আকাশ কলেজের করিডোর দিয়ে নিজের মতো একগাদা attitude নিয়ে পকেটে হাত রেখে গম্ভীর মুখে হেটে যাচ্ছিল। সে যেমনভাবে কলেজে সচারাচর থাকে আরকি। আকাশের উপমা নারকেলের সাথে করা যায়। ওপরে খুব শক্ত পাথুরে হৃদয়ের দেখালেও ভেতরটা তার একদম কোমল, পশমের মতো নমনীয়। কিন্তু নমনীয়তাটিকে কংক্রিটের মাঝে চাপা দিতেই সে বেশি ভালোবাসে।
হঠাৎ কোথাথেকে নীল এসে তার পথ আটকায়।
- আরে দাঁড়া দাঁড়া থাম। এত তাড়া কিসের? দুটো কথা বলি (নীল)
- আলতু ফালতু লোকের সাথে বাজে বকার আমার কোন ইচ্ছে নেই (আকাশ)
আকাশ একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললো। তাতে নীলের মুখে সামান্য ক্রোধ প্রকট হলো। দাঁতে দাঁত লাগিয়ে সে বললো-
- তুই খুব ভালো করে জানিস আমি কে। আলতু-ফালতু লোকের কাতারে যখন পড়িনা, তখন আমার কথা শুনতে তোর অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। (স্বাভাবিক হয়ে) যাই হোক তোকে কিছু কথা জানাতে এসেছিলাম। তার আগে বলতো তোর নজরুল হাউসের কি খবর? (নীল)
- (ভ্রূ-কূচকে) আমার নজরুল হাউস মানে? তুই খুব ভালো করে জানিস আমি এখন নির্দিষ্ট কোনো হাউসের না। (আকাশ)
- বাজে বকিস না। তুই H.C হলেও পার্সোনালি যে নজরুল হাউসকেই support করিস, সেটা বোঝার ক্ষমতা আমার আছে। কদিন আগে ওদের get together এ-ও গিয়েছিস। আর লিওনের সাথে ব্রেকটাইমে আড্ডা তো আছেই। (আকাশ)
- শোন ওরা আমাকে ডেকেছে বলে আমি গিয়েছি। তোরা get-together করলেও যেতাম। কিন্তু তোদের না সেসবের কোন ইচ্ছেই নেই। আর লিওন আমার বেস্টফ্রেন্ড। দুজন বেস্টফ্রেন্ডের রিলেশন যেমন হয়, আমার সাথে ওর রিলেশন তেমনই। এটাকে এমনভাবে দেখার কি আছে। (আকাশ)
- আচ্ছা ছাড় ওসব কথা। নজরুল হাউসের নিউ প্রিফেক্ট কি যেন নাম,হ্যাঁ অরিন্নীয়া। আচ্ছা ওকে কোথা থেকে পেলি বলতো? আমাদের কলেজে এত সুন্দর ফুল আছে জানতামই না। সামলে রাখিস। আমার নজর ওর উপর পড়েছে। আর তুই খুব ভালো করে জানিস আমি যেটা চাই সেটা নিয়েই ছাড়ি। (নীল বাঁকা হেসে)
- ভদ্র ভাষায় কথা বল নীল। আমি কিন্তু complain করব তোর নামে। (আকাশ)
-তুই.. complain করবি... আমার নামে? (তাচ্ছিল্য হেসে) লাভ নেই শুধু শুধু নিজের বিপদ দিকে আনবি (নীল)
- নিজর ক্ষমতাকে যদি সবকিছুর উর্ধ্বে মনে করে থাকিস, তাহলে সেই চিন্তা নিয়েই থাকতে পারিস। খুব সুন্দর করে উপহার হিসেবে ধ্বংস পাবি। (আকাশ)
আকাশ পকেটে হাত রেখে গম্ভীরভাবে কথাগুলো বলে নীলকে পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। নীল অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করে ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
_____________________
মাঝখানে কেটে গেছে অনেক কিছু দিন। তবে এই কিছুদিনেই অরিনের জীবনে বিরাট পরিবর্তন এনেছে। এখন লিওন, অনি, ফিহামের সাথে ফ্রি হয়ে গেছে।অরিন ভেবেছিল হয়তো বা তারা অতটা বন্ধুসুলভ হবে না। কিন্তু তার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল করে সবাই ওর সঙ্গে বন্ধুর মতন মিশছে। নিজের কলেজ জীবনকে উপভোগ করা শুরু করেছে সে। বুঝতে পারছে, একাকিত্ব শান্তি দিতে পারে, আনন্দ নয়। আনন্দ তো লুকিয়ে থাকে চঞ্চলতার মাঝে।
