(১৭তম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,,,
ভিতরে ঢুকে দেখলাম যে
আমার আব্বু রয়েছে সেখানে,,,,
আব্বু হয়তো আমাকে দেখতে পায় নি,,,
তাই আমি তানজিলাকে বললাম যে,,,
আমাকে এখনি বাথরুমে যেতে হবে ।
আমি সেখান থেকে চলে আসলাম,,,
খুব ক্লান্ত লাগছে তাই একটু মুখ হাত ধুতে ওয়াশরুমে ঢুকলাম ।
মুখ হাত ধোয়ার পর অফিসে হাটাহাটি
করছিলাম ।
ঠিক সে সময় আমার নজর গেল একটা
বাচ্চা মেয়ের উপর ।
দেখতে এত্ত কিউট কি আর বলবো ?
শান্ত হয়ে বসে আছে ।
সাধারনত এই বয়সের বাচ্চারা এরকম
হয়ে থাকে না ।
বাচ্চাটা চকলেট খাচ্ছে আর ৪ দিকে
তাকাচ্ছে,,,
আমি গিয়ে বাচ্চাটার পাশে বসলাম ।
আমিঃ হ্যাই কিউটি ।
বাচ্চাটাঃ আসসালামু আলাইকুম ।
আমি তো অবাক !
এই বয়স থেকেই সালাম দিতে শিখে
গেছে ।
আমিঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম ।
বাচ্চাটাঃ আপনি জানেন না কারো
সাথে কতা বলতে গেলে পথমে সালাম
দিতে হয়?
( বাচ্চা তাই তোতলা করে কথা বলছে )
আমিঃ সরি ভুল হয়ে গেছে ।
বাচ্চাটাঃ ঠিক আছে ।আম্মু বলেছে কেউ
যদি ক্ষমা চায় তাহলে তাকে ক্ষমা
কলে দিতে ।
আমিঃ তোমার নাম কি ?
বাচ্চাটাঃ রিদি,,,
আমিঃ হাউ সুইট নেম !এখানে কার সাথে
এসেছো ?
রিদিঃ আম্মুল ছাতে ।আপনি কাল ছাতে
এসেছেন ?
আমিঃ বন্ধুর সাথে ।
ওর চকলেট শেষ হয়ে গেছে ।
আমিঃ তুমি চকলেট খেতে কি খুব পছন্দ
করো ?
রিদিঃ হ্যাঁ ।আমাল চকলেট খেতে খুব
বালো লাগে ।
আমার কাছে কয়েকটা চকলেট ছিল
সেগুলো তাকে দিলাম ।
আমিঃ এই নাও তোমার চকলেট ।
রিদিঃ না নিব না ।
আমিঃ কেন নিবেনা ?
রিদিঃ আম্মু বারন কলেছে অপলিচিত
কালো কাছে কিছু না নিতে ।
আমিঃ কিন্তু এখন তো আমরা বন্ধু হয়ে
গেছি ।
রিদিঃ কিভাবে হলাম এখনো ত আপনার
নাম জানিনা ।
আমিঃ আমার নাম পলাশ । এবার চকলেট
নাও ।খেতে দারুন,,,
রিদিঃ আপনি ও চকলেট খান ?
আমিঃ হ্যাঁ প্রচুর চকলেট খাই ।
রিদিঃ ছত্যি ।
আমিঃ হ্যাঁ ।এবার নাও ।
রিদি আমার কাছ থেকে চকলেট নিল ।
আমি বাচ্চাটার সাথে অদ্ভুত মায়ায়
জড়িয়ে গেছি ।কি যে আছে এই বাচ্চা
মেয়েটার মধ্যে ।মনে হচ্ছে ওর সাথে
আমার কত দিনের সম্পর্ক ।কিন্তু আজকেই
বাচ্চাটাকে প্রথম দেখলাম,,,,
রিদির সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে
২ ঘন্টা পার হয়ে গেছে কিছু টেরই
পেলাম না ।
রিদি হয়ত ক্লান্ত হয়ে গেছে,,,
রিদিঃ আমি ঘুম যাব ।
আমিঃ আচ্ছা এসো ।তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে
দিই,,,,
রিদি এক কথায় রাজি হয়ে গেল,,,
রিদি আমার বুকে মাথা রাখলো,,,
আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি,,,
আজকে মনে হচ্ছে বুকটা একটু ভরা ভরা
লাগছে,,,
মনের মধ্যে এক অজানা ভালোলাগা কাজ করছে,,,
অফিসের সবাই আমাদের দিকে অবাক
চোখে তাকিয়ে আছে,,,
আমিঃ কি হয়েছে ?এভাবে তাকিয়ে
আছেন কেন ?
একজনঃ আসলে স্যার রিদি মামুনি বস আর
ওর আম্মু ছাড়া কারো কাছে যায় না ।
কথাও কম বলে ।কিন্তু আপনার সাথে
অনেক্ষন ধরে কথা বললো আর এখন ত
আপনার বুকে ঘুমাচ্ছে,,,
আমিঃ সে রকম কিছু না ।আপনারা কাজে
মনোযোগ দেন ।
একটুপর তানজিলা এলো,,,
তানজিলাঃ তুমি ঠিক আছো তো ?আর এই
বাচ্চাটা কে ?
