সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ (পাঠ ১৭ )

পলাশ
পলাশ
লেখক
(১৬তম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,,

আমিঃ তোমার পরিবারের মানুষ কই ?

আমি একথা জিজ্ঞাসা করতেই তানজিলার মুখ কালো হয়ে গেল,,,

তানজিলাঃ আমার পরিবার বলতে কেউ
নেই ।আমি অনাথ,,,,

প্রিয়াঃ চুপ করতো । এ কথা আর কোনো সময়
বলবি না,,, আমরা থাকতে তুই অনাথ কিভাবে হুম ।

তানজিলাঃ হুম,,আচ্ছা তোরা রুমে গিয়ে
ফ্রেশ হয়ে নে,,,

জরিনা খাবার রেডি করুক ততক্ষনে,,,

জরিনা হচ্ছে কাজের বুয়া ।

আমরা সবাই রুমে গেলাম আর ফ্রেশ
হলাম ।
আমার রুমটা দোতলায় ।তানজিলার
পাশের রুমে,,,

ফ্রেশ হয়ে নিচে গেলাম,,,

সবাই আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল,,

আমরা সবাই একসাথে খেলাম,,,
খাওয়ার পর সবাই মিলে ছাদে গেলাম

৪ জন মিলে ভালই মজা হচ্ছে ।

একটুপর আমি আমার রুমে চলে এলাম ।
এসে শুয়ে শুয়ে গেম খেলছি,,,

হঠাৎ আমার রুমে তানজিলা এলো,,,

তানজিলাঃ কি করছো ?

আমিঃ গেম খেলছি ।

তানজিলাঃ কি গেম ?

আমিঃ পাবজি

তানজিলাঃ তোমাকে একটা কথা বলবো ?

আমিঃ বলো ।

তানজিলাঃ কথাটা রাখবে তো ?

আমিঃ রাখতে পারার মত হলে রাখবো,,,

তানজিলাঃ আমাকে এই গেমটা খেলা
শিখাবে ? আমার অনেক শেখার ইচ্ছা কিন্তু শেখানোর মানুষ নাই,,,

আমিঃ হুম অবশ্যই । এর জন্য এত ভনিতা করার কি আছে,,,

আমি তানজিলাকে গেমের ব্যাপারে
সবকিছু বলে দিলাম ।ও খুব তাড়াতাড়ি
শিখে গেল,,,

গেম খেলার পর ওর আবার গল্প করার ইচ্ছা হলো,,

লাগলাম কথা বলতে ।
কথা বলতে বলতে রাত ১ টা বেজে গেছে,,,

আমার তো ঘুম বুলেট ট্রেনের মতো আসছে,,,
কিন্তু ওর সেদিকে খেয়াল নেই,,

আমিঃ রাত তো অনেক হলো ঘুমাবে কখন ?

তানজিলাঃ মাত্র ১ টা বাজছে ।আমি তো
রাত ৩ টায় ঘুম যায়,,,

ওর কথা শুনে তো আমি এখন অজ্ঞান হয়ে
যাব ।এমনিতেই ওর সাথে বকবক করতে
করতে মুখ ব্যাথা হয়ে গেছে ।
আর পারছি না আমি । কি যে করি ?

তানজিলাঃ তুমি কয়টার দিকে ঘুম যাও?

আমিঃ ১১ টায় ।

তানজিলাঃ এখন তো অনেক রাত হলো তাহলে
ঘুমাচ্ছো না কেন ?

লাও ঠ্যালা ওই তো আমাকে ঘুমাতে দিচ্ছে না,,,

আবার জিজ্ঞেস করছে কেন ঘুমাচ্ছি না,,,
সত্যি মেয়েদের মন বুঝা বড়ই কঠিন একটা কাজ,,,

আমিঃ এইত এখনি ঘুমাবো,,,

তানজিলাঃ ঘুমাও তাহলে,,,

ও তো উঠছেই না আমি ঘুমাব কেমন করে,,,

আমিঃ তুমি না গেলে কেমন করে
ঘুমাবো ?

