সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ (পাঠ ১৫)

পলাশ
পলাশ
লেখক
(১৪তম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,

প্রিয়া এবং রানা আমাকে একটি প্রস্তাব দিল,,,,

তাদের কথাতে আমিও রাজি হয়ে গেলাম,,,,

তাছাড়া কোনো উপায় নেই,,
কারণ এত অবহেলা আমি নিতে পারছিনা,,,

কথাগুলো ছিল....

প্রিয়াঃ হুম বল

আমিঃ রানা তোর সাথে আছে ?

প্রিয়াঃ হ্যাঁ ।তবে তোর কন্ঠ এমন
শুনাচ্ছে কেন ?

আমি প্রিয়াকে সবকিছু বললাম ।
আজকে যা ঘটেছিল,,,

প্রিয়াঃ তুই এক কাজ কর,,,

আমিঃ কি কাজ ?

প্রিয়াঃ আমরা ভাবছি আমরা কিছুদিনের জন্য আমেরিকায় ঘুরতে যাব,,, তুইও আমাদের সাথে কিছুদিনের জন্য আমেরিকা চলে আয়,,,আর তোর সাথে যে রকম ঘটনাগুলো ঘটছে এতে তুই ডিপ্রেশনে চলে যেতে পারিস,,, আর আমরা চাইনা তোর কোন ক্ষতি হোক,,,তুই প্লিজ না করিস না,

আমিঃ আচ্ছা কিন্তু ওখানে আমি গিয়ে কি করবো ?

প্রিয়াঃ ওখানে আমার মামাতো বোনের
অফিস রয়েছে,,,তুই চাইলে সেখানে
চাকরি করতে পারিস,,,

আমিঃ হুম ঠিক আছে,,,

প্রিয়াঃ তুই একটু অপেক্ষা কর,,,আমি
তার সাথে কথা বলে নিই,,,

আমিঃ আচ্ছা,,

কি আর করবো ?এত অবহেলা আর সহ্য
করতে পারছি না ।অবহেলা করতো তাও
ঠিক আছে ।তবে আমার কারণে আজকে
আমার বাবা মা কে নিয়ে গাল শুনতে
হচ্ছে,,,

হয়তো বা আমার বাচ্চাটাকেও
সে আমার মতই ঘৃনা করবে,,,
তাই আমি চাচ্ছিনা যে আমার কারণে কেউ কষ্ট পাক,,,

তাই থাকবো না আর এখানে,,,

দোষ যতটা আমার রয়েছে ঠিক ততটাই দোষ তার রয়েছে,,,

সেদিন যদি সে আমাকে আজকের মতো আটকাতো
তাহলে তো আর এতকিছু হতো না,,,

প্রিয়া ফোন দিয়েছে,,,

আমিঃ কি বললো ?

প্রিয়াঃ কাল রাত ১০ টায় ফ্লাইট,, রেডি থাকিস,

আমিঃ থ্যাংকস,,,

আমি আর কিছু না বলে ফোন কেটে দিলাম,,,

কষ্ট লাগছে অনেক কষ্ট,,,
কি যে করি কিছুই মাথায় আসছে না,,,

ছবিতে দেখেছি সিগারেট খেলে নাকি
কষ্ট কমে ।দেখি একবার ট্রাই করে,,,,

সোজা দোকানে গিয়ে ২ প্যাকেট
বেনসন নিয়ে এলাম,,,

একটা সিগারেট হাতে নিলাম,,,
ছাদের মাঝখানে বসে আছি,,,
একদম রোদ আমার গায়ে এসে পড়ছে,,,

গরম লাগছে প্রচুর,,,তবে এখন আর
এ গরম কিছুই মনে হচ্ছে না,,,
সিগারেট টা ধরালাম,,,

সিগারেট ধরাতে একটা কথা মনে পড়ে গেল,,,
ক্লাস ১০ এ থাকতে একবার সিগারেট খাচ্ছিলাম,,,
সেই সময় রুহি দেখে ফেলে ।

আর সেদিন সে
কি কান্না করেছিল বলে বুঝাতে পারবো
না,,,আর আমাকে দিয়ে বলিয়ে নিয়েছিল
যেন আর সিগারেট না খাই,,,
তারপর থেকে আর সিগারেটে হাত দিই নি,,,
কিন্তু আজ তা করতে হচ্ছে,,,

ওর জন্যই ছেড়েছিলাম আজ আবার,,,
আজ ওর জন্যই কাছে টেনে নিলাম,,

কি আর করার,,,এটাই নিয়তি,,,

আমি বসে বসে সিগারেট খাচ্ছি আর
ঠিক সে সময় রুহি ছাদে এলো কাপড়
মেলে দিতে,,,

রুহি আমার হাতে সিগারেট দেখেও
কিছু বললো না,,,
যে মেয়ে আমার হাতে সিগারেট দেখেও কেদে দিত আজ সেই মেয়ে আমাকে সিগারেট খেতে দেখেও
কিছু বললো না,,,
উফফ কার কাছে আশা করছি আমি,,,
যে কি না এখন আমাকে দু চোখে সহ্য
করতে পারে না,,,
দুপুরে না খেয়ে শুধু সিগারেট টানতে থাকলাম,,,
বিকেলবেলা চোখটা একটু লেগে এলো,,,
তাই ছাদেই শুয়ে পড়লাম,,,
ঘুম ভাঙ্গলো ফোনের রিংটোনের শব্দে,,,,

রানা ফোন দিয়েছে,,,,

আমিঃ কিছু বলবি ?

