(১২তম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,
রাতে বাসরঘরে ঢুকলাম,,,
আমি জানতাম বউ বরকে সালাম করে।
কিন্তু ও তো নড়াচড়াও করছে না,,,
হয়তো জানে না,,,
আমি রুহির পাশে গিয়ে বসলাম ।
ওর ঘোমটা সরাতেই,,,
ঠাসসসস,,,,
(আচমকা এমন কিছু হবে আমি ভাবতেও পারিনি)
রুহিঃ কি জন্য বিয়ে করলি ?
যা করার তা তো আগেই করে নিয়েছিস,,,
আমিঃ এমনি দিন মারতা ভালো কথা তাই
বলে বাসর রাতেও মারতে ছাড়বে না ?
রুহিঃ বেশি কথা বলিস না আর ভুল
করেও আমাকে ছুবি না,,,
আমিঃ ঠিক আছে,,,
আমি বিছানায় শুতে গেলে রুহি বলে উঠলো,,,
রুহিঃ বিছানায় কেন উঠছিস ?
আমিঃ ঘুমাবো তাই ।
রুহিঃ কিহহ,,,তুই আর আমি এক বিছানায় শুবো ?
আমিঃ হ্যাঁ তাতে সমস্যা কি ?এখন তো
আমরা বিবাহিত,,,
রুহিঃ চুপ আর ভুল করেও একটা কথা বলবি না,,,
তুই যদি বিছানায় ঘুমাস তাহলে আমি ফ্লোরে ঘুমাবো,,
আমিঃ না থাক । তুমি উপরে ঘুমাও আমিই
নিচে ঘুমাচ্ছি,,,
আমি নিচে ঘুমাতে রাজি হলাম কারন এখন
সে অন্তঃসত্বা,,যদিও বা আমি কোনদিন নিচে
শুয়ে থাকিনি,,,
তারপরেও বিছানা থেকে একটা বালিশ আর কাথা নিয়ে নিচে শুয়ে পরলাম,,,
কাথাটা ফ্লোরে রেখে শুয়েছি,,
তারপরেও পিঠে ব্যাথা করছে,,,,
আমার নরম বিছানায় শুয়ে অভ্যাস ।
যাই হোক অনেক কষ্ট করে ঘুম এলাম ।
সকালবেলা রুহি আমাকে ধাক্কা দিতে
দিতে ঘুম থেকে উঠালো,,,
রুহিঃ এই উঠ,,,
আমিঃ উমমম মা আরেকটু ঘুমাতে দাও,,,
রুহিঃ এই আমি তোর মা নই,,,
ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি উঠ না হলে তোর উপর পানি
ঢেলে দিব,,,আর তাতেও কাজ না হলে
তোর মোবাইলটা ভেঙ্গে ফেলে দিব,,,
আমি তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেলাম,,,
আমার যাই হোক মোবাইলটা ঠিক থাকলেই হলো,,,
আমিঃ কি হয়েছে এতো চেচাচ্ছো কেন ?
রুহিঃ খালা তোকে নিচে খেতে ডেকেছে,,,
আমিঃ তুমি যাও আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি ।
রুহি চলে গেল । এবার আমি ফ্রেশ হয়ে
নিচে গেলাম,,
আমিঃ কই খাবার দাও ।
আজব তো,,,রুহি আমাকে খাবার দিল
ঠিকি কিন্তু আমার সাথে একটাও কথা
বললো না । এখনো রেগে আছে হয়তো,,,
আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে,,
খাবার খেয়ে উপরে গেলাম । এখন একটু
বাইরে যাব ।রেডি হলাম ।কিন্তু আমি
আমার ফোনটা খুজে পাচ্ছি না,,,
নিচে গিয়ে আম্মুকে জিগ্যেস করলাম,,
কিন্তু আম্মু শুধু জানিনা বলে থেকে গেল,,,
বুঝলাম আমার সাথে কথা বলার মুড নেই,,
তাই উপরে চলে এলাম,,,
রুমে ঢুকে দেখি রুহি আধশোয়া হয়ে আছে আর উপরে তাকিয়ে রয়েছে,, হয়ত কিছু ভাবছে ।
রুহিকে জিজ্ঞেস করে দেখি ।
আমিঃ রুহি আমার ফোনটা খুজে পাচ্ছি
না একটু খুজে দিবে প্লিজ,,
রুহি শুধু একবার আমার দিকে তাকালো
আর তারপর আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে
নিল ।
আমিঃ এএ.......(রুহি থামিয়ে দিল)
রুহিঃ চুপ ।আমার সাথে কথা বলার
চেষ্টাও করবি না,,,বুঝেছিস,,,
যা খুশি তা করে বেরা,,