অরিন এখন নিজেকে বোকা মনে করে। কেন সে এই উদ্যোগটা আগে নেয়নি। যদি আগে থেকে সে সবার সাথে মিশতে চেষ্টা করত, তাহলে সে প্রথম বর্ষটাও এভাবে উপভোত করতে পারতো। শুধু শুধু নিজের জীবনের একটা বছর একঘেয়েমির মধ্যে কাটিয়েছে। যার ফলস্বরূপ অসামাজিক হয়ে পড়া ছাড়া আর কিছুই পায়নি সে। কিন্তু কি আর করা যাবে! সময় তো আর ফিরে আসবেনা। তাই বন্ধুদের নিয়ে বর্তমান সময়টাকে সে উপভোগ করার চেষ্টা করছে।
সেদিন সন্ধ্যাবেলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য সবাই হোয়াটসঅ্যাপে কনফারেন্স কলে যুক্ত হয়।
- Hi everyone!!! (লিসা)
- Hello (সবাই তবে আকাশ বাদে)
- সবার কি খবর? (অরিন)
- ভালো। (লিসা)
- মোটামুটি (অনি)
সবাই কুশল বিনিময় শেষ করল।
- আচ্ছা সবাই আছে তো অনলাইনে? (অরিন)
- আকাশ মনে হয় অনলাইনে নেই। (অনি)
- ওই যে টোটো কোম্পানির গাড়ি। (লিওন)
- এই একদম আকাশ ভাইয়ার নামে বাজে বাজে কথা বলবেন না। আপনিও তো এখনই আসলেন। (লিসা)
- হ্যাঁ তো? কলে এসেছি তো। তোমার so-called ভাইয়ার মতো এত লেট করিনি। (লিওন)
- কিরে, আমাকে ছাড়া কি কথা হচ্ছে। (আকাশ)
- আপনার বিয়েতে ছেঁড়া গেঞ্জি পড়বে নাকি লুঙ্গি পড়বে সেটা discuss করছে। (অরিন রে রে করে বলে উঠলো)
- এক কাজ করিস হাফপেণ্ট পড়ে আসিস। ব্যাপারটা বেশ ইউনিক হবে। আর তোমাকে কি আমি কথা বলতে বলেছি? সবখানে ফোঁড়ন কাটো কেন? (আকাশ)
- মানুষ নিজের দোষটা অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে ভালোবাসে। আর আমার মনে হয় না আপনি বিশেষভাবে আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন যে আমি কোনো কথা বলতে পারবো না। যাই হোক, এত দেরি হল কেন আসতে? (অরিন)
- আমার অনেক কাজ থাকে। তোমার মত না সারাদিন উদাসীনি থাকি। (আকাশ)
অরিনের শরীর জ্বলে উঠলো। নিজেকে সে যথেষ্ট সংশোধন করেছে। তারপরেও তার নামে কেন এ অপবাদ?
- কি বললেন আমি উদাসিনী? আপনি... আপনি হচ্ছেন খাটাসের তিন নাম্বার বাচ্চা? (অরিন)
- এই অরি তোর সাহস তো কম না। তুই আমার সামনে আমার ভাইয়াকে অপমান করছিস। (লিসা)
- এইতো বোনের মতন কথা। That's like my sissy. (আকাশ)
- এহ্, এলেন রে আমার সুযোগ্যা বোন। (অরিন)
- এই তোরা থামবি। (লিওন)
- আমরা যা করার করছি। আপনার সমস্যা কোথায়? নিজে তো বইয়ে সারাদিন মুখ গুঁজে থাকে আর আমাদের হুল্লোড় সহ্য হয় না। (লিসা)
- এই শোনো আমি আর যাই করি, তোমার মতন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেই না। (লিওন)
- এই আপনাকে কে বলেছে আমি ক্লাস ফাঁকি দেই, হ্যাঁ? (লিসা)
- আমার জানা আছে। (লিওন)
- শুনুন, সারাদিন ছটফট করলেও আমি পড়াশোনার ব্যাপারে যথেষ্ট সিরিয়াস। নাহলে প্রিফেক্ট হলাম কি করে... (লিসা)
- ওটা মনে হয় মেহেরুন্নেসা ম্যাম অন্য কাউকে দিতে গিয়ে গালতি সে মিসটেক হয়ে তোমার কাছে চলে এসেছে। (লিওন)
- ওটা আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে, আমার নয়। পাগলা কুত্তায় কামড়ালোও পাগল আপনার মতন বাজে বকে না। অবশ্য আপনি নিজেও তো তারছেড়া পাগল। (লিসা)
- আমার তো মনে হয় না। (লিওন)
- কখনো শুনেছেন পাগল নিজেকে পাগল বলে? (লিসা)
- এই চুপ করো তো, কি দেখে যে একে প্রিফেক্ট বানিয়েছে আল্লাহ জানে আর ম্যামই জানে। (লিওন)