রানাঃ সবকিছু প্যাক করেছিস কি না
তাই জানতে কল দিলাম ।

আমিঃ না ।কাল সকালে করে নিব ।

রানাঃ ঠিক আছে ।ভালো থাক,,,

রানা তো বলে দিল ভালো থাকতে,,,
কিন্তু চাইলেই কি আর ভালো থাকা
যায় ?এখন রাত ১০ টা বাজে ।
সাইডে তাকিয়ে দেখি আরো ১ প্যাকেট
সিগারেট রয়েছে ।

কি আর করবো ?
আমি নিচে গিয়ে আমার প্রয়োজনীয় সব
জিনিসপত্র গুছিয়ে নিলাম,,,
সাথে রুহির কয়েকটা ছবি,,,
মনে পড়লে না হয় এক পলক ছবি গুলোই দেখব,,,

রুহি রুমেই শুয়ে আছে,,,

ঘুমিয়েছে কি না তা আমি ঠিক ভাবে বলতে পারবো না,,,
আমি আবার ছাদে গেলাম ।
শুরু করে দিলাম সিগারেট খাওয়া ।
সারারাত সিগারেট খেলাম তারপরেও
কষ্টটা এক ফোটাও কমলো না,,,

মনের জ্বালা কি আর এই সিগারেট
মিটাতে পারে ?

অনেক সিগারেট খাওয়ার ফলে শরীর
থেকে বাজে গন্ধ আসছে ।

আমি তাড়াতাড়ি নিচে গিয়ে ভালো করে সাবান শ্যাম্পু মেখে গোসল করলাম,,,
ব্রাশ করার পরেও মুখ থেকে হালকা সিগারেটের গন্ধ বের হচ্ছিল ।

তাই মাউথওয়াশ দিয়ে ভালো করে কুলি করলাম,,,

২ দিন আগেই সেভ করেছি,,,
তাই আর সেভ করলাম না,,,

হাজার হলেও আমেরিকা যাব,,,
ভালোভাবে না গেলে কি আর হয় ?

রুহি এখনো ঘুমিয়ে আছে । আমি সম্পূর্ন রেডি
হয়ে গেছি ।বের হবার আগে রুহির কপালে ছোট করে একটা ভালোবাসার স্পর্শ করে দিলাম,,,

নিচে নেমেই আম্মুর সাথে দেখা,,,

আম্মুঃ এই রকম সাজুগুজু আর ব্যাগ নিয়ে
কোথাই যাচ্ছিস ?

আমিঃ এখন তো আমি বিয়ে করেছি ।চাকরি
না করলে কি দিয়ে হবে ।তাই চাকরি
করতে যাচ্ছি,,,

আম্মুঃ নিজেদের কোম্পানি থাকতে
অন্যের জায়গায় চাকরি করার কি
দরকার ?

আমি একবার আম্মুকে জড়িয়ে ধরলাম,,,

আমার চোখে পানি চলে এসেছে,,,
যে যায়গায় যাচ্ছি জানিনা আর কবে
এখানে আসা হবে,,,,

আমিঃ আম্মু আমি যদি কোন ভুল করে থাকি
তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিও,,,

এই বলে আমি বাসা থেকে চলে এলাম ।
আম্মু অনেক অবাক হয়েছে,,,,

কারণ যে ছেলে কোনদিন নিজের দোষ স্বীকার
করে না আজ সেই ছেলেই ক্ষমা চাচ্ছে,,,

আমি রানাকে কল দিলাম,,,

আমিঃ কই তুই ?

রানাঃ দাড়া আসছি ।

আমি একটু দাড়িয়ে থাকলাম,,

একটা গাড়ি এসে দাড়াল,,

গাড়িতে প্রিয়া আর রানা ২ জনেই ছিল,,,
আমরা এয়ারপোর্ট পৌঁছোলাম,,,,

প্লেনে উঠে অপেক্ষা করতে লাগলাম,,,
আর মাত্র 5 মিনিট পর প্লেনে উঠে যাবে আকাশে,,,

চলে যাব বহুদূরে,,, একথা ভেবে চোখ থেকে দু'ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল,,

চলে এলাম আমেরিকা,,,

আজ কে রেস্ট নিলাম । কাল নাকি অফিসে জয়েন করতে হবে,,,

সকালবেলা রেডি হয়ে অফিসে গেলাম ৩ জনে ।

ব্যাপারটা অন্যরকম লাগলো আমার কাছে ।
কারণ আমি বসের সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ হলাম আর ওরা দুজন সাধারণ কর্মচারি হিসেবে,,

যাই হোক বসের কাছে যাই,,,

আমিঃ মে আই কাম ইন স্যার ?

মেয়েলি কন্ঠেঃ ইয়েস কাম ইন,,,

ম্যাডাম কে দেখে তো আমি অবাক ।

কারণ ম্যাডাম টা ছিল,,,,

চলবে......

(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,, ধন্যবাদ )

(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
157 Views
6 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(2)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই

সকল পর্ব