তানজিলাঃ হ্যাঁ তাইতো তার থেকে ভাল
এক সাথেই ঘুমায় ।(ফাজলামি করে)

কথাটা সে ফাজলামি করে বললেও,,
এই কথাটা আমার মনে কয়েকদিন আগে ঘটে
যাওয়া কথা মনে করিয়ে দিল,,,

আমিঃ নাহ কোন মতেই না ।যাও চুপচাপ
ঘুমাও,,, রাগী সুরে,,,

তানজিলাঃ যাচ্ছি বাবা ।গুড নাইট ।

আমিঃ হুম গুড নাইট,,,

যাক রেডিওটা তাহলে গেল,,

এখন একটু ঘুমায়,,,
সকাল ৮:৩০ টায় আবার অফিস আছে,,,

অনেকক্ষন ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করছি
কিন্তু পারছি না,,,তানজিলার কথাটা শুনে আমার,,,রুহির কথা মনে পড়ে গেল,,

কিছুতেই ঘুম আসছে না,,,,

ব্যাগে আমার হেডফোন আছে,,,
ব্যাগথেকে হেডফোন বের করার সময়
রুহির ছবিতে নজর গেলো,,,
ভাবছিলাম ছবিটা নিব না,,,

এটা ভেবেই হেডফোন নিয়ে বিছানায়
চলে গেলাম,,,

কিন্তু না পারলাম না আমি,,,
তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে রুহির ছবিটা
বের করলাম,,,,
আর বিছানায় গিয়ে বসলাম,,,

2 দিন হয়েগেল রুহিকে দেখিনা,,,

ছবিটার দিকে একধ্যানে তাকিয়ে আছি,,,
কি সুন্দর হাসি ,মায়াবি মুখ,,, আরো
কতকিছু আছে ।

সেসব বললে আর গল্প লেখা হবে না,,,
তাই কমের উপর দিয়ে চালিয়ে দিলাম,,

ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে
নিজের অনিচ্ছায় আমার চোখ থেকে
কয়েকফোটা অশ্রু ঝরে পড়লো,,,

আমি এখন বুঝতে পারছি না ,
সে কি আমাকে সত্যি ভালোবাসতো ?
নাকি পছন্দ করতো ?
নাকি কোনটায় করতো না ?

কেউ কাউকে ভালোবাসলে এভাবে ভুল
বুঝে না,,,,

মানছি আমার দোষ ছিল ,তবে সেখানে
তারও দোষ কম ছিল না ।

এইসব ভাবতে ভাবতেই কোনমতে ঘুম গেলাম,,,

সকালবেলা,,,,

তানজিলাঃ এই উঠো আর কত ঘুমাবে ?

আমিঃ উমমমম

তানজিলাঃ অফিসে যাবে না ?

আমিঃ হুম তুমি যাও আমি ফ্রেশ হয়ে
আসছি,,,

তানজিলা চলে গেল,,,
আমি ফ্রেশ হতে ঢুকলাম ।
রাতে ঠিকমত ঘুমাতে দিল না আর এখন
এত সকালবেলা ঘুম থেকে উঠাচ্ছে,,,

ও তো আমার পরেই ঘুমায় তাহলে এত
সকালে উঠে কেমন করে ?

হয়ত অভ্যেস হয়ে গেছে,,,

আমি ফ্রেশ হয়ে রেডি হলাম ।
ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি অফিসের শুরু হতে
এখনো ১ ঘন্টা বাকি রয়েছে,,,,

আর একটু ঘুমাতে দিলে কি এমন হতো ?

নিচে গেলাম,,,

সবাই মিলে খাওয়া দাওয়া করলাম ।
এখানে আম্মুর কথা খুব মনে পড়ে গেল ।
কত আদরে যত্নেই না বড় হয়েছি ।
এক কথায় যাকে বলে রাজকুমারের মতো,,,

কিন্তু এখানে রাখাল ও ধরা যাবে না কারণ
যদিও এখানে ভালোই আছি,,,

তবে প্রিয় মানুষগুলোর সাথে থাকলে
হয়তো আরো ভালো থাকতাম,,,

অফিসে গেলাম,,,
সবাই নিজ নিজ জায়গায় কাজ করছে,,,
আমি টুকিটাকি কাজ করে বসে আছি,,,

কোন কাজ নেই ধরতে গেলে,,,

অন্যদিকে প্রিয়া আর রানা তাদের প্রেমালাপ একদম রকেটের গতিতে চালাচ্ছে,,,

তানজিলা আমাকে ডেকে পাঠালো,,,

আমি ওর রুমে গেলাম,,,

আমি : ডেকেছো আমাকে,,

তানজিলাঃ যাও গিয়ে আমাকে পাবজি
গেমে ইনভাইট করো ।

আমিঃ অফিস টাইমে গেম খেললে তো এত
বড় নামকরা অফিস ডুবতে বেশি সময়
লাগবে না,,,

তানজিলাঃ তোমাকে এত ভাবতে হবে না,,,
যা বলছি তাই করো,,,

আমিও গেলাম আর তার কথা মতো তার
সাথে খেলতে লাগলাম,,

খেলা শেষে একটু হাটতে বের হলাম,,,
আআ কি ব্যাথ্যাই না করছে মাজাটা ।
বসে থেকে থেকে মাজাই ব্যাথা হয়ে গেছে,,,

লাঞ্চ টাইমের সময় হয়ে গেল,,,

প্রিয়া ডেকেছিল তবে আমি তাদের আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি,,,,

কেন্টিনের দিকে যাচ্ছিলাম আর ঠিক সে সময় একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খায়,,,

ওর নাম মেরিন ।এই অফিসেই চাকরি করে,,,

আমিঃ সরি ,,,

মেরিনঃ ইটস ওকে ।

আমাদের দেশে হলে ত এতক্ষন কয়েকটা চড় খাওয়া হয়ে যেত,,,,

কেন্টিনে গেলাম,,,
মেরিন আমার সাথেই আছে । আমরা অনেক কথা বললাম,,,
ওর সাথে ভালই বন্ধুত্ব হলো,,,
আমার কেবিনের সামনেই তার ডেক্স ।

নিয়ম মাফিক যা হয় তাই হলো অফিস থেকে বাসায় ,বাসায় থেকে অফিস,,,,

যাইহোক এভাবে আমার জীবন চলতে থাকলো,,,

চলতে চলতে ৫ বছর পার হয়ে গেল,,,

এই ৫ বছরে তানজিলার সাথে আমার ভালই বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে,,,,

রানা আর প্রিয়া ৩ বছর আগে বিয়ে করেছে আর এখন তাদের ফুটফুটে একটা ছেলে সন্তান রয়েছে,,,,

কেবিনে বসে কাজ করছি আর তখনি তানজিলা আমাকে ডেকে পাঠালো,,,

গিয়ে শুনলাম আজ আমাদের আর্জেন্ট বাংলাদেশে যেতে হবে,,,
কারণ সেখানে যেতে ২ দিন সময় লাগবে,,,

কোনো এক কম্পানির সাথে নাকি ডিল রয়েছে,,,

আমরা ৫ জন তাড়াতাড়ি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,,,,

বাংলাদেশে পৌছে আমরা সোজা মিটিং রুমে ঢুকলাম,,,

আর দেখলাম যে,,,,,,

চলবে......

(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
184 Views
7 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(3)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (2)

Reader photo
সাজিদ
10-May-2024, 02:36 AM

পরবর্তী পার্ট প্লিজ

Reader photo
Shafiqul Islam
09-May-2024, 10:03 PM

দুই তিন পার্ট একসাথে দিবেন তাহলে পড়তে ভালো হবে

সকল পর্ব