- এই ওর নামে একটাও বাজে কথা বললে তোর মুখ ভেঙে দেবো আমি লিওন। ও আমার সারা কলেজে একটা মাত্র বোন, যে আমার দুঃখ বোঝে। (আকাশ)
- Thank you ভাইয়া, আমাকে সাপোর্ট করার জন্য। আর ওটা আমার বিশেষ গুণ। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ সেটা বুঝে না। Love you my one and only vaiya. (লিসা)
- আহা! কি ভালোবাসা! তোদের ভালোবাসা দেখে আমার দশতলা থেকে ঝাঁপ দিতে ইচ্ছে করছে রে.... (অরিন)
- হ্যাঁ ওটাই তো করতে পারো। (আকাশ)
- আচ্ছা, অনি আর ফিহাম চুপ করে আছে কেন? (লিসা)
- নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলাম। তা তোদের ফালতু বকা হলো। নাকি আরো আধ ঘন্টা দেবো? (ফিহাম)
- হ্যাঁ রে দোস্ত। ফ্রিতে মুভি ভালই দেখলাম আমি আর তুই। এখন কাজের কথা থাকলে বল। আমাকে আবার নতুন মেয়ে দেখতে হবে। আর দুটো হলেই তো সেঞ্চুরি হবে। বেশি দেরি করলে চলবে না। (অনি) 7:30
- এই, শ্রেষ্ঠ প্লেবয় এওয়ার্ড পাওয়া দাদুর নাতনির ননদের তিন নম্বর বাচ্চা,,,, তোর মেয়ে দেখতে হলে গ্রুপ থেকে বের হ। তারপর যত খুশি মেয়ের মুখদর্শন করিস। কিন্তু গ্রুপে এসব চলবে না। (আকাশ)
আকাশের ধমকে অনি তো দমে গেলোই সাথে গ্রুপের বাকিরাও একটু নড়েচড়ে বসলো।
- আচ্ছা আর কিছু বলবো না। (অনি)
- হ্যাঁ, যেটা বলতে চাচ্ছিলাম...............(অরিন)
- বলো, কি বলবে। (আকাশ)
- বলার সুযোগ দিলে তো বলব। আমি আগে কথাটা শেষ করি, তারপর আপনি কথা শুরু করুন। মাঝখানে কথা বলেন কেন? (অরিন বিরক্ত হয়ে)
- ও হ্যাঁ, বলো। (আকাশ)
- আমাদের কি সামনে কোন কাজ আছে। (অরিন)
- ওটাতো আকাশ ভালো জানবে। (লিওন)
- হ্যাঁ, I think তিন সপ্তাহ পর Annual Sports শুরু হয়ে যাবে। নোটিশ তোরা কালকের মধ্যেই পেয়ে যাবি। আর practice হয়তো তিন দিন পর থেকে শুরু হবে। (আকাশ)
- (লাফিয়ে) কি বললি!! তিনদিন পর থেকেই!! তারমানে 2nd period এর পর আর ক্লাস করতে হবে না। সারা কলেজ ঘুরে বেড়াবো, ঢিংকা চিকা (অনি নিজের ঘরেই একদফা নেচে নিলো)
- উফ্, কি মজা!! (লিসা)
- ঐ, নাচানাচি বন্ধ কর। তোরা এখন স্কুলে বা ফাস্ট ইয়ারের পড়িস না যে ঘুরে বেড়াবি। You are prefects now. তোদেরকে গাধা খাটুনি খাটতে হবে সারাদিন। (আকাশ)
- ও হ্যাঁ, ভুলেই গিয়েছিলাম। (লিসা দমে গেলো বলে মনে হলো)
- না, তা কেন মনে থাকবে? তোমাকে তো পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়ার কথা বললে সেটার আনন্দে কিছুই মনে থাকেনা। (লিওন)
লিসার মুখটা চুপসে গেলো। লিওনের কথার প্রেক্ষিতে আর কোনো কথা বলার ভাষা খুঁজে পেলো না।
- আচ্ছা, আজকে এটুকুই আমাকে আবার পড়তে বসতে হবে আমি গেলাম, Bye. (অরিন)
এরপর একে একে সবাই গ্রুপ থেকে বিদায় নিল।
চলবে.....................
শুধু তোমারই জন্য
200
Views
4
Likes
3
Comments
4.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (3)
Appu kemon achen porer porbo ta kobe diben jodi taratari diten valo hoto khub sundor golpo likhen apni comment er reply diben asha kori
appu golpo ta khub sundor hoyeche 😊 porer porbo ta kobe diben asha kori comment er reply diben jodi somoy hoi
অনেক সুন্দর লেখেছেন কিন্তু, একটা ক্রুটি হলো গল্প শেষ হওয়ার পর পরের পাঠে এই শেষ হওয়ার পাঠে কিছু অংশ তুলে ধরে পাঠ টা প্রকাশ করা।