আমিও আর কিছু বললাম না ।বুঝতেই
পারছি সবার এখন অনিহা জন্মে গেছে
আমার উপর,,,
কি আর করবো,,,
অনেক কষ্টে ফোনটা খুজে বের করলাম,,
বাইরে থেকেই ঘুরে আসি,,,বাসায় ত আর
কিছু নেই,,,
আম্মু আছে তো কথা বলছে না ।
আর একখান বউ পেলাম তো সে এখন
অবহেলা করতে ব্যাস্ত,,,
এখন আর কারো কাছে আমার দাম নেই ।
নাহ আছে তো,,রানার কাছে ।
ও আমার সাথে সবসময় থেকেছে,,
তাকে ফোন করে চায়ের দোকানে
ডাকলাম ।
ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছে যে আমি
বিবাহিত ।সবাই জিজ্ঞেস করছে,,,
কেউ কেউ তো আবার বাসররাতের কথাও
জিজ্ঞেস করছে,,
আমি হ্যাঁ হু করে চলে এলাম ।
চায়ের দোকানে বসলাম,,
একটুপর রানা এলো । তার সাথে কথা
বলে বাড়িতে চলে আসলাম । বাসায় এসে
গোসল করে শুয়ে পড়লাম । শরীরটা ভালো
লাগছে না ।বিকেলবেলা ঘুম থেকে উঠে
ফ্রেশ হতে গেলাম,,,,
ফ্রেশ হয়ে ঘরে ঢুকেই দেখি নতুন সোফা,,,
হয়তো ঘুমের কারনে খেয়াল করি নি,,
আমি নিচে গিয়ে খেতে চাইলাম,,
আবারো একিই কেস,,,
খাবার দিল কিন্তু কথা বললো না,,,
আমাকে মারলেও হয়তো এতো কষ্ট পেতাম না,,,
যতটা সবার অবহেলাতে পাচ্ছি,,,
রাতের বেলা আমি বিছানায় বসে ফোন
টিপছি আর রুহি ঘরে এলো,,,
সে আয়নার সামনে বসে চুল আচড়াচ্ছে
আমি পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরার
লোভ সামলাতে পারলাম না,,,
রুহি এখন দাঁড়িয়ে আছে,,,
হয়তো চুল আচড়ানোর কাজ শেষের পথে,,,
আমি তাড়াতাড়ি রুহির পিছনে গেলাম,,,
আর তাকে জড়িয়ে ধরে তার চুলে আমার
মুখ ডুবিয়ে তার চুলের ঘ্রান নিতে
লাগলাম,,,
আর বললাম,,, আমার উপর তুমি কেন এত রেগে আছো,,, সবকিছু কি ঠিক করে নেওয়া যায় না,,,,,
একটুপর রুহি আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে,,,
গালে কোষে একটা চড় দিল,,,
রুহিঃ বেয়াদব তোকে কতবার বলেছি
না আমাকে ছুবি না,,,
ছোয়া তো দূরের কথা আমি তোর মুখ দেখতে পছন্দ করি না
আমি রুহির এই কথায় অনেক ব্যাথিত
হলাম,,,আমি চুপচাপ গিয়ে সোফায় শুয়ে
পরলাম । নিজের অজান্তেই চোখ থেকে দু
ফোটা নোনাজল বের হয়ে এলো,,,
এসব কথা শুনতে এমনিতেই কষ্ট লাগে,,,
তার উপর যদি প্রিয় মানুষটির মুখ থেকে
এসব কথা শুনতে হয়,,,
তাহলে তো কথাই নেই,,,
জানালা দিয়ে দেখলাম,,,
আকাশের চাঁদটা কালো মেঘের আড়ালে
লুকিয়ে পড়ছে,,,হয়তো এখনি বৃষ্টি
নামবে ।যা ভেবেছিলাম তাই হলো,,,
অনেক জোরে জোরে বৃষ্টি হতে লাগল,,,
আমি বৃষ্টিতে কাঁথা ছাড়া ঘুমাতে পারি না সে যত
গরম ই হোক না কেন,,,
আজ কিছুতেই ঘুম আসছে না,,,
কোনো ভাবে জড়ো সড়ো হয়ে ঘুমাতে চেষ্টা করলাম
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তো আমি,,,
অবাক না হয়ে পারলাম না,,,,
কারন,,,আমি দেখলাম,,,
চলবে......
(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ(পাঠ ১৩)
179
Views
9
Likes
1
Comments
4.8
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (1)
এই গল্প টা দারুন