সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ ( পাঠ ২০) শেষ পর্ব

পলাশ
পলাশ
লেখক
(১৯ তম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,,
শেষ পর্ব
সবকিছু আবছা দেখছি,,,
আবছা আলোয় দেখলাম যে,,,

রুহি আমার দিকে দৌড়ে আসছে,,,,
হয়তো দেখতে আসছে বেঁচে আছি নাকি
মরে গেছি,,,,

আমার চোখ বন্ধ হয়ে গেল।আর কিছুই
দেখতে পাচ্ছি না।নড়াচড়াও করতে
পারছি না।

কিন্তু আমি বুঝতে পারছি কে যেন আমার
মাথাটা তার কোলে নিয়ে আছে,,,,

এরপর আর কিছুই বুঝতে পারছি না,,,
এখন আমার ভিতরে আর কিছু অনুভবও করতে পারছি না,,,,

হয়তো এ যাত্রায় আর বাঁচতে পারবো না।
এখন আমার খুব কষ্ট হচ্ছে,,,,,

মনে হচ্ছে যদি আর একবার বাঁচার সুযোগ পাই তাহলে আর কোনদিন মরার নাম নিব না,,,

এখন হয়তো আমি আর মৃত্যুর একদম
সামনা সামনি রয়েছি,,,

সবাই আমাকে ধরাধরি করে কোথায় যেন
নিয়ে যাচ্ছে,,,,

আমি ভেবেছিলাম আর হয়তো বাঁচতে
পারবো না,,

কিন্তু না,,,আল্লাহ তায়ালা আমার জীবন
ভিক্ষা দিল।

হঠাৎ আমার জ্ঞান ফিরে এলো,,,
আমি চোখ খুললাম,,,

চারিদিকে তাকিয়ে দেখলাম,,,,

মাথার উপরে একটা ফ্যান ঘুরছে।
বিছানার পাশে কয়েকটা মেশিন রয়েছে,,,

তারমানে এখন আমি হাসপাতালে আছি,,,

হঠাৎ কে যেন কেবিনে প্রবেশ করলো,,,,

তাকিয়ে দেখলাম আম্মু,,,,

আম্মুঃ বাবা তোর জ্ঞান ফিরেছে,,,

আমিঃ হুম।

আম্মুঃ দাড়া সবাইকে খবর দিই,,,

আম্মু সবাইকে খবর দিতে গেল,,,,

হঠাৎ কেবিনে ডাক্তার এলো,,,,

ডাক্তারঃ এখন কেমন লাগছে আপনার?

আমিঃ ভালো

ডাক্তারঃ মানতে হবে আপনার ভাগ্য
অনেক ভালো,,,

আমিঃ কেন ডক্টর ?

ডাক্তারঃ কারন আপনাকে যে সময় হসপিটালে আনা হয়েছিল আর আপনার যা অবস্থা হয়েছিল তাতে আপনার বাঁচা প্রায় অসম্ভব ছিল,,,,

আমিঃ সব আল্লাহর ইচ্ছা,,,

ডাক্তারঃ আচ্ছা আপনি রেষ্ট নিন
তাহলে,,,

ডাক্তার চলে গেল.....

একা একা শুয়ে আছি,,,,

শরীরে এখনো প্রচন্ড ব্যাথা করছে।
বিশেষ করে হাত আর পায়ে,,,

শরীর তো নড়াচড়া করতে পারছি না,,,

তাই ফ্যানের দিকে চুপচাপ তাকিয়ে আছি,,,,

আর ভাবছি হয়তো রুহির বিয়ে হয়ে গেছে,,,,
খুব সুখেই আছে হয়তো,,,
থাকবেইনা কেন?

কম পক্ষে আমার মত বিশ্বাসঘাতকের
সাথে তো নেই ,,,
আমার চিন্তা হচ্ছে রিদিকে নিয়ে,,,

কেমন আছে আমার মেয়েটা?

হয়তো সেও ভালো আছে।

ভালো থাকনা ভালবাসার মানুষ গুলো,,,,

একটুপর কেবিনে আমার আত্মীয় স্বজনের
ভীড় লেগে গেল,,,,

সবাই অনেক খুশি হয়েছে আমাকে বেঁচে
থাকতে দেখে,,,,
আমারো ভালো লাগছে সবার সাথে দেখা
করে,,,,

আস্তে আস্তে সবাই চলে গেল,,,

একটু পর রানা এলো,,,,,,

রানাঃ যাক এতদিন পর হাফ ছেড়ে বাঁচলাম তা কেমন আছিস দোস্ত?

আমিঃ দেখতেই তো পাচ্ছিস আছি কোন রকম,,
কিন্তু এতদিন মানে ??

রানাঃ তুই গত ১৭ দিন ধরে অজ্ঞান রয়েছিস,,,
কেন তুই জানিস না,,,,

আমিঃ ওমা বলিস কি এতদিন ধরে আমি সেন্সলেস রয়েছি,,,

রানার সাথে টুকিটাকি কথার ভিতরে জিজ্ঞেস করলাম,,,,

আমিঃ আচ্ছা রুহির বিয়ে হয়ে গেছে তাই না রে,,,,

রানাঃ রুহির বিয়ে হয়ে......

আমিঃ থাক আর বলতে হবে না,,,,
ও সুখে থাক এটাই আমি চাই,,,,

রানা আবার কি যেনো বলতে যাচ্ছিল আর
তখনি রুহি এলো,,,,

রুহি রানাকে একটু বাইরে যেতে বললো,,,,

আমিঃ না রানা তুই কোথাও যাবিনা,,,

রানাঃ এমনিতেও আমার একটু কাজ আছে,,, তোরা থাক আমি পরে আসছি,,,,

রানা চলে গেল,,,,

রুহি আমার কাছে এসে বসলো,,,,,

রুহিঃ এখন কেমন লাগছে তোমার?

আমিঃ....

রুহিঃ কি হয়েছে তোমার কথা বলছো না কেন?

আমিঃ কি করতে এখানে এসেছো?দেখতে এসেছ কিভাবে বেঁচে গেলাম?

রুহিঃ তুমি যা ভাবছো তা নয়।আমি সত্যি তোমায় অনেক ভালবাসি(জড়িয়ে ধরে)

আমিঃ ছাড় আমাকে।তোর লজ্জা করে না নিজের স্বামী রেখে অন্য পুরুষকে জড়িয়ে ধরে ভালবাসার কথা বলতে,,,,

এভাবে আরো অপমান করার পর রুহি কাঁদতে কাঁদতে কেবিনের বাইরে চলে গেল,,,

আমি কি ভুল করলাম?
নাহ ঠিকই করেছি।

একটুপরে রিদি আব্বু আব্বু করতে করতে কেবিনে এলো,,,

আর এসেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো,,,

রিদিঃ আব্বু এতদিন তুমি আমার সাথে কথা কেন বলনি?

আমি ভাবছি রিদি কেমন করে জানলো আমি ওর আব্বু,,,

যেভাবেই জানুক আমার মেয়ে আমাকে আব্বু বলে ডাকছে,,,

আমিঃ এইতো মামনি আজ থেকে রোজ কথা বলবো,,,,

আমার শরীরে ব্যাথা থাকলেও রিদিকে কেন যেন জড়িয়ে ধরতে সক্ষম হলাম,,,,

আজ আমার মেয়ে আমাকে প্রথম আব্বু বলে ডাকছে,,,,
খুশিতে চোখে পানি জমা হয়ে গেল,,

আমি শুয়ে আছি,,আর রিদি আমার বুকে শুয়ে আছে,,,,

রিদির সাথে নানা ব্যাপারে কথা বলছি,,

আমিঃ মামুনি তোমার নতুন আব্বু তোমায় কেমন ভালবাসে?

রিদিঃ নতুন আব্বু মানে? তুমিই তো আমার আব্বু,,,

আমিঃ তোমার আম্মু যাকে আবার বিয়ে করেছে সে হচ্ছে তোমার নতুন আব্বু,,,,,

রিদিঃ কিন্তু আম্মু তো কাউকে বিয়ে করে নি,,,

আমি তো ওর কথা শুনে অবাক......
রুহি বিয়ে করে নি?

রিদিঃ জানো আব্বু যখন থেকে তুমি অসুস্থ হয়েছ তখন থেকে রোজ দিনরাত আম্মু এখানে থাকতো,,,তোমার সেবা করতো।
একদিন আম্মুকে জিজ্ঞেস করি যে তুমি আংকেলটার এত সেবা কেন করছো,,,,
তখন আম্মু বলে যে তুমি আমার আব্বু,,,

তাহলে আমি কতবড় ভুল করে ফেললাম ছি,,,

আমার উচিত ছিল রানার পুরো কথা শুনার,,,
ধুর খামাখা রুহিকে এতগুলো কথা শুনিয়ে দিলাম,,

এখন কি রুহি আমাকে ক্ষমা করবে?

আমি হাসপাতালে আরো ৭ দিন থাকলাম।তারপর আমাকে রিলিজ দিলো,,,,

এই ৭ দিনে অনেকেই আমার সাথে দেখা করতে আসলেও রুহি আসেনি,,,,

আজকে বাসায় যাচ্ছি তাও রুহি আসেনি।

বাসায় পৌছলাম.....

আমাকে আমার ঘরে রাখা হলো,,,

আমি শুয়ে আছি আর ভাবছি রুহিকে তো কোথাও দেখলাম না,,,

হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিলেও আমি পুরপুরি সুস্থ হইনি,,,,

এভাবেই কয়েকদিন চলে গেল,,,

রাতের বেলা শুয়ে আছি আর তখনি রুহি ঘরে খাবার নিয়ে প্রবেশ করলো,,,

রুহিঃ সরি আমি আসতে চায় নি তবে আম্মু বিজি আছে তাই খাবার টা দিতে এলাম,,,,

আমিঃ আমার হাতে ব্যাথা।একটু খাইয়ে দিলে ভাল হতো,,,

রুহি কোন কথা না বলে হাত ধুয়ে এসে খাইয়ে দিতে লাগলো,,,
আজ অনেকদিন পর তৃপ্তি করে খাচ্ছি....

খাওয়া শেষে রুহি তাড়াতাড়ি চলে গেল।

কোন কাজ ছাড়া রুহি আমার সামনে আসে না।
তাই ভাবলাম যে করেই হোক রুহির রাগ ভাঙ্গাতে হবে,,,

আমার পুরপুরি সুস্থ হতে ২ মাস সময় লাগলো,,,

রাতে আমি আর রিদি খেলছিলাম তখন রিদিকে বললাম যাতে ওর আম্মুকে এখানে পাঠায় আর রিদিকে ওর দাদির কাছে যেতে বললাম,,,,

যা ভাবা তাই কাজ,,,,

রিদি রুহিকে এখানে পাঠালো,,,,,

রুহিঃ বলো কি বলবে?

আমি গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলাম,,,,,

রুহিঃ কি হলো দরজা কেন বন্ধ করছো,,,,

আমি ধিরে ধিরে রুহির দিকে এগিয়ে গেলাম আর ওকে জড়িয়ে ধরলাম,,,,

এবার থাপ্পর দেয়নি.........

আমিঃ কেন এমন করছো আমার সাথে।তুমি জানো না আমি তোমায় কতটা ভালবাসি,,,,,,

রুহি আমাকে জড়িয়ে ধরে কেদে দিল....

রুহিঃ আমিও তোমাকে বড্ড ভালবাসি। আমার ভুল হয়েছে তোমাকে না বিশ্বাস করে,,,,
আর আমি মানছি সে দিন আমারো দোষ ছিল,,, প্লিজ আমাকে আর দুরে সরিয়ে দিও না,,,,

আমিঃ আর কখনো এমন করব না,,,

রুহিঃ হুম,,,

আমিঃ আর কোন দিন ছেড়ে যাবে না তো,,,,,

রুহিঃ এ জিবন থাকতে না......

আমিঃ এই শোনোনা,,,,অনেকদিন থেকে তোমাকে আদর করিনি আজ করব,,,

রুহিঃ......(লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল)

তারপর,,,
আমি রুহিকে জড়িয়ে ধরে ৪ ঠোঁট এক করে দিলাম,,

আপনারা এখনও দাঁড়িয়ে আছেন??

লজ্জা লাগে না??
যান যান ভাগেন,,,

এখন লাইট অফ করে দিয়েছি আর কিচ্ছু দেখা যাচ্ছেনা,,,

কিছু তো লুকাতে দেন ।

______________💗সমাপ্ত💗_______________


163 Views
9 Likes
1 Comments
4.7 Rating
Rate this:
(3)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (1)

Reader photo
অচেনা এক ব্যক্তি
31-May-2024, 04:29 PM

শেষের লেখাটা সেরা ছিল।।।।

সকল পর্ব