সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ(পাঠ ১১)

পলাশ
পলাশ
লেখক
(১০ম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে রুহি দেখে সে আমার বুকে শুয়ে আছে,,কিন্তু তার একটু পরেই রাতের কথা মনে পড়ে গেল তার,,,

রুহির এখন মনে হচ্ছে কেন এমনটা করলো সে??

রুহি এটা করতে চায় নি,,,
তবুও আগুন আর ঘি পাশাপাশি থাকলে যা হয়।

রুহির চোখে পানি জমতে শুরু করে দিয়েছে,,,
রুহির কান্নার বেগ বাড়তেই থাকলো,,,

তার কান্নার আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।

আমিঃ কি হয়েছে? সকালে কাদছো কেন????

রুহিঃ কান্না করছে।

আমিঃ তাকাও আমার দিকে আর বলো কি হয়েছে? (রুহির কাধে হাত দিয়ে)

রুহির এখন রাগ উঠছে পলাশের উপর। ওর মনে হচ্ছে যা কিছু হলো সব আমারই জন্য।

রুহিঃ হাত সরা তুই। (ঝাঁঝালো কন্ঠে)

আমিঃ কেন? কি হয়েছে সেটা তো বলো।

রুহিঃ আমি তোকে হাত সরাতে বলেছি।

আমিঃ আচ্ছা সরালাম। এবার তো বলো কি হয়েছে তোমার?

রুহিঃ ঠাসসসসসসসসসসসসসসসস। কু**ত্তা তোর কারনেই তো সব হয়েছে। এখন আবার নাটক করছিস কেন?

আমিঃ আমি আবার কি করলাম? গালি দিচ্ছো আর মারছো কেন????

রুহিঃ সাধু সাজছিস কেন হ্যাঁ? রাতে কি করলি তুই????

আমিঃ না মানে ওটা ভুলে হয়ে গেছে।

রুহিঃ ভুল! বাহ কত সহজে বলে দিলি এটা একটা ভুল। এখন আমার কি হবে হ্যাঁ????

আমিঃ কেন তুমি আমায় ভালোবাস না????

রুহিঃ ভালোবাসলে কি হবে????

আমিঃ আমি তো তোমাকেই বিয়ে করবো। এত টেনশন কেন নিচ্ছো??

রুহি যেন রাগে ফেটে যাচ্ছে। সে আর পলাশকে সহ্য করতে পারছে না।

রুহিঃ তুই আমার সাথে কোনো কথা বলবি না। দুর হ চোখের সামনে থেকে,,

রুহি খুব ঝাঁজালো কন্ঠে বলল আমায়,,, আমিও চলে এলাম খালার বাসা থেকে,,এখন আমি ওখানে থাকলে রাগের মাথায় কিনা কি করে ফেলে,,

এখন আমারো রাগ হচ্ছে। সব দোষ নাকি আমার,,,,
সে তো আমাকে আটকাতে পারতো। আমি বাসায় এসে শুয়ে পরলাম,,,

অন্যদিকে রুহি এখন প্রচন্ড ভেঙ্গে পরেছে,,,,

ও কি যে করলো তা সে নিজেও বুঝতে পারছে না। রুহি বাথরুমে ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে শুয়ে পরলো। রুহির এখন পলাশের ওপর ঘৃণা হচ্ছে ।
ছি ছি শেষ পর্যন্ত আমাদের ভালোবাসাটাও এসবে পরিনত হলো,,, সেটা ভাবতেই রুহির ঘৃনা বাড়ছে,,,

আমি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হলাম। নিচে গিয়ে,,,

আমিঃ আম্মু খেতে দাও।

আম্মুঃ আচ্ছা দিচ্ছি।

আমি টেবিলে বসে রইলাম,,,

আম্মু খাবার দিল।

আমি খেয়ে দেয়ে উপরে চলে এলাম।


আজ প্রায় ১ মাস হয়ে গেল রুহির সাথে কোনো কথা নেই,,,,

রুহির মুখটা পর্যন্ত দেখিনি।এই ১ মাস আমার কতটা কষ্টে কেটেছে সেটা শুধু আমিই জানি।

এই ১ মাসে আমি সব সময় ওর কথাই ভেবেছি,,, কিন্তু ওর সামনে দাঁড়াবার সাহস আমার হয়ে ওঠে নাই ,,,

এতদিনে রুহির প্রতি আমার ভালোবাসা দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ওকে ছাড়া যেন আমি আর থাকতে পারছি না,,,

রুহিদের বাসায় ,,,,

রুহির কোনো কিছুতেই মন বসে না,,,
ভালো মতো খাওয়া দাওয়া করে না,,,,

মোটকথা ওর জীবন এখন এলোমেলো হয়ে আছে।

খালাঃ কি হয়েছে রে মা তোর?

রুহিঃ কিছুনা।

খালাঃ তাহলে সবসময় অন্য মনস্ক থাকিস কেন?

রুহিঃ এমনি।

খালাঃ চল কিছু খাবি।

রুহিঃ না। ভালো লাগছে না,,,

অনেক জোরাজুরির পর রুহি খেতে রাজি হলো।

সে একটু খাবার মুখে দিতেই বমি চলে এলো,,,,

রুহি তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে গেল।

রুহির মা বেশ চিন্তিত।

যাই হোক রুহি অসুস্থ খবরটা আমার মা জেনে গেল।

আম্মুঃ চল তোর খালার বাসায়।

আমিঃ কেন?

আম্মুঃ রুহি নাকি অসুস্থ।

আম্মু আর আমি খালার বাসায় গেলাম। তখন ডাক্তার রুহির চেকআপ করছিলো।

ডাক্তারঃ আপনাদের জন্য একটা খুশির খবর আছে।

খালাঃ কি খবর ডাক্তার সাহেব?

ডাক্তারঃ আপনি নানি হতে যাচ্ছেন।

এইকথা শুনামাত্র সবার পায়ের তল থেকে মাটি সরে গেল,,,,

খালাঃ পলাশ তুই ডাক্তার বাবুকে নিচে ছেড়ে আয়।

আমি ডাক্তারকে ছেড়ে যখন উপরে আসছিলাম,,,

তখন শুনতে পেলাম,,,

ঠাসসসসসস।

কি হয়েছে তা দেখার জন্য
তাড়াতাড়ি উপরে গেলাম,,,

গিয়ে দেখি,,,

চলবে......

(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
226 Views
7 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(3)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (1)

Reader photo
Shafiqul Islam
06-May-2024, 08:15 PM

ভাই পরবর্তী অংশ তাড়াতাড়ি দেন

সকল পর্ব