরী করে পর্ব প্রকাশিত করার জন্য দুঃখিত। আপনারা যে পড়তে দেরী করেন, তার জন্য এই সমস্যা। নিয়মিত পর্ব পেতে হলে তো নিয়মিত পড়তে হবে।

#আমি এখন থেকে সপ্তাহে তিনটি করে পর্ব প্রকাশিত করব। তাই দয়া করে নিয়মিত পড়বেন। আপনারা নিয়মিত হলে আমার নিয়মিত হতে সময় লাগবে না।
141 Views
2 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: