(১৩তম পর্বের পর থেকে),,,,,,,,,
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তো আমি,,,
অবাক না হয়ে পারলাম না,,,,
এটা অবাক হওয়ারই বিষয়,,,,
কারণ আমার শরীরের উপর কাথা ছিল,,
এ ঘরে তো আমি আর রুহি ছাড়া কেউ নেই,,,
রুহি তো আমাকে এখন সহ্যই করতে পারে না,,,
তাহলে আমার গায়ে কাথা দিবে কেন ?
দিয়েছে হয়তো দয়া করে ।
আমার উপর দয়া করেছে এতেই আমি খুশি,,,
যাক অন্তত একটু তো খেয়াল রেখেছে,,,
যদিও বা এটা খুব একটা না,,,তবুও এখন
আমি যে পরিস্থিতিতে আছি এটাই অনেক,,,
হয়তো এখন আস্তে আস্তে সবকিছু ঠিক হয়ে
যাবে,,,
আমি খুশি মনে বাথরুমে ফ্রেশ হতে ঢুকলাম,,,
এরপর নিচে খেতে গেলাম,,,
আমিঃ আম্মু খেতে দাও,,,,
রুহিঃ খালা বাসায় নেই ।আম্মুর
সাথে কোথাও গেছে,,,
আমিঃ তাহলে তুমি খেতে দাও,,,
রুহি আমার কথামত খাবার দিয়ে উপরে
চলে গেল,,,,
আজ এত খুশি লাগছে কি যে বলবো,,,
খাচ্ছি আর মনে মনে ডান্স মারছি,,,
খুশির চোটে খেতেও পারছি না,,,
একে তো আমার সেবা ,তার উপর ভালোভাবে কথা
বলা ।আহা কি আনন্দ,,,
আজ ট্রিট দিব রানা আর প্রিয়া কে,,,
খাবার খেয়েই উপরে গেলাম,,,
প্যান্ট শার্ট পরে রেডি হলাম,,,
এখন একটু পারফিউম লাগিয়ে নিই,,,
রুহি বিছানায় বসে আমার কান্ড দেখছে,,,,
দেখুক সমস্যা নাই,,,
কিন্তু এখানে তো কয়েকটা পারফিউম রয়েছে
এখন কোনটা মাখবো বুঝতে পারছি না,,,
রুহি আবার এসবে এক্সপার্ট,,,
তাকেই একবার জিগ্যেস করে দেখি,,,,
আমিঃ রুহি দেখোতো কোন পারফিউম
মাখবো ।
রুহিঃ এইটা,,,
আমিঃথ্যাংকিউ ।
যাক রুহির রাগ তাহলে একটু একটু করে কমছে,,,
আমি জুতাটা পরলাম ।
এত খুশি লাগছে কি আর বলবো,,,
খুশির ঠেলায় রুহির গালে একটা চুমা দিয়ে দিলাম
দৌড়,,,
বাইরে এসে রানাকে ফোন দিলাম,,,
রানাঃ কি খবর মামা ?
আমিঃ খবর গরম ।তাড়াতাড়ি রেডি হ
তোরে ট্রিট দিমু আজ,,,
রানাঃ সত্যি বলছিস তো ?
আমিঃ হুম ।
রানাঃ কোথায় আসবো ?
আমিঃ কলেজের পাশের রেস্টুরেন্টায় ।
রানাঃ ঠিক আছে ।
এবার প্রিয়াকে ফোন লাগায়,,,,
প্রিয়াঃ হুম বল ।
আমিঃ তাড়াতাড়ি রেডি হ ।
প্রিয়াঃ কেন ?
আমিঃ আজ তোরে ট্রিট দিমু ।
প্রিয়াঃ কেন ?
আমিঃ চুপ কর ।এত কেন কেন লাগাস
কেন ?
যা বলছি তা কর।আর কলেজের
পাশের রেস্টুরেন্টায় আয়,,,
প্রিয়াঃ ঠিক আছে,,,
যাক ২ জনরে ম্যানেজ করতে পেরেছি
তাহলে ।আমি এবার আমার বাইকটা
নিয়ে দিলাম দৌড়,,,
একেবারে রেস্টুরেন্টে এসে পৌছোলাম,,,
আমি ওদের জন্য বসে আছি,,,
এখানে আসার আরও একটা কারণ আছে,,,
কারণটা হলো প্রিয়া আর রানার মিল
করা,,,
আর কতদিন ওরা একা একা থাকবে?
রানা এলো,,
আমিঃ আয় বস,,,
রানাঃ হুম,,,
আমরা টুকিটাকি কথা বলছি আর প্রিয়া
এলো,,,
প্রিয়াকে দেখে রানার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো,,,
আমিঃ আয় বস,,,
প্রিয়াঃ আজ হঠাৎ ট্রিট দিতে চাইলি
কারনটা কি ?
এরপর আমি ওদের সবকিছু খুলে বললাম ।
রানাঃ হুম বস মানতে হবে তোকে ।
অবশেষে পূরন করলি সিনিয়ার বউ এর
সপ্ন ।
আমিঃ হুম । তবে এটাকে বলা যায়
সিনিয়র খালাত বউ,,,
প্রিয়াঃ হুমম ।
আমি খাবার অডার দিলাম,,,
সবাই মিলে অনেক আনন্দ হচ্ছে,,,
এত খুশির ঠেলায় আবার মরে না যাই,,,
খাবার শেষে আইসক্রিম অডার দিলাম,,,
রানা এখন হাত ধুতে গেল,,,,
প্রিয়াও যাচ্ছিল তবে আমি তাকে আটকালাম,,,
প্রিয়াঃ হুম বল কি বলবি ?