আমিঃ হ্যাঁ ঠিক আছি ।বাচ্চাটা
অফিসের কারো হবে,,,
তানজিলাঃ এখন চলো যাই ।হোটেলে
গিয়ে রেস্ট নি,,,
আমি রিদিকে পিয়নের কাছে দিয়ে চলে
আসলাম,,,
হোটেলে গিয়ে সবাই ফ্রেশ হলাম ।
আমি একটু ঘুম এলাম,,,
অন্যদিকে,,,,
রুহিঃ কি হয়েছে আম্মু এখন কেন
ঘুমাচ্ছো ?
রিদিঃ ক্লান্ত লাগছিল তাই ।
রুহিঃ কি করেছো যে ক্লান্ত হয়ে
গেছ ?
রিদিঃ একজন আংকেলের সাথে অনেক্ষন
দলে কথা বলেছি ।জানো আম্মু আংকেল
টা খুব ভালো ।
রুহিঃ হুম।এখন বাসায় চলো ।বিকালে
তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাব,,,
আমার ঘুম ভাঙ্গলো,,,,
কিন্তু বুঝতে পারছি না এটা সকাল না
বিকাল । আমার প্রায় এমন হয় ।
ফোনটা হাতে নিয়ে বুঝতে পারলাম এটা
বিকাল,,,,
আমি ফ্রেশ হলাম,,,,
একটুপর সবাই একসাথে হলাম ।
সবার কথা আজ অনেকদিনপর দেশে
ফিরেছে তাই ঘুরতে যাবে,,,
সবাই মিলে ঘুরতে বের হলাম ।
অনেকক্ষণ ঘুরাঘুরির পর ভাবলাম,,,
একটু পার্কে যাই,,,
কিন্তু রানা এবং প্রিয়া নাকি একটু শপিং এ যাবে,,,,
কি আর করার আমরাই গেলাম,,,
সন্ধ্যার সময় আবার পার্কে বসে
থাকতে অনেক মজা লাগে,,,
পার্কে গিয়ে বসলাম,,,
একটুপর যখন চলে আসবো তখন কে যেন
পিছন থেকে আমার হাত ধরে টান দিল,,,
পিছনে ঘুরতেই দেখি এটা রিদি,,,
আমিঃ আরে কিউটি তুমি এখানে ।
রিদিঃ হ্যাঁ আম্মুল ছাতে ঘুলতে এসেছি ।
একটু পিছনেই তার আম্মু দাড়িয়ে ছিল ।
আমি পিছনে তাকাতেই আমি হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে রইলাম,,,,,
রিদির আম্মু আর কেউ না আমার রুহি,,,,
রুহিকে আজ এতদিন পর দেখবো সেটা
কখনো ভাবি নি,,,
আমিঃ রু রু রুহি তুমি এখানে ?
রুহি কোনো কথা বলছে না,,,
একদম পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে
আছে,,,
ওর চোখ দিয়ে পানি অঝরে বেয়েই
যাচ্ছে,,,
রুহিঃ কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনিই,,,,,
তানজিলাঃ কি হলো হোটেলে যেতে হবে
তো ।তাড়াতাড়ি চলো,,,,
কে জানি রুহি কি ভাবলো ।
আমার কাছে এসে,,,,
রুহিঃ বিয়ে করে নিয়েছো তাহলে ।আর
হ্যাঁ তোমার ছেলেটাও খুব সুন্দর,,
ভালো থেকো তুমি ।(কান্না ভেজা কন্ঠে)
এই কথা টুকু বলে রুহি রিদিকে কোলে
করে নিয়ে চলে গেল,,,,
তানজিলার কোলে তখন রানার ছেলে
আয়ান ছিল,,,
রুহি হয়তো ভেবেছে যে আমি বিয়ে করে নিয়েছি,,,
কিন্তু ও কি জানে ওকে ছাড়া আমি আর
কাউকে নিয়ে ভাবতে পারি না,,,,
আমার পুরো হৃদয় জুড়ে তার নাম লিখা
রয়েছে ।সেটা কি ও জানে ?
নাহ ও কিছুই জানে না ।
সারাজীবন শুধু আমাকে ভুল বুঝে গেল,,,,
শুধু মাত্র ভুল বোঝার কারণেই আজ আমার
জীবনটা উলট পালট হয়ে আছে,,,
আমাকে একবার জিজ্ঞেস করলে কি তার
খুব ক্ষতি হয়ে যেত ?
আর রিদি তাহলে আমারই সন্তান,,,,
তার কারনেই হয়তো ওর সাথে আমার মিল,,,
হোটেলে গিয়ে রাতের খাবার খেয়ে
শুয়ে পড়লাম,,,,
কাল সকালবেলা আমকে আমার বাসায় যেতে হবে,,,
যাব আর রুহিকে সবকিছু বলে দিব ।
এই ভেবে খুশি লাগছে,,,
কালকে সবার সাথে দেখা করতে পারবো ।
কাল সবাইকে সারপ্রাইজ দিয়ে দিতে
হবে,,,
সকালবেলা সব কাজ সেরে বেলা ৮ টার
দিকে আমার চিরচেনা বাসার দিকে
রওনা দিলাম,,,
বাসার সামনে পৌছলাম,,,,
ভেবেছিলাম সবাইকে স্রারপ্রাইজ দিব কিন্তু,,,,,
এখানে এসে তো আমি
নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম,,,,,,
চলবে......
(ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,,ধন্যবাদ )
(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ( পাঠ ১৮)
172
Views
7
Likes
2
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (2)
picchi bou porbo 12 chai
তাড়াতাড়ি পরবর্তী অংশ চাই ভাই