আমিঃ আসলে প্রিয়া কথাটা একটু
অন্যরকম ।কিছু মনে করিস না,,,
প্রিয়াঃ আচ্ছা,বল।
আমি তাকে রানার ব্যাপারে সবকিছু
খুলে বললাম,,
প্রিয়াঃ তো আমি কি করবো ?
আমিঃ আমি তোকে কিছু করতে বলছি না,,,
তবে ছেলেটা তোকে খুব ভালোবাসে রে,,
প্রিয়াঃ হা*দা*রা*মটা কি কিছুই বুঝে না
যে আমিও তাকে পছন্দ করি,,
আমিঃ সত্যি বলছিস ?
প্রিয়াঃ হুমম ।
আমিঃ থাক এখন আর লজ্জা পেতে হবে না,,,
হাত ধুতে চল ।
আমি আর প্রিয়া হাত ধুয়ে আসলাম ।
ততক্ষণে রানা হাত ধুয়ে চেয়ারে এসে বসে আছে,, আমি গিয়ে চেয়ারে বসলাম,,,আর প্রিয়া রানার পাশের চেয়ারে বসলো,,
আইসক্রিম চলে এসেছে,,
রানা মাথা নিচ দিকে করে আছে,আর আইসক্রিম খাচ্ছে । প্রিয়া কে ওর পাশের চেয়ারে বসা দেখে বেচারা লজ্জা পেয়ে এরকম করছে মনে হয়,,,
আমি প্রিয়াকে ইশারা করে একটু দুরে চলে আসলাম যাতে ওদের ডিস্টার্ব না হয়,,
প্রিয়াঃ কেমন আছিস ?
রানাঃ ভালো ।
প্রিয়াঃ তোর কি কিছু হয়েছে ?
রানাঃ না ।
প্রিয়াঃ তাহলে এরকম মন মরা হয়ে আছিস কেন?
রানাঃ এমনি ।
প্রিয়াঃ তাকা আমার দিকে ।(রানার গালে হাত দিয়ে )
রানাঃ কি করছিস ?এটা পাবলিক প্লেস,,,
প্রিয়াঃ তাতে কি হয়েছে ?তুই না আমায় ভালোবাসিস ?
রানাঃ ত,ত,তোকে কে বললো ?
প্রিয়াঃ আগে বল তুই আমাকে ভালোবাসিস কিনা ?
রানাঃ হুম বাসি ।
প্রিয়াঃ গা**ধা তাহলে এতদিন বলিস নি কেন ?
রানাঃ ভয় পেয়েছিলাম আর পরে তো তুই চলে গেলি ।
আমিঃ উহুম.. উহুম,,,, প্রেম বাদ দাও চলো কোথা থেকে ঘুরে আসি,,,
প্রিয়াঃ চল পার্কে যাই,,,
আমিঃ প্রেম শুরু হতে না হতেই পার্কে যাবা ?
প্রিয়াঃ ধুর ফাজলামি রাখ,,
আমিঃ আমি তোদের সাথে যেয়ে কি করবো?
প্রিয়াঃ কি করবি মানে?আমাদের প্রেম তো শুরু হলোই তোর কারণে,,,
রানাঃ কি তারমানে এইসব তুই বলেছিস ?
আমিঃ তোর তো আর এসবে সাহস নেই ।আচ্ছা চল পার্কে যাই,,,
বিল মিটিয়ে দিয়ে আমারা পার্কে গেলাম,,,
তারা দু জন প্রেমালাপ করছে আর আমি বসে বসে অন্যদের প্রেম দেখছি,,,
এসব দেখে আমার রুহির কথা মনে পড়ে গেল ।
বাসায় ও একা আছে ।কি যে করছে,,
এখন এসময়ে ওর পাশে থাকা দরকার আমার ।
আমি ওদের দুজন কে বুঝিয়ে বাসায় এলাম,,,
আমি সোজা উপরে গেলাম,,,, রুহি এইমাত্র গোসল সেরে বের হয়েছে । এখন সে চুল আচড়াচ্ছে ।আমি পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরলাম আর তার কাধে মুখ ডুবালাম,,,
এখন নিশ্চয় কিছু বলবে না ।কারণ এখন সে এখন আগের থেকে কম রেগে আছে,,,
এতটুকু রাগ আমি ভালোবাসা দিয়ে দূর করে দিব,,
কিন্তু না হঠাৎ রুহির যে আবার কি হলো ,,,,,
রুহিঃ ঠাসসসস,,,ছাড় জা**নো*য়া*র কোথাকার ।
কি ভেবেছিস তুই,,, তোর সাথে ভালোকরে কথা বলেছি তাই ভাবছিস সব ভুলে গেছি,,,তোর মতো জানোয়ারকে তো আমি কোনদিন ভুলবো না ।কু**ত্তা*র বাচ্চা তুই জানিস না এখন আমি অন্তঃসত্বা,,,
আমিঃ থাক আর কিছু বলতে হবে না । আমাকে ক্ষমা করে দাও,,,
আমি সোজা ছাদে চলে গেলাম ।কি করবো এখন,,,, প্রিয়াকে আর রানাকে ফোন করে এসব কথা বললাম,,,
তারা আমাকে একটি প্রস্তাব দিল,,,,
তাদের কথাতে আমিও রাজি হয়ে গেলাম,,,,
তাছাড়া কোনো উপায় নেই,,
কথাটি ছিল....
চলবে......
(আর যারা যারা গল্পটি পড়ছেন,,আমি চাই আপনারা সকলেই এই পর্বে সকলেই সাড়া দিন এবং গল্পটি কেমন হচ্ছে জানান,, ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন,,ধন্যবাদ)
(পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন)
সিনিয়র খালাতো বোন যখন বউ (পাঠ ১৪)
141
Views
7
Likes
1
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (1)
অনেক ভালো হয